ইজি লার্নিং

ইজি লার্নিং

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from ইজি লার্নিং, Educational consultant, Kalibari Road, Barisal.

পঞ্চম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জন্য সবচেয়ে সেরা শিক্ষা-সহায়ক প্রতিষ্ঠান।
ঠিকানা : সরকারি বরিশাল কলেজ সংলগ্ন, বি.এম. স্কুলের বিপরীত পার্শ্বে, বরিশাল।

যোগাযোগ 📞 01782-349920

Managing Director : অভিজিৎ ঘোষ (https://www.facebook.com/Avijit.Ghosh14313)

10/07/2026

Last class of 2026 batch.

01/07/2026

HSC-26 ব্যাচের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য রইলো দোয়া ও শুভকামনা।
- অভিজিৎ ঘোষ
পরিচালক ইজি লার্নিং

Photos from ইজি লার্নিং's post 01/07/2026

𝐇𝐒𝐂 𝟐𝟔 𝐁𝐚𝐭𝐜𝐡, এইচএসসি OMR পূরণ (ডেমো)। সবাই ১ বার দেখে নিও + ১ম Exam এ ঠান্ডা মাথায় সবগুলো তথ্য দিয়ে ফিল আপ করিও ⤵️

29/06/2026

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
বাংলা প্রথম পত্র
গদ্য : গন্তব্য কাবুল

১. ভূমিকা ও পটভূমি :
বিশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি রম্যলেখক ও বহুভাষাবিদ সৈয়দ মুজতবা আলী-র কালজয়ী ভ্রমণকাহিনি ‘দেশে বিদেশে’ (১৯৪৮)। এই গ্রন্থের শুরুর অংশটিই মূলত ‘গন্তব্য কাবুল’ নামে পরিচিত। ১৯২৮ সালে লেখক আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের কৃষিবিজ্ঞান কলেজে ইংরেজি ও ফরাসি ভাষার অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিতে যান। কলকাতা থেকে কাবুল পর্যন্ত দীর্ঘ, রোমাঞ্চকর এবং বিপদসংকুল যাত্রার নিখুঁত, হাস্যরসাত্মক এবং মনস্তাত্ত্বিক বিবরণই এই রচনার মূল উপজীব্য।

২. যাত্রার সূচনা ও মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব :
গল্পের শুরুতেই লেখকের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থার এক চমৎকার বিবরণ পাওয়া যায়। কলকাতা তথা হাওড়া স্টেশন থেকে যখন ট্রেন ছাড়ল, তখন লেখকের মনে কাজ করছিল এক তীব্র দোলাচল। একদিকে চেনা স্বদেশ, চেনা মানুষ এবং চিরচেনা সংস্কৃতিকে পেছনে ফেলে আসার বেদনা; অন্যদিকে এক অজানা, যুদ্ধংদেহী এবং রুক্ষ সংস্কৃতির দেশে যাওয়ার তীব্র কৌতূহল ও চাপা ভয়। লেখকের ভাষায়, এই যাত্রা কেবল ভৌগোলিক দূরত্ব অতিক্রম করা ছিল না, এটি ছিল এক সম্পূর্ণ ভিন্ন জগতে প্রবেশ করার মানসিক প্রস্তুতি।

৩. পেশোয়ার আগমন এবং শেখ আহম্মদ আলির আতিথেয়তা :
কলকাতা থেকে দীর্ঘ ট্রেন যাত্রা শেষে লেখক তৎকালীন অবিভক্ত ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের শেষ স্টেশন পেশোয়ারে পৌঁছান। পেশোয়ার ছিল কাবুলে ঢোকার প্রধান প্রবেশদ্বার।

শেখ আহম্মদ আলি :
পেশোয়ারে লেখককে অভ্যর্থনা জানান তাঁর পূর্বপরিচিত এবং অত্যন্ত সজ্জন ব্যক্তি শেখ আহম্মদ আলি। তিনি লেখককে তাঁর বাড়িতে নিয়ে যান এবং কাবুলের দুর্গম যাত্রার আগে প্রয়োজনীয় বিশ্রাম ও রসদ জোগাতে সাহায্য করেন।

