Duburi

Duburi Duburi offers an in-depth journey into the teachings of Islam, aiming for your Spiritual and Psychological enhancement.

Experience our method of slow, deliberate learning with small, achievable goals, inspired by the teachings of the Prophet Muhammad (ﷺ)

03/08/2026

(Only Sisters)

🌿 নাজেরা ব্যাচ!

🔹 কোর্সের স্ট্রাকচার:

ক্লাস: সপ্তাহে ২ দিন (প্রতি ক্লাস ১ ঘণ্টা)

(শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হলে প্রয়োজনে ক্লাসের পরে অতিরিক্ত সময় রাখা হতে পারে।)

সম্পূর্ণ কুরআন মাজীদ নাজেরা পড়ানো হবে।

কোর্সের নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই; এটি শিক্ষার্থীদের অগ্রগতির ওপর নির্ভরশীল।

🔹 আমাদের নাজেরা ক্লাসের বিশেষত্ব:

আমাদের ক্লাসগুলো ইন্ডিভিজুয়াল ফোকাসড। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে তার বর্তমান লেভেল অনুযায়ী শুনে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে।

ক্লাসের বাইরেও কারো কোনো নির্দিষ্ট সমস্যা বা প্রশ্ন থাকলে ইনবক্সে ব্যক্তিগতভাবে গাইড করা হবে, ইনশাআল্লাহ।

🔹 ক্লাস পরিচালনা:

প্রতিটি ক্লাসে টিচার প্রথমে নির্ধারিত অংশটি সঠিক উচ্চারণ ও প্রয়োজনীয় নিয়ম উল্লেখ করে পড়ে শোনাবেন।

এরপর একজন একজন করে সকল শিক্ষার্থী একই অংশ পড়বে এবং টিচার প্রত্যেকের পড়া শুনে ভুলগুলো সংশোধন করে দেবেন।

এভাবেই ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ কুরআন মাজীদ নাজেরা সম্পন্ন করা হবে, ইনশাআল্লাহ।

🔹 কেন এই কোর্স করবেন?

একজন শিক্ষিকার কাছে নিয়মিত কুরআন পড়ার সুযোগ হবে।

পড়ার ভুলগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধন করা হবে।

নিজের বর্তমান লেভেল অনুযায়ী গাইডেন্স পাওয়া যাবে।

আত্মবিশ্বাসের সাথে সাবলীলভাবে কুরআন পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে।

🔹 হোমওয়ার্ক:

আমরা প্রতিদিন বাধ্যতামূলক কোনো হোমওয়ার্ক দিই না।

তবে কোনো শিক্ষার্থীর যদি কোনো নির্দিষ্ট উচ্চারণ বা তাজবীদের নিয়মে সমস্যা থাকে, তাহলে তাকে ইনবক্সে আলাদাভাবে গাইড করা হবে। প্রয়োজনে সেই সমস্যা দূর করার জন্য ব্যক্তিগত অনুশীলনও দেওয়া হবে।

🔹 কোর্স ইন্সট্রাকটর: সুমাইয়া বুলবুল কিপা।

🔹 কোর্স ফি: ৫০০ টাকা (মাসিক)।

🔹 কোর্সের সময়কাল:

এটি সম্পূর্ণ শিক্ষার্থীদের পড়ার গতি ও নিয়মিত অনুশীলনের ওপর নির্ভরশীল।

আমরা সাধারণত আমাদের কোর্সগুলো তাড়াহুড়ো করে শেষ করি না। বরং প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন শুদ্ধভাবে, আত্মবিশ্বাসের সাথে এবং স্বাচ্ছন্দ্যে কুরআন মাজীদ পড়তে পারেন, সেই বিষয়টিকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিই।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর কিতাব শুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করা এবং সে অনুযায়ী আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন। 🤍

17/07/2026

যে কাজটাকে আপনি আপনার প্রায়োরিটি বানাবেন, সেই কাজের জন্য আপনার ব্যস্ততম দিনেও সময় বের হয়ে যাবে। হোক সেটা মাত্র কয়েক মিনিট।

যদি আপনার সবচেয়ে ব্যস্ত দিনে কোনো কাজ বাদ পড়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে সেই কাজটি আসলে আপনার টপ প্রায়োরিটি লিস্টে ছিল না।

আপনি যদি কোনো কিছু অর্জন করতে চান, তাহলে সেই কাজের প্রতি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে কমিটেড করে ফেলুন। ঠিক যেভাবে আপনি আপনার প্রতিদিনের ফরজ সালাত, খাওয়া-দাওয়া এবং বেসিক হাইজিনের ব্যাপারে কমিটেড থাকেন। এমন কমিটমেন্ট তৈরি করুন, যেখানে ওই কাজটি না করে একটি দিনও পার হবে না। পরিমাণে সেটা যতই কম হোক৷

আপনার কমিটমেন্ট যদি এই পর্যায়ে না পৌঁছায়, তাহলে খুব সম্ভবত আপনি আপনার লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে পারবেন না।

