★ গল্প:-৩ "অভিযোগ"
লেখা: রাফি
((পর্ব-৫))
_ তুই এমন করে বলছিস মনে হয় আমি তোর কথা কখনো শুনি নি?
_ না, আগে আমার মাথায় হাত রেখে বলতে হবে।
_ ওকে বাবা, বল এবার। কি জানতে চাস?
_ তোর অতীত।
সোহানার মুখে অতীত শব্দটা শুনে রাফির হাসিখুশি মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে গেল।
_স্ট্যাচু হয়ে গেলি কেন? তুই কিন্তু আমার মাথা ছুঁয়ে কথা দিয়েছিস।
_ প্লিজ সোহানা, এটা ভুলে যা না।
_ তুই বলবি না, তাই তো?
_বলার মত আছেই বা কি? ছোটবেলা থেকে আমি বাবা মায়ের আদরের সন্তান ছিলাম। রাজপুত্রের মত আবির্ভাব বলা যায়। স্কুলে ভালো ছাত্র হিসেবে সবাই খুব আদর করত। আর এভাবেই কেটে যায় আমার স্কুল লাইফ। গোল্ডেন এ+ নিয়ে কলেজে ভর্তি হই। স্বাভাবিক ভাবেই রোমাঞ্চিত ছিলাম কলেজের প্রথমদিন। সেই দিনে আমার চোখ আটকে যায় একটা মেয়ের উপর। নীল থ্রী-পিছ পড়া ছিল মেয়েটা। তার সৌন্দর্য যেন নীল কালারটা আরেক ধাপ বাড়িয়ে দিয়েছিল। কেটে যায় প্রথম দিন এই ভাবেই। পরেরদিন মেয়েটাকে আমাদের ক্লাসে দেখি। কেন যেন অনিচ্ছা স্বত্বেও, বার বার ওর দিকে চোখ পড়ে যাচ্ছিলো। এর মধ্যে একবার দুজনের চোখাচোখিও হয়ে গেলো।
_তারপর?
_ আমি লজ্জায় নিচের দিকে চোখ নামিয়ে নিলাম। তারপর থেকে এই ভাবে চলতো। আমি শুধু ওর দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতাম। যখন ও আমার দিকে তাকাতো আমি চোখ নিচু করে নিতাম। রোজকার রুটিনবাঁধা ছিল এসব। একদিন আমার এই রুটিনে জল ঢেলে দিলো মেয়েটা। আমি ওর দিকে তাকাতেই ও রেগে গেলো।
_এই ছেলে তুমি আমায় চেনো?
_ হুম। আপনি আমাদের ক্লাসের।
_ চুপ। আর আমার দিকে তাকাবেন না। এক মাস ধরে লক্ষ করছি আপনি আমার দিকে তাকিয়ে থাকেন।
আমি কিছু না বলে মাথা নিচু করে রইলাম। সে দিন থেকে আমি ওকে দেখলে মাথা নিচু করে নিতাম।
ওহ এর মাঝে আমার একটা ছেলে বন্ধু হয়েছিল ও। তেমন পড়তো না, ওর এ্যাসাইনমেন্ট গুলা আমিই করে দিতাম। সেই সুবাদে সে আমার ভালো বন্ধু ছিল। ওর নাম ছিল রাশেদ। খুব দুষ্টু ছিল। অনেক প্রেম করতো। আমি যখন মেয়েটাকে দেখতাম ওই দিনের পর থেকে, তখনই মাথা নিচু করে নিতাম অথবা পথ চেইঞ্জ করে নিতাম।
_ একদিন আমি আর রাশেদ বসে আছি। তখন ওই মেয়েটা আসলো।
_রাশেদ ভাই, আপনার বন্ধু হাবলাটাকে আপনি কিছু শিখাতে পারেন না?
_ কেন? তোমার মনে কি ওর জন্য ঘন্টা বাজছে নাকি?
_ আমার না তোমার বন্ধুর বাজে। কিন্ত ভয়ে বেচারা বলার সাহসটুকু পর্যন্ত পায় না।
_ কিরে দোস্ত তলে তলে এত কিছু? আর আমি জানি না!
_ আরে তেমন কিছু না।
_এই ছেলে?? আমার নাম জানো?
