12/06/2023
"এত অসহযোগিতা ও সমস্যার মধ্যে, কোনো প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ও দায়িত্বশীল লোক ছাড়া আমার আর ডিবিএফ নিয়ে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব না।
যারা এতদিন মেন্টালি সাপোর্ট দিয়েছেন তাঁদের ধন্যবাদ।"
ডিবিএফ এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে গ্রামের কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার উৎসাহ যোগানো, দিকনির্দেশনা দেওয়া, তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা। আমরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি মনমানসিকতা ও বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে ধারণা পরিবর্তনের চেষ্টা করেছি, কোচিং করিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাইয়ে দেওয়ার জন্য নয়। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য ৫বছরে যে সচেতনতা গ্রামের কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি করতে পেরেছি তা উল্লেখযোগ্য।
আমাদের মূল উদ্দেশ্যের দিকনির্দেশনা সম্বলিত প্রোগ্রামের পাশাপাশি যখন সময় পেয়েছি তখন ছোট বা বড় পরিসরে ক্লাসের ব্যবস্থা করেছি। বিভিন্ন সমস্যার কারণে আমাদের আর সামনে এগিয়ে যাওয়া আর সম্ভব নয়। তার কিছু ঘটনা আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।
Scam No. 1:
২০১৯ঃ প্রতিষ্ঠার পরের বছর
আলাওল কলেজ ও নজির আহমেদ কলেজে ডিবিএফ এর পক্ষে দিকনির্দেশনামূলক ১ঘন্টার প্রোগ্রাম পরিচালনার জন্য অনুমতি নিয়েছি। প্রোগ্রাম পরিচালনায় থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী ও আমার (মিনহাজ) পরিচিত কিছু ফ্রেন্ড। প্রোগ্রাম শেষে শুনলাম সেখানে ডিবিএফ নিয়ে কোনো কথা হয়নি, বরং অন্য একটা বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টার নিয়ে কথা হয়েছে।
ফলাফলঃ একজন ঢাবিয়ান Out.
Scam No. 2:
২০১৯ সালে ছোট পরিসরে কোচিং করাই রমজানের ছুটিতে। এতে আমরা ৩জন ঢাবিয়ান ছিলাম। আমি প্রতিটি ক্লাস নিতে রমজানে ছনুয়া থেকে মিয়ার বাজার আসতাম। খরচের জন্য প্রতি স্টুডেন্ট ৩০০৳ করে দিয়েছিল যাতায়াত, ছাপা খরচ ও আনুষঙ্গিক খরচ। খরচের টাকাটা এক ঢাবিয়ান তুলেছিল। টাকাটা ওর কাছ থেকে বুঝে পাওয়ার জন্য মাসের পর মাস ওর রুমে রুমে ঘুরতে হয়েছে এবং এখনও ডিবিএফ তার থেকে টাকা পায়।
(এই পোস্ট টা দেওয়ার পর পাওনা টাকা দিয়ে দিয়েছে। তার কাছ থেকে ডিবিএফ আর টাকা পায়না। Edited at 10:56PM on 14/06/2023)
কোচিং-এ যাদের পড়িয়েছিলাম তারা পরিবার থেকে কোনো ধরনের মেন্টাল সাপোর্ট পায়নি পড়ার। অনেককে পড়ার সময় বাঁধা পর্যন্ত দিয়েছে।
ফলাফলঃ একজন ঢাবিয়ান Out এবং কোনো স্টুডেন্ট চান্স পায়নি।
Scam No. 3:
২০২০ সাল।
করোনার মধ্যে কেউ শহরে গিয়ে কোচিং করতে পারছেনা এবং আমরা বাঁশখালীতে ছিলাম। তাই কয়েকজন ঢাবিয়ানকে নিয়ে ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে শুরু করি বিনামূল্যে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং। শুরু হয় মহা কর্মযজ্ঞ। ছনুয়া থেকে এসে ক্লাস নেওয়া, সারাদিন-রাত মোবাইলে টাইপ করে করে প্রশ্ন তৈরী করা......
