Rowjatul Jannat Mohila Madrasah, Amtoli, Barguna

Rowjatul Jannat Mohila Madrasah, Amtoli, Barguna

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Rowjatul Jannat Mohila Madrasah, Amtoli, Barguna, Education, আকনবাড়ী স্ট্যান্ড, [বরিশাল কুয়াকাটা মহাসড়ক] উত্তর টিয়াখালী, চলাভাঙ্গা, আমতলী উপজেলা, বরগুনা, Barishal.

.

এটি বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক রেজিষ্ট্রেশনভুক্ত [রেজি: নং-৩৫২৩] একটি বালিকা মাদরাসা।
.
প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালকঃ—
হাফেজ মাওলানা মুফতি কাওসার আহমাদ তাক্বী
যোগাযোগঃ- 01781-818046

.

20/03/2026

ঈদুল ফিত্র : মুমিনের পুরস্কার লাভ ও ক্ষমাপ্রাপ্তির দিন

-- মুহাম্মাদ আশিক বিল্লাহ তানভীর

রমযানুল মুবারকের পুরো এক মাস সিয়াম সাধনার পর পয়লা শাওয়াল। ঈদের দিন। আনন্দ-উৎসবের দিন। এ আনন্দ আল্লাহর নিআমত প্রাপ্তির। মাগফিরাত প্রত্যাশার। আল্লাহর প্রতি সমর্পিত হওয়ার। আল্লাহ তোমার হুকুম আদায় করার তাওফীক দিয়েছ, তোমার শোকর হে আল্লাহ! তুমি মাগফিরাতের ঘোষণা দিয়েছ, সে প্রত্যাশা রাখি হে আল্লাহ!

নিআমতের শুকরিয়া আদায়ের দিন ঈদ দিন। এই দিনের আনন্দ প্রকাশ পাবে আল্লাহর বড়ত্ব বর্ণনা করে, তাকবীরের মাধ্যমে। আল্লাহ তাআলা (এদিকে ইঙ্গিত করে) বলেন

وَ لِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَ لِتُكَبِّرُوا اللهَ عَلٰی مَا هَدٰىكُمْ وَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُوْنَ.

এবং (তিনি চান) যাতে তোমরা (রোযার) সংখ্যা পূরণ করে নাও এবং আল্লাহ তোমাদেরকে যে পথ দেখিয়েছেন সেজন্য আল্লাহর তাকবীর পাঠ কর এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। সূরা বাকারা (২) : ১৮৫

প্রত্যেক জাতিরই আনন্দ-পর্ব রয়েছে। আমাদের নবীজীও দিয়েছেন আমাদের আনন্দের দিন। এই ঈদের দিনই সেই দিন। নবীজী বলেন

إِنّ لِكُلِّ قَوْمٍ عِيدًا وَهَذَا عِيدُنَا.

প্রত্যেক জাতিরই নিজস্ব উৎসবের দিন রয়েছে; আর এই দিন হল আমাদের উৎসবের দিন। সহীহ বুখারী, হাদীস ৯৫২, ৩৯৩১; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৮৯২

অতএব আমাদের ঈদ অন্যদের উৎসবের মতো নয়। এই ঈদ আল্লাহর দেওয়া তোহফা, তাই এর উদ্যাপনও হবে তাঁর সন্তুষ্টি মোতাবেক, শরীয়তের হুকুম অনুসারে।

মুমিনের ঈদ উদ্যাপন

একজন মুমিনের ঈদ উদ্যাপনে কিছু বিষয় লক্ষণীয়। সংক্ষেপে

ক. সদাকাতুল ফিত্র আদায় করা

রোযার মাধ্যমে রোযাদার কিছুটা হলেও উপলব্ধি করতে পেরেছে সারাবছর অনাহারে থাকা অন্ন-বস্ত্রহীন ভাইদের কষ্ট। আজ রমযান শেষে ঈদের দিন সেই ভাইদের মুখেও যেন ফুটে ওঠে আনন্দের রেখা। সাথে সাথে নিজেও যেন পুত-পবিত্র হতে পারে রোযা রাখতে গিয়ে যে ত্রæটি-বিচ্যুতি হয়েছে সেগুলো থেকে। সেজন্য বিত্তবানদের উপর ওয়াজিব করা হয়েছে সদাকাতুল ফিত্র। হযরত ইবনে আব্বাস রা. বলেন

فَرَضَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ زَكَاةَ الْفِطْرِ طُهْرَةً لِلصّائِمِ مِنَ اللّغْوِ وَالرّفَثِ، وَطُعْمَةً لِلْمَسَاكِينِ، مَنْ أَدّاهَا قَبْلَ الصّلَاةِ، فَهِيَ زَكَاةٌ مَقْبُولَةٌ، وَمَنْ أَدّاهَا بَعْدَ الصّلَاةِ، فَهِيَ صَدَقَةٌ مِنَ الصّدَقَاتِ.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সদাকাতুল ফিত্র ওয়াজিব করেছেন রোযাদারকে অর্থহীন ও অশ্লীল কথা কাজ থেকে পবিত্র করার জন্য এবং মিসকীনদের খাবারের ব্যবস্থা হিসাবে। যে (ঈদের) নামাযের পূর্বে তা আদায় করবে তা গ্রহণযোগ্য হবে। আর যে নামাযের পর আদায় করবে তা সাধারণ সদাকা হিসাবে বিবেচিত হবে। Ñসুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৬০৯

তাই ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বেই সদাকাতুল ফিত্র আদায় করা মুস্তাহাব।

খ. ঈদের দিন : এদিন পানাহারের দিন

পুরো মাস রোযা রাখার পর আজ বান্দার আনন্দের দিন। তাই আল্লাহ তাআলা হারাম করে দিয়েছেন এ দিনের রোযা।

হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন

أَنّ رَسُولَ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ نَهَى عَنْ صِيَامِ يَوْمَيْنِ، يَوْمِ الْفِطْرِ، وَيَوْمِ النّحْرِ.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই দিন রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন। ইয়াওমুল ফিত্র তথা ঈদুল ফিতরের দিন এবং ইয়াওমুন নহর তথা কুরবানীর ঈদের দিন। সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৩৮

গ. ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে খেজুর বা মিষ্টিমুখ করা

যেহেতু ঈদের দিন রোযা রাখা নিষেধ তাই এর প্রকাশ হিসাবে মুস্তাহাব হল ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে কয়েকটি খেজুর খেয়ে যাওয়া এবং এক্ষেত্রে বেজোড় সংখ্যার প্রতি লক্ষ রাখা। খেজুরের ব্যবস্থা না থাকলে অন্য কোনো মিষ্টান্ন গ্রহণ করা। হযরত আনাস রা. বলেন

كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ

لاَ يَغْدُو يَوْمَ الفِطْرِ حَتّى يَأْكُلَ تَمَرَاتٍ. وَقَالَ مُرَجّأُ بْنُ رَجَاءٍ، حَدّثَنِي عُبَيْدُ اللهِ، قَالَ: حَدّثَنِي أَنَسٌ، عَنِ النّبِيِّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ، وَيَأْكُلُهُنّ وِتْرًا.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরে খেজুর না খেয়ে বের হতেন না।

তিনি বেজোড় সংখ্যক খেজুর খেতেন। সহীহ বুখারী, হাদীস ৯৫৩

এটা হল ঈদুল ফিতরের ক্ষেত্রে। আর ঈদুল আযহার ক্ষেত্রে মুস্তাহাব হল না খেয়ে ঈদগাহে যাওয়া এবং কুরবানীর গোশত দিয়ে সর্বপ্রথম আহার গ্রহণ করা।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরে কিছু খেয়ে বের হতেন আর ঈদুল আযহায় নামায পড়ে খেতেন। জামে তিরমিযী, হাদীস ৫৪২

আরেক বর্ণনায় এসেছে

لَا يَغْدُو يَوْمَ الْفِطْرِ حَتّى يَأْكُلَ، وَلَا يَأْكُلُ يَوْمَ الْأَضْحَى حَتّى يَرْجِعَ فَيَأْكُلَ مِنْ أُضْحِيّتِهِ.

নবীজী ঈদুল ফিতরে না খেয়ে বের হতেন না আর ঈদুল আযহার দিন ঈদগাহ হতে ফেরার পূর্বে কিছু খেতেন না। ঈদগাহ থেকে ফিরে পশু জবাই করার পর নিজ কুরবানীর পশুর গোশত থেকে খেতেন। মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২২৯৮৪; সুনানে দারাকুতনী, হাদীস ১৭১৫; সুনানে সুগরা, বাইহাকী, হাদীস ৬৮৯

ঘ. গোসল করে ঈদগাহে যাওয়া

ঈদের দিন গোসল করে ঈদগাহে যাওয়া মুস্তাহাব। সাহাবায়ে কেরাম গোসল করে ঈদগাহে গমন করতেন। হযরত নাফে রাহ. বলেন

أَنّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ يَغْتَسِلُ يَوْمَ الْفِطْرِ قَبْلَ أَنْ يَغْدُوَ إِلَى الْمُصَلّى.

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. ঈদুল ফিতরে ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে গোসল করে নিতেন। মুয়াত্তা মালেক, হাদীস ৪৮৮

ঙ. উত্তম পোশাক পরিধান করা

সামর্থ্য মোতাবেক ঈদের দিন উত্তম পোশাক পরিধান করা এবং বৈধ সাজগোজ গ্রহণ করা মুস্তাহাব। সাহাবায়ে কেরাম এমনটি করতেন। নাফে রাহ. বলেন

أَنّ ابْنَ عُمَرَ كَانَ يَلْبَسُ فِي الْعِيدَيْنِ أَحْسَنَ ثِيَابِهِ .

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. দুই ঈদে উত্তম পোশাক পরতেন। সুনানে কুবরা, বাইহাকী, হাদীস ৬১৪৩; ফাতহুল বারী ৬/৬৮, ৮/৪১৪

হযরত জাবের রা. বলেন

كَانَتْ لِلنّبِيِّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ جُبّةٌ يَلْبَسُهَا فِي الْعِيدَيْنِ، وَيَوْمِ الْجُمُعَةِ.