সীমান্তের পরিবেশ: পেশোয়ারের পরিবেশেই লেখক প্রথম অনুভব করেন যে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জনপদে পা রেখেছেন, যেখানে মানুষের শারীরিক গঠন, ভাষা (পশতু/ফারসি) এবং জীবনযাত্রা ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে আলাদা।

৪. ট্রেনে ইংরেজ সহযাত্রী (ফিরিঙ্গি) ও হাস্যরসাত্মক সংঘাত :
যাত্রাপথের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ট্রেনের প্রথম শ্রেণীর কামরায় এক ব্রিটিশ বা ইংরেজ সামরিক কর্মকর্তার সাথে লেখকের সহাবস্থানের চমৎকার ও কৌতুকপূর্ণ বিবরণ।

পোশাকের বিভ্রাট : লেখক তাঁর ইউরোপীয় পোশাক এবং আভিজাত্যের কারণে ওই ইংরেজ কর্মকর্তার কাছে একজন উচ্চপদস্থ সামরিক ব্যক্তি বা গুরুত্বপূর্ণ কেউ বলে ভ্রম তৈরি করেছিলেন।

খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বিতর্ক : কামরায় বসে ইংরেজ সহযাত্রীটির সাথে লেখকের প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সংস্কৃতি, বিশেষ করে খাদ্যাভ্যাস নিয়ে গভীর কিন্তু অত্যন্ত রসাত্মক বিতর্ক হয়। ইংরেজদের কৃত্রিম শিষ্টাচার এবং বাঙালির রসনা বিলাসের এই তুলনা মুজতবা আলীর স্বভাবসুলভ রসবোধের এক অনন্য নিদর্শন।

৫. খাইবার গিরিপথের দুর্গমতা ও ভৌগোলিক বর্ণনা :
পেশোয়ার ছাড়িয়ে আফগানিস্তানের সীমান্তে পৌঁছাতে লেখককে অতিক্রম করতে হয়েছিল ঐতিহাসিকভাবে বিখ্যাত ও বিপজ্জনক খাইবার গিরিপথ।

প্রকৃতির রুক্ষতা : খাইবার পাসের দুই পাশের আকাশছোঁয়া পাহাড়, ধূসর পাথর, তীব্র ধূলিঝড় এবং প্রচণ্ড উত্তাপের বর্ণনা লেখক দিয়েছেন। এই রুক্ষ প্রকৃতিই যেখানকার মানুষদের এত কঠোর ও লড়াকু করে তুলেছে, তা লেখক অনুধাবন করেন।

নিরাপত্তার কড়াকড়ি : তৎকালীন সময়ে খাইবার পাস দিয়ে যাতায়াত করা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নির্দিষ্ট সময়ের পর উপজাতীয়দের (Tribal) আক্রমণের ভয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হতো। লেখক এই রোমাঞ্চকর ও থমথমে পরিস্থিতির এক জীবন্ত চিত্র এঁকেছেন।

৬. কাবুলে প্রবেশ ও আফগান সংস্কৃতির উন্মোচন :
সমস্ত বাধা-বিপত্তি এবং দীর্ঘ ক্লান্তিকর পথ পেরিয়ে লেখক যখন অবশেষে কাবুলে পৌঁছান, তখন তাঁর সামনে উন্মোচিত হয় এক নতুন পৃথিবী।

আবহাওয়া ও প্রকৃতি : কাবুলের শুষ্ক কিন্তু মনোরম আবহাওয়া, চারপাশের বরফাবৃত পাহাড় এবং আঙুর-ডালিমের বাগান লেখককে মুগ্ধ করে।

মানুষের চরিত্র : লেখক দেখেন, বাইরে থেকে যে আফগানদের চরম উগ্র বা হিংস্র মনে করা হয়, ভেতরে তারা অত্যন্ত সরল, বিশ্বস্ত এবং অতিথিপরায়ণ। অতিথির সুরক্ষার জন্য তারা নিজের জীবন বাজি রাখতেও দ্বিধা করে না।