15/07/2026

এমন এক সত্তা আছেন, যিনি আপনার একটি ডাকও উপেক্ষা করেন না। তিনি আপনার প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস জানেন, প্রতিটি অশ্রুবিন্দু দেখেন, এমনকি হৃদয়ের সেই কথাগুলোও জানেন, যা আপনি কাউকে বলতে পারেন না। তিনিই আপনাকে প্রতিনিয়ত রিয্‌ক্ব দিচ্ছেন, হেফাজত করছেন, অদৃশ্যভাবে আপনার জীবনের প্রতিটি বিষয় পরিচালনা করছেন। তিনি এই মহাবিশ্বের মালিক। সমস্ত ক্ষমতা, সমস্ত কর্তৃত্ব, সমস্ত সিদ্ধান্ত তাঁরই হাতে। তাহলে ভয় কিসের? কেন আমরা এমনভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি, যেন সবকিছুর ভার আমাদের কাঁধে? কেন নিজেকে একা মনে হয়, যখন আল্লাহ নিজেই বলেছেন:

"আর আমার বান্দারা যখন তোমাকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, আমি তো অবশ্যই নিকটবর্তী। আহ্বানকারী যখন আমাকে ডাকে, আমি তার ডাকে সাড়া দিই।" (সূরা আল-বাকারা, ২:১৮৬)

(Only Sisters)জুয 'আম্মা (৩০তম পারা) হিফ্‌জ ব্যাচ! • কোর্সের ডিটেইলস:- ক্লাস: সপ্তাহে ২ দিন (রাত ৮টার পর)(স্টুডেন্ট রিকো...
13/07/2026

(Only Sisters)

জুয 'আম্মা (৩০তম পারা) হিফ্‌জ ব্যাচ!

• কোর্সের ডিটেইলস:

- ক্লাস: সপ্তাহে ২ দিন (রাত ৮টার পর)

(স্টুডেন্ট রিকোয়েস্ট সংখ্যা বেশি হলে ফজরের পরেও একটি ব্যাচ তৈরি করা হবে)

- ক্লাস ডিউরেশন: ১–১.৫ ঘণ্টা (প্রয়োজন অনুযায়ী)

• আমাদের ক্লাসের বিশেষত্ব:

আমাদের সবচেয়ে বড় অ্যাডভান্টেজ হলো, আমরা হিফযের মূল কাজটা ক্লাসের মধ্যেই করিয়ে দেই। আলাদা করে বাড়িতে দীর্ঘ মুখস্থ করার চাপ দেওয়া হয় না। কিছু কিছু ব্যতিক্রম সিচুয়েশন ছাড়া।

ক্লাস প্যাটার্ন: ক্লাসে একজন স্টুডেন্ট আনমিউট হয়ে নির্ধারিত অংশ ২০ বার তিলাওয়াত করবে। একই সময়ে বাকি সবাই মিউটেড অবস্থায় সেই অংশ ২০ বার পড়বে। এরপর পরবর্তী স্টুডেন্ট একইভাবে পড়বে। এভাবে যতজন স্টুডেন্ট, ততবার একই অংশ বারবার রিপিট হয়।

ফলে প্রথম দিনেই একটি অংশ প্রায় ১০০-১২০ বার (স্টুডেন্ট সংখ্যার উপর নির্ভর করে) পড়ানো হয়ে যায়।

পরবর্তী ক্লাসে—

- আগের পড়া ৫-১০ বার করে রিভিশন করানো হয়।
- নতুন পড়া ২০ বার করে পড়ানো হয়।

এভাবে নতুন ও পুরোনো পড়ার মধ্যে সুন্দর ভারসাম্য রাখা হয়। নির্দিষ্ট সময় পরপর আরও পুরোনো অংশেও ফিরে গিয়ে গভীর বারবার রিভিশন করানো হয়, যাতে হিফয দীর্ঘমেয়াদে দৃঢ় থাকে।

• কেন এই পদ্ধতি কার্যকর?

- একই আয়াত অসংখ্যবার পড়ার ফলে মুখস্থ হওয়া অনেক সহজ হয়।
- বারবার শুনতে শুনতে Listening এর থ্রু-তে Memorization হয়, যার ফলশ্রুতিতে হিফজ অনেক স্ট্রং হয়। লম্বা সময় রিভিশন না দিতে পারলেও মাথায় সুর আটকে থাকে।
- প্রত্যেক শিক্ষার্থী প্রতিদিন ক্লাসে পড়ার সুযোগ পাওয়ায় তাজবীদ ও উচ্চারণ নিয়মিত সংশোধন করা যায়।

• হোমওয়ার্ক:

আমরা প্রচলিত অর্থে কোনো হোমওয়ার্ক দিই না।

আমাদের লক্ষ্য হলো, হিফযের দায়িত্ব শিক্ষক ক্লাসের মধ্যেই সম্পন্ন করে দেবেন।

তবে কিছু উত্তম দৈনিক আমলের মাধ্যমে আমরা প্রতিদিনকার নিউ এবং ওল্ড হিফ্‌জ রিভাইজ করার একটি অত্যন্ত কার্যকর রুটিন করে দেই।

- নতুন মুখস্থ অংশ ৫ওয়াক্ত সালাতে পড়া (যেটা অল্প পরিমাণে হওয়ায় সহজ হয়ে যায়)।
- পুরোনো সবগুলো পেজ প্রতিদিন (একদিনে সর্বোচ্চ ১০ পেজ) নফল (তাহাজ্জুদ/ক্বিয়ামুল লাইল/দুহার) সালাতে পড়া।

