আমরা আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে,এই কয়েকদিনে আমরা আমাদের প্রিয় এলাকা লিক্রি থেকে ঘুরে এসেছি। লিক্রিতে স্কুল স্থাপনের যে স্থিমিত অবস্থা ছিল তা কাটিয়ে উঠেছি । পাড়াবাসীদের সাথে বেপক আলোচনা হয়েছে। আমরা অনেক কিছু জেনে বুঝে,সিদ্ধান্ত নিয়ে এসেছি।
সাথে থাকার জন্য অশেষ কৃতজ্ঞতা।
Likri Boarding School
দেশের অন্যতম দূর্গম এলাকা লিক্রিতে স্কুল প্রতিষ্ঠা করা ।
২০১৬সালের মাঝামাঝি সময়ে থানছির তুমুল খাদ্য সংকটে আমরা কিছু সমমনা দেশ-বিদেশ হতে পাঠানো সহযোগীতা পৌঁছে দিতে ঘুরে ফিরছিলাম পাহাড় হতে নদীতে । যেতে যেতে লিক্রি গ্রামে পৌঁছা । যে গ্রামটি থানছি উপজেলা সদর হতে প্রায় ৯০ কিরৈামিটার দূরে । যেখানে যাওয়ার একমাত্র পথ সাঙ্গু নদী এবং আকাশ পথ । শুধু সাঙ্গুর উজানে যাওয়া । ব্যক্তিগতভাবে আমার লক্ষ্য কিংবা উদ্দেশ্য ছিল সহযোগীতা পৌঁছে দেয়ার সাথে এলাকার পারিপাশ্বিক অবস
লিক্রি বোর্ডিং স্কুলটাকে নিয়ে এত এত স্বপ্ন ছিল, এত এত আশা ছিল যা এক প্রকার ঘোরের মধ্য ছিলাম। ঘুমাতে পারতামনা। চোখ বন্ধ করলে চোখে ভাসত কিছু অসহায় ছেলেমেয়ে পড়ছে, তাদের জন্য খাতা কলম, খাবার নিয়ে যাচ্ছি,তাদের থাকা, পড়ালেখার খরচ যোগানোর জন্য মানুষের কাছে ঘুরছি, ফিরছি, তারা উচ্চ কন্ঠে সোনার বাংলা গাইছে। স্বপ্ন মরেনি, ঘোর কাটেনি, আমি এখনো আশাবাদি।
দেশে যে বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন সিনেমা, নাটক মঞ্চস্ত হয় প্রতিদিনিই তা পত্রিকা, টিভি জানান দেয়। বাশখালী কয়লা বিদ্যুৎ, কি চা বাগান, কি সুন্দরবন, কি গোবিন্দগঞ্জ, নাসিরনগর, কিংবা সুপ্রীম কোর্ট এর ভাস্কর্য, তনু, সবিতা, তাইন্দং, বান্দরবান, ধর্ষণ, গুম, কত্ত কিছু মঞ্চস্ত হচ্ছে। আম জনতা শুধুই দেখে যাচ্ছি, সামান্য আস্ফালন করছি। কিন্তু কিছু হচ্ছে কি ??? ঠিকই কারো প্রচেষ্টা ভেঙ্গে যাছে, কারো স্বপ্ন থেমে যাচ্ছে, কেও বঞ্চিত হচ্ছে, কেও দেশান্তরী হচ্ছে। আমিও হয়তো সেসবে একজন।
সাংগু রিজার্ভ আমিও চাই থাকুক, শুধু সাংগু নয় দেশের ঘোষিত সমস্ত রিজার্ভ থাকুক। বন্য প্রানী, উদ্ভিদ, সংরক্ষণ হোক, কিন্তু শুধু সাংগু কেন ??? মানুষ থাকবেনা রিজার্ভএ, তাহলে ৭টি বিজিবি ক্যাম্প থাকবে কেন ?? বিজিবিরা কি মানুষ নয় ?? তারা হরিণ মারেনা ??? গয়াল মারেনা ??? তারা বন্য ছাগল মারেনা ??? আপনার কি মনে হয় তারা অঘোর বনে থেকে তারা বন পাহারার সাথে সীমানা পাহারা দিবে বন্য প্রানী পুষে পুষে ???
সাংগু রিজার্ভ থেকে যাদের পুনর্বাসিত করা হবে আমার সবচাইতে বড় চিন্তা তাদের ঘিরে। যারা জুম বাদে কিছুই চিনেনা, যারা একপ্রকার যাযাবরের মত। হয়তো দেখা যাবে কেও কেও এর আগেও উদ্ভাস্তু হয়েছে। তারা কিভাবে তাদের জীবন বয়ে নিবে ??? শেষে হয়তো দেখা যাবে তারা দেশান্তরী হয়েছে। হালের খবরে যা প্রকাশ পেয়েছে।
আমি ভাল নেই,হয়তো দেশটাও!!!!