আবদুর রহমান প্রসঙ্গ : কাবুলে পৌঁছানোর পর লেখকের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র 'আবদুর রহমান' (তাঁদের গৃহভৃত্য) এর আগমন ঘটে, যার বিশাল শরীর এবং অসামান্য সেবা করার মানসিকতা এই ভ্রমণকাহিনির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

৭. রচনার শৈল্পিক ও সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্যরম্য ও পাণ্ডিত্যের মিশ্রণ:

সৈয়দ মুজতবা আলীর লেখার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তিনি অতি গম্ভীর বিষয়কেও হাসির ছলে বলতে পারেন। ‘গন্তব্য কাবুল’-এ ইতিহাস, ভূগোল ও সমাজতত্ত্বের গভীর আলোচনা এসেছে অত্যন্ত সহজ ও চটুল ভাষায়।

বহুভাষী উদ্ধৃতি : লেখক তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে লেখার মাঝে মাঝে ফারসি শ্লোক, ইংরেজি প্রবাদ এবং সংস্কৃত উদৃতির চমৎকার ব্যবহার করেছেন, যা লেখার গুণগত মানকে অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।

মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি : লেখকের কোনো ঔপনিবেশিক বা সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি ছিল না। তিনি কাবুলের রুক্ষ প্রকৃতির ভেতরের কোমল ও মানবিক রূপটিকে পরম মমতায় ফুটিয়ে তুলেছেন।

"গন্তব্য কাবুল" গদ্যটির সারাংশ -
সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘গন্তব্য কাবুল’ একটি ভ্রমণভিত্তিক রচনা হলেও, এটি মূলত মানুষের মনস্তত্ত্ব, সংস্কৃতি এবং বিশ্বজনীন ভালোবাসার এক অনন্য দলিল। চেনা জগত ছেড়ে অচেনা রুক্ষ পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার মানসিক দ্বন্দ্ব ও তার জয়গান এখানে ফুটে উঠেছে। আপাত রুক্ষ প্রকৃতির আড়ালে আফগান সমাজের সরলতা ও আতিথেয়তা, লেখকের উদার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ধরা পড়েছে।
খাইবার গিরিপথের কঠিন ভূগোল এখানকার মানুষদের কঠোর পরিশ্রমী করে তুললেও, লেখক তাদের অকৃত্রিম ভালোবাসার রূপটিই তুলে ধরেছেন। দূর প্রবাসেও মানুষের আন্তরিকতা ও ভালোবাসার টানে যে ভৌগোলিক দূরত্ব মুছে যায়, তা এই রচনার মূল বার্তা। পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যের আচরণের পার্থক্য এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির কৌতুকপূর্ণ সংঘাতের মধ্য দিয়ে লেখক বিশ্বজনীন সম্প্রীতির কথা বলেছেন। পরিশেষে, হাস্যরসের মাধ্যমে অতি সাধারণ মানুষের মধ্যেও যে গভীর মানবিকতা ও বিশ্বস্ততা থাকে, তার জয়গান গেয়েছেন লেখক।

‘গন্তব্য কাবুল’ থেকে পরীক্ষায় আসার মতো কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় কোটেশন নিচে দেওয়া হলো :

১. মানুষের মনস্তত্ত্ব ও স্বদেশপ্রেম সংক্রান্ত কোটেশন -
"মানুষের মন বড় বিচিত্র; চেনা জগত ছেড়ে যখন সে অচেনা পথে পা বাড়ায়, তখন তার বুকের ভেতর একটা চাপা কান্না আর এক অজানা রোমাঞ্চ একসঙ্গে দোলা দেয়।"

তাৎপর্য:
কলকাতা ছাড়ার মুহূর্তে লেখকের মনের ভেতরের দ্বন্দ্ব ও একাকিত্বের অনুভূতি এই লাইনে প্রকাশ পেয়েছে।

২. ট্রেনের ইংরেজ সহযাত্রী (ফিরিঙ্গি) ও হাস্যরস প্রসঙ্গ -
"সাহেব ভাবলেন আমি হয়তো কোনো রাজপুত্র কিংবা ছদ্মবেশী বড় কোনো হর্তাকর্তা। পোশাকের মহিমা একেই বলে!"