_ না জানা হয়নি।
_ নাম জানো না আবার প্রেম করতে চাও? আমি নুসরাত।
পরের দিন ক্লাসে যেতেই নুসরাত এগিয়ে এলো।
_রাফি তুমি কি আমায় ভালোবাস?
আমি কিছু না বলে চুপচাপ রইলাম।
_তোমার মত হাবার আর প্রেম করা লাগবে না।
এই বলে নুসরাত চলে যেতে লাগলেই আমি নুসরাতের হাত ধরে বলিঃ- ভালোবাসি, বড্ড ভালোবাসি তোমায়।
সেই থেকে শুরু আমাদের প্রেম। ক্লাসে আর চোখে দেখা সবাইকে ফাঁকি দিয়ে প্রেম করা, আর অন্য সব জুটির মত আমরা সিনেমা, ফুসকা, রিক্সা করে ঘুরে বেড়ানো, রেল লাইনের পাশ দিয়ে দুজন দুজনের হাত ধরে চলা, কিছুই বাদ যায়নি। দিন যত যাওয়া শুরু করলো ভালোবাসা তত বাড়তে লাগলো। দুজন দুজনের জন্য নেশাক্ত হয়ে উঠলাম।
_ একদিন ক্লাস ফাঁকি দিয়ে দুজন মেলায় ঘুরতে গেলাম। আমি নুসরাতকে দুই ডজন নীল চুড়ি কিনে দিলাম। আর নুসরাত আমায় একটা ঘড়ি গিফট করল। নুসরাত ঘড়িটা পরিয়ে দিলো আমার হাতে।
_রাফি আমি যদি মরে যাই, তারপরও যেন আমার এই ঘড়িটা তোমার থেকে না হারায়। এটা আমার ভালোবাসার চিহ্ন। এটা তোমার হাতে থাকলে মনে করবে,আমি তোমার সাথে আছি।
সেদিন আমি কিছু না বলে নুসরাতকে জড়িয়ে ধরে কাঁদি। নুসরাত আমার চোখের পানি মুছে দিয়ে নিজেও কেঁদে ফেলে।
_এই পাগল? কাঁদিস কেন,? মনে রাখবি আমার হৃৎপিন্ড যতদিন চলবে, ততদিন আমি তোর।
দ্বিতীয় বর্ষে টেষ্ট এক্সামের প্রথম দিন আগে নুসরাত আমায় ডাকলো।
_ রাফি একটা কথা বলব তোমায় রাখবা?
_ আমি কি কখনো তোমার কথা ফেলেছি?
_ আগে আমার মাথায় হাত রেখে বল, আমার এই কথা রাখবাই?
_ হুম বলো শুনব ( মাথায় হাত রেখে)।
_ তুমি আমায় ভুলে যাও।
নুসরাতের কথা শুনে,আমি ওর মাথা থেকে হাত সরিয়ে নিলাম।
_প্লিজ নুসরাত, এমন কিছু বল না। তুমি চাইলে আমায় খুন করতে পারো, কিন্তু আমায় ছেড়ে যেও না ( কাঁদতে কাঁদতে ) ।
_ রাফি আমি আমার কথা বলে দিয়েছি। আমার বাবা মা আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে। আমি চাই না তুমি আর আমার সাথে যোগাযোগ করো।
এই বলে নুসরাত চলে যায়। আর আমি জ্ঞানহীন পাগলের মত ঘাসের মাঝে বোবার মত বসে পরি। আমার মুখ থেকে কিছুই বের হচ্ছে না। বুকের ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছিল। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরলাম। আর পড়ার দিকে মন বসছে না। তাই আম্মুর থেকে এক হাজার টাকা চেয়ে নিলাম। আর আমি পুরো টাকায় সিগারেট কিনে নিয়ে আসলাম। সারাটা রাত ছাদে বসে সিগারেটের ধোঁয়া উড়িয়েছি। আর পাগলের মত হেসেছি, আবার কেঁদেছি।হঠাৎ করে তখন অসুস্থ হয়ে পড়ায় এক্সামে আমি ১০ মার্কের উপর আন্সার করতে পারি নাই। নুসরাত সম্পূর্ণভাবে আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিল। আমি তিন দিন পর ওর বাসার সামনে যাই। ওর বাসার সামনে যেতে ও আরো রেগে যায়।
_ রাফি তুমি চলে যাও প্লিজ। তিন দিন পর আমার বিয়ে আমার জীবনটা নষ্ট করো না।
আমি হাসতে হাসতে বললাম, "আর আমার জীবনের যে গতিরোধ থামিয়ে দিয়েছো? কি অধিকার আছে তোমার আমার জীবনটা নষ্ট করার? প্লিজ নুসরাত আমায় ছেড়ে যেও না তুমি?"