এই রুটিনের ব্যাপারে টিচার তার স্টুডেন্টদের জবাবদিহিতার মধ্যে রাখবেন।

• আমাদের ক্লাসগুলো প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক। প্রতিটি শিক্ষার্থী প্রতিটি ক্লাসেই তিলাওয়াত ও পারফর্ম করার সুযোগ পায়। তাই শেখার পাশাপাশি ক্লাসও উপভোগ্য হয়ে ওঠে।

• কোর্সের সময়কাল:

আম্মা পারা মুখস্থ করতে আনুমানিক ৫ মাস সময় লাগতে পারে। তবে এতেও সামান্য তাড়াহুড়ো হবে। স্ট্রেসফ্রী ভাবে করতে চাইলে ৬-৭ মাস লাগতে পারে।

আমরা সাধারণত আমাদের কোর্সগুলোকে ওপেন-এন্ডেড রাখি। কারণ প্রত্যেক শিক্ষার্থীর শেখার গতি ভিন্ন, আর প্রকৃত সফলতা ও সময়ের তাওফীক একমাত্র আল্লাহর কাছ থেকেই আসে। আর আমরা বারবার প্রত্যক্ষ করেছি, যখন আমরা কোয়ালিটির থেকে ফোকাস করি, আল্লাহ তা'আলা আমাদের কোয়ান্টিটিতেও বরকত দিয়ে দেন।

আগ্রহী আপুরা আমাকে ইনবক্সে মেসেজ করুন।

06/07/2026

[লেখাটি হিশাম আবু ইউসুফের একটি লেকচারের আলোকে প্রস্তুতকৃত]

আমাদের অধিকাংশের জীবনে কিছু অসমাপ্ত গল্প আছে। কোনো এক রমজানে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম নিয়মিত কুরআন পড়ব। কোনো এক রাতে আমরা প্রতিজ্ঞা করেছিলাম তাহাজ্জুদ আর ছাড়ব না। কোনো এক নতুন বছরে আমরা ভেবেছিলাম, এবার শরীরের যত্ন নেব, নতুন কিছু শিখব, নিজের জীবনকে একটু গুছিয়ে নেব। আমরা শুরু করেছিলাম। কিন্তু ধরে রাখতে পারিনি।

প্রশ্ন হলো-কেন?

আমরা সাধারণত এর উত্তর খুঁজি নিজের ভেতরে। ভাবি, আমার ইচ্ছাশক্তি কম। আমার মনোযোগ কম। আমি যথেষ্ট আন্তরিক নই। কিন্তু যদি সমস্যাটা সেখানে না হয়? যদি সমস্যাটা আমাদের চরিত্রে না থেকে আমাদের পদ্ধতিতে থাকে? যদি আমরা ব্যর্থ না হই দুর্বল হওয়ার কারণে, বরং ব্যর্থ হই কারণ আমরা নিজেদের দুর্বলতাকে মাথায় রেখে কোনো ব্যবস্থা তৈরি করি না?

উস্তাদ হিশাম আবু ইউসুফ তাঁর অভ্যাস নিয়ে আলোচনায় বলেছেন- মানুষের জীবন সাধারণত বড় সিদ্ধান্তে বদলায় না। জীবন বদলায় সেই ছোট ছোট কাজগুলোর মাধ্যমে, যেগুলো একজন মানুষ নীরবে, ধারাবাহিকভাবে, বছরের পর বছর করে যেতে থাকে।

কেন ইসলাম ধারাবাহিকতাকে এত গুরুত্ব দেয়?

রাসূল ﷺ বলেছেন:

"আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো সেই আমল, যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা পরিমাণে অল্প হয়।"

আমরা অনেক সময় এই হাদিসটি শুনি, কিন্তু এর গভীরতা নিয়ে ভাবি না। কেন আল্লাহ অল্প আমলকে ভালোবাসবেন? কেন বেশি নয়? কারণ আল্লাহ শুধু আমলের পরিমাণ দেখেন না। তিনি দেখেন আমলটি আপনার জীবনের কতটুকু অংশ হয়ে উঠেছে। একদিনে একশ পৃষ্ঠা কুরআন পড়া কঠিন নয়। কঠিন হলো প্রতিদিন দুই পৃষ্ঠা পড়া। এক রাতে দীর্ঘ সময় ইবাদত করা কঠিন নয়। কঠিন হলো বছরের পর বছর আল্লাহর সাথে সেই সম্পর্ক ধরে রাখা। অনেক মানুষ আবেগের বশে বড় কিছু করতে পারে। কিন্তু চরিত্র গড়ে ওঠে ছোট কাজের ধারাবাহিকতায়। আর ইসলাম মূলত চরিত্র গড়ারই শিক্ষা দেয়।