তাৎপর্য:
ট্রেনের প্রথম শ্রেণীর কামরায় লেখকের ইউরোপীয় পোশাক দেখে ইংরেজ সহযাত্রীর ভুল ধারণার ওপর করা একটি চমৎকার রম্য মন্তব্য।

"কাঁটা-চামচ দিয়ে খাওয়াটা একটা আর্ট হতে পারে, কিন্তু আঙুল দিয়ে মাখিয়ে খাওয়ার ভেতর যে স্বর্গীয় তৃপ্তি আছে, তা কোনো ফিরিঙ্গি কোনোদিন বুঝবে না।"

তাৎপর্য:
প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের খাদ্যাভ্যাস এবং কৃত্রিম শিষ্টাচারের তুলনায় বাঙালির রসনা বিলাসের সহজ সরল রূপটি এখানে তুলে ধরা হয়েছে।

৩. খাইবার গিরিপথ ও প্রকৃতির রুক্ষতা -
"এ যেন বিধাতার এক অদ্ভুত সৃষ্টি—চারিদিকে শুধু ধূসর পাথর আর আকাশছোঁয়া পাহাড়, যেখানে প্রকৃতির কোনো দয়া নেই, আছে শুধু রুক্ষতার আস্ফালন।"

তাৎপর্য:
আফগানিস্তানের প্রবেশদ্বার খাইবার গিরিপথের অত্যন্ত কঠিন, দুর্গম ও থমথমে ভৌগোলিক পরিবেশের নিখুঁত বিবরণ এটি।

৪. আফগান চরিত্র ও আতিথেয়তা সংক্রান্ত কোটেশন -
"বাইরে থেকে এদের দেখে মনে হয় যেন পাথরের চেয়েও কঠিন, কিন্তু ভেতরে প্রবেশ করলে দেখা যায় এদের মনটা আঙুরের মতোই নরম আর মিষ্টি।"

তাৎপর্য:
কাবুলের পাঠান বা আফগান মানুষদের বাহ্যিক কঠোরতা এবং ভেতরের অসম্ভব আতিথেয়তা ও সরলতার এক অপূর্ব তুলনা।

"আফগানরা অতিথিকে ভগবান বা ঈশ্বরের রূপ মনে করে। অতিথিকে রক্ষা করার জন্য তারা নিজের জীবন দিতেও কুণ্ঠাবোধ করে না।"

তাৎপর্য:
পাঠানদের চরম বিশ্বস্ততা এবং মেহমানদারির সংস্কৃতির ওপর লেখকের একটি গভীর পর্যবেক্ষণ।

৫. বিশ্বজনীন মানবিকতা (মূলভাব সংক্রান্ত) -
"ভৌগোলিক সীমানা মানুষকে আলাদা করতে পারে, কিন্তু মানুষের ভেতরের আতিথেয়তা আর ভালোবাসার ভাষা পৃথিবীর সবখানেই এক।"

তাৎপর্য:
পুরো রচনার মূল দর্শন এটি। লেখক বুঝিয়েছেন যে ভাষা ও সংস্কৃতির অমিল থাকলেও মানুষের হৃদয়ের বন্ধন সার্বজনীন।

৬. পেশোয়ার ও পাঠান চরিত্র -
"পেশোয়ারে পা দিয়েই বুঝলাম, এ এক অন্য পৃথিবী। এখানকার মানুষ যেমন দীর্ঘদেহী, তাদের কণ্ঠস্বরও তেমনি বজ্রের মতো গম্ভীর।"

তাৎপর্য:
উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের মানুষের শারীরিক গঠন ও ব্যক্তিত্বের প্রথম অভিঘাত লেখক এখানে তুলে ধরেছেন।

