24/02/2023
লোকটির নাম মুহাম্মাদ রেজাউল আমিন। পঞ্চাশোর্ধ চুল দাড়ি পাকা একজন বয়স্ক তালিবুল ইলম। দুই হাফেজ আলেম সন্তানের গর্বিত পিতা। জীবনের পড়ন্ত এই বয়সে এসে ইলমের প্রতি তীব্র ভালোবাসা ও আকর্ষণ অনুভব করেন। ইলম ও উলামায়ে কেরামের ভালোবাসার দরুন নিজের দুই সন্তানকে আলেম হাফেজ বানিয়েও তার তৃষ্ণা মেটেনি। ইলমের প্রতি তার দুর্নিবার আগ্রহ এই বয়সে সন্তান তুল্য স্বল্প বয়স্ক তালিবুল ইলমদের সঙ্গে এক কাতারে বসতে কোনো সংকোচ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারেনি। আল্লাহ যখন কারো অন্তরে হেদায়েতের নূর ঢেলে দেয় তখন তার অবস্থা এমনই হয়। আল্লাহর রেজা ও সন্তুষ্টির সামনে সবকিছু তুচ্ছ মনে হয়।
একটি কোম্পানির চাকুরী ছেড়ে দিয়ে সম্পূর্ণ অবসর হয়ে এখন একাগ্রচিত্তে ইলম অর্জন করছেন। জিজ্ঞেস করলাম আপনি কি বেফাকে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হতে পারবেন? জবাবে বললেন, হুযুর! আমার মেধাতালিকায় যাওয়া তো উদ্দেশ্য না। ইলমের সঙ্গে লেগে থাকতে চাই। এ বছর শরহে বেকায়া জামাত থেকে বেফাক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। স্বাভাবিক নিয়মে দাওরায়ে হাদীস পর্যন্ত পৌঁছতে আরো তিন বছর লাগবে। ভদ্রলোকটি দাওরা পর্যন্ত পড়াশোনা করে প্রথাগত নিয়মে আলেম হওয়ার জন্য বদ্ধপরিকর।
বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়্যার মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক সাহেবের মাদরাসা জামিয়া রাহমানিয়া আজিজিয়া-তে নেগরানী করতে গিয়ে এই প্রত্যাশিত ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হই। ইলমের এই দুর্ভিক্ষের সময় এই চিত্র নিঃসন্দেহে আহলে ইলমদের জন্য অনেক আশাব্যঞ্জক ও কর্মোদ্দীপক একটি ঘটনা। এছাড়া আরো কয়েকজন পরীক্ষার্থী দেখলাম যাদের বয়স পঞ্চাশের কোঠায় পৌঁছে গিয়েছে। কেউ মেশকাত কেউ শরহে বেকায়া জামাতের পরীক্ষা দিচ্ছে। প্রত্যেকের হিম্মত মাশাআল্লাহ অনেক মজবুত। আল্লাহ তাদেরকে হক্কানি আলেম হিসেবে কবুল করেন।
এই ঘটনা আজ যদি কোনো স্কুল বা কলেজে ঘটতো তাহলে মোটামুটি নিশ্চিত বলা যায়, মিডিয়া পাড়ায় একটা হৈ-হুল্লোড় লেগে যেতো। তাকে নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হতো। বিভিন্ন এনজিও ও সামাজিক সংগঠন তার পাশে এসে দাড়াতো। সবধরনের সাপোর্ট ও উৎসাহ প্রদান করা হতো। বিভিন্ন ভাবে তাকে প্রমোট করা হতো। কিন্তু কেউ যখন বৃদ্ধ বয়সে ইলম চর্চা করতে চায় তাকে বিভিন্ন ভাবে অনুৎসাহিত করা হয়। ধর্মান্ধ বলে তিরস্কার করা হয় বা মেন্টালি সমস্যা মনে করে চিকিৎসা করানোর চেষ্টা করা হয়। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন।
মুহতারাম Khaleduzzaman Khaled হাফি।