রাসূল ﷺ কখনো মোটিভেশনের উপর নির্ভর করেননি

একদিন উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, "রাসূল ﷺ-এর আমল কেমন ছিল?" তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, "তাঁর আমল ছিল ধারাবাহিক।" এই উত্তরটি যতটা সংক্ষিপ্ত, ততটাই গভীর। কারণ এটি আমাদের এমন একটি বিষয় শেখায়, যা আমরা প্রায়ই ভুলে যাই। রাসূল ﷺ তাঁর ইবাদতকে মনের অবস্থার উপর ছেড়ে দেননি। তিনি এমন ছিলেন না যে, যেদিন ইচ্ছা হলো সেদিন করলেন, আর যেদিন ইচ্ছা হলো না সেদিন ছেড়ে দিলেন। বরং তাঁর জীবনে কিছু আমল ছিল স্তম্ভের মতো। দিন বদলাত। পরিস্থিতি বদলাত। ব্যস্ততা আসত। কিন্তু সেই স্তম্ভগুলো জায়গামতো দাঁড়িয়ে থাকত। এমনকি কোনো কারণে কোনো আমল ছুটে গেলেও তিনি পরে তা পূরণ করতেন।

আজ আমাদের নিজেদেরকে প্রশ্ন করা দরকার- আমার জীবনে এমন কোনো আমল আছে কি, যা আমার মনের অবস্থার উপর নির্ভর করে না? যা আমি করি কারণ আমি করতে চাই না, বরং কারণ এটি আমার পরিচয়ের অংশ?

পাহাড়ও একদিনে তৈরি হয় না

আমরা এমন এক যুগে বাস করি, যেখানে সবাই দ্রুত ফলাফল চায়। দ্রুত ওজন কমাতে চায়। দ্রুত ভাষা শিখতে চায়। দ্রুত সফল হতে চায়। দ্রুত পরিবর্তন দেখতে চায়। কিন্তু আল্লাহর সৃষ্টি দ্রুততার উপর নয়, ধারাবাহিকতার উপর চলে। একটি বীজকে মাটির নিচে অনেকদিন কাজ করতে হয়, তারপর সে মাথা তুলে দাঁড়ায়। একটি শিশুকে বহু বছর বেড়ে উঠতে হয়, তারপর সে পরিণত মানুষ হয়। একটি পাহাড়ও এক মুঠো মাটি দিয়ে শুরু হয়। মানুষের চরিত্রও এর ব্যতিক্রম নয়। আজকের একটি পৃষ্ঠা কুরআন হয়তো আপনার জীবন বদলাবে না। আগামীকালের একটি পৃষ্ঠাও না। হয়তো এক মাসেও কোনো পরিবর্তন চোখে পড়বে না। কিন্তু একদিন আপনি পেছনে তাকিয়ে দেখবেন, যে মানুষটি একসময় কুরআনের সাথে সম্পর্ক রাখতে পারত না, সে এখন কুরআন ছাড়া দিন কল্পনা করতে পারে না। বড় পরিবর্তন সাধারণত ধীরে ধীরে ঘটে। এত ধীরে যে, পরিবর্তন হওয়ার সময় আমরা তা টেরও পাই না।

আমরা কেন শুরু করি, কিন্তু ধরে রাখতে পারি না?

যখন মানুষ কোনো ভালো কাজ শুরু করে, তখন তার সবচেয়ে বড় সমস্যা সাধারণত অলসতা নয়। বরং সমস্যা হলো, সে নিজের বর্তমান অবস্থাকে ভুলে গিয়ে ভবিষ্যতের নিজের জন্য পরিকল্পনা করে। আজ আমি অনুপ্রাণিত। তাই আমি ভাবি, প্রতিদিন কয়েক পারা কুরআন পড়ব। প্রতিদিন ৩ ঘণ্টা আরবি শিখব। প্রতিদিন দীর্ঘ তাহাজ্জুদ পড়ব। কিন্তু আমি ভুলে যাই, আমি সবদিন সমান থাকব না। কিছুদিন ক্লান্ত হব। কিছুদিন মন খারাপ থাকবে। কিছুদিন ব্যস্ততা থাকবে। কিছুদিন কোনো কারণ ছাড়াই কিছু করতে ইচ্ছা করবে না। আর ঠিক সেই দিনগুলোর কথা চিন্তা না করেই আমরা পরিকল্পনা করি। ফলে পরিকল্পনাটা আমাদের বাস্তব জীবনের জন্য নয়, আমাদের কল্পিত জীবনের জন্য তৈরি হয়। এই কারণেই অনেক সুন্দর পরিকল্পনা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভেঙে পড়ে। আর এই কারণেই রাসূল ﷺ আমাদের এমন আমলের শিক্ষা দিয়েছেন, যা টিকে থাকতে পারে। এমন আমল নয়, যা কিছুদিন মানুষকে মুগ্ধ করবে। এমন আমল, যা বহু বছর পরও জীবিত থাকবে।