_ রাফি আমি আমার ডিসিশন আগেই জানিয়ে দিয়েছি।।
নুসরাত এই বলে চলে গেল। আমি দাঁড়িয়েছিলাম নুসরাত যদি একবার ফিরে আসে সেই আশায়। একটু পর তুমুল বৃষ্টি শুরু হয়। আমি একপাও নড়ি নি নুসরাত ফিরে আসবে সেই আশায়। কিন্তু সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলে,আমি বাসায় চলে আসি সে দিন। রাতে খুব জ্বর হয়। আমার জ্ঞান ফিরার পর আম্মু বলছিল আমি নাকি দুই দিন অজ্ঞান ছিলাম। এর মাঝে পরিবারের সবাই জেনে যায় নুসরাতের কথা। নুসরাতের আব্বু নাকি বাসায় এসে ওয়ার্নিং দিয়ে গিয়েছিল, আমি যদি আর নুসরাতকে ডিস্টার্ব করি, তবে খুব খারাপ হবে। আম্মুও আমাকে অনেক বোঝালো নুসরাতকে ভুলে যেতে।
কিন্তু আমি কিছুতেই নুসরাতকে ভুলতে পারি না। আগামীকাল নুসরাতের বিয়ে আমি তাই আবার নুসরাতের বাড়িতে গেলাম। নুসরাত অপমান করল। যা ইচ্ছে তাই বললো আর বললোঃ- আমার হুবু বর ডাক্তার। তুই পাগল, তোর হাত ধরে আমি বেড়িয়ে যাব কোন দুঃখে?
খুব আঘাত লাগছিল ওর কথায়। তাই ওর গলা চেপে ধরলাম। বললামঃ- ফিরিয়ে দে আমার সব দিন গুলো। আমার ভালোবাসা, আমার আবেগ, আমার অনুভূতি গুলো। ঠিক তখনই পেছন থেকে কে যেন আমার মাথায় আঘাত করে।।জ্ঞান ফিরতে দেখি আমার পাশে পুলিশ দাঁড়ানো
আমি বললামঃ-আপনারা?
_ পুলিশ লোকটি হেসে বললো তোমার জ্ঞান ফিরার অপেক্ষা করছিলাম। তারপর আমায় জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। আমি আমার অপরাধ জানতে চাইলে পুলিশ লোকটি বলে হত্যার চেষ্টা ধর্ষণ সাথে চুরির অভিযোগ আছে আমার নামে। আর এর প্রধান সাক্ষী নুসরাত সে নিজে এসে অভিযোগ করে গেছে।
চলবে,,,,
Icon Tutors Service
জীবনের গল্প/ রোমান্টিক ভালবাসার গল্প ? জীবনের গল্প গুলো শুনতে আমাদের পেইজ এ আপনাকে স্বাগতম �। শেয়ার করে আমাদের সঙ্গেই থাকুন।
★ গল্প:-৩ "অভিযোগ"
লেখা: রাফি
((পর্ব-৪))
আমি চোখে পানি আর মুখে হাসি নিয়ে ছাদ থেকে চলে আসলাম।
_ রাতে চোখে কিছুতেই ঘুম আসছে না কেন জানি নুসরাতের সাথে কাটানো স্মৃতিগুলো ফিরে আসছে, উফ আর নিতে পারছি না। চুল গুলো টেনে ছিড়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে এখন মাথা ঠান্ডা করার একটাই উপায় সিগারেট। যা গত দুই বছর ধরে করে আসছি। ঘুম আসছে না, তাই রুম থেকে বেড়িয়ে পুকুর পাড়ে চলে আসলাম। নুসরাতকে যতই ভুলতে চাই ততই মনে পড়ে যায়,আর আমার সাথে ঘটে যাওয়া অমানুষিক মেঘলা আর মা বাবার ব্যবহার গুলা তিলে তিলে পুড়ে খাচ্ছে আমায়। বড় হৃদয় বিদারক এই স্মৃতি গুলো। আমি হাতের দিকে তাকিয়ে দেখলাম নুসরাতের দেওয়া সেই ঘড়িটা। ছুড়ে মারতে চেয়ে ও পারলাম না,মুখ ফঁসকে বেড়িয়ে এলো, "নুসরাত বেঈমান তোর জন্য সত্যি হারিয়ে গেল আমার ঠিকানা"।এই বলে কাঁদতে লাগলাম , এমন সময় পেছন থেকে কেউ বললো," আপনি এত রাতে কাঁদছেন কেন?"