এগুলো করতে করতে একসময় চোখ বন্ধ হয়ে যেত। শুধু ভাবতাম অনেক সম্ভাবনাময় মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ভর করছে আমাদের উপর। সেটা ভেবে কখনোই নিজের উপর এসব কাজকে 'চাপ' মনে হয়নি।
প্রতিটি ক্লাসের উপর পরীক্ষা, বিষয় ভিত্তিক ৯৬টা এমসিকিউ ও লিখিত পরীক্ষা, ৬০টা ফাইনাল মডেল টেস্ট এমসিকিউ পরীক্ষা ও লিখিত পরীক্ষা, এবং শীট সবকিছুই OPPO A1k দিয়েই করা। ফলস্বরূপ ৩জন স্টুডেন্ট ঢাবিতে ও ১জন চবিতে; মোট ৪জন চান্স পায়।
৪জনের মধ্যে ২জন থেকে আমার (আমাদের) প্রত্যাশা বেশি ছিল যে তারা চান্স পেয়ে ডিবিএফ এর হাল ধরবে। কারণ তারা মাস্ট চান্স পাবে এটা জেনেই কোচিংটা শুরু করেছওলা। বাকি ২জনের ১জন মূল কোচিংটা অন্য জায়গায় করেছিল এবং আরেকজন অনেক শেষ সময়ে এসে ভর্তির কল পেয়েছিল।
এদের নিয়ে বেশি কিছু বলতে চাইনা শুধু ২টা কথা বলব।
১. একজন ঢাবিতে গিয়ে ঢাকার একটা বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টারের সংবর্ধনা নিতে গিয়ে ফেসবুকের স্টোরি দিয়েছে "From UCC to Dhaka University".
২. এরপর থেকে কারও সাথে আমার যোগাযোগ ছিলোনা।
Scam No. 4:
এইচএসসি ২০২২ শেষ হওয়ার পর ঢাবিকথন নামের একটা প্রোগ্রাম করেছিলাম। এরপর থেকে কিছু স্টুডেন্ট এর অনুরোধে অনলাইনে পরীক্ষা নিতাম। স্টুডেন্টরা চেয়েছিল তাই গত রমজানের ছুটিতে বাসায় গিয়ে কিছুদিন ক্লাস ও পরীক্ষা নিয়েছিলাম। একটা মানসম্মত প্রশ্ন করতে কি পরিমাণ সময় দেওয়া লাগে, ছনুয়া থেকে রমজান আর রোদের মধ্যে মিয়ার বাজার ক্লাস নিতে আসা কত পেইনফুল তা নিজে না করলে বুঝবেননা কেউ। তাহলে কেন করেছিলাম? কারণ স্টুডেন্টরা চেয়েছিল এবং ওদের মধ্যে নিশ্চিত চান্স পাওয়ার মতো যোগ্য অনেক স্টুডেন্ট ছিল।
ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সময় অনেক আবেদনই করেনি। সবচেয়ে ভালো স্টুডেন্টটাও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেনি, বাকিদের কথা নাই বললাম। ভর্তিযোগ্য ইউনিটে আবেদন না করা, পরীক্ষা না দেয়া..... এসব নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে গেছে।
কয়েকটা কথা সামারাইজ করিঃ
১. আমি যত উদ্যোগ নিয়েছি ততবার যাদের জন্য নিয়েছি তাদের কাছে থেকে কমিটমেন্ট নিয়েছি, তাদের মধ্যে সফল হওয়ার মতো কেউ আছে কিনা তা নিশ্চিত হয়েছি এবং আমার সাথে যারা কাজ করবে তাদেরও কমিটমেন্ট নিয়েছি এবং আজ পর্যন্ত তা কেউ রাখেনি।
২. কখনও ডিবিএফ এর জন্য অনুদান নিইনি। ৫বছর নিজের টাকা খরচ করেছি। বড় প্রোগ্রামের সময় অংশগ্রহণকারীদের থেকে খরচ নিয়েছি যা মূল খরচের চেয়ে সবসময়ই কম ছিলো।
৩. ডিবিএফ যা করে তা সমসময়ই চ্যালেঞ্জিং কাজ এবং অন্য যেকোনো সামাজিক সংগঠন বা কোচিং থেকেও আলাদা। এসএসসি/এইচএসসি পড়ানো বা এ-প্লাস পাওয়া যত সহজ (বা কঠিন) একটা স্টুডেন্টকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি যোগ্য করে তোলা অনেক চ্যালেঞ্জিং। যেভাবেই হোক প্রতিটা ব্যাচকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত (কম-বেশি) পরিশ্রম করেছি।
এত অসহযোগিতা ও সমস্যার মধ্যে, কোনো প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ও দায়িত্বশীল লোক ছাড়া আমার আর ডিবিএফ নিয়ে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব না।
যারা এতদিন মেন্টালি সাপোর্ট দিয়েছেন তাঁদের ধন্যবাদ।