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের (উন্নত) একটি জুব্বা ছিল যা তিনি দুই ঈদে এবং জুমআর দিন পরতেন। সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস ১৭৬৬

ইবনুল কায়্যিম রাহ. বলেন, নবীজীর একটি উত্তম পোশাক ছিল, তিনি দুই ঈদে এবং জুমায় তা পরিধান করতেন। যাদুল মাআদ ১/৪২৫

অতএব ঈদের দিন সাধ্যানুযায়ী উত্তম পোশাক পরা মুস্তাহাব। তবে উত্তম পোশাক অর্থ নতুন পোশাক নয়। তাই ঈদের জন্য নতুন পোশাক কেনার বাহানায় রমযানের মূল্যবান সময় নষ্ট করা মোটেও সমীচীন নয়।

চ. ঈদের দিন তাকবীর বলা

ঈদের দিনের একটি বিশেষ আমল হল বেশি বেশি তাকবীর বলা। তাকবীর হল

اللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلَهَ إِلّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ وَلِلهِ الْحَمْدُ

ঈদগাহে যাওয়ার সময় বিশেষ গুরুত্বের সাথে তাকবীর বলবে। নাফে রাহ. বলেন

أَنّهُ كَانَ إِذَا غَدَا يَوْمَ الْأَضْحَى وَيَوْمَ الْفِطْرِ يَجْهَرُ بِالتّكْبِيرِ حَتّى يَأْتِيَ الْمُصَلّى ثُمّ يُكَبِّرُ حَتّى يَأْتِيَ الْإِمَامُ.

ইবনে উমর রা. ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের সকালে সশব্দে তাকবীর বলতে বলতে ঈদগাহে যেতেন এবং ইমাম আসা পর্যন্ত তাকবীর বলতে থাকতেন। সুনানে দারাকুতনী, হাদীস ১৭১৬; সুনানে কুবরা, বাইহাকী, হাদীস ৬১২৯

ছ. এক পথে যাওয়া আরেক পথে ফেরা

সম্ভব হলে ঈদগাহে যাওয়ার সময় এক পথে যাওয়া আর ফেরার সময় ভিন্ন পথে আসা। নবীজী এমনটি করতেন। হযরত জাবের রা. বলেন

كَانَ النّبِيّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ إِذَا كَانَ يَوْمُ عِيدٍ خَالَفَ الطّرِيقَ.

নবীজী ঈদের দিন এক পথ দিয়ে ঈদগাহে যেতেন আর ভিন্ন পথ দিয়ে ফিরতেন। সহীহ বুখারী, হাদীস ৯৮৬

জ. পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া

যতটুকু সম্ভব পাঁয়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া মুস্তাহাব। হযরত ইবনে উমর রা. বলেন

كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ يَخْرُجُ إِلَى الْعِيدِ مَاشِيًا، وَيَرْجِعُ مَاشِيًا.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যেতেন এবং পায়ে হেঁটে ফিরতেন। সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১২৯৫, ১২৯৪

ঝ. একে-অপরের জন্য দুআ করা

ঈদের দিন সাহাবায়ে কেরাম দুআসুলভ বাক্যে সৌজন্য বিনিময় করতেন। হাফেয ইবনে হাজার রাহ. উল্লেখ করেন, তাবেয়ী জুবাইর ইবনে নুফাইর বলেন

كَانَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ إِذَا الْتَقَوْا يَوْمَ الْعِيدِ يَقُولُ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ تَقَبّلَ اللهُ مِنّا وَمِنْكَ.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ ঈদের দিন পরস্পর সাক্ষাতে বলতেন

تَقَبّلَ اللهُ مِنّا وَمِنْكَ.

(আল্লাহ আমাদের আমলগুলো কবুল করুন এবং তোমারও।) ফাতহুল বারী ২/৪৪৬

এরকম সৌজন্য বিনিময়ের মাধ্যমে উত্তম আচরণ প্রকাশিত হয় এবং মুসলিম ভ্রাতৃত্ব সুদৃঢ় হয়।

ঞ. ঈদের নামাযের কেরাত

ঈদের নামাযের জন্য বিশেষ কোনো সূরা নির্ধারিত নেই। তবে হাদীসে পাওয়া যায় নবীজী কোন্ কোন্ সূরা দিয়ে ঈদের নামায পড়িয়েছেন। হযরত আবু ওয়াকিদ লাইসী রা. বলেন, উমর ইবনে খাত্তাব রা. আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, নবীজী ঈদের নামাযে কী কেরাত পড়তেন? আমি বললাম

بِـ اقْتَرَبَتِ السّاعَةُ، وَق وَالْقُرْآنِ الْمَجِيدِ

সূরা ক্বামার ও সূরা ক্বফ। সহীহ মুসলিম, হাদীস ৮৯১

এছাড়া হযরত নুমান ইবনে বাশীর রা. বলেন

كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ يَقْرَأُ فِي الْعِيدَيْنِ، وَفِي الْجُمُعَةِ بِـ سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى، وَ هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ، قَالَ: وَإِذَا اجْتَمَعَ الْعِيدُ وَالْجُمُعَةُ، فِي يَوْمٍ وَاحِدٍ، يَقْرَأُ بِهِمَا أَيْضًا فِي الصّلَاتَيْنِ.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই ঈদের নামাযে এবং জুমার নামাযে সূরা আ‘লা ও সূরা গাশিয়া পড়তেন। আর জুমা ও ঈদ একই দিনে হলে তখনও তিনি উভয় নামাযে এই সূরাই পড়তেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস ৮৭৮

ঈদের প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য

ঈদ মুসলিম মিল্লাতের শিআর এবং ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিচয়-চিহ্ন। আমাদের ঈদ আমাদেরই। শরীয়তের অন্যান্য বিধানের মতো আমাদের ঈদেরও রয়েছে অর্থ-মর্ম এবং স্বাতন্ত্র্য। বিজাতীয় কোনো উৎসব-উদ্যাপনের সাথে আমাদের ঈদের কোনো সম্পর্ক নেই। ঈদ নিছক কোনো বিনোদন বা পর্ব-উৎসব নয়; বরং ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। ঈদের প্রেক্ষাপট যদি লক্ষ্য করি তাহলে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হবে। হযরত আনাস রা. বলেন

قَدِمَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ الْمَدِينَةَ وَلَهُمْ يَوْمَانِ يَلْعَبُونَ فِيهِمَا، فَقَالَ: مَا هَذَانِ الْيَوْمَانِ؟ قَالُوا: كُنّا نَلْعَبُ فِيهِمَا فِي الْجَاهِلِيّةِ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ: إِنّ اللهَ قَدْ أَبْدَلَكُمْ بِهِمَا خَيْرًا مِنْهُمَا: يَوْمَ الْأَضْحَى، وَيَوْمَ الْفِطْرِ.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় আগমন করলেন দেখলেন, মদীনার অধিবাসীরা বছরে দুই বার খেলাধুলা ইত্যাদির মাধ্যমে আনন্দ-উৎসব করে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এ দুই দিন কীসের দিন? লোকেরা উত্তরে বলল, আমরা জাহেলী যুগ থেকে এ দুই দিন আনন্দ-উৎসব করে আসছি। তখন নবীজী বললেন, এ দুটি দিনের পরিবর্তে আল্লাহ তোমাদেরকে উত্তম দুটি দিন দান করেছেন। সে দুটি দিন হল, ইয়াওমুল আযহা ও ইয়াওমুল ফিত্র (অর্থাৎ ঈদুল ফিত্র ও ঈদুল আযহা)। সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১১৩৪

অর্থাৎ বিজাতীয় পর্ব-উৎসব আমাদের নয়; আমাদের ঈদ আল্লাহ প্রদত্ত। আর তা হচ্ছে দুই ঈদের দিন। ইসলামে তৃতীয় কোনো ঈদ-উৎসব নেই।

অতএব আমাদের ঈদের আনন্দ হবে নির্মল, পাপ-পঙ্কিলতামুক্ত। বিজাতীয় উৎসব-উদ্যাপন থেকে ভিন্ন। আনন্দ উদ্যাপিত হবে শরীয়তের সীমার মাঝে থেকে। আমাদের ঈদ উদ্যাপনের মূল কর্মসূচী তো শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত। নবীজীর সুন্নাহ্য় স্পষ্টরূপে বিবৃত। যার কিছু বিষয় আমরা উপরে আলোচনা করেছি। এর পাশাপাশি শরীয়তের সীমার ভেতর থেকে সামাজিকতা রক্ষা এবং আনন্দ-বিনোদনেও নিষেধাজ্ঞা নেই।

তবে ঈদের মূলপাঠ হচ্ছে, আল্লাহ তাআলার নিআমত প্রাপ্তির অনুভ‚তি এবং ক্ষমাপ্রাপ্তির প্রত্যাশা অন্তরে জাগরূক রেখে ঈদগাহে হাজির হওয়া। রোনাযারির মাধ্যমে আল্লাহর দরবারে সমর্পিত হওয়া। এরপর অন্যান্য বৈধ সামাজিকতার পর্ব।

আমাদের সালাফের হালত তো এমন ছিল যে, তারা ঈদের দিন তটস্থ থাকতেন। তাদের বক্তব্য ছিলÑ আমি গোলাম। আমার মনিব আমাকে কাজ করার (আমলের) হুকুম করেছেন। আমি করেছি বটে। কিন্তু তিনি কতটুকু পছন্দ করেছেন তা আমার জানা নেই। গোটা রমযান জুড়ে রহমত ও মাগফিরাতের বহু উপলক্ষ বিরাজ করছিল। আমি এ নিআমতের কতটুকু সদ্ব্যবহার করতে পারলাম ঈদের দিন আনন্দের পাশাপাশি এ অনুভ‚তিও তাদের ভাবিয়ে তুলত। (দ্রষ্টব্য : লাতায়েফুল মাআরেফ, পৃ. ২৯৬, ২৯৭)

অতএব এমন যেন না হয় যে, আনন্দের নামে বিনোদন করতে গিয়ে আমি ঈদের মূল হাকীকতই ভুলে থাকলাম।

