20/05/2026
যেখান থেকে এই স্কুল ঘরের গল্প শুরু..
পাওমুমের কো-ফাউন্ডারের মাথায় প্রথম ২০১৭ সালে চিন্তা আসে, একটা ইকো ফ্রেন্ডলি স্ট্রাকচারের স্কুল ঘর এখানে বানাবো। সেই সময় পরিচয় হয় আমাদের মূল স্থপতি সায়ন সুরের সাথে। প্রায় ২ বছর নানা প্ল্যান, আলাপ, রিসার্চ এর পর একটা বেসিক ডিজাইন দাঁড়ায়। সময়ের সাথে দলে যুক্ত হন আমাদের দ্বিতীয় স্থপতি কৌশিক কুমার। কোভিডের ঠিক আগে আগে আমাদের কন্সট্রাকশনের জন্য প্রচুর বাশ,গাছ পাড়াবাসীদের থেকে অনুদান নেওয়া হয়৷ লোকালি পুরো কাজটা হ্যান্ডেল করেন আমাদের ততকালীন পরিচালক ও কো ফাউন্ডার ম্যানরং ম্রো। এরপরই স্থবির হয়ে যায় পুরো পৃথিবী । কিন্তু থামি নি আমরা। কোভিডের মাঝেই চলে ফান্ডিং। কোভিডের পর দুইটি কনসার্ট। আয়োজন করে জাফরি আবেদীন ও তার প্রতিষ্ঠান ঝিড়ঝিড় এর এক ঝাক শুভাকাঙ্ক্ষী। আর্টিস্ট আসাদ ইকবাল সুমন'দা কোভিডের আগেই বাচ্চাদের সাথে একটি ওয়ার্কশপ করেন। বিক্রি হয় সেই ছবি গুলো। কোভিডের পর আমাদের ৩য় কো ফাউন্ডার চংকক ম্রো এর অনুদান কৃত স্কুলের পাহাড়ে শুরু হয় আমাদের মূল কাজ। মাঝে অনেক বাঁধা বিপত্তি আসে। এমনও হয় যে কালকে কাজ হবার মত টাকা নেই। রাতে বসে ফোনে ফোনে কিছু টাকা ম্যানেজ করে পরদিন লেবার খরচ চালানো শুধু। কাজের মূল দায়িত্বে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ছিলো রিচেস চাকমা। সাথে শাহারিয়ার। সময়ে সময়ে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন অভিজিৎ দাশ, শাওন, কনক, স্বর্ণভ, সুমন সহ নাম জানা অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী। কাজের লোকাল লিড ছিলেম ন ম্যান প্রে ম্রো, সাথে ম্যানচং ম্রো। ডন, মাংপুং সহ নিয়মিত বা অনিয়মিত ভাবে কাজ করেছেন অনেক অনেক পাড়াবাসী। মহিলাদের এক দল দুইদিন প্রায় ২৫ জন একসাথে মাটি কাটা অনুদান হিসেবে দিয়েছিলেন। তারমধ্যে একজন প্রেগন্যান্ট দিদিও ছিলেন। অনেক মানার পরেও রেস্ট নিয়ে নিয়ে কাজ করে গেছেন তিনি। বাচ্চারাও ক্লাসের ফাঁকে জিও ব্যাগ ভর্তি করতে দল বেঁধে ঝিরি থেকে বালি তুলে দিতো। কেউ কেউ তরকারি, সবজি পাঠাতো যাতে লেবাররা,আমরা দুপুরে খেতে পারি। অনেকদিন শুধু লবণ পানি দিয়ে দুপুরে ভাত খেতাম আমরা। তপ্ত রোদে সারাদিন কাজ করে,পাহাড়ের উপরে শাহারিয়ারের ছোট্ট ঘরটায় উঠে আগুন জ্বেলে গল্প করতে করতে পরেরদিনের কাজের পরিকল্পনা আর বাঁশ বাধার জন্য বেত ফাঁড়া হতো।
এই যে এত এত গল্প, এত এত পরিশ্রম, এত কিছু হতো ছবির এই মানুষটার জিদটা না থাকলে। তার একার জিদে, সবার সাথে লড়াই করে, হাজারো অমত, ভেটো, বাঁধা পার করেও, তিলে তিলে, বছরের পর বছর ধরে পাহাড়ের কোলে এই আলোঘর তৈরি হলো। সাথে ছিলো শত শত বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী, ভালোবাসার মানুষ। এতগুলো মানুষের কষ্টের ফসল এই ঘরটি আশা করি ভালো থাকবে। শীঘ্রই ঈদের অওর টিন পৌঁছে যাবে৷ আমাদের আলোঘর ভবিষ্যতেও এমনই হবে। পাহাড়ের বুকে ইট পাথরের বাক্স আমরা বানাতে চাই না, তা সে যত কষ্টই হোক।
শাহারিয়ারের হাতের আর্কিটেকচারাল মডেলটি বানিয়েছিলেন আফিফ হোসেন আর কৌশিক'দা। মডেলটি শুধু এ বিল্ডিং এর। এই মডেল ধরেই ঘরটা বানানো।
ছবিটি তুলেছিলেন সৈকত শাহপরান'দা। দাদাকে ভালোবাসা একটা সুন্দর স্মৃতি ধরে রাখান জন্যে।
পাহাড়ে শিক্ষার আলো আসবেই...
বিদ্র: পুরো গল্পে কারো নাম মিস করলে ক্ষমাপ্রার্থী।
#পাওমুম_থারক্লা ❤️🇧🇩
20/05/2026
18/05/2026
12/05/2026
12/05/2026