01/10/2020
আয়াতুল কুরসীর ফজিলত!
পবিত্র আল কোরআনকে মহান আল্লাহ্ মানব জাতির হিদায়াত ও জীবন বিধান হিসেবে নাজিল করেছেন। এই মহামূল্যবান গ্রন্থের দ্বিতীয় সূরা আল বাকারার ২৫৫তম আয়াত হলো আয়াতুল কুরসী। এ আয়াতটিতে ১০টি বাক্য রয়েছে। যার প্রত্যেকটিতে আল্লাহর ক্ষমতার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। আয়াতুল কুরসী পাঠ করলে মানব জাতির অনেক কল্যাণ সাধিত হয়, বিভিন্ন বিপদ আপদ থেকে বাঁচা যায়।
আয়াতুল কুরসীর রয়েছে অনেক ফজিলত।
একদিন রাসূল (সাঃ) হযরত ওবাই ইবনে কা’ব (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলেন সবচেয়ে ফজিলত ও গুরুত্বপূর্ণ আয়াত কোনটি? ওবাই ইবনে কা’ব (রাঃ) আরজ করলেন, সেটি হচ্ছে আয়াতুল কুরসী। রাসূল (সাঃ) তা সমর্থন করলেন এবং বললেন, হে আবুল মানজার! তোমাকে এ উত্তম জ্ঞানের জন্য ধন্যবাদ।
__(মুসনাদে আহমদ)
উবাই বিন কা'ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত,
নবী কারীম (সাঃ) বলেছেন: আল্লাহর কসম! যার হাতে আমার প্রাণ আয়াতুল কুরসীর একটি জিহবা ও দুটি ঠোট রয়েছে এটি আরশের পায়ার কাছে আল্লাহর প্রশংসা করতে থাকবে।
__(মুসনাদে আহমদ: ২১৬০২)
আয়াতুল কুরসীর বাংলা অর্থ:
আল্লাহ্, যিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব ও বিশ্বচরাচরের ধারক। কোনো তন্দ্রা বা নিদ্রা তাঁকে পাকড়াও করতে পারে না। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবকিছু তাঁরই মালিকানাধীন। তাঁর হুকুম ব্যতিত এমন কে আছে যে, তাঁর নিকটে সুপারিশ করতে পারে? তাদের সম্মুখে ও পিছনে যা কিছু আছে সবকিছুই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসমুদ্র হতে তারা কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না, কেবল যতুটুকু তিনি দিতে ইচ্ছা করেন তা ব্যতিত। তাঁর কুরসি সমগ্র আসমান ও জমিন পরিবেষ্টন করে আছে। আর সেগুলোর তত্ত্বাবধান তাঁকে মোটেই শ্রান্ত করে না। তিনি সর্বোচ্চ ও মহান।
আয়াতুল কুরসীর ফজিলত:
আবূ উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন:
রাসূল (সাঃ) বলেছেন: যে ব্যক্তি প্রতি ফরজ নামায শেষে আয়াতুল কুরসী পড়ে, তার জান্নাতে প্রবেশ করতে মৃত্যু ছাড়া কোন কিছু বাধা হবে না।
__(সহীহ আল্ জামে :৬৪৬৪)
হযরত আলী (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)কে বলতে শুনেছি- যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর আয়াতুল কুরসী নিয়মিত পড়ে, তার জান্নাতে প্রবেশে কেবল মৃত্যুই অন্তরায় হয়ে আছে। যে ব্যক্তি এ আয়াতটি বিছানায় শয়নের সময় পড়বে আল্লাহ্ তার ঘরে, প্রতিবেশীর ঘরে এবং আশপাশের সব ঘরে শান্তি বজায় রাখবেন।
__(সুনানে বাইহাকী)
শয়নকালে পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত তার হেফাজতের জন্য একজন ফেরেশতা পাহারায় নিযুক্ত থাকে। যাতে শয়তান তার নিকটবর্তী হতে না পারে।
__(বুখারি)
হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত:
রাসুল (সাঃ) বলেছেন: সুরা বাকারায় একটি শ্রেষ্ঠ আয়াত রয়েছে, যে ঘরে আয়াতুল কুরসী পাঠ করা হবে সেখান থেকে শয়তান পালাতে থাকে।
__(মুস্তাদরাকে হাকিম:২১০৩)
আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন,
রাসূলে কারীম (সাঃ) ইরশাদ করেছেন,
সূরা আল বাক্বারায় এমন একটি আয়াত রয়েছে যা কুরআনের অন্য সব আয়াতের সর্দার বা নেতা। সে আয়াতটি যে ঘরে পড়া হয়, তা থেকে শয়তান বেরিয়ে যায়।
__(তাফসীর মা’ আরেফুল কুরআন-১ম খণ্ড, পৃ: ৬৭৬)
মুসলিম সমাজে আয়াতুল কুরসী নিয়ে আরেকটি কথা প্রচলিত আছে, তাহলো কোথাও যাওয়ার পূর্বে আয়াতুল কুরসী পড়ে বের হলে বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
আল্লাহ্ পাক আমাদের সবাইকে আমল করার তাওফীক দান করুন আমিন।