আর ঈদের নামে আল্লাহর নাফরমানী এবং বিজাতীয় সংস্কৃতি চর্চার প্রবণতা অত্যন্ত জঘন্য বিষয়, যা ঈদকে (নিআমত লাভের আনন্দকে) ‘ওয়ীদে’ (অভিশাপে) পরিণত করে। ঈদকে উপলক্ষ করে শরীয়তবিরোধী বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়, বিনোদনের নামে বিভিন্ন অশ্লীলতার ‘শুভমুক্তি’ হয়। এহেন আচরণ ইসলামের শিআরের সাথে জঘন্য বেয়াদবী।

ঈদকে উপলক্ষ করে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন কনসার্ট, নাটক ইত্যাদির আয়োজন হয়। পর্দাহীনতা ও অশ্লীলতার চর্চা হয়। এগুলো তো সর্বাবস্থাতেই পরিত্যাজ্য। তথাপি আল্লাহপ্রদত্ত ঈদকে তাঁর নাফরমানিতে ব্যয় করা আরো ভয়াবহ।

ঈদকে কেন্দ্র করে সমাজে যে প্রবণতার ব্যাপক প্রচলন শুরু হয়েছে তা হচ্ছে ঈদ শপিং। রমযানুল মুবারকের মূল উদ্দেশ্য তাকওয়া হাছিল করা এবং ঈমান আমলের উন্নতি করা। এগুলো বিসর্জন দিয়ে ঈদ শপিং এবং মেকআপ-ম্যাচিংয়ে বিভোর থেকে আখের আমি কীসের ঈদ করতে চাচ্ছি! তা কি একবার ভেবে দেখেছি! ঈদ কার জন্য? ঈদ তো তার জন্য, যে রমযানকে গনীমত মনে করে এর কদরে অগ্রগামী হয়েছে। ঈদ তো তার জন্য, যে ঈমান ও ইহতিসাবের সাথে আমলের মাঝে রমযান অতিবাহিত করেছে। ঈদ তো তার জন্যে যে আল্লাহর হুকুম পালন করেছে। এখন তাঁর রহমত ও মাগফিরাত প্রত্যাশা করছে।

তাই ভেবে দেখা দরকার, ঈদের দিনের আমার আনন্দ-উল্লাস আবার ঈদকে ‘ওয়ীদ’-এ পরিণত করছে না তো! আল্লাহ তাআলা নফস ও শয়তানের ধোঁকা ও প্রবঞ্চনা থেকে সবাইকে হেফাযত করুন।

পরিশেষে আল্লাহর দরবারে মিনতি রমযান ও ঈদ আমাদের জীবনে বয়ে আনুক আনন্দের বার্তা। ভ্রাতৃত্বের সওগাত। সকল অশান্তির অবসান ঘটুক। প্রতিষ্ঠিত হোক সাম্য, সততা, উদারতা ও পরার্থপরতার পরিবেশ। ঈমানী আবেশে গড়ে উঠুক মুসলিম সমাজ। আলোকিত হোক আমাদের ব্যক্তি, ঘর, পরিবার ও রাষ্ট্র।

রমযান ও ঈদে আমরা স্মরণ করি আমাদের ভাই-বোনদের, যাদের জীবন থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে রমযান, কেড়ে নেওয়া হয়েছে ঈদ ‘আমানূ বিল্লাহ’-এর অপরাধে। মহান রাব্বুল আলামীন সকল মজলুম মুসলিম ভাইদের সহায় হোন। আমাদেরকে তাদের পাশে দাঁড়ানোর তাওফীক দিন। আমীন, ইয়া রাব্বাল আলামীন।

[ মাসিক আলকাউসার || শাবান-রমযান ১৪৪২ || মার্চ-এপ্রিল ২০২১ ]

াসিক_আলকাউসার

18/03/2026

ছুটির এলান/বিজ্ঞপ্তি!

রওজাতুল জান্নাত মহিলা মাদরাসার সকল অভিভাবক ও ছাত্রীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৮মার্চ ২০২৫ই, রোজ শুক্রবার, থেকে ২৯ মার্চ ২০২৫ই, রোজ রবিবার পর্যন্ত মাদরাসার পাঠদান বন্ধ থাকবে।

৩০মার্চ ২০২৫ই, রোজ সোমবার মাদরাসার সকল বিভাগের পাঠদান শুরু হবে ইনশাআল্লাহ!

মাদরাসা খোলার দিন তথা ২৯মার্চ ২০২৫ই, রবিবার মাগরিবের পুর্বে সকল শিক্ষার্থীকে মাদরাসায় উপস্থিত হওয়া আবশ্যক;

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে ঈমান, আমল ও আখলাক ঠিক রেখে ছুটি কাটানোর তাওফিক দান করুন, আমীন।

নির্দেশক্রমে—
মুফতি কাওসার আহমাদ তাক্বী হাফি:
প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক, অত্র মাদরাসা।
+8801781-818046

03/03/2026

বিশ্বনবী ( ﷺ ) এর ভাষায় সর্বোত্তম ১১ শ্রেণীর মানুষ কারা!

১। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন-
‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ওই ব্যক্তি, যে নিজে কোরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।’ -বুখারি ৫০২৭।

২। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন-
‘নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ওই ব্যক্তি, যে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম আচরণের অধিকারী।’ -বুখারি ৬০৩৫।

রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন-
‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সে, যার চরিত্র সবচেয়ে বেশি সুন্দর।’ -বুখারি ৩৫৫৯।

৩। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন-
‘তোমাদের মধ্যে সর্বসেরা ব্যক্তি সে, যে ঋণ পরিশোধের বেলায় ভালো।’ -বুখারি ২৩০৫।

৪। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন-
‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ওই ব্যক্তি, যার কাছ থেকে সবাই কল্যাণ আশা করে, অনিষ্টের আশঙ্কা করে না।’ -তিরমিজি ২২৬৩ / ২৪৩২।

৫। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন-
‘তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ওই ব্যক্তি, যে তার পরিবারের কাছে ভালো।’ -সহিহ ইবনে হিব্বান ৪১৭৭।

৬। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন-
'তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি সেই, যে তোমাদের মধ্যে বয়সে বেশি এবং (নেক) কাজে উত্তম।' -আহমাদ ৭২১২।

৭। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন-
'সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ সেই ব্যক্তি, যে মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী।' -সহীহুল জামে’ হা / ৩২৮৯, দারাক্বুত্বনী, সিঃ সহীহাহ ৪২৬।

৮। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন-
‎'শ্রেষ্ঠ মানুষ হলো যার অন্তর পরিচ্ছন্ন ও মুখ সত্যবাদী। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসুল! সত্যবাদী মুখ বোঝা গেল, কিন্তু পরিচ্ছন্ন অন্তরের অধিকারী কে? রাসুলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন, যে অন্তর স্বচ্ছ ও নির্মল, মুত্তাকি, যাতে কোনো পাপ নেই, বাড়াবাড়ি বা জুলুম নেই, নেই খেয়ানত ও বিদ্বেষ। -ইবনে মাজাহ ৪২১৬।

৯। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন-
‘আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম সঙ্গী সে, যে তার সঙ্গীর কাছে উত্তম। আর আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম প্রতিবেশী সে, যে তার প্রতিবেশীর কাছে উত্তম।’ -তিরমিজি ১৯৪৪।

১০। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন-
'মর্যাদায় সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি সে, যে নিজ ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হয়ে শত্রুকে সন্ত্রস্ত করে এবং শত্রুরাও তাকে সন্ত্রস্ত করে।'
-সিলসিলা সহীহাহ ৩৩৩৩।

১১। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ
'ঐ মু’মিন (সর্বশ্রেষ্ঠ) যে আল্লাহর পথে তার জান ও মাল দিয়ে যুদ্ধ করে। -মুসলিম ৪৯৯৪ - ৪৯৯৫।

মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সর্বোত্তম বান্দা হবার তাওফীক দান করুন।

21/02/2026

একুশ একটি সংখ্যা। এক-দুই-তিন; এমন অন্যান্য সংখ্যার মতোই। সবার কাছে-ও তাই। সব মানুষ একুশকে একটি সংখ্যা হিসেবেই জানে। কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসে একুশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাই বাঙালির কাছে একুশ মানে ভিন্ন কিছু।

একুশ ফেব্রুয়ারী বাঙালির ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায়। এ মাস বাংলা ভাষার মাস। একুশে ফেব্রুয়ারী আসতেই আমাদের মনে পড়ে যায় মায়ের ভাষা রক্ষার জন্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ১৯৫২ সালের রক্তঝরা করুন সেই ইতিহাসের কথা।

তরুণ প্রজন্মের কাছে ‘ভাষা শহীদ’ শব্দটি গভীর ভক্তি-শ্রদ্ধা ও সীমাহীন ভালোবাসা দাবি রাখে। কেননা, এই শব্দটির ভেতর মিশে আছে বাংলা ভাষার রক্তিম এক ইতিহাস।

এই ভাষার জন্য আমরা রক্ত দিয়েছি, জীবন দিয়েছি। সহ্য করেছি অনেক অ-নে-ক জুলুম-অত্যাচার-নির্যাতন-নিপীড়ন। তবুও আমরা পিছপা হইনি। অধিকার আদায়ে ছিলাম সোচ্চার। শহীদ হয়েছিলেন আব্দুস সালাম, আবদুল জব্বার,শফিউর রহমান,অহিউল্লাহ,আবুল বরকত,রফিক উদ্দীন ও আব্দুল আউয়ালের মতো আরো অনেকে। এদের বীরত্বগাথা অবদান ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

একুশ ফেব্রুয়ারী ১৯৫২ সালে যারা নিজের সাধের জীবনের বিনিময়ে রক্ষা করেছিলো মায়ের ভাষার অধিকার—তাদেরকে সশ্রদ্ধ সালাম।

03/02/2026

হাদীসের আলোকে শবে বরাত-

হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, অর্ধ শা'বানের রাত [১৪ শা'বান দিবাগত রাত] যখন আসে তখন তোমরা এ রাতটি ইবাদত বন্দেগীতে কাটাও এবং দিনের বেলায় রোযা রাখ। নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা এ রাতে সূর্যাস্তের পর প্রথম আসমানে আসেন এবং বলতে থাকেন, আছে কি কোনো ক্ষমাপ্রার্থী? আমি তাকে ক্ষমা করবো। আছে কি কোনো রিযিক প্রার্থী, আমি তাকে রিযিক দিব। আছে কি কোনো বিপদগ্রস্ত, আমি তাকে বিপদমুক্ত করে দিবো। আছে কি এমন আছে কি এমন, এভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত বলতে থাকেন। [সূত্র: সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং: ২৩৮৪; আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব, হাদীস নং: ১৫৫৬; শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং: ৩৮২২]