লিখেছেনঃ রাজুময় তঞ্চঙ্গ্যা
30/01/2017
এই এলাকার প্রজন্মগুলো শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠুক। এ প্রজন্ম বর্তমান শতাব্দী পেরিয়েও অনন্তকাল পর্যন্ত পৃথিবীর চ্যালেঞ্জের সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকুক। সে সাথে আগামী ১০ বছর পর এই এলাকার কোন মানুষ যেন বিনা চিকিৎসায় মারা না যায় তা আমরা প্রত্যাশা করি। আমরা বিশ্বাস করি মানুষের সংগ্রামের মাঝেই হোক মুক্তি। এ মুক্তির দিশা দেখানোর জন্য এই স্কুল গড়ার প্রয়াস আমাদের ক’জন তরুণের।
এ বিশাল কর্মযজ্ঞ একা আমাদের দ্বারা সম্ভব হবে না। তাই আপনাদের সকল মুক্তিকামী মানুষের সহযোগিতা আমরা প্রত্যাশা করি। আপনাদের সকল সহযোগিতাই আমাদের কাম্য। লিক্রির এই স্কুলটি যেন হয়ে উঠে গণমানুষের পাঠাশালা এজন্য আপনাদের আবারো আমরা পাশে কামনা করি।
দেশের দুর্গম প্রান্ত লিক্রিতে বোর্ডিং স্কুল স্থাপনঃ কজন তরুণের স্বপ্ন ও বাস্তবায়নের তাগিদ | ই গত ডিসেম্বরে বান্দরবানের থানচি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৯২ কিলোমিটার এলাকা আমরা ক’জন পাড়ি দিয়েছিলাম সেখানে স্থানীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে কিছু শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্দেশ্যে। এর আগে জুন মাসে আমরা গিয়েছিলাম খাদ্য সংকটে স্থানীয় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতে। এই দুই অভিজ্ঞতা নিয়ে আমরা সেখানকার স্থানীয় ম্রো-খুমি-মারমা-ত...
➥ আমাদের মিশন-
১. এলাকার শিক্ষা বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে স্থানীয় সম্পদের ব্যবহার, নারী ও যুব সমাজসহ জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতামূলক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহনে এডভোকেসি এবং উন্নয়নে অংশগ্রহনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা।
২. বান্দরবান পার্বত্য জেলাসহ লিক্রি এলাকার শিশুদের ন্যায্য শিক্ষার সুযোগসহ, শিক্ষা কার্যক্রম প্রসারের জন্য সম্ভব হলে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে কার্যকর সমন্বয় ও শক্তিশালী যোগসূত্র স্থাপন করা ।
শুভ সকাল প্রিয় মানুষরা,
আপনাদের মত বাংলাদেশের অরক্ষিত এলাকা এই লিক্রিতেও প্রতিদিন সূর্যের আলো ফুটে। সেই আলো প্রকৃতির নিয়মেই উঠে আবার প্রকৃতির নিয়মেই আবার নিভে যায়। কিন্তু সেই আলো আমাদের মাচাং এর ছোট ছোট ঘরগুলোকেও আলোকিত করতে পারেনা। যুগ যুগ ধরে ঘরগুলো অন্ধকারেই থেকে যায়।
কেন জানেন ?