অভ্যাস তৈরির আসল রহস্য: জবাবদিহিতা

অনেক মানুষ মনে করে ধারাবাহিক মানুষদের ইচ্ছাশক্তি বেশি। কিন্তু বাস্তবে ধারাবাহিক মানুষদের জীবনে সাধারণত একটি জিনিস বেশি থাকে, জবাবদিহিতা। একজন মানুষ একা একা কুরআন হিফজ শুরু করল। প্রথম সপ্তাহে সে খুব উৎসাহী। দ্বিতীয় সপ্তাহে একটু কম। তৃতীয় সপ্তাহে অন্য কাজ চলে এল। চতুর্থ সপ্তাহে সে পুরোপুরি থেমে গেল। এটি অস্বাভাবিক কিছু নয়। কারণ তার থেমে যাওয়ার বিষয়টি কেউ জানে না। কেউ খেয়াল করে না। কেউ প্রশ্নও করে না। এবার একই মানুষ একজন শিক্ষকের কাছে ভর্তি হলো। প্রতি সপ্তাহে তাকে নির্দিষ্ট অংশ শোনাতে হবে। প্রস্তুতি ছাড়া গেলে অস্বস্তি হবে। অনুপস্থিত থাকলে শিক্ষক জিজ্ঞেস করবেন। এখনও সে একই মানুষ। কিন্তু তার ধারাবাহিক হওয়ার সম্ভাবনা হঠাৎ অনেক বেড়ে গেল। কেন? কারণ মানুষ শুধু লক্ষ্য দ্বারা পরিচালিত হয় না। মানুষ জবাবদিহিতা দ্বারাও পরিচালিত হয়।

ফজরের জন্য উঠতে পারি না, কিন্তু চাকরির জন্য পারি কেন?

এই প্রশ্নটি একটু অস্বস্তিকর। কিন্তু প্রয়োজনীয়। অনেক মানুষ বলে, "আমি ফজরের জন্য উঠতে পারি না।" কিন্তু একই মানুষকে যদি ভোরবেলা বিমান ধরতে হয়, অথবা একটি গুরুত্বপূর্ণ চাকরির ইন্টারভিউ দিতে হয়, তাহলে সে ঠিকই উঠে যায়। তাহলে সমস্যাটা কি সত্যিই ঘুম? নাকি সমস্যাটা অন্য কোথাও? চাকরিতে দেরি করলে একটি মূল্য দিতে হয়। সুযোগ হারানোর ভয় থাকে। মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। অর্থাৎ সেখানে একটি দৃশ্যমান পরিণতি আছে। কিন্তু ইবাদতের ক্ষেত্রে আমরা অনেক সময় নিজেদেরকে এমন একটি অবস্থায় রেখে দিই, যেখানে না করারও কোনো দৃশ্যমান মূল্য নেই। তাই বিষয়টি শুধু ঈমানের নয়। এটি ব্যবস্থারও প্রশ্ন। আমরা কি নিজেদের জীবনে এমন কোনো ব্যবস্থা তৈরি করেছি, যা আমাদের ভালো কাজের দিকে ঠেলে দেবে, এমনকি যেদিন আমাদের মন চাইবে না সেদিনও?

একা মানুষ যতটা পারে, একসাথে মানুষ তার চেয়ে অনেক বেশি পারে।

এই কারণেই ইসলাম শুধু ইবাদতের কথা বলেনি। ইসলাম জামাআতের কথা বলেছে। সুহবতের কথা বলেছে। সৎ সঙ্গের কথা বলেছে। মানুষ একা থাকলে নিজের সাথে আপস করে ফেলে। আজ না করি, কাল করব। আজ একটু বিশ্রাম নিই। আজ বাদ থাক। কিন্তু যখন একটি দল থাকে, তখন বিষয়টি বদলে যায়। যখন কেউ আপনার অপেক্ষায় থাকে। যখন কেউ জিজ্ঞেস করে, "আজকের তিলাওয়াত হয়েছে?" যখন কেউ খোঁজ নেয়, "আজকের পাঠ শেষ করেছ?" তখন ভালো কাজটি শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত থাকে না। এটি দায়িত্বে পরিণত হয়। আর দায়িত্ব সাধারণত আবেগের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হয়।

পরিবেশ আমাদের ধারণার চেয়েও শক্তিশালী
কিছু মুসলিম সমাজে এমন পরিবার আছে, যেখানে প্রতিদিন কুরআন পড়া হয়। শিশুরা বড় হতে হতে দেখে- বাবা কুরআন পড়ছেন। মা কুরআন পড়ছেন। ভাইবোন কুরআন পড়ছে। তারা কুরআনের প্রেমে পড়ে না কোনো বক্তৃতা শুনে। তারা কুরআনের প্রেমে পড়ে কারণ তারা কুরআনের পরিবেশে বড় হয়। এখানে একটি গভীর শিক্ষা আছে। আমরা অনেক সময় ইচ্ছাশক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করি। কিন্তু হয়তো তার আগে আমাদের পরিবেশ বদলানো প্রয়োজন। কারণ মানুষ যা বারবার দেখে, ধীরে ধীরে সে তার মতোই হয়ে ওঠে।

কিন্তু যদি পরিবেশ আপনার নিয়ন্ত্রণে না থাকে?