এ রাতে করণীয় আমলসমূহ-

উল্লেখিত হাদীসসমূহ থেকে প্রতিয়মান হয় যে, এ রাতে ইবাদতের কোনো ধরণ নির্দিষ্ট নেই বরং এ রাতে এমন সব নেক আমল করা উচিৎ যার মাধ্যমে আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত লাভ করা যায়। তাই এ রাতে আমরা নিম্মোক্ত আমলসমূহ করতে পারি।

এক. মাগরিব, এশা ফজরের নামায অবশ্যই জামাতের সাথে আদায় করা।

দুই. নফল নামাজ পড়া।এক্ষেত্রে অনির্ভরযোগ্য কিছু বই-পুস্তকে নফল ইবাদতের বিভিন্ন নিয়মের কথা লেখা আছে যেমন- এত রাক'আত পড়তে হবে, প্রতি রাক'আতে এই এই সূরা এতবার পড়তে হবে। অথচ সহীহ হাদীস শরীফে শবে বরাত, শবে কদর বা অন্য কোনো ফযীলতপূর্ণ রাতে এসব বিশেষ পদ্ধতির কোনো নামায প্রমাণিত নেই।

তিন. তওবা করা। তওবা বলা হয় [ক] কৃতপাপের জন্য অনুতপ্ত হওয়া [খ] সঙ্গে সঙ্গে এই পাপটি পরিহার করা [গ] ভবিষ্যতে এই পাপটি আর করবো না এই মর্মে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করা [ঘ] বান্দার হক নষ্ট করে থাকলে তার হক আদায় করে কিংবা ক্ষমা গ্রহণ করে দায়মুক্ত হওয়া (ঙ) কোনো ফরয-ওয়াজিব ছুটে গিয়ে থাকলে মাসআলা অনুযায়ী তার কাযা কাফফারা আদায় করা। অতঃপর আল্লাহর আনুগত্যের দিকে ফিরে আসা এবং অন্তর থেকে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।

চার. কুরআনে কারীম তেলাওয়াত করা, দুরূদ শরীফ পড়া, যিকির-আযকার করা ও ইস্তেগফার পড়া ইত্যাদি।

পাঁচ. এ রাতে গুরুত্বসহকারে দু'আ করা, কারণ এ রাতে দু'আ কবুল হওয়ার কথা বার বার ধ্বনিত হয়েছে।

ছয়. এ রাতে কিছু দান সদকা করে এবং নফল ইবাদত করে মৃতদের জন্যে সাওয়াব পৌঁছানো।

সাত. ১৫ শা'বান নফল রোযা রাখা। রোযা রাখার বিষয়টি উল্লিখিত হাদীস ছাড়াও অন্যান্য হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।

27/01/2026

এক দিরহামে জান্নাত ক্রয়!

ইমাম আবূ দাঊদ রহিমাহুল্লাহ একবার জাহাজে আরোহী ছিলেন। হঠাত শুনতে পেলেন স্থলভাগে কিনারায় একলোক হাঁচি দিয়ে 'আলহামদু লিল্লাহ' বলেছে। ইমাম আবূ দাঊদ তখন ছোট একটি ডিঙ্গি এক দিরহামে ভাড়া করে কিনারে গেলেন এবং ঐ ব্যক্তিকে يَرحَمُكَ الله বললেন। লোকটি জবাবে يَهدِيكُمُ اللهُ وُيُصلِحُ بَالَكُمْ বললো।

অতঃপর যখন ইমাম আবূ দাঊদ রহিমাহুল্লাহ জাহাজে ফিরে এলেন তখন লোকেরা তাঁকে জিজ্ঞেস করলো; আপনি এমন করলেন কেন? তিনি উত্তর দিলেন; তার এই দুয়াيَهدِيكُمُ اللهُ وُيُصلِحُ بَالَكُمْ পাওয়ার আশায়। হয়তো তার দুয়া কবুল হতে পারে।

সেই রাতে জাহাজের একজন স্বপ্নে দেখলো; একজন ঘোষণা দিচ্ছে; হে জাহাজের অধিবাসীরা! ইমাম আবূ দাঊদ এক দিরহামের বিনিময়ে আল্লাহর কাছ থেকে জান্নাত ক্রয় করে নিয়েছে।

[ফাতহুল বারী : ১০/৬১০]
🍃🌻🌸•┈┈• ❀ 🌴 ❀ •┈┈•🌸🌻🍃

26/01/2026

বিয়ে করতে ইচ্ছুক কেবল পাত্রের জন্য পাত্রীর শুধু চেহারা এবং দু’হাত কব্জি পর্যন্ত ও দু’পা টাখনুগিরা পর্যন্ত দেখা জায়েজ। এ ছাড়া অন্যকোনো অঙ্গ, এমনকি হাতের কব্জি থেকে উপরের অংশ এবং পায়ের গিরার উপরের অংশ দেখাও নাজায়েজ।

পাত্রীর হাত বা কোনো অঙ্গ স্পর্শ করাও জায়েজ নয়।

চুল দেখা জায়েজ নয়। প্রয়োজনে এগুলো পাত্রের মহিলা আত্মীয়রা দেখবে।

পাত্রের জন্য পাত্রীকে আংটি পরিয়ে দেওয়াও জায়েজ নয়।

আংটি পরিয়ে দিতে চাইলে পাত্রপক্ষের মেয়েদের কেউ গিয়ে পরিয়ে দিতে পারে। অথবা পাশে পাত্রীর মাহরাম যারা থাকে তাদের কাছে দিয়ে দেওয়া যেতে পারে।

কথা বলার জন্য তাদেরকে আলাদা রুমে দেওয়াও জায়েজ নয়। যা বলবে মাহরামদের সামনে বলবে।

Photos from Rowjatul Jannat Mohila Madrasah, Amtoli, Barguna's post 25/01/2026

আমাদের আঙিনা…🤍

22/01/2026

শাবান ও রমযান মাস ॥
গুরুত্ব ও ফযীলত, করণীয় ও বর্জনীয়
মাওলানা হুজ্জাতুল্লাহ

শাবান ও রমযান উভয়টিই গুরুত্ববহ ও ফযীলতপূর্ণ মাস। রমযানের গুরুত্ব তো প্রায় সকলেই বোঝেন। কিন্তু শাবান মাসের গুরুত্ব সম্পর্কে হয়তো কেউ কেউ যথাযথ ওয়াকিফহাল নন। শাবান মাসকেও নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গুরুত্ব দিতেন। গুরুত্বের সাথে রোযা রাখতেন এবং অন্যান্য আমল করতেন। এ নিবন্ধে শাবান ও রমযান উভয় মাসের গুরুত্ব, তাৎপর্য ও ফযীলত নিয়ে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি করণীয়-বর্জনীয় বিষয়েও কিঞ্চিৎ আলোকপাত থাকবে ইনশাআল্লাহ।

শাবান মাসের গুরুত্ব

শাবান মাস আল্লাহর দরবারে বান্দাদের আমলনামা পেশ হওয়ার মাস

আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান ছাড়া শাবান মাসে সর্বাধিক রোযা রাখতেন। আয়েশা রা. বলেন―

فَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْتَكْمَلَ صِيَامَ شَهْرٍ إِلَّا رَمَضَانَ، وَمَا رَأَيْتُه أَكْثَرَ صِيَامًا مِنْهُ فِي شَعْبَانَ.

আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রমযান ছাড়া অন্য কোনো মাসে পূর্ণ মাস রোযা রাখতে দেখিনি। আর আমি তাঁকে (রমযান ছাড়া) শাবান মাস অপেক্ষা অধিক রোযা রাখতে আর কোনো মাসে দেখিনি। ―সহীহ বুখারী, হাদীস ১৯৬৯

আয়েশা রা. থেকেই বর্ণিত অপর এক হাদীসে আছে―

كَانَ أَحَبُّ الشُّهُورِ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَصُومَه شَعْبَانَ.

রোযা রাখার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে সর্বাধিক প্রিয় মাস ছিল শাবান মাস। ―মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২৫৫৪৮; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৪৩১

এ হাদীসদ্বয় বলছে, রোযা রাখার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে শাবান মাস সর্বাধিক প্রিয় ছিল, তাই তিনি রমযান মাস ব্যতীত এ মাসেই সবচেয়ে বেশি রোযা রাখতেন। কিন্তু কেন তিনি শাবান মাসে এত বেশি রোযা রাখতেন?

এর উত্তর পাওয়া যাবে উসামা বিন যায়েদ রা. থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে। ওই হাদীস থেকে শাবান মাসের গুরুত্ব ও তাৎপর্যের বিষয়টিও পরিষ্কার হয়ে যাবে। উসামা বিন যায়েদ রা. বলেন,

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রমযান ছাড়া) শাবান মাসে যত রোযা রাখতেন অন্য কোনো মাসেই এত রোযা রাখতেন না।

উসামা বিন যায়েদ রা. বলেন, আমি (একবার) বললাম―

وَلَمْ أَرَكَ تَصُومُ مِنْ شَهْرٍ مِنَ الشُّهُورِ مَا تَصُومُ مِنْ شَعْبَانَ.

আমি আপনাকে কোনো মাসেই এত রোযা রাখতে দেখিনি, শাবান মাসে আপনি যত রোযা রাখেন?

এ প্রশ্নের উত্তরে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন―

ذَاكَ شَهْرٌ يَغْفُلُ النَّاسُ عَنْهُ بَيْنَ رَجَبٍ وَرَمَضَانَ، وَهُوَ شَهْرٌ تُرْفَعُ فِيهِ الْأَعْمَالُ إِلَى رَبِّ الْعَالَمِينَ فَأُحِبُّ أَنْ يُرْفَعَ عَمَلِي وَأَنَا صَائِمٌ.