"পাঠানের রাগ যেমন চণ্ড, তার ভালোবাসাও তেমনি অন্ধ।"

তাৎপর্য:
আফগান বা পাঠান চরিত্রের তীব্র আবেগ—তা সে ক্রোধ হোক বা বন্ধুত্ব—তার একটি বাস্তব চিত্র এই লাইনে ফুটে উঠেছে।

৭. সংস্কৃতি ও জীবনবোধের তুলনা -
"সাহেবদের সভ্যতা ঘড়ির কাঁটায় বাঁধা, আর প্রাচ্যের জীবন চলে মনের সুখে, প্রকৃতির নিয়মে।"

তাৎপর্য:
ইউরোপীয়দের যান্ত্রিক সময়ানুবর্তিতা এবং প্রাচ্যের মানুষের সহজ-সরল, বাঁধনহারা জীবনযাত্রার একটি চমৎকার তুলনামূলক রম্য উক্তি।

"যাদের নিজের কোনো ইতিহাস নেই, তারাই অন্যের ইতিহাসকে ধূলিসাৎ করতে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পায়।"

তাৎপর্য:
খাইবার গিরিপথের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ধ্বংসাবশেষ এবং ঔপনিবেশিক শক্তির আগ্রাসী মনোভাবের প্রতি লেখকের একটি প্রচ্ছন্ন শ্লেষ।

৮. খাইবার গিরিপথ ও যাত্রাপথের রোমাঞ্চ -
"পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে যেন আদিম হিংস্রতা লুকিয়ে আছে; একটু অসাবধান হলেই খাইবার পাসের এই পাথরগুলোই মানুষের কবর হয়ে উঠতে পারে।"

তাৎপর্য:
খাইবার গিরিপথের চরম বিপদসংকুল পরিবেশ এবং উপজাতীয়দের (Tribal) আকস্মিক আক্রমণের চাপা আতঙ্ককে লেখক এই লাইনে ফুটিয়ে তুলেছেন।

৯. কাবুলের আতিথেয়তা ও মানুষের সরলতা -
"যে হাত রাইফেল চালাতে সবচেয়ে বেশি পারদর্শী, সেই হাতই যখন আপ্যায়নের জন্য আঙুরের থালা এগিয়ে দেয়, তখন মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা দ্বিগুণ হয়ে যায়।"

তাৎপর্য:
পাঠানদের যুদ্ধপ্রিয় রূপের আড়ালে লুকিয়ে থাকা কোমল ও আন্তরিক আতিথেয়তার এক অপূর্ব বৈপরীত্যের বর্ণনা।

"কাবুলের বাজারে যখন ফারসি ভাষার গুঞ্জন শুনলাম, মনে হলো আমি কোনো অচেনা দেশে আসিনি, এসেছি এক প্রাচীন কাব্যের পাতায়।"

তাৎপর্য:
বহুভাষাবিদ লেখক মুজতবা আলীর ফারসি ভাষার প্রতি অনুরাগ এবং কাবুলের সাংস্কৃতিক আবহাওয়ার প্রতি তাঁর মুগ্ধতা এখানে প্রকাশ পেয়েছে।

✍️ অভিজিৎ ঘোষ
(Founder of ইজি লার্নিং)

25/06/2026

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
বিষয় : বাংলা প্রথম পত্র
গদ্য : সাহিত্যে খেলা

‎ 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের মূলভাব ও বিশ্লেষণ -

‎সাহিত্যের উদ্দেশ্য : প্রাবন্ধিকের ভাষায়, সাহিত্যের কাজ কাউকে নীতিশিক্ষা দেওয়া বা মনোরঞ্জন করা নয়। সাহিত্য কোনো উদ্দেশ্য সাধনের হাতিয়ার হতে পারে না।

‎সাহিত্য ও খেলাধুলার সম্পর্ক : সাহিত্য ও খেলা—উভয়েরই মূল লক্ষ্য হলো আনন্দ লাভ করা। খেলায় যেমন মানুষ কোনো পার্থিব লাভ বা ফলের আশা করে না, তেমনি সাহিত্যচর্চাও হওয়া উচিত সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থ ও আনন্দদায়ক।