_ কই কাঁদছি?
_ আমি অনেক ক্ষণ আপনার পেছনে দাঁড়িয়ে আছি আমি সব দেখেছি আপনার মধ্যে অনেক রহস্য আমি জানতে চাই। প্লিজ, আমায় বন্ধু ভেবে সব খোলে বলুন।
_ প্লিজ ম্যাম, আমায় এই বাড়ি থেকে ও চলে যেতে বাধ্য করবেন না,আমি আমার অতীত বলতে পারব না।
_ ওকে ঠিক আছে, কিন্ত নুসরাতকে কে?
_ নুসরাতের কথা আপনি শুনলেন কখন?
_ যখন আপনি বিড় বিড় করে বলছিলেন তখন শুনেছি এই নামটা।
_ আমি জানি না প্লিজ, জানি শুধু দু মোট খেয়ে বাঁচার জন্য আপনাদের বাড়িতে পড়ে আছি।"
,,
_ পরের দিন খাবার খাওয়ার সময় সোহানা বললো," আম্মু রাফি আগামীকাল থেকে আমার সাথে কলেজে যাবে।"
_ সেটা রাফি ভালো জানে।
_ না মানে আন্টি আমি বলছিলাম কি ,,,, ( রাফি)।
_ তোমার কিছু বলতে হবে না, চুপ থাকো ( সোহানা) ।
_ পরের দিন সকালে ঘুম ভাঙ্গল সোহানার ডাকে।
_ এই যে মিষ্টার রাফি তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠুন।
_ আরেকটু ঘুমিয়ে নেই ।
_ তোমার বউ পেয়েছো নাকি একটু পর পর এসে ডেকে যাবো।
_ তারপর ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হতে চলে গেলাম সকালের নাস্তার পর সোহানা জিজ্ঞেস করলো," তুমি কি রেডী?"
_ না মানে আজ না গেলে হয়না।
_ ওই ছেলে বেশি কথা বললে গলা চেপে মারব( রাগে নাক লাল করে) ।
_ জী আমি রেডী।
_ ঐ আমি কি তোর আন্টি লাগি জী,জী শুরু করছিস কেন?
_ না মানে এমনি।
_ আজ থেকে ঠিকঠাক ভাবে কথা বলবে, নয়ত এক ঘুষিতে নাক ফাটিয়ে ফেলবো।
,
_ মনে মনে বললাম, এই মাইয়া কোনো দিক দিয়ে রিনা খানের থেকে কম যায় না।
,,
_ এই তুমি বিড় বিড় করে কি বলছো?
_ কই কিছু না, চলুন ।
_ এই পোষাকে যাবে , তোমার এর থেকে বেটার পোষাক নাই?
_ না মানে ম্যাম, আমার আর পোষাক নাই।
_ হাতের ঘরিটা তো বেশ সুন্দর তোমার।
_ জানি না সুন্দর কি না, তবে এটা যত দিন থাকবে আমার হাতে, তার স্মৃতি হয়ে থাকবে।
_ তার মানে কার?
_ কারোর না ম্যাম, চলুন।
_ আবার ম্যাম? , ঠিক আছে বিকালে শপিং এ যাব ।
_ তারপর দুজন রিক্সা উঠে বসলাম, নুসরাতের পর এই প্রথম আমি অন্য কোনো মেয়ের সাথে রিক্সাতে বসলাম বা এত কাছে আসলাম, তাই আমি একটু চেপে বসতে চেষ্টা করলাম, যাতে দুজনের মাঝখানে অনেকটা ফাঁকা থাকে ।
_ আমার অবস্তা দেখে সোহানা বললো, "এই যে মিষ্টার আমার সাথে বসতে বুঝি খুব খারাপ লাগছে?
