13/05/2026
প্রিয় প্রাক্তন 🍁
তোমাকে লিখতে বসলে হয়তো খাতা ফুরিয়ে যাবে, কিন্তু কথা শেষ হবে না। আমাদের জমে থাকা গল্পগুলো এখন কেবলই আমার একার ডায়েরির পাতায় বন্দি।
সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে আমাদের সেই পাগলামিভরা রাতগুলোর কথা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে কখনো অকারণ হাসি-ঠাট্টা, আবার কখনো তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তুমুল ঝগড়া। মনে হতো এই বুঝি সব শেষ! কিন্তু ভোরের আলো ফুটতেই সেই সব মান-অভিমান কেমন জাদুর মতো মিলিয়ে যেত। সকালে ঘুম থেকে উঠে আবার সবকিছু ঠিক আগের মতোই সুন্দর হয়ে ধরা দিত। আমাদের সেই 'ভুল বোঝাবুঝি আর ফিরে আসা'র চক্রটা যে কতটা মায়ার ছিল, তা আজ একা থাকতে গিয়ে ভীষণভাবে উপলব্ধি করি।
জীবন তার নিজস্ব গতিতে আমাদের দুজনকে দুই আলাদা পথে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। তোমার প্রতি এখন আর কোনো অভিযোগ নেই, নেই কোনো তিক্ততা। আমি শিখেছি কীভাবে সেই স্মৃতিগুলোকে আঁকড়ে ধরে না রেখে বরং সেগুলোকে সঙ্গী করে সামনে এগিয়ে যেতে হয়।
ভালো থেকো। নিজের সবটুকু যত্ন নিও। পৃথিবীর সবটুকু সুখ তোমার সঙ্গী হোক—এই কামনাই করি। আমাদের গল্পটা পূর্ণতা পায়নি ঠিকই, কিন্তু যা ছিল তা অন্তত আমার কাছে এক চমৎকার সত্যি ছিল।
ইতি,
তোমার একসময়ের চেনা কেউ
05/05/2026
মাঝে মাঝে বুকের বাম পাশে এমন এক গভীর শূন্যতা অনুভব করি, যার কোনো নাম নেই, কোনো রঙ নেই—আছে শুধু এক অসীম হাহাকার। শহরের জৌলুস আর মানুষের মেকি ভিড়ে নিজেকে খুব সযতনে লুকিয়ে রাখি ঠিকই, কিন্তু মধ্যরাতের নির্জনতা যখন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে, তখন সব মুখোশ খসে পড়ে। স্মৃতির আলমারিটা হঠাত করেই যেন অগোছালো হয়ে যায়।
অন্তর্জালের এই মায়াবী দুনিয়ায় রোজ কত মানুষ ফিরে আসে, কত চেনা মুখ নতুন করে ধরা দেয়। কিন্তু সেখানে নেই শুধু সেই নির্দিষ্ট মানুষটা, যার স্বরে একসময় আমার পৃথিবী শান্ত হতো। ওষ্ঠে লেগে থাকা সেই না বলা কথাগুলো আজ জমাটবদ্ধ বরফ। সেই বরফ গলে জল হয় না, বরং ধারালো কাঁচের মতো হৃদপিণ্ডকে রক্তাক্ত করে দিয়ে যায় প্রতি পলকে।
বিদীর্ণ স্মৃতির অ্যালবামে হাত রাখা বড্ড যন্ত্রণার। প্রতিটি পাতায় যেন এক একটা থমকে যাওয়া গল্প। অব্যক্ত কথামালারা আজ বুকের ভেতর পাহাড় সমান স্তব্ধতা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমি কান পেতে থাকি সেই অশরীরী প্রতিধ্বনির আশায়, যা কোনোদিন ফিরে আসবে না জেনেও।
সে ফেরেনি, হয়তো ফেরার কোনো পথ আর অবশিষ্ট নেই। সে কি সত্যিই হারাবার ভয়ে দূরে থাকে? নাকি হারিয়ে ফেলার মাঝেই সে খুঁজে পেয়েছে তার চূড়ান্ত মুক্তি? আমি আজও সেই বিমূর্ত নিঃসঙ্গতায় একাকী দাঁড়িয়ে, যেখানে প্রতিটি নিঃশ্বাস আমাকে মনে করিয়ে দেয়— কিছু শূন্যতা কখনো পূরণ হয় না, কিছু বিচ্ছেদ কেবল অমরত্বের দিকে ধাবিত হয়।