‎শিল্পীর আনন্দ: ভাস্কর রোদ্যাঁ (Rodin) কাদা দিয়ে যেমন নিজের আনন্দের জন্য পুতুল গড়তেন, ঠিক তেমনি প্রকৃত শিল্পীরাও নিজেদের আনন্দের জন্যই সাহিত্য সৃষ্টি করেন।

‎সৃষ্টির আনন্দ বনাম উপযোগিতা : মানুষ যে শুধু প্রয়োজনের তাগিদেই সৃষ্টি করে তা নয়, বরং অকারণ আনন্দের জন্য ও মনের খোরাক মেটাতেই সাহিত্যের জন্ম হয়। পেশাদারিত্ব বনাম সাহিত্য: সাহিত্যকে যখন পেশা বা উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা হয়, তখন তার আসল সৌন্দর্য ও শিল্পসত্তা নষ্ট হয়ে যায়।


‎গুরুত্বপূর্ণ পঙ্‌ক্তি ও উদ্ধৃতি -
‎"সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেওয়া, কারো মনোরঞ্জন করা নয়, কাউকে শিক্ষা দেওয়াও নয়।"
‎⬇️⬇️⬇️⬇️⬇️⬇️⬇️⬇️⬇️⬇️⬇️⬇️⬇️⬇️⬇️
‎(এই উক্তিটির মাধ্যমে প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যের স্বাতন্ত্র্য তুলে ধরেছেন। সাহিত্য মানুষকে আনন্দ দেয় ঠিকই, কিন্তু এর প্রাথমিক উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষাদান নয়।)


‎"জগৎ-বিখ্যাত ফরাসি ভাস্কর রোদ্যাঁ, যিনি নিতান্ত জড় প্রস্তরের দেহ থেকে অসংখ্য জীবিতপ্রায় দেব-দানব কেটে বার করেছেন তিনিও, শুনতে পাই, যখন-তখন হাতে কাদা নিয়ে আঙুলের টিপে মাটির পুতুল তৈরি করে থাকেন। এই পুতুল গড়া হচ্ছে তাঁর খেলা।"
‎⬇️⬇️⬇️⬇️⬇️⬇️⬇️⬇️⬇️⬇️⬇️⬇️⬇️⬇️⬇️
‎(এর মাধ্যমে লেখক বুঝিয়েছেন যে, বড় বড় শিল্পীরাও আনন্দের জন্য খেলাচ্ছলে শিল্পচর্চা করেন।)

‎সৃজনশীল ও নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য -

‎প্র: কেন সাহিত্যকে খেলা বলা হয়েছে?
‎উত্তর: কারণ সাহিত্য থেকে কোনো প্রত্যক্ষ ফল বা লাভ আশা করা যায় না। খেলা যেমন আনন্দের জন্য খেলা হয়, সাহিত্যও তেমনি আনন্দের জন্য সৃষ্টি।

‎'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধটির মূল সুর -
‎সাহিত্যের আনন্দময় রূপ ফুটিয়ে তোলা এবং সাহিত্যের উপযোগিতাবাদী ধারণার বিরোধিতা করা।
‎এটি মূলত প্রমথ চৌধুরীর একটি যুক্তিনির্ভর ও মননশীল রচনা। সাহিত্য পাঠে ও সৃষ্টিতে তিনি আনন্দের জয়গান গেয়েছেন।


‎সাহিত্যে খেলা প্রবন্ধটি ১০-১২ লাইনে উপস্থাপন -

‎প্রমথ চৌধুরীর বিখ্যাত মননশীল প্রবন্ধ 'সাহিত্যে খেলা'-তে সাহিত্যকে কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য, নীতিবাক্য বা শিক্ষাদানের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। তাঁর মতে, সাহিত্য হলো বিশুদ্ধ আনন্দের ক্ষেত্র, যেখানে মানবাত্মা স্বতঃস্ফূর্তভাবে খেলা করে।