শাবান হল রজব ও রমযানের মধ্যবর্তী মাস। এ মাস সম্পর্কে (অর্থাৎ এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্পর্কে) মানুষ গাফেল থাকে। শাবান হল এমন মাস, যে মাসে রব্বুল আলামীনের কাছে (বান্দার) আমল পেশ করা হয়। আমি চাই, রোযাদার অবস্থায় আমার আমল (আল্লাহর দরবারে) পেশ হোক। ―মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২১৭৫৩; সুনানে নাসায়ী, হাদীস ২৩৫৭; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদীস ৯৮৫৮

শাবান মাসের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেন এত গুরুত্বারোপ করতেন, এই হাদীসে তিনি তা খুলে বলেছেন। তাঁর কথার মর্ম হল, এই মাসে বান্দার আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। কাজেই এ মাসটি গুরুত্বের দাবিদার। তাছাড়া সামনে রমযান আসছে, ফযীলতপূর্ণ মাস হিসেবে রমযানকে গুরুত্ব প্রদান করা হয়। শাবান মাসের আগে রজব মাস আছে, রজব মাস পবিত্র চার মাসের(১) একটি, তাই রজব মাসকেও গুরুত্ব প্রদান করা হয়। মাঝখানে শাবানের ব্যাপারে গাফলতি হয়ে যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সতর্ক করলেন যে, দেখো, একটি বিশেষ দৃষ্টিকোণ থেকে এই মাসটিও গুরুত্বের দাবিদার। এ মাসে বান্দার গোটা বছরের আমলনামা আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। তাই শাবান আল্লাহর দরবারে আমলনামা পেশ হওয়ার মাস। কাজেই এই মাসেরও যথাযথ কদর করা চাই। এ কারণেই আমি এ মাসে এত রোযা রাখি(২)।

ইমাম ইবনে রজব রাহ. এই হাদীস সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে একটি গভীর বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি বলেছেন, (মর্ম) : এই হাদীসে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, কখনো কোনো একটা সময়, ব্যক্তি বা স্থানের ফযীলত প্রসিদ্ধ হয়ে যায়, তখন সবাই সেই প্রসিদ্ধ স্থান, কাল, পাত্র নিয়েই ব্যস্ত থাকে। অথচ ভিন্ন বিবেচনায় অন্য কোনো স্থান, কাল, পাত্র সেই প্রসিদ্ধ স্থান, কাল, পাত্রের চেয়েও উত্তম হতে পারে। কিন্ত অনেকে সেদিকে লক্ষ করে না। ―লাতায়েফুল মাআরিফ, পৃ. ২৫১

সুতরাং একাধিক ফযীলতের কারণে যেভাবে রমযান মাসকে গুরুত্ব প্রদান করা হয় এবং পবিত্র মাস হিসেবে আশহুরে হুরুম বা পবিত্র চার মাসকে যেভাবে গুরুত্ব প্রদান করা হয়, তেমনি সারা বছরের আমলনামা পেশ হওয়ার মাস হিসেবে শাবান মাসকেও যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করা কর্তব্য। আর এই গুরুত্ব প্রদান করার উপায় হল, সবধরনের গুনাহ থেকে বেঁচে থেকে নেক আমলের প্রতি যত্নবান হওয়া। শাবান মাসের অধিকাংশ দিন রোযা রেখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতকে এই নির্দেশনাই দিয়ে গেছেন।

প্রসঙ্গত, এখানে উল্লেখ করে দেওয়া প্রয়োজন, সহীহ হাদীসে আছে, আল্লাহর দরবারে প্রতিদিন বান্দাদের আমলনামা পেশ করা হয়। দিনের আমলনামা রাতে আর রাতের আমলনামা দিনে পেশ করা হয়। (দ্র. সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৭৯) এটি হল প্রতিদিনের আমলনামা। অপর একটি সহীহ হাদীসে আছে যে, সপ্তাহে সোমবার ও বৃহস্পতিবার আমলনামা পেশ করা হয়। (দ্র. সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৫৬৫) এটি হল সাপ্তাহিক আমলনামা। আর একবার পেশ করা হয় বাৎসরিকভাবে। সেটা হল শাবান মাসে। এখানে সেটার কথাই বলা হয়েছে। (দ্র. লাতায়েফুল মাআরেফ, পৃ. ২৪৪)

শাবান মাসের রোযা

উপরিউক্ত বর্ণনাসমূহ থেকে স্পষ্ট যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর দরবারে আমলনামা পেশ করা হবে―এ বিষয়টির প্রতি গুরুত্বারোপ করে শাবান মাসে সর্বাধিক রোযা রাখতেন। তাই শাবান মাসে অন্যান্য নেক আমলের পাশাপাশি সামর্থ্য অনুযায়ী রোযা রাখার চেষ্টা করা কর্তব্য। কিন্তু রোযা রাখবে শাবান মাসের ২৭ তারিখ পর্যন্ত। হাদীসে রমযানের এক-দুই দিন আগে রোযা রাখতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। (দ্র. সহীহ বুখারী, হাদীস ১৯১৪)

লাইলাতুন নিসফি মিন শাবানের ফযীলত

শাবান মাসের একটি ফযীলত হল, অর্ধ-শাবানের রাত। অর্থাৎ চৌদ্দ শাবান দিবাগত রাত। এ রাতের বিশেষ ফযীলতের কথা বর্ণিত হয়েছে। একটি হাদীসে আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন―

يَطَّلِعُ اللهُ إِلَى خَلْقِهِ فِي لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَيَغْفِرُ لِجَمِيعِ خَلْقِهِ إِلَّا لِمُشْرِكٍ أَوْ مُشَاحِنٍ.

আল্লাহ তাআলা অর্ধ-শাবানের রাতে সৃষ্টির দিকে (রহমতের) দৃষ্টি দেন; অতঃপর তিনি তার সকল সৃষ্টিকে ক্ষমা করে দেন, কেবল শিরককারী ও বিদ্বেষপোষণকারী ব্যতীত (এই দুই শ্রেণিকে ক্ষমা করেন না)। ―সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৫৬৬৫; শুআবুল ঈমান, বাইহাকী ৩/৩৮২, হাদীস ৩৮৩৩

قال البيهقي: وقد روينا هذا من أوجه، وفي ذلك دلالة على أن للحديث أصلا من حديث مكحول.

এই হাদীসটি নির্ভরযোগ্য ও আমলযোগ্য। ইমাম ইবনে হিব্বান, ইমাম যাকীউদ্দীন মুনযিরী, যাইনুদ্দীন ইরাকী প্রমুখ হাদীস বিশারদ ইমামগণ হাদীসটিকে নির্ভরযোগ্য বলে মতামত দান করেছেন। (দ্র. সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৫৬৬৫; আততারগীব ওয়াত তারহীব ২/১১৮; শরহুল মাওয়াহেব ৭/৪১২)

এই হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী অর্ধ-শাবানের রাতে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সবার জন্য রহমত ও মাগফিরাতের দ্বার উন্মুক্ত করা হয়। কেবল শিরকে লিপ্ত ব্যক্তি এবং অন্যের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাই এই মাগফিরাত ও রহমত প্রাপ্ত হয়।

কোনো বিশেষ সময়ের ব্যাপারে আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত ও মাগফিরাতের ঘোষণা আসলে করণীয় হল, সেই সময়ে সকল গুনাহ থেকে বিরত থেকে নেক আমলের প্রতি যত্নবান হওয়া, যেন আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাতের উপযুক্ত হওয়া যায়।

এ হাদীস ও অন্যান্য হাদীসে মাগফিরাতের ঘোষণা থাকার কারণে বহু আগ থেকেই গুনাহ মুক্তির রাত হিসেবে এ রাতকে শবে বরাত তথা ‘মুক্তির রজনী’ নামে অভিহিত করা হয়। কাজেই এ রাতে গুনাহ মুক্তির জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা কাম্য। পাশাপাশি অধিক নেক আমল ও দুআ-ইস্তিগফারের মাধ্যমে আল্লাহর মাগফিরাত ও রহমত প্রাপ্তির ঐকান্তিক চেষ্টা করাও কর্তব্য।

এ সম্পর্কে আরেকটি হাদীস

হযরত আলা ইবনুল হারিস রাহ. থেকে বর্ণিত, আয়েশা রা. বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে নামাযে দাঁড়ান এবং এত দীর্ঘ সিজদা করেন যে, আমার ধারণা হল, তিনি হয়তো মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি তখন উঠে তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম। তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ল। যখন তিনি সিজদা থেকে উঠলেন এবং নামায শেষ করলেন, আমাকে লক্ষ করে বললেন, হে আয়েশা অথবা বলেছেন, হে হুমাইরা, তোমার কি এই আশঙ্কা যে, আল্লাহর রাসূল তোমার হক নষ্ট করবেন? আমি উত্তরে বললাম, না, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আপনার দীর্ঘ সিজদা থেকে আমার এই আশঙ্কা হয়েছিল, আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন কি না। নবীজী জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি জানো, এটা কোন্ রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন ইরশাদ করলেন―

এটা হল অর্ধ-শাবানের রাত (শাবানের চৌদ্দ তারিখের দিনগত রাত)। আল্লাহ তাআলা অর্ধ-শাবানের রাতে তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন এবং ক্ষমপ্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন এবং অনুগ্রহ প্রার্থীদের অনুগ্রহ করেন আর বিদ্বেষপোষণকারীদের ছেড়ে দেন তাদের অবস্থাতেই। ―শুআবুল ঈমান, বাইহাকী ৩/৩৮২-৩৮৬

ইমাম বাইহাকী রাহ. এই হাদীসটি বর্ণনার পর এর সনদের ব্যাপারে বলেছেন―

هذا مرسل جيد.

