24/05/2026
কুরবানি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা প্রত্যেকের জন্য জানা জরুরী!
কুরবানি শুধু একটি রেওয়াজ না, এটা আল্লাহর জন্য ভালোবাসা, আনুগত্য ও ত্যাগের একটি মহান ইবাদত। অনেক মানুষ মনে করেন— “ইচ্ছা হলে কুরবানি দিবো, না হলে দিবো না।” কিন্তু রাসূল ﷺ কুরবানির বিষয়টিকে খুব গুরুত্ব দিয়েছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
“তুমি তোমার রবের জন্য সালাত আদায় করো এবং কুরবানি করো।” — কুরআন
রাসূল ﷺ নিজেও প্রতি বছর কুরবানি করতেন। আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) বলেন,
“রাসূল ﷺ দুটি সাদা-কালো শিংওয়ালা দুম্বা কুরবানি করেছেন।” — সহিহ বুখারি
আরেক হাদীসে রাসূল ﷺ বলেছেন,
“যার সামর্থ্য আছে কিন্তু কুরবানি করলো না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছে না আসে।” — সুনান ইবনে মাজাহ
এই হাদীস থেকে বোঝা যায়— কুরবানি সামর্থ্যবান মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।
এখন প্রশ্ন হলো— “সামর্থ্যবান” কারা?
কুরআন ও সহিহ হাদীসে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি— “এত টাকা থাকলে” বা “এত ভরি স্বর্ণ থাকলে” কুরবানি করতে হবে। তবে আলেমগণ কুরআন-হাদীসের আলোকে বুঝিয়েছেন— যে মানুষের নিজের প্রয়োজন পূরণ করার পর কুরবানি করার সক্ষমতা থাকে, সে সামর্থ্যবান।
অর্থাৎ কারো কাছে যদি অতিরিক্ত টাকা, স্বর্ণ, ব্যবসার মাল বা এমন সম্পদ থাকে যার মাধ্যমে সহজে কুরবানি করা সম্ভব, তাহলে তার কুরবানি করা উচিত।
শুধু পুরুষ না, নারীদের ক্ষেত্রেও একই কথা। যদি কোনো বোনের নিজের গহনা, জমানো টাকা বা সম্পদ থাকে এবং সে কুরবানি করার সামর্থ্য রাখে, তাহলে সেও কুরবানি করতে পারে। কারণ আল্লাহর কাছে নারী-পুরুষ উভয়েই আলাদা হিসাব দেবে।
📌 আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— একজন কুরবানি দিলেই পুরো পরিবারের সবার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়— বিষয়টা সবসময় এমন নয়। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে একটি কুরবানি করা জায়েজ আছে, আবার যার সামর্থ্য আছে সে আলাদাভাবেও কুরবানি করতে পারে।
মনে রাখতে হবে— কুরবানি শুধু পশুর রক্ত ঝরানো না। আল্লাহ তাআলা বলেন,
“আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না পশুর গোশত বা রক্ত, বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।” — কুরআন
কুরবানি আমাদের শেখায়— আল্লাহর আদেশের সামনে নিজের ভালোবাসা, ইচ্ছা ও প্রিয় জিনিসকেও ত্যাগ করতে প্রস্তুত থাকা। যেমন ইবরাহিম (আঃ) আল্লাহর আদেশের সামনে নিজ সন্তানের কুরবানির জন্যও প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিলেন।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সহিহভাবে কুরবানির গুরুত্ব বোঝার এবং ইখলাসের সাথে এই ইবাদত আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন 🤲
Alhamdulillah