_ আসলে তা না ।
,
_ তা না হলে এদিকে আসো।
_ আমার জড়সড় হয়ে বসা দেখে সোহানা নিজেই আমার হাত ধরে তার দিকে টেনে নিয়ে গেল। আমি মনে মনে সোহানাকে কিছু বকা দিলাম, এই মাইয়াটা এত জেদি। আমি কেন যেন নুসরাত যাওয়ার পর মেয়েদের ট্রলারেট করতে পারি না, দেখলে রাগ হয়। কিন্ত যাদের জন্য আশ্রয় খুঁজে পেয়েছি, তাদের তো আর এড়িয়ে চলা যায় না। তাই চুপচাপ সোহানার সাথে বসে রইলাম।
_ সোহানা প্রিন্সিপাল স্যারের সাথে কথা বলে সব মিটমাট করে নিলো , আমাকে আর সোহানাকে এক সাথে দেখে সোহানার ফ্রেন্ডরা জিজ্ঞেস করলো, "এটা কে সোহানা? "
_ আমার কাজীন রাফি, আমাদের সাথে এখন থেকে পড়বে যদি ওনি আমাদের সিনিয়র ।
_ রাফি, এই চার জন আমার ফ্রেন্ড, মোহনা, রিমি, সাথী আর এই হল নিলয় ।
_ হ্যালো সবাই কেমন আছেন?
_ হুম আমরা ভালো, তাহলে আমাদের সাথে আরেকজন ফ্রেন্ড বাড়ল, নিলয়।
_ রাফি তোমার চুল গুলো না অনেক সুন্দর ( সাথী)
,,
_হুম লুচু মাইয়া, তোমার কাছে এক ছেলের হাসি, আরেক ছেলের চুল, আরেক ছেলের স্টাইল ভালো লাগে ( সোহানা) ।
_ ওই তুই আমার ফ্রেন্ড হলে এরকম বলতে পারলি।
_ এহ আসছে ন্যাকা, এই শোন রাফিকে বড় ভাইয়ের চোখে দেখবি।
_ কেন তোর কি কিছু আছে নাকি রাফির সাথে?( সাথী)
_ হ্যা আছে এবার তুই রাফিরে ভাইয়ার নজরে দেখ, প্লিজ।( সোহানা) _রাফি তুমি নায়ক সিয়ামকে চেনো?( সাথী)
_ হুম কেন?
_ তোমাকে না ওর মত কিছুটা দেখতে।
_ ম্যাম, আমি ক্লাসে যাব আপনারা আড্ডা দেন। এই বলে আমি চলে আসলাম। আমার সাথে সাথে সোহানা ও চলে আসলো।
_ শুরু হল নতুন জীবন, যার নাম সংগ্রাম আর যুদ্ধ। যেখান থেকে আমি নুসরাতের শেষ কথার জবাব দেব, ও বলেছিল "আমার হবু বর ডাক্তার তোর মত পাগল না।"
_ ধীরেধীরে বন্ধুত্ত হয়ে যায় সোহানার সাথে আমি পড়া আর বাড়ির কাজ নিয়ে ব্যাস্ত থাকতাম আর প্রতি রাতে কাঁদতাম। কখনো সোহানা আমায় মাথায় হাত ভুলিয়ে বলতো," বোকা, মানুষের জীবনে যদি খারাপ সময় না যেত তাহলে মানুষ ভালোর মর্ম বুঝতো না।" দেখতে দেখতে কখন যে বছর চলে গেলো বুঝতে পারলাম না, এখন এই পরিবারের ছেলের মত আমি। হ্যা, এরা আমায় অবহেলা করে না, আমি আজ ও মাঝে মাঝে সিগারেট খাইনুসরাতের কথা মনে হলে আর আমায় এটা সোহানা নিজেই দেয়। কারন নয়ত আমি পচন্ড কান্না করি, একদিন সোহানা বললো, "রাফি, আমার মাথায় হাত রেখে কথা দে, আমি যা আজ বলব তার ঠিক উত্তর দিবি।
চলবে,,,,
যারা ভাবছেন রাফি আর সোহানার মাঝে কিছু একটা হবে তাদের ধারণা অচিরেই ভুল প্রমাণিত হবে কারন গল্পটা ভিন্ন ভাবে সাজাতে চাই।
★ গল্প:-৩ "অভিযোগ"
লেখা: রাফি
((পর্ব-৩))
পরের দিন বাগানটা ঘুরে দেখলাম। একটা গোলাপ খুবই ভালো লাগলো। তাই গোলাপটা ছিঁড়ে নিলাম। যেই ছিঁড়লাম ঠিক তখনই পেছন থেকে একটা মেয়ের গলার শব্দ শুনতে পেলাম।
_এই ছেলে এখান থেকে ফুল ছেঁড়ার সাহস হয় কি করে তোমার?