শবে বরাতের আমল

উপরোক্ত হাদীসে দীর্ঘ নফল নামায, দীর্ঘতম সময় সিজদা করার কথা আছে। সুতরাং এ রাতে নফল নামাযসহ অন্যান্য ইবাদত-বন্দেগীর প্রতি যত্নবান হওয়া কাম্য। যেমন নফল নামাযের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী দুই রাকাত করে যত রাকাত সম্ভব পড়তে থাকা, কুরআন কারীম তিলাওয়াত করা, দরূদ শরীফ পড়া, তওবা-ইস্তেগফার করা, দুআ করা এবং কিছুটা ঘুমের প্রয়োজন হলে ঘুমিয়ে নেওয়া। এমন যেন না হয় যে, সারা রাতের দীর্ঘ ইবাদতের ক্লান্তিতে ফজরের নামায জামাআতের সাথে পড়া সম্ভব হল না। খেয়াল রাখতে হবে, ফরয নামাযে যেন কোনোরূপ শৈথিল্য না হয়। কারণ, ফরয ইবাদতের গুরুত্ব সর্বাবস্থায় নফল ইবাদতের চেয়ে বেশি।

একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, অনেক অনির্ভরযোগ্য ওযীফার বই-পুস্তকে এই রাতে নামাযের যে নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন লেখা আছে, যেমন এত রাকাত হতে হবে, প্রতি রাকাতে এই সূরা এতবার পড়তে হবে ইত্যাদি―এগুলো ঠিক নয়। বরং স্বাভাবিকভাবে যেকোনো সূরা দিয়ে দুই রাকাত করে নফল নামায পড়বে। (দ্রষ্টব্য : আলআছারুল মারফূআ, আবদুল হাই লাখনোভী, পৃ. ৮০-৮৫)

এ রাতের করণীয় সম্পর্কে ইমাম ইবনে রজব রাহ. বলেছেন, (মর্ম) ‘মুমিনের কর্তব্য এই যে, এ রাতে খালেস দিলে তওবা করে যিকির, দুআ ও ইস্তেগফারের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে। যত্নের সঙ্গে নফল নামায পড়বে। সওয়াব লাভের আশা নিয়ে পনেরো তারিখের রোযাও রাখবে। কেননা কখন মৃত্যু এসে যায় বলা যায় না। তাই কল্যাণের মওসুম শেষ হওয়ার আগেই তার মূল্য দেওয়া কর্তব্য। তবে অত্যন্ত জরুরি বিষয় হল, ওইসব গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা, যেগুলো এ রাতের সাধারণ ক্ষমা ও দুআ কবুল হওয়া থেকে মানুষকে বঞ্চিত করে দেয়। যথা : শিরক, হত্যা, বিদ্বেষ। এগুলো সবই কবীরা গুনাহ। আর বিদ্বেষ তো এতই গর্হিত বিষয় যে, এটা অধিকাংশ সময়ই মানুষকে আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

যেকোনো মুসলমান সম্পর্কেই বিদ্বেষ পোষণ করা অত্যন্ত মন্দ প্রবণতা। তবে সাহাবায়ে কেরাম ও সালাফে সালেহীন সম্পর্কে অন্তরে বিদ্বেষ বিদ্যমান থাকা অত্যন্ত ভয়াবহ ও গর্হিত অপরাধ। এজন্য মুসলমানদের কর্তব্য হল, সর্বদা অন্তরকে পরিষ্কার রাখা এবং হিংসা-বিদ্বেষ থেকে পাক-পবিত্র রাখা। বিশেষত উম্মাহ্র পূর্বসূরি ব্যক্তিদের সম্পর্কে অন্তর পুরোপুরি পরিষ্কার থাকা অপরিহার্য, যাতে রহমত ও মাগফিরাতের সাধারণ সময়গুলোতে বঞ্চিত না হতে হয়।’ ―লাতাইফুল মাআরিফ, পৃ. ২৬৫

এ রাতের নফল আমলসমূহ সম্মিলিত নয়, ব্যক্তিগত

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এ রাতের নফল আমলসমূহ, বিশুদ্ধ মতানুসারে একাকীভাবে করণীয়। ফরয নামায তো অবশ্যই মসজিদে আদায় করতে হবে। এরপর যতটুকু নফল পড়ার তা নিজ নিজ ঘরে একাকী পড়বে। এসব নফল আমলের জন্য দলে দলে মসজিদে এসে সমবেত হওয়ার কোনো প্রমাণ হাদীস শরীফেও নেই আর সাহাবায়ে কেরামের যুগেও এর রেওয়াজ ছিল না। (দ্র. ইক্তিযাউস সিরাতিল মুসতাকীম ২/৬৩১-৬৪১; মারাকিল ফালাহ, পৃ. ২১৯)

তবে কোনো আহ্বান ও ঘোষণা ছাড়া এমনিই কিছু লোক যদি মসজিদে এসে যায়, তাহলে প্রত্যেকে নিজ নিজ আমলে মশগুল থাকবে, একে অন্যের আমলের ব্যাঘাত সৃষ্টির কারণ হবে না।

কোনো কোনো জায়গায় এই রেওয়াজ আছে যে, এ রাতে মাগরিব বা এশার পর থেকেই ওয়াজ-নসীহত আরম্ভ হয়। আবার কোথাও ওয়াজের পর মিলাদ-মাহফিলের অনুষ্ঠান হয়। কোথাও তো সারা রাত খতমে-শবীনা হতে থাকে। উপরন্তু এ সবকিছুই করা হয় মাইকে এবং বাইরের মাইকও ছেড়ে দেওয়া হয়।

মনে রাখতে হবে, এ সবকিছুই ভুল রেওয়াজ। এ রাতে মাইক ছেড়ে দিয়ে বক্তৃতা-ওয়াজের আয়োজন করা ঠিক নয়। এতে না ইবাদতে আগ্রহী মানুষের পক্ষে ঘরে বসে একাগ্রতার সাথে ইবাদত করা সম্ভব হয়, আর না মসজিদে। অসুস্থ ব্যক্তিদের বিশ্রামেও মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে। আল্লাহ আমাদের এসব ভুল কাজকর্ম পরিহার করার তাওফীক দিন।

এ রাতের আপত্তিকর কাজকর্ম

এছাড়া এ রাতে বেশ কিছু আপত্তিকর কাজকর্মও দেখা যায়। যেমন, মসজিদ, ঘর-বাড়ি বা দোকানপাটে আলোকসজ্জা করা, পটকা ফুটানো, আতশবাজি, কবরস্থান ও মাযারে ভিড় করা, কবরস্থান ও মাযারে আলোকসজ্জা করা, মহিলাদের বিনাপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে যাওয়া, বিশেষত বেপর্দা হয়ে দোকানপাট, মাযার ইত্যাদিতে ভিড় করা, তরুণ ও যুবক ছেলেদের সারারাত শহরের অলিতে গলিতে ঘুরে বেড়ানো, হৈ-হুল্লোড় করা―এসব কিছুই আপত্তিকর কাজ। শায়েখ আবদুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী রাহ. বলেন, এই রাতের নিকৃষ্ট বেদআতসমূহের মাঝে নিচের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত―ঘর-বাড়ি, দোকানপাট আলোকসজ্জা করা, হৈ চৈ ও আতশবাজির উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়া ইত্যাদি। এগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এগুলোর স্বপক্ষে কোনো জাল রেওয়ায়েতও পাওয়া যায় না। সম্ভবত হিন্দুদের ‘দেওয়ালী’ প্রথা থেকে তা গ্রহণ করা হয়েছে। ―মা ছাবাতা বিস সুন্নাহ, পৃ. ৩৫৩-৩৬৩

শবে বরাতে কৃত কিছু কাজ তো অন্য সময়েও হারাম। আর কিছু কাজ আছে, যা অন্য সময় করা জায়েয, কিন্তু শবে বরাতে সেগুলোর পেছনে পড়ে শবে বরাতের আমল থেকে বঞ্চিত হওয়া কিছুতেই ঠিক নয়। যেমন খিচুড়ি বা হালুয়া-রুটি রান্না করে নিজেরা খাওয়া বা গরিবদের খাওয়ানো। সাধারণ সময়ে এগুলো করা জায়েয। কিন্তু শবে বরাতে এগুলোর পেছনে পড়ে শবে বরাতের মূল কাজ তওবা-ইস্তেগফার, নফল ইবাদত প্রভৃতি থেকে বঞ্চিত থাকা একেবারেই ঠিক নয়। বস্তুত এগুলোও শয়তানের এক প্রকারের ধোঁকা, মানুষকে মূল কাজ থেকে বিরত রাখার জন্য শয়তান এসব কাজকর্মে মানুষকে ব্যস্ত করে দেয়।

শবে বরাতের পরের দিন শাবান মাসের ১৫ তারিখের রোযা

শবে বরাতের পরের দিন শাবান মাসের ১৫ তারিখ। এ দিন অনেকে রোযা রেখে থাকেন। এ সম্পর্কে একটি বিষয় জেনে রাখা প্রয়োজন। প্রতি চান্দ্র মাসে তিন দিন রোযা রাখা সুন্নত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখতেন, সাহাবীগণকেও মাসে তিন দিন রোযা রাখতে বলতেন। (দ্র. জামে তিরমিযী, হাদীস ৭৬০; ৭৬৩)

সে হিসেবে মাসে তিন দিন রোযা রাখা সুন্নাত। এই তিন দিন মাসের শুরুতেও হতে পারে, মাঝেও হতে পারে, আবার শেষেও হতে পারে। কিন্তু কিছু কিছু হাদীসে স্পষ্ট আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদেরকে বিশেষভাবে মাসের ১৩, ১৪, ১৫ তারিখ (যাকে আইয়ামে বীয বলা হয়) রোযা রাখতে বলেছেন। (দ্র. জামে তিরমিযী, হাদীস ৭৬১; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৪৪৯; ফাতহুল বারী, ১৯৮১ নং হাদীসের আলোচনা)

এই হাদীসগুলোর ওপর ভিত্তি করে হাফেয ইবনে হাজার রাহ. বলেছেন, যে তিন দিনের কথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে গেছেন, সেই তিন দিন রোযা রাখাই সর্বোত্তম। (দ্র. ফাতহুল বারী, ১৯৮১ নং হাদীসের আলোচনা)

সে হিসেবে প্রতি মাসের আইয়ামে বীযে রোযা রাখা সুন্নত। শাবান মাসও এর ব্যতিক্রম নয়। তাই শাবান মাসের আইয়ামে বীযে (১৩, ১৪, ১৫) রোযা রাখাও সুন্নত। ১৫ তারিখ আইয়ামে বীযের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে ১৫ তারিখ রোযা রাখাও সুন্নত।