‎নিচে গদ্যটির মূলভাব ১০-১২ লাইনে উপস্থাপন করা হলো:
‎প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যকে নিছক বিনোদন বা শিক্ষাদানের কোনো হাতিয়ার মনে করেন না।তাঁর মতে, সাহিত্য কোনো গুরুর হাতের বেত বা শিশুর হাতের খেলনা নয়।শিক্ষকের কাজ হলো কোনো সৃষ্টিকে ব্যবচ্ছেদ করে তার তত্ত্ব বের করা, কিন্তু কবির কাজ সম্পূর্ণ বিপরীত—তিনি সৃষ্টিতে আনন্দ ছড়িয়ে দেন। সাহিত্য কারও মনোরঞ্জন বা উপদেশ দেওয়ার জন্য রচিত হয় না। মানবাত্মা যখন সৃষ্টির আনন্দে মেতে ওঠে, তখনই সাহিত্যের প্রকৃত বিকাশ ঘটে। পৃথিবীর সব শিল্পীই শিল্পকলার এই নির্মল খেলা খেলে থাকেন। লেখক সাহিত্যকে খেলার সঙ্গে তুলনা করেছেন, যার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের আত্মিক আনন্দ ও সৌন্দর্য উপলব্ধি।সাহিত্যের প্রধান কাজ কোনো শিক্ষাদান বা লোকহিত সাধন নয়, বরং মানুষের মনকে জাগিয়ে তোলা।বাল্মীকি রামায়ণ পাঠের সময় ঋষিরাও মুগ্ধ হয়ে এর আনন্দ উপভোগ করেছিলেন এবং কুশীলবকে তাঁদের যথাসর্বস্ব উপহার দিয়েছিলেন।পরিশেষে বলা যায়, সাহিত্যের মূল লক্ষ্য হলো যুক্তিনির্ভর তত্ত্বের বাইরে গিয়ে অনুভূতির জগতে এক অনাবিল আনন্দের সন্ধান দেওয়া।
‎✍️ অভিজিৎ ঘোষ
(Founder of ইজি লার্নিং)

25/06/2026

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
বাংলা প্রথম পত্র
গদ্য : বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন।

‎‎‎বঙ্কিমচন্দ্রের মূল উপদেশাবলি (১-১৩ ধাপ)

‎১. যশের জন্য না লেখা: খ্যাতির লোভে লিখলে কখনোই ভালো লেখা সম্ভব নয়। সাহিত্যকর্ম উন্নত হলে যশ বা খ্যাতি আপনাআপনিই আসবে।

‎২. টাকার জন্য না লেখা: ইউরোপে টাকার জন্য লেখালেখি করে অনেকে সফল হলেও, আমাদের দেশের সাধারণ পাঠকের রুচি ও শিক্ষার অবস্থা এখনো এমন পর্যায়ে পৌঁছায়নি। টাকার উদ্দেশ্যে লিখলে রচনা বিকৃত ও অনিষ্টকর হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

‎৩. মঙ্গল ও সৌন্দর্য সৃষ্টি: দেশের ও মনুষ্যজাতির মঙ্গল সাধন অথবা সৌন্দর্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কলম ধরা উচিত। অন্য উদ্দেশ্যে লিখলে তাদের যাত্রাওয়ালার মতো নিচু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তুলনা করা চলে।

‎৪. সাহিত্য অসত্য ও স্বার্থমুক্ত হওয়া: মিথ্যা, ধর্মবিরোধী, পরনিন্দা, পরপীড়ন বা স্বার্থসাধন—সাহিত্যের উদ্দেশ্য হতে পারে না। সত্য ও ধর্মই সাহিত্যের আসল উদ্দেশ্য।

‎৫. লেখার পর কিছুকাল ফেলে রাখা: কোনো লেখা শেষ হওয়ামাত্রই ছাপতে দেওয়া উচিত নয়। কিছুকাল তা ফেলে রেখে কিছুদিন পর আবার পড়লে ত্রুটিগুলো চোখে পড়ে।