এই পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আসে। যদি আমার পরিবার এমন না হয়? যদি আমার বন্ধুমহল এমন না হয়? যদি আমার কর্মক্ষেত্র বা আশেপাশের মানুষ আমাকে আল্লাহর দিকে না টানে? তাহলে কি আমি অসহায়? না। কারণ পরিবেশ শক্তিশালী হলেও, মানুষের সবকিছু পরিবেশ নির্ধারণ করে না। আমাদের জীবনে সবকিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। কিন্তু কিছু বিষয় সবসময়ই আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। আমরা কোন কথোপকথনে অংশ নেব, সেটি অনেক সময় আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। আমরা কোন ভিডিও দেখব, কোন বই পড়ব, কাদের অনুসরণ করব, কাদের কথা শুনব, সেটি আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। কোনো মজলিসে গীবত শুরু হলে সেখানে বসে থাকব, নাকি ভদ্রভাবে উঠে যাব, সেটিও অনেক সময় আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। হয়তো আপনি পুরো ঘরকে বদলাতে পারবেন না। কিন্তু আপনি নিজের আসন বদলাতে পারবেন। হয়তো পুরো পরিবেশকে পরিবর্তন করতে পারবেন না। কিন্তু নিজের চারপাশে একটি ছোট পরিবেশ তৈরি করতে পারবেন। একজন ভালো বন্ধু। একজন শিক্ষক। একটি কুরআন হালাকাহ। একটি উপকারী বই। একটি উপকারী অডিও। একটি ছোট কিন্তু নেক সঙ্গ।

অনেক মানুষ জীবনের বড় অংশ ব্যয় করে এমন জিনিস পরিবর্তন করার চেষ্টা করতে, যা তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। কিন্তু প্রজ্ঞা হলো, যা আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই, তা নিয়ে অভিযোগে ডুবে না গিয়ে, যা আপনার নিয়ন্ত্রণে আছে, তা দিয়ে শুরু করা। আলো সবসময় সূর্য হয়ে আসে না। কখনো কখনো একটি ছোট প্রদীপ দিয়েও অন্ধকারকে চ্যালেঞ্জ করা যায়। আর অনেক সময় একজন মানুষ পুরো পরিবেশের আলো থেকে আলোকিত হয় না। বরং সে নিজেই এমন আলো হয়ে ওঠে, যার কারণে তার আশেপাশের মানুষ আলোকিত হতে শুরু করে।

শেষ কথা

হয়তো আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল হলো আমরা পরিবর্তনকে একটি আবেগ হিসেবে দেখি। কিন্তু পরিবর্তন আসলে একটি ব্যবস্থা। একটি সম্পর্ক। একটি পরিবেশ। একটি অভ্যাস। একটি ছোট কাজ, যা আমরা বারবার করার মাধ্যমে দৃঢ়তায় পৌছে যাই।

05/07/2026

আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিকে যতটা ভালোবাসেন, অন্য কোনো সৃষ্টি কখনো অন্য সৃষ্টিকে ততটা ভালোবাসতে পারে না। আপনার সবচেয়ে সহায়ক বন্ধু, সবচেয়ে বিনয়ী বস, বা সবচেয়ে বন্ধুসুলভ শিক্ষক, এদের সবার উপরে আল্লাহ তা‘আলা আমাদের প্রতি আরও বেশি দয়ালু এবং বেশি আপন।

এই দুনিয়ায় আপনাকে সবচেয়ে বেশি যে মা ভালোবাসেন, সেই মায়ের ভালোবাসার চেয়েও আল্লাহ তা‘আলার ভালোবাসা অসংখ্য গুণ বেশি। তাই কোনো সম্পর্কই সেই ভালোবাসার ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারে না।

এই কারণে আমাদের শিখতে হবে আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা। তিনি সবসময় আমাদের জন্য সবচেয়ে ভালোটাই চান।

কখনো কখনো তিনি আমাদের এমন কষ্টকর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে নিয়ে যান, যার পেছনে লুকিয়ে থাকে বিশাল কল্যাণ। সময়ের সাথে সাথে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন সেই পরীক্ষার ভেতরে কী গভীর হিকমাহ লুকিয়ে ছিল।

তাই ধৈর্য ধরুন। বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরণ করুন। তাঁর সাথে সম্পর্ককে মজবুত করুন, কারণ এই নৈকট্যই আপনার ভরসাকে শক্ত করবে এবং সব সমস্যার মোকাবেলা সহজ করে দেবে।

04/07/2026

প্রতিদিনের আমলের তালিকায় এই সহজ কিন্তু ভারী একটি আমলকে অন্তর্ভুক্ত করে নিন। এটি আদায় করতে মাত্র কয়েক মিনিটের প্রয়োজন, কিন্তু এর প্রতিদান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রকাণ্ড, আলহামদুলিল্লাহ।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
যে ব্যক্তি দিনে ১০০ বার বলে সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি তার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়, এমনকি তা সমুদ্রের ফেনার মতো হলেও।

[সহীহ বুখারী]

এই হাদিসটি সামনে রেখে এই আমলকে নিজের জীবনের অংশ বানিয়ে নিন।

আমি প্রত্যেক মুসলিমকে এই আমলটি করার জন্য উৎসাহিত করছি। আপনার যদি পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে দুর্বলতা থাকে, অথবা আপনার দ্বারা প্রতিনিয়ত গুনাহ হয়ে যায়, এমনকি কবিরা গুনাহও হয়ে যায়, তবুও এই ছোট্ট আমলটি কখনো ছেড়ে দেবেন না।