04/05/2026
শহরের কোলাহল যখন ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে, ঠিক তখন আমার ভেতরে একটা অন্য শহর জেগে ওঠে। সেই শহরের নাম ‘শূন্যতা’। সেখানে কোনো ট্রাফিক নেই, কোনো মানুষের আনাগোনা নেই— আছে শুধু কিছু বিদীর্ণ স্মৃতির কঙ্কাল আর তোমার ফেলে যাওয়া অস্পষ্ট ছায়া।
অন্তর্জালের পাতায় রোজ হাজারো স্মৃতি ভেসে ওঠে, নস্টালজিয়া হয়ে দরজায় কড়া নাড়ে পুরনো মুহূর্তগুলো। কিন্তু সেখানে সব পাওয়া গেলেও কেবল সেই প্রিয় স্বরটা খুঁজে পাওয়া যায় না। ওষ্ঠে আষ্টেপৃষ্ঠে লেগে থাকা সেই শেষ চুম্বনের রেশটুকু আজ বিষাক্ত আর্সেনিকের মতো রক্তে মিশে গেছে। মধ্যরাতের এই একাকী নিঃসঙ্গতা তখন আর কেবল নীরবতা থাকে না, তা হয়ে ওঠে এক অসহনীয় আর্তনাদ।
বিদীর্ণ স্মৃতির অ্যালবামে হাত রাখলে মনে হয়, প্রতিটি ছবি যেন একেকটা ধারালো কাঁচ। হাত বাড়ালেই রক্ত ঝরে, অথচ দূরে সরে থাকাও দায়। অব্যক্ত কথামালারা বুকের ভেতর চারাগাছের মতো বড় হতে হতে আজ বিশাল অরণ্য হয়ে গেছে। সেই অরণ্যে আলো ঢোকে না, শুধু নিস্তব্ধতার বরফ জমে থাকে।
মাঝে মাঝে মনে হয়, সেই বরফ কি কোনোদিনও গলবে না? পরক্ষণেই দেখি, তোমার একটা পুরনো বার্তার কথা মনে পড়লেই সবটুকু গলে জল হয়ে যাচ্ছে। তবুও তুমি ফেরো না। হয়তো দূরত্বটাই এখন তোমার কাছে বেশি প্রিয়, কিংবা হারাবার সেই চিরন্তন ভয়টা আজও তোমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে।
আমি রয়ে গেছি সেই পুরনো স্টেশনের মতো— যেখানে ট্রেন আসে, মানুষ নামে, আবার চলেও যায়। শুধু আমার প্ল্যাটফর্মে তোমার পায়ের ছাপগুলো রয়ে গেছে চিরস্থায়ী ধুলো হয়ে। এক সমুদ্র শূন্যতা নিয়ে আমি আজও সেই পদচিহ্ন গুনে যাই।
🖋️জাহিদ
০৪/০৫/২০২৬
02/05/2026
নিস্তব্ধতার নীল চাদরে ঢাকা এই মধ্যরাত,
স্মৃতির কার্নিশ বেয়ে নামে এক পশলা দীর্ঘশ্বাস।
অন্তর্জালের টাইমলাইনে কত চেনা মুখ আর কোলাহল,
অথচ আমার ইনবক্স জুড়ে এক বিদীর্ণ মরুভূমির হাহাকার।
ওষ্ঠে লেগে থাকা সেই চেনা স্পর্শরা আজ জীবাশ্ম,
মনের গহীন কোণে জমে আছে অব্যক্ত কথার ধুলোবালি।
নীরবতার বরফ গলে মিশে যায় চোখের নোনা জলে,
তবুও ফেরো না তুমি— হয়তো হারাবার ভয়ে, নয়তো ভুলে যাওয়ার মিছিলে।
বিদীর্ণ স্মৃতির অ্যালবামে আমি এক নিস্পৃহ দর্শক,
যেখানে তোমার স্বর আজ এক অস্পষ্ট প্রতিধ্বনি মাত্র।
বুকের ভেতরটা যেন এক পরিত্যক্ত লাইব্রেরি,
যেখানে প্রতিটি ধূলিকণা তোমার নামের স্তবক পাঠ করে।
এই তো জীবন— এক সমুদ্র শূন্যতাকে পকেটে নিয়ে হাঁটা,
ভিড়ের মাঝেও নিজেকে খুব নিভৃত এক দ্বীপ ভাবা।
তুমি নেই, তবুও তোমার অনুপস্থিতিই এখন সবচেয়ে বেশি উপস্থিত,
এক গভীর হাহাকারে আমি আজও তোমার ফেরার পথে স্থগিত।