বাকি থাকল একটি বর্ণনায় বিশেষভাবে ও পৃথকভাবে ১৫ শাবান রোযা রাখার কথা বর্ণিত হয়েছে। (দ্রষ্টব্য : সুনানে ইবনে মাজাহ, বর্ণনা ১৩৮৪) কিন্তু বর্ণনাটি শাস্ত্রীয় বিচারে দুর্বল। শাস্ত্রীয় বিচারে দুর্বল হওয়ার কারণে কেবল এই বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে ১৫ শাবানের রোযাকে পৃথকভাবে সুন্নত কিংবা মুস্তাহাব মনে করা সঠিক নয় বলে মতামত দিয়েছেন মুহাক্কিক আলেমগণ।

তবে, যেমনটি পূর্বে বলা হল, ১৫ তারিখ আইয়ামে বীযের অন্তর্ভুক্ত―এ হিসেবে এই দিনের রোযাকে (১৩ ও ১৪ তারিখের রোযাসহ) নিঃসন্দেহে সুন্নত মনে করা যাবে।

মোটকথা, সর্বাবস্থায় শাবান মাসের ১৫ তারিখে রোযা রাখা যাবে। পূর্বের দুই দিন তথা ১৩ ও ১৪ তারিখের সঙ্গে মিলিয়ে একসঙ্গে তিন দিন রোযা রাখা যেমন যাবে, তেমনি পৃথকভাবে কেবল ১৫ তারিখও রোযা রাখা যাবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে তিন দিন রাখাই উত্তম।

এমনিভাবে ১৫ তারিখ আইয়ামে বীযের একটি দিন হিসেবে ১৫ তারিখের রোযাকে সুন্নতও মনে করা যাবে। কিন্তু পৃথকভাবে শাবান মাসের ১৫ তারিখ বিশেষ একটি দিন, সে হিসেবে পৃথকভাবে এ দিনে রোযা রাখা সুন্নত―এমন ধারণা রাখা যাবে না।

এ প্রসঙ্গে শাইখুল ইসলাম মুফতী মুহাম্মাদ তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম বলেন, ‘আরো একটি বিষয় হচ্ছে, শবে বরাত-পরবর্তী দিনে অর্থাৎ শাবানের পনেরো তারিখে রোযা রাখা। গভীরভাবে বিষয়টি উপলব্ধি করা প্রয়োজন। হাদীসে রাসূলের বিশাল ভাণ্ডার হতে একটি মাত্র হাদীস এর সমর্থনে পাওয়া যায়। তাতে বলা হয়েছে, ‘শবে বরাতের পরবর্তী দিনটিতে রোযা রাখ’। সনদ ও বর্ণনার সূত্রের দিক থেকে হাদীসটি দুর্বল। তাই এ দিনের রোযাকে এই একটি মাত্র দুর্বল হাদীসের দিকে তাকিয়ে সুন্নত বা মুস্তাহাব বলে দেওয়া অনেক আলেমের দৃষ্টিতেই অনুচিত। তবে হাঁ, শাবানের গোটা মাসে রোযা রাখার কথা বহু হাদীসে পাওয়া যায়। অর্থাৎ ১ শাবান থেকে ২৭ শাবান পর্যন্ত রোযা রাখার যথেষ্ট ফযীলত রয়েছে। কিন্তু ২৮ ও ২৯ তারিখে রোযা রাখতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই বারণ করেছেন। ইরশাদ করেন, ‘রমযানের দু-একদিন পূর্বে রোযা রেখো না।’ যাতে রমযানের জন্য পূর্ণ স্বস্তির সাথে স্বতঃর্স্ফূভাবে প্রস্তুতি নেওয়া যায়। কিন্তু ২৭ তারিখ পর্যন্ত প্রতিদিনের রোযাই অত্যন্ত বরকতপূর্ণ।

একটি লক্ষণীয় ব্যাপার হচ্ছে, শাবানের এই ১৫ তারিখ তো ‘আইয়ামে বীয’ এর অন্তর্ভুক্ত। আর নবীজী প্রতি মাসের আইয়ামে বীয এ রোযা রাখতেন। সুতরাং যদি কোনো ব্যক্তি এই দুই বিষয়কে সামনে রেখে শাবানের ১৫ তারিখের দিনে রোযা রাখে যা ‘আইয়ামে বীয’ এর অন্তর্ভুক্ত, পাশাপাশি শাবানেরও একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন, তবে ইনশাআল্লাহ নিশ্চয়ই সে সওয়াব পাবে। তবে শুধু ১৫ শাবানের কারণে এ রোযাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে সুন্নত বলে দেওয়া অনেক আলেমের মতেই সঠিক নয়। আর সে কারণেই অধিকাংশ ফুকাহায়ে কেরাম মুস্তাহাব রোযার তালিকায় মুহাররমের ১০ তারিখ ও ইয়াওমে আরাফা (যিলহজ্জের ৯ তারিখ) এর কথা উল্লেখ করেছেন। অথচ শাবানের ১৫ তারিখের কথা পৃথকভাবে কেউই উল্লেখ করেননি। বরং তারা বলেছেন, শাবানের যেকোনো দিনই রোযা রাখা উত্তম। সুতরাং এ সকল বিষয়ের দিকে দৃষ্টি রেখে যদি কেউ রোযা রাখে, ইনশাআল্লাহ সে সওয়াব পাবে। তবে মনে রাখতে হবে যে, রোযা রাখার ব্যাপারে এ মাসের নির্দিষ্ট কোনো দিনের পৃথক কোনো বৈশিষ্ট্য নেই।’ ―ইসলাহী খুতুবাত ৪/২৬৭-২৬৮

শবে বরাতের ফযীলত শবে কদরের সমান নয়

অনেকে মনে করেন শবে বরাতের ফযীলত শবে কদরের মতো। এ ধারণা সঠিক নয়। শবে বরাতের ফযীলত আপন জায়গায় স্বীকৃত, তবে তার ফযীলত শবে কদরের মতো নয়। কুরআন-হাদীসে শবে কদরের যত ফযীলত এসেছে শবে বরাত সম্পর্কে আসেনি। বিশেষত শবে কদরে কুরআন মজীদ নাযিল হওয়ার মতো বরকতময় ঘটনা ঘটেছে। এ ফযীলত অন্য কোনো রজনীর নেই।

আবার অনেকে মনে করেন কুরআন মজীদের সূরা দুখানে ‘লাইলাতুম মুবারাকাহ’ বলে শবে বরাত উদ্দেশ্য। এ ধরাণাও সঠিক নয়। ‘লাইলাতুম মুবারাকাহ’ বলে শবে কদর উদ্দেশ্য, সূরা কদরে বিষয়টি স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, তাই ভিন্ন কোনো ধারণা পোষণ করার সুযোগ নেই। (দ্রষ্টব্য : লাতায়েফুল মাআরেফ, পৃ. ২৬৮; মাকালাতুল কাওছারী, পৃ. ৪৯-৫০

রমযানুল মুবারক

রমযান সিয়ামের মাস। কুরআন নাযিলের মাস। খায়ের ও বরকতের মাস। তাকওয়া অর্জনের মাস। আমলে অগ্রগামী হওয়ার মাস। নেকী হাছিলের মাস। তারাবী, তাহাজ্জুদ ও কুরআন তিলাওয়াতের মাস। ইতিকাফের মাস। শবে কদরের মাস। গুনাহ তরক করার মাস। ক্ষমা লাভের মাস। প্রবৃত্তির লাগাম টেনে ধরার মাস। সংযম সাধনার মাস। ভ্রাতৃত্ব চর্চার মাস। ক্ষমা, উদারতা ও সহানুভূতির মাস।

রোযার ফযীলত

রোযার প্রতিদান স্বয়ং আল্লাহ তাআলা প্রদান করেন

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বনী আদমের প্রতিটি আমলের প্রতিদান বহু গুণে বৃদ্ধি হতে থাকে, ১০ গুণ থেকে ৭০০ গুণ, এমনকি আল্লাহ চাইলে তার চেয়েও বেশি দেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, তবে রোযার বিষয়টি ভিন্ন। কেননা রোযা একমাত্র আমার জন্য এবং আমি স্বয়ং এর প্রতিদান দিব। বান্দা একমাত্র আমার জন্য পানাহার ও প্রবৃত্তির চাহিদা পূরণ থেকে বিরত থাকে। রোযাদারের জন্য দুটি আনন্দ। এক. ইফতারের মুহূর্তে দুই. রবের সঙ্গে সাক্ষাতের মুহূর্তে। আর রোযাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশকের চেয়েও উত্তম। ―সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৫১

রোযাদারের জন্য ক্ষমার পুরস্কার

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমযানের রোযা রাখবে তার পূর্বের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। ―সহীহ বুখারী, হাদীস ১৯০১

রোযাদার জান্নাতে প্রবেশের জন্য বিশেষ দরজা

হযরত সাহল ইবনে সা‘দ রা. থেকে বর্ণিত, জান্নাতে রাইয়ান নামে একটি দরজা আছে। এই দরজা দিয়ে শুধু রোযাদাররা প্রবেশ করবে। ঘোষণা করা হবে, রোযাদাররা কোথায়? তখন তারা উঠে দাঁড়াবে। যখন তাঁরা প্রবেশ করবে তখন ঐ দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং সেই দরজা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ করবে না। ―সহীহ বুখারী, হাদীস ১৮৯৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৫২

রোযাদারের দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তির দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না :

১. রোযাদারের দুআ ইফতার করা পর্যন্ত।

২. ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ্র দুআ।

৩. মাজলুমের দুআ।

আল্লাহ তাআলা তাদের দুআ মেঘমালার উপরে উঠিয়ে নেন। এর জন্য আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। আর আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার ইজ্জতের কসম! বিলম্বে হলেও আমি অবশ্যই তোমাকে সাহায্য করব। ―জামে তিরমিযী, হাদীস ৩৫৯৮; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৭৩৮৭

রোযা রোযাদারের জন্য সুপারিশ করবে

আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রোযা এবং কুরআন কিয়ামতের দিন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোযা বলবে, আমি তাকে দিনের বেলায় পানাহার ও প্রবৃত্তির চাহিদা মেটানো থেকে বিরত রেখেছি; সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। কুরআন বলবে, আমি তাকে রাতের ঘুম থেকে বিরত রেখেছি; সুতরাং আমার সুপারিশ কবুল করুন। তখন দুজনের সুপারিশই গ্রহণ করা হবে। ―মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৬৬২৬; মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৩/১৮১

)ملاحظة: ومع ما في حُيَي بن عبد الله من ضعف فالخبر صالح للعمل به بلا ريب، فقد جزم الذهبي بأنه حسن الحديث، وقال ابن عدي : وأرجو أنه لا بأس به إذا روى عنه ثقة. ولولا كثرة مفاريده مما أشار إليها ابن عدي لما كان أي تردد في تحسين حديث(.