এটি কোনোভাবেই ফরজ আমল বা কবিরা গুনাহ থেকে তওবার বিকল্প নয়। ফরজ ইবাদত অবশ্যই আলাদা এবং অপরিহার্য। আর কবিরা গুনাহ থেকে বাঁচা এবং তওবা করা অবশ্যই বাধ্যতামূলক। কিন্তু প্রত্যেক মানুষ সেই পর্যায়ে স্ট্রং হতে পারে না যে সকল কবিরা গুনাহ পরিত্যাগ করবে এবং সকল ফরজ আদায় করবে। কিন্তু ছোট্ট একটি ভালো আমল দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানিয়ে নেওয়ার মতো সময় এবং স্ট্রেংথ প্রত্যেকটা মানুষেরই আছে। এবং বড় বড় সকল অ্যাচিভমেন্ট তো ছোট ছোট পদক্ষেপ দিয়েই শুরু হয়।

প্রতিদিন একশো বার তসবিহ পাঠের এই আমলটি একজন মানুষকে ধীরে ধীরে ভালো আমলের দিকে, গুনাহ থেকে ফিরে আসার দিকে এবং ফরজগুলো মজবুতভাবে প্রতিষ্ঠিত করার দিকে নিয়ে যেতে পারে।

তাই কোনোভাবেই এই একশো তাসবিহ ছাড়া দিন শেষ করবেন না। আজ থেকেই এই ইবাদতটি শুরু করুন এবং এটিকে জীবনের একটি স্থায়ী, ভাঙনহীন অভ্যাস হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রাখুন।

ইনশাআল্লাহ, এই ছোট্ট আমলটি আপনার দুনিয়া ও আখিরাতে অনেক বড় প্রতিদান হয়ে ফিরে আসবে।

03/07/2026

প্রত্যেক আদম সন্তানের জীবন আসলে একেকটি ভালোবাসার গল্প। এটি কোনো মানুষকে ঘিরে লেখা গল্প নয়, এটি তার সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সঙ্গে তার সম্পর্কের গল্প।

জীবনের প্রতিটি অধ্যায়, সুখ, দুঃখ, প্রাচুর্য, অভাব, সাফল্য, ব্যর্থতা, অপেক্ষা, বিচ্ছেদ, এমনকি প্রতিটি পরীক্ষা আসলে এই এক সম্পর্কেরই ভিন্ন ভিন্ন দৃশ্য। এই দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে যখন আপনি নিজের জীবনকে দেখবেন, তখন একটি প্রশ্ন বারবার সামনে এসে দাঁড়াবে।

আমি কি এই ভালোবাসার সম্পর্কে বিশ্বস্ত (লয়াল), নাকি বারবার বিশ্বাসঘাতকতা (বিট্রেয়াল) করছি?

আল্লাহ আমাকে যত নিয়ামত দিয়েছেন, আমি কি তাঁর প্রতি ততটাই কৃতজ্ঞ? তিনি যতবার আমাকে ডেকেছেন, আমি কি ততবার সাড়া দিয়েছি? তিনি আমাকে যতটা ভালোবেসে সুযোগ দিয়েছেন, ক্ষমা করেছেন, পথ দেখিয়েছেন, আমি কি তাঁর জন্য আমার সামর্থ্যের সর্বোচ্চটুকু দিচ্ছি? নাকি আমি জানি আমি আরও অনেক কিছু করতে পারি, তবুও দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী ব্যস্ততা, অলসতা কিংবা প্রবৃত্তির কারণে নিজেকেই সংকীর্ণ করে রেখেছি?

আমরা প্রায়ই জীবনের গল্পকে ক্যারিয়ার, অর্থ, সম্পর্ক কিংবা অর্জনের গল্প হিসেবে দেখি, অথচ এগুলো সবই মূল গল্পের উপকাহিনী মাত্র। আসল গল্পটি একটাই, আল্লাহর সঙ্গে আপনার সম্পর্কের গল্প।

যেদিন এই গল্পটি সফল হবে, সেদিন বাকি সব অপূর্ণতাও তুচ্ছ হয়ে যাবে। আর যদি এই গল্পটিই ব্যর্থ হয়, তবে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অর্জনও শেষ পর্যন্ত কোনো মূল্য বহন করবে না।

তাই প্রতিনিয়ত নিজের জীবনকে এই একটি প্রশ্ন দিয়ে বিচার করুন, আমার জীবনের এই ভালোবাসার গল্পে, আমি কতটা বিশ্বস্ত?

02/07/2026

কখনো কি এমন মনে হয়েছে, ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তায় আপনি প্রায় পাগল হয়ে যাচ্ছেন? কোনো একটি বিষয় নিয়ে বারবার সবচেয়ে ভয়ংকর পরিস্থিতি (worst-case scenario) কল্পনা করছেন? মনে হচ্ছে, "এমনটা যদি সত্যিই হয়, তাহলে আমি কোনোভাবেই সহ্য করতে পারব না।"

বাস্তবতা হলো, এই ভয়গুলোর অধিকাংশই আমাদের মস্তিষ্কের ভেতরেই তৈরি হয়। অনেক সময় এগুলোর জন্ম হয় আল্লাহ তা'আলার ওয়াদার ওপর আমাদের ভরসার ঘাটতি থেকে।

আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:

"আল্লাহ কোনো ব্যক্তির ওপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পণ করেন না।" (সূরা আল-বাকারা ২:২৮৬)

