22/07/2026
🕋হযরত বাবা আদম শহীদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি
জন্ম ও বাংলায় আগমন🏰
হযরত বাবা আদম শহীদ (রহিমাহুল্লাহ) ইসলামের প্রাথমিক যুগের একজন প্রসিদ্ধ বুযুর্গ হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি মক্কা শরীফের একজন আবিদ, জাহিদ ও আল্লাহভীরু দরবেশ ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলায় এসে ইসলামের দাওয়াত প্রচার করেন।
বর্ণিত আছে যে, তৎকালীন বিক্রমপুর (বর্তমান মুন্সীগঞ্জ, বাংলাদেশ) অঞ্চলে এক মুসলমানের ওপর স্থানীয় শাসকের পক্ষ থেকে অত্যাচার করা হলে তিনি মক্কা শরীফে গিয়ে হযরত বাবা আদম (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেন। এরপর হযরত বাবা আদম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সাথীদের নিয়ে বাংলার উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং ইসলামের দাওয়াত ও মজলুমের সহায়তায় আত্মনিয়োগ করেন।
শাহাদাতের ঘটনা
ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে যে, সে সময় বিক্রমপুরে সেন রাজবংশের রাজা বল্লাল সেনের শাসন চলছিল। প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, একটি আকীকার উপলক্ষে গরু কোরবানিকে কেন্দ্র করে বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং মুসলমানদের ওপর নির্যাতন শুরু হয়।
হযরত বাবা আদম শহীদ (রহিমাহুল্লাহ) এ অবস্থায় অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন এবং ইসলামের দাওয়াত অব্যাহত রাখেন। পরবর্তীতে সংঘটিত যুদ্ধে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। অনেক লোকবর্ণনায় বলা হয়, তিনি ইবাদত বা নামাজে মশগুল থাকা অবস্থায় শত্রুপক্ষের আক্রমণে শাহাদাত লাভ করেন। এ কারণেই তাঁর নামের সঙ্গে "শহীদ" উপাধি যুক্ত হয়েছে।
দরগাহ শরীফ ও বাবা আদম মসজিদ
হযরত বাবা আদম শহীদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর মাজার শরীফ বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জ জেলার রামপাল ইউনিয়নের কাজী কসবা এলাকায় অবস্থিত।
মাজারের পাশেই অবস্থিত ঐতিহাসিক বাবা আদম মসজিদ, যা ১৪৮৩ খ্রিস্টাব্দ (৮৮৮ হিজরি) সালে সুলতান জালালউদ্দীন ফতেহ শাহের আমলে তাঁর কর্মকর্তা মালিক কাফুর নির্মাণ করেন।
মসজিদটির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য:
ছয় গম্বুজবিশিষ্ট ঐতিহাসিক স্থাপনা।
বাংলার সুলতানি স্থাপত্যশৈলীর অন্যতম সুন্দর নিদর্শন।
লাল ইট ও টেরাকোটার অলংকরণে নির্মিত।
বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষিত ঐতিহাসিক স্থাপনা।
বর্তমানে হযরত বাবা আদম শহীদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর মাজার ও ঐতিহাসিক মসজিদ দেশ-বিদেশের বহু জিয়ারতকারী ও দর্শনার্থীর আগমনে মুখর থাকে।
আল্লাহ তাআলা হযরত বাবা আদম শহীদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর প্রতি অশেষ রহমত নাযিল করুন এবং তাঁর উসিলায় আমাদের ঈমান, আমল ও আখিরাতকে কল্যাণময় করুন। আমীন।