কারন এখানে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। শিক্ষার অভাবে, শিক্ষা গ্রহণের কোন ব্যবস্থা না থাকায় এখানে ঘরগুলো আলোকিত করারও কোন সুযোগ নেই। আপনাদের সন্তানরা কাঁধে ব্যাগ নিয়ে যখন স্কুলে যায় আমাদের সন্তানরা তাদের কোমল হাতে দা, কোদাল নিয়ে জুমে যায় জীবিকার আহরণে। কিন্তু আমরাও তো মানুষ, আমাদেরও তো ইচ্ছে হয় সূর্যের আলোর মত শিক্ষার আলোয় আলোকিত হোক আমাদের ঘর, সমাজ, আগামী প্রজন্ম।
লিক্রি বোর্ডিং স্কুল ।
থানছি সদর হতে প্রায় ৯১কিঃমি দূরে দেশের অন্যতম একটি প্রত্যন্ত এলাকায় স্কুলটি স্থাপিত হবে যার নাম লিক্রি। এটি থানছি উপজেলায় অবস্থিত ।
ভিশনঃ দারিদ্র ও শিক্ষা বঞ্চিত শিশুদের স্কুলের আওতায় আসবে । এলাকার সকল অবহেলিত শিশু শিক্ষা অধিকার সুনিশ্চিত হবে ।
উদ্দেশ্যঃ
১. এলাকার অনগ্রসর ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করা।
২. এলাকার সকল শিশুদের শিক্ষা অধিকার নিশ্চিত করা।
৩. এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠী এবং নারীদের শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহন করানোর মাধ্যমে শিক্ষা সচেতনতা তৈরী করা।
৪. স্থানীয় সম্পদ শিক্ষা প্রসারের কাজে ব্যবহার করা।
৫. তরুন সমাজ,রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব,সমাজসেবক,ও সমাজের বিত্তবান মানুষদের শিক্ষামূলক কাজে অংশগ্রহন করানো।
৬. শিক্ষিত সমাজ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখা।
৭. এলাকার পরিবেশ,জনজাতি ও সংষ্কৃতি বিষয়ে গবেষণা করা।
৮. দুস্প্রাপ্য ও পুরাতন পান্ডুলিপি,এলাকার মধ্যে হারিয়ে যাওয়া লোকগীতি ও সংস্কৃতিসহ পুঁথি সংগ্রহ করে তা প্রকাশনা করা।
২০১৬সালের মাঝামাঝি সময়ে থানছির তুমুল খাদ্য সংকটে আমরা কিছু সমমনা দেশ-বিদেশ হতে পাঠানো সহযোগীতা পৌঁছে দিতে ঘুরে ফিরছিলাম পাহাড় হতে নদীতে । যেতে যেতে লিক্রি গ্রামে পৌঁছাই । যে গ্রামটি থানছি উপজেলা সদর হতে প্রায় ৯০ কিরৈামিটার দূরে । যেখানে যাওয়ার একমাত্র পথ সাঙ্গু নদী এবং আকাশ পথ । শুধু সাঙ্গুর উজানে যাওয়া । ব্যক্তিগতভাবে আমাদের লক্ষ্য কিংবা উদ্দেশ্য ছিল সহযোগীতা পৌঁছে দেয়ার সাথে এলাকার পারিপাশ্বিক অবস্থা জানা, উদঘাটন করা । সে অনুযায়ী থানছির পাহাড়, ঝিড়ি, নদী ডিঙ্গানো । সবকিছু মিলিয়ে ম্রংওয়া গ্রাম হতে পানঝিড়ি পর্যন্ত এ বিশাল এলাকায় কোন স্কুল না থাকাটা আমাদের বেশ অবাক করে । অবশ্য ভৌগলিক অবস্থানও বড় ব্যাপার!!! তাই প্রাথমিক সিদ্ধান্ত যে, উক্ত এলাকায় একটা বোর্ডিং স্কুল স্থাপনের প্রচেষ্টা চালানো । তার পরবর্তিতে ডিসেম্বর ৮তারিখ আবার লিক্রিতে যাওয়া ৫০৪টি কম্বল নিয়ে । লিক্রি’র কার্বারী এবং গ্রামবাসী’র সাথে বেশ আলোচনা হয় । তারা সানন্দে রাজি হয় এবং তাঁদের যতদুর সহযোগীতা করা দরকার তারা করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে । সে প্রতিশ্রুতির সাহস নিয়ে আমরা কিছু সমমনা স্কুল স্থাপন প্রচেষ্টার চ্যালেঞ্জ হাতে নিয়েছি,অবশ্যই দেশ-বিদেশের মানবিক যোদ্ধাদের সাথে নিয়ে । লিক্রিতে যদি স্কুলটির প্রতিষ্ঠার সম্ভব হয় তাহলে এটি হবে দেশের অন্যতম দূর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় স্থাপিত কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান । যা স্কুলটির আশেপাশে ৫০ কিঃমি পর্যন্ত কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই । আপনারা নিশ্চই জানেন,থানছি ভৌগলিক অবস্থান,স্বাক্ষরতার হার কিংবা সেখানকার জন-মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থান তার সাথে তাঁদের জীবনযাত্রা । শিক্ষার মাধ্যমে একটি এলাকা এবং বেশ কিছু দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে ইতিবাচক উন্নয়ন তথা সামগ্রীক বিষয়ে সচেতন করার মহান কাজে সহযোগীতায় আপনিও সামিল হউন।
স্কুল স্থাপনের তহবিলের উৎস সমূহঃ
১. উদ্যোক্তা সদস্যদের এককালীন অনুদান, মাসিক ফি ।
২. স্বেচ্ছায় প্রণোদিত দান, বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের তরফ থেকে নিঃশর্ত সাহায্য ও অনুদান ।
৩. সরকারী-বেসরকারী সংস্থার অনুদান ।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
Likri
Bandarban