এই ওয়াদার এক তিল পরিমাণও পরিবর্তন হবে না।

একটু ভেবে দেখুন, আজ পর্যন্ত আপনার জীবনে যত পরীক্ষা, যত কষ্ট, যত দুঃসময় এসেছে, প্রতিটি পরীক্ষাই আপনি অতিক্রম করেছেন। হয়তো সহজ ছিল না, হয়তো চোখের পানি ঝরেছে, কিন্তু আল্লাহ আপনাকে সেই কষ্ট বহন করার সামর্থ্য দিয়েছেন বলেই আপনি আজও দাঁড়িয়ে আছেন।

আমরা অনেক সময় কষ্টের চেয়ে কষ্টের আশঙ্কায় বেশি ভুগি। বাস্তবতার চেয়ে কল্পিত ভবিষ্যৎ আমাদের বেশি ক্লান্ত করে।

তাই যখন ভবিষ্যতের কোনো ভয় আপনাকে গ্রাস করতে চায়, তখন নিজেকে আল্লাহর এই ওয়াদাটি স্মরণ করিয়ে দিন। যদি সেই পরীক্ষা সত্যিই আসে, তবে সেই পরীক্ষা সহ্য করার শক্তিও আল্লাহই দেবেন।

তাই অজানা ভবিষ্যতের কল্পিত ভয়ের কাছে নয়, আল্লাহর অব্যর্থ ওয়াদার ওপর ভরসা রাখুন।

আল্লাহ কখনোই আপনাকে আপনার সাধ্যের অতিরিক্ত কষ্ট দেবেন না।

15/06/2026

বিজ্ঞানে এন্ট্রপি নামে একটি ধারণা আছে। সহজ ভাষায়, মহাবিশ্বের স্বাভাবিক প্রবণতা হলো শৃঙ্খলা থেকে বিশৃঙ্খলার দিকে অগ্রসর হওয়া; গুছানো থেকে অগোছালো, স্থিতি থেকে ক্ষয়, পূর্ণতা থেকে অপূর্ণতার দিকে ধাবিত হওয়া।

আপনি যদি একটি ঘরকে অযত্নে ফেলে রাখেন, সেটি নিজে নিজে গুছিয়ে যাবে না; বরং আরও অগোছালো হবে। একটি বাগান পরিচর্যা বন্ধ করলে তা ধীরে ধীরে আগাছায় ভরে যাবে। একটি ভবন রক্ষণাবেক্ষণ না করলে তা ক্ষয়প্রাপ্ত হবে। প্রকৃতির প্রবণতাই যেন ক্ষয়ের দিকে।

আর এই একই নীতি কাজ করছে সমগ্র মহাবিশ্বে।

যে আকাশের দিকে তাকিয়ে আমরা স্থায়িত্বের অনুভূতি পাই, যে নক্ষত্রগুলোকে অপরিবর্তনীয় মনে হয়, যে মহাবিশ্বকে এত সুশৃঙ্খল ও সুবিন্যস্ত দেখায়, সেটিও নীরবে, ধীরে ধীরে, অবধারিত এক সমাপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

আপনি আপনার ঘর গুছাতে পারেন। আপনার অফিস গুছাতে পারেন। আপনার বাগানকে পরিচ্ছন্ন রাখতে পারেন। কিন্তু একটি গ্যালাক্সিকে কীভাবে গুছাবেন? একটি নক্ষত্রের মৃত্যু কীভাবে ঠেকাবেন? মহাবিশ্বের সামগ্রিক ক্ষয়কে কীভাবে থামাবেন?

পারবেন না।

কারণ ক্ষয় এখানে ব্যতিক্রম নয়; ক্ষয়ই নিয়ম।

এবং এই সত্যের সবচেয়ে গভীর দিক হলো, এই ক্ষয়ের যাত্রায় সবার আগে এগিয়ে যাচ্ছেন আপনি নিজেই।

আপনার ঘর হয়তো আপনার পরেও থাকবে। আপনার বই, আপনার আসবাব, আপনার সংগ্রহ, আপনার স্মৃতিচিহ্ন, সবকিছু হয়তো কিছুদিন টিকে থাকবে। কিন্তু একদিন আপনি আর তাদের মাঝে থাকবেন না।

আপনি এমন এক ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন, যেখানে আপনার সমস্ত পরিকল্পনা, ব্যস্ততা, অর্জন ও পরিচয়ের পর্দা সরে যাবে। থেকে যাবে কেবল একটি প্রশ্ন,

তারপর কী?

মৃত্যু যদি সমাপ্তি না হয়ে একটি নতুন যাত্রার সূচনা হয়, তবে সেই যাত্রার জন্য কি আমরা প্রস্তুত?

আমরা ভবিষ্যতের চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিই, পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিই, বৃদ্ধ বয়সের জন্য প্রস্তুতি নিই। অথচ যে ঘটনাটি সবচেয়ে নিশ্চিত, যার আগমন শতভাগ অবধারিত, তার জন্য আমাদের প্রস্তুতি কতটুকু?

মহাবিশ্বের প্রতিটি কণা যেন এক ভাষায় ঘোষণা করছে: “এ পৃথিবীতে কিছুই চিরস্থায়ী নয়।”

প্রশ্ন হলো, সেই ঘোষণা শুনে আমরা কী করছি?

Address

Barishal
8200

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Duburi posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category