‎৬. অযথা অলংকার বর্জন: লেখার ভাষা যেন সহজ ও স্বাভাবিক হয়। বিনা প্রয়োজনে অলংকার (কঠিন শব্দ বা উপমা) ব্যবহার করে রচনাকে ভারাক্রান্ত করা উচিত নয়।

‎৭. পুনরাবৃত্তি রোধ: একই কথা বা ভাবের বারবার পুনরাবৃত্তি করা দোষণীয়।

‎৮. কঠিন শব্দের ব্যবহার: বাংলায় অনেক সহজ শব্দ থাকতেও বিনা কারণে দুর্বোধ্য বা কঠিন সংস্কৃত শব্দ ব্যবহার করা পরিহারযোগ্য।

‎৯. অনুবাদ ও অনুসরণের সতর্কতা: অন্যের লেখা অনুবাদের সময় আক্ষরিক অনুবাদ না করে, নিজের ভাষায় স্বাধীনভাবে ভাব প্রকাশ করতে হবে।

‎১০. অতিরিক্ত উদাহরণের ব্যবহার: অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত দৃষ্টান্ত বা উদাহরণ দিয়ে লেখার কলেবর বৃদ্ধি করা উচিত নয়।

‎১১. সংক্ষিপ্ততা ও গুণের সমাদর: লেখার মূলভাব যত সংক্ষেপে ও সুন্দরভাবে প্রকাশ করা যায়, ততই তা আকর্ষণীয় হয়।

‎১২. নিজের ভাষার প্রতি যত্নশীলতা: অন্যের দেখাদেখি বা সমালোচনা শুনে লেখার পদ্ধতি বা ভাষা পরিবর্তন করার প্রয়োজন নেই। নিজের বিশ্বাসের প্রতি অবিচল থাকতে হবে।

‎১৩. সাহিত্যের উন্নতিতে আত্মনিয়োগ: নবীন লেখকরা এই নিয়মগুলো মেনে চললে অচিরেই বাংলা সাহিত্যের উন্নতি সাধিত হবে—এটাই প্রাবন্ধিকের চূড়ান্ত আশাবাদ।


‎প্রাবন্ধিকের সাহিত্যিক দর্শন -
** ‎সাহিত্যের লক্ষ্য: বঙ্কিমচন্দ্রের মতে, সাহিত্যের মূল লক্ষ্য হলো সত্য ও ধর্ম।

** ‎দায়িত্ববোধ: লেখকসমাজকে তিনি সমাজের পথপ্রদর্শক মনে করতেন, তাই তাদের লেখনী যেন কোনোভাবেই সমাজের ক্ষতি না করে।


‎★★★ গল্পটিকে ১০-১২ লাইনের মাধ্যমে সহজে উপস্থাপন -
‎সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ১৮৮৫ সালের প্রবন্ধ 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' নতুন লেখকদের জন্য একটি কালজয়ী দিকনির্দেশনা। এতে তিনি অর্থের মোহ বর্জন করে সাহিত্যকে জনকল্যাণ ও সত্য সাধনার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। নিজের লেখার পরিপক্কতা নিশ্চিত করতে তিনি তা কিছুকাল ফেলে রাখার পরামর্শ দেন। সহজ-সরল ভাষায় আত্মিক অনুকরণ বর্জন করে মৌলিক সৃষ্টির ওপর তিনি জোর দিয়েছেন। এই রচনাটি বর্তমান তরুণ সাহিত্যিকদের জন্যও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

✍️ অভিজিৎ ঘোষ
(Founder of ইজি লার্নিং)

24/06/2026

স্কুল অর্ধবার্ষিক পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ইজি লার্নিং কর্তৃক অনুষ্ঠিত ধারাবাহিক মডেল টেস্ট পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থী মিথিলা তাসমিহ্ জুঁই এর বক্তব্য।

Photos from ইজি লার্নিং's post 24/06/2026

প্রিয় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে উপহার গ্রহণকালীন আনন্দঘন মুহূর্তে।

Want your school to be the top-listed School/college in Barisal?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Address


Kalibari Road
Barisal