প্রতিদিন ইফতারের সময় অনেক জাহান্নামীকে মুক্তি দেওয়া হয়

জাবের রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, প্রতিদিন ইফতারের সময় অনেক জাহান্নামীকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং এটা প্রতি রাতে। ―সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৬৪৩ (দ্রষ্টব্য : মুসনাদে আহমাদের টীকা, হাদীস ৭৪৫০)

قال البوصيري : رجال إسناده ثقات.

রমযানুল মুবারকের শুরুতে শয়তান ও দুষ্ট জিনদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করা হয়, জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়

রমযানুল মুবারকের আরেকটি ফযীলতের কথা এসেছে একটি হাদীসে। আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রমযান মাসের প্রথম রাতে শয়তান ও দুষ্ট জিনদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করা হয় এবং (পুরো রমযান) এর একটি দরজাও আর খোলা হয় না, জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং (রমযানে) এর একটি দরজাও আর বন্ধ করা হয় না। (এ মাসে) একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা দিতে থাকেন, হে কল্যাণ অন্বেষী! অগ্রসর হও। হে অকল্যাণ অন্বেষী! নিবৃত্ত হও, নিয়ন্ত্রিত হও। আর বহু লোককে আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে এ মাসে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে দেওয়া হয়। প্রত্যেক রাতেই এরূপ হতে থাকে। ―জামে তিরমিযী, হাদীস ৬৮২

صحيح لغيره، وينظر تعليقة الشيخ شعيب وأصحابه على جامع الترمذي برقم (٦٨٩) و(٦٩١(

রমযানুল মুবারকের আমল

পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, একটি হাদীসে আছে, ‘রমযানুল মুবারকের শুরুতে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা দিতে থাকেন, হে কল্যাণ অন্বেষী! অগ্রসর হও। হে অকল্যাণ অন্বেষী! নিবৃত্ত হও, নিয়ন্ত্রিত হও।’ সেই হাদীসে একথাও আছে যে, ‘রমযানুল মুবারকের শুরুতে শয়তান ও দুষ্ট জিনদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করা হয় এবং জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়’। এ থেকে বোঝা যায়, রমযানুল মুবারক ইবাদতের শ্রেষ্ঠ মৌসুম। কাজেই এই সুযোগকে কাজে লাগানো চাই।

নিম্নে রমযানের কিছু মৌলিক আমলের কথা উল্লেখ করা হল। আল্লাহ তাআলা সবাইকে তাওফীক দান করুন।

১. রোযা রাখা ও তাকওয়া অর্জনের চেষ্টা করা

রমযানুল মুবারকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হল, রোযা রাখা। কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে―

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا كُتِبَ عَلَیْكُمُ الصِّیَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَی الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ .

হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোযা ফরয করা হয়েছে, যেভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরয করা হয়েছিল। যেন তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো। ―সূরা বাকারা (২) : ১৮৩

রমযানুল মুবারকে তাই সকল মুসলিমের রোযা রাখা ফরয। শরীয়ত স্বীকৃত ওযর ছাড়া কারো জন্য রোযা না রাখার সুযোগ নেই। আফসোসের বিষয় হল, রোযা রাখার ব্যাপারে কোনো কোনো পরিবারে শিথিলতা ও অবহেলা দেখা যায়। এই শিথিলতা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়। মনে রাখতে হবে, রোযা অকাট্য ফরয বিধান, এব্যাপারে শিথিলতা করা হলে আখেরাতে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

উক্ত আয়াতে রোযার মাকসাদ ও উদ্দেশ্যের প্রতি ইশারা করা হয়েছে। আর তা হল, তাকওয়া অবলম্বন করা। রোযার মাধ্যমে তাকওয়ার অনুশীলন হয়, আল্লাহর ভয়ে স্বাভাবিক সময়ে যা হালাল ছিল, রোযা অবস্থায় সেই হালাল থেকেও বিরত থাকা হয়, এতে আল্লাহর ভয়ে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা ও অনুচিত কাজকর্ম থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রাখার অনুশীলন হয়। এই অনুশীলনের মাধ্যমে আল্লাহর ভয় মনে বদ্ধমূল করা এবং শরীয়তের দৃষ্টিতে অনুচিত কাজ থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রাখার একটি যোগ্যতা নিজের মাঝে সৃষ্টি করা―রোযার মাকসাদ। এই মাকসাদ অর্জনে যথাযথ আদব বজায় রেখে সিয়াম পালন করা আবশ্যক। আল্লাহ সবাইকে ‘তাকওয়া’র মহা নিআমত দান করুন।

২. সেহরী খাওয়া

রমযানুল মুবারকের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল সেহরী খাওয়া। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সেহরী খাও, সেহরীতে বরকত রয়েছে। ―সহীহ বুখারী, হাদীস ১৯২৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১০৯৫

অন্য হাদীসে আছে, আমাদের রোযা ও আহলে কিতাবীদের রোযার মাঝে পার্থক্য হল সেহরী খাওয়া (আমরা সেহরী খাই, তারা খায় না)। ―সহীহ মুসলিম, হাদীস ১০৯৬

শেষ ওয়াক্তে সেহরী খাওয়া সুন্নত। হাদীসে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেহরী খাওয়া ও আযানের মাঝে সময়ের ব্যবধান ছিল পঞ্চাশ আয়াত তিলাওয়াত পরিমাণ। ―সহীহ বুখারী, হাদীস ১৯২১; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১০৯৬

৩. ইফতার করা

রমযানুল মুবারকে ইফতার করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা কর্তব্য। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার উম্মত কল্যাণের মাঝে থাকবে―যতদিন তারা সময় হওয়ার সাথে সাথে ইফতার করবে। ―সহীহ বুখারী, হাদীস ১৯৫৭

সহীহ মুসলিমে আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সময় হওয়ার সাথে সাথে ইফতার করার কথা বর্ণিত হয়েছে। (দ্র. সহীহ মুসলিম, হাদীস ১০৯৯)

৪. ইফতারের সময় দুআ করা

ইফতারের সময় দুআ করা চাই। হাদীস শরীফে এসেছে, ইফতারের সময় রোযাদারের দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। ―ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৭৫৩

এই হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আছ রা. ইফতারের সময় নিম্নোক্ত দুআ পড়তেন―

اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِرَحْمَتِكَ الَّتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ، أَنْ تَغْفِرَ لِي.

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আপনার ঐ রহমতের ওছিলায় প্রার্থনা করছি, যা সবকিছুকে পরিব্যাপ্ত করে রেখেছে। (আমি প্রার্থনা করছি,) আমাকে ক্ষমা করে দিন। ―সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৭৫৩

ইফতারের দুআ

আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে আছে, ইফতারের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দুআ পড়েছিলেন―

ذَهَبَ الظَّمَأُ، وَابْتَلَّتِ الْعُرُوْقُ، وَثَبَتَ الأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللهُ.

‘পিপাসা নিবারিত হল, শিরা উপশিরা সতেজ হল আর সওমের সওয়াবও অবধারিত হয়েছে ইনশাআল্লাহ। ―সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৩৫৭

৫. তারবীহ পড়া

রমযানের অন্যতম একটি আমল হল, তারাবীহ নামায। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি পূর্ণ বিশ্বাসের সাথে সওয়াবের আশায় রমযানের রাতে (নামাযে) দণ্ডায়মান হয় তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। ―সহীহ বুখারী, হাদীস ২০০৯

তাই গুনাহ মাফের আশায় সওয়াবের নিয়তে গুরুত্ব ও যত্নের সাথে তারাবীহ নামায পড়া চাই।

তারাবীর ব্যাপারে একটি কথা না বললেই নয়। অনেকে তারাবীর রাকাত সংখ্যা নিয়ে অযাচিত বাহাছ উসকে দেন। এই বাহাছ বিতর্কে না জড়িয়ে আমলে মনোযোগী হওয়া কর্তব্য। এ সম্পর্কে উস্তাযে মুহতারাম মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক ছাহেব হাফিযাহুল্লাহ আলকাউসার জুলাই-আগস্ট ২০১২ সংখ্যায় বড় দরদ নিয়ে একটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন। প্রবন্ধের শিরোনাম ‘বরাহে করম! রাকাত সংখ্যা নিয়ে বিবাদ ছাড়ুন, নিজ নিজ ত্রুটি সংশোধন করুন’। তারাবীর রাকাত সংখ্যার ব্যাপারে কেউ যদি অন্য কারো দ্বারা পেরেশানীর শিকার হন, তাহলে তার প্রতি এই প্রবন্ধ পড়ার অনুরোধ থাকল। এখানে সেই প্রবন্ধ থেকে শুধু একটি কথা উদ্ধৃত করা হল―

‘...এসব মানুষ যদি সঠিক ইলম অর্জন করত, তাহলে বুঝত যে, বিশ রাকাত তারাবীহ খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নত। মুহাজির ও আনসার সাহাবীগণের ঐকমত্য (ইজমা) ও খায়রুল কুরূন থেকে অদ্যাবধি উম্মতের অবিচ্ছিন্ন কর্মধারা এবং সর্বসম্মত পথ (সাবীলুল মুমিনীন)-এর মতো অকাট্য দলীল দ্বারা প্রমাণিত। এর বিপরীতে তারাবীর নামাযকে আট

Want your school to be the top-listed School/college in Barishal?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Website

Address


আকনবাড়ী স্ট্যান্ড, [বরিশাল কুয়াকাটা মহাসড়ক] উত্তর টিয়াখালী, চলাভাঙ্গা, আমতলী উপজেলা, বরগুনা
Barishal