17/09/2026
“শরীরের সীমাবদ্ধতা নয়, মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি।”
হুইল চেয়ার নয়, স্বপ্নই ছিল তাঁর চালিকা শক্তি — আজিজুল করিমের হৃদয়স্পর্শী সাফল্যের গল্প
কেউ কেউ জীবনের শুরুতেই অনেক প্রতিকূলতা নিয়ে জন্মায়। কিন্তু সেই প্রতিকূলতাকে হার মেনে নয়, প্রতিকূলতাকে হারিয়ে দিয়েই এগিয়ে যায়। আজিজুল করিম সেই সাহসী তরুণদের একজন।
জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তিনি সুস্থ একজন মানুষের মতো দাঁড়াতে বা স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারেন না। তবুও তিনি কখনোই বাবা–মায়ের বোঝা হয়ে থাকতে চাননি। তাঁর একটাই স্বপ্ন ছিল—নিজের যোগ্যতায় নিজের পায়ে দাঁড়ানো।
একদিন এক বন্ধুর কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, বাগেরহাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ–এ ASSET Project-এর আওতায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আর দেরি করেননি আজিজুল। আবেদন করেন Computer Operation (Level-3) কোর্সে এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ লাভ করেন।
০৭ই আগস্ট ২০২৫ থেকে ০৬ই নভেম্বর ২০২৫—এই তিন মাস ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে সংগ্রামী অথচ সবচেয়ে গৌরবের সময়।
প্রতিদিন নিজের ছোট একটি সাইকেল চালিয়ে তিনি কলেজে আসতেন। কিন্তু আসল লড়াই শুরু হতো কলেজে পৌঁছানোর পর। কম্পিউটার ল্যাব ছিল তৃতীয় তলায়। সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে তাঁকে অসহনীয় কষ্ট সহ্য করতে হতো। কখনো সহপাঠীদের সহযোগিতায়, কখনো প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতায়, কখনো নিজের অদম্য চেষ্টায় তিনি ধাপে ধাপে উঠে পৌঁছে যেতেন কম্পিউটার ক্লাসে।
সবচেয়ে অবাক করার বিষয়—তিন মাসের পুরো কোর্সে তিনি একদিনও অনুপস্থিত ছিলেন না।
এই অধ্যবসায়ের ফলও তিনি পেয়েছেন। প্রশিক্ষণ শেষে NSDA Assessment-এ সফলভাবে Competent হয়ে জাতীয় দক্ষতার স্বীকৃতি অর্জন করেন।
কোর্স শেষ হওয়ার পর কলেজের পরীক্ষার কারণে সঙ্গে সঙ্গে চাকরিতে যোগ দিতে পারেননি। পরীক্ষা শেষ হতেই তাঁর জীবনে আসে নতুন অধ্যায়। ১লা সেপ্টেম্বর ২০২৬ তিনি স্থানীয় একটি পানি প্রক্রিয়াজাতকরণ কোম্পানিতে ম্যানেজার পদে যোগদান করেন। আজ তিনি নিষ্ঠা, দক্ষতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর সহকর্মীরাও তাঁকে আন্তরিকভাবে ভালোবাসেন ও সম্মান করেন।
আজিজুল করিমের ভাষায়—
“আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে এই একটি ফ্রি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ। আমি বাংলাদেশ সরকার, ASSET Project কর্তৃপক্ষ, বাগেরহাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ, বিশেষ করে অধ্যক্ষ জনাব শংকর কুমার সরকার স্যার, জব প্লেসমেন্ট কর্মকর্তা মোঃ সিয়াম হাসান স্যার এবং কম্পিউটার অপারেশন ট্রেইনার আমিনুল সরদার স্যারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”
আজিজুলের গল্প আমাদের শেখায়—সহানুভূতি মানুষকে এগিয়ে নেয়, কিন্তু ইচ্ছাশক্তি মানুষকে বিজয়ী করে। কারিগরি শিক্ষা তাঁকে শুধু একটি দক্ষতা দেয়নি; দিয়েছে আত্মবিশ্বাস, সম্মানজনক কর্মসংস্থান এবং নতুন জীবনের পরিচয়।
তিনি প্রমাণ করেছেন—প্রতিবন্ধকতা নয়, দক্ষতাই একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয়।
করব কাজ, গড়ব দেশ — সবার আগে বাংলাদেশ।
#কারিগরি_শিক্ষা #দক্ষতা #আত্মনির্ভরতা