_ আপনার ফুল মানে? (অবাক হয়ে)
_ মানে কি বুজাচ্ছি? ( নাক মুখ লাল করে)
_পাগল নাকি হুট করে এসে বলে আমার ফুল আবার বলে দেখাচ্ছি?
_ কি! এত বড় সাহস আমায় পাগল বলা!
_ সরি পাগল নয় পাগলী। আর হ্যাঁ ম্যাম এটা ডাক্তারের চেম্বার না।
_বদ পোলা পিডাইয়া মাথা ফাটামো। বেশি কথা বললে।
_ আপনাকে দেখতে তো আপেলের মত দেখা যায়। কিন্ত ম্যাম আপনার বিহেভ এমন লেবুর মত কেন?
_ কি বললি?? আম্মু ও আম্মম্মম্মম্মম্
মম্মম্মম্মম্মম্মম্মু।
_এই তোর আবার কি হয়েছে? কখন আসলি?
_দেখ আম্মু ও আমার লাল গোলাপ ফুলটা ছিঁড়ে নিয়েছে। আবার আমায় বলে আমার বিহেভ নাকি লেবুর মত ( কেঁদে কেঁদে )
_ তাই বলে কি কাঁদতে হয়? ( আন্টি)
এবার বুঝতে পারলাম এটা আন্টির মেয়ে সোহানা।
_ সরি আন্টি আমি বুঝতে পারিনি এটা আপনার মেয়ে। আর ফুলটা অনেক সুন্দর ছিল। তাই ছিঁড়েছিলাম সরি ম্যাম। আর এমন ভুল হবে না।
_ রাফি ব্যাপারনা। তাছাড়া সোহানার এটা প্রিয় গাছ তাই এমন রিএ্যাক্ট করেছে। ও একটু বেশিই জেদি।
_ বুঝতে পারছি আন্টি।
_ আম্মু এই ছেলেটা কে? ( সোহানা)
_ এটা রাফি পরিচয় বলতে শুধু ওর নাম। এর বাহিরে আর কিছুই নেই। ও এখন থেকে আমাদের বাড়িতেই থাকবে আর আমাদের পাশে থাকবে।
বিকালে ছাদে দাঁড়িয়ে আছি। আর ভাবছি নুসরাতের কথা। আমি ওকে ভুলতেই পারি না। ওর দেওয়া ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে ভাবছি মানুষ কত বেঈমান! কত স্বপ্ন আর কত আশা দেখিয়ে শেষে বলে গেল আমার তোমার সাথে থাকা সম্ভব না। ওর কি আমার কথা কখনো মনে পরে? হয়ত পড়ে না কারণ পড়লে হয়তো আমায় কোন ভাবে খোঁজ করতো অবশ্যই। নিজেকে খুব একা লাগে আজকাল। ইচ্ছে হয় এই জীবনের সমাপ্তি ঘটিয়ে দেই। বেঁচে আছি যেন একটা জীবন্ত লাশ হয়ে। এই সমাজে শরীর খুনের বিচার হয় কিন্তু মানুষ বেঁচে থাকার যে মন সেটা হত্যার বিচার হয় না। তাই তো নুসরাতের মত হত্যাকারীরা এই সমাজে হেসে খেলে ঘুরে বেড়ায়। কিন্ত আমি যে এই লড়াই জিততে চাই। আর যারা আমার সাথে কুকুরের মত ব্যবহার করেছে তাদেরও দেখাতে চাই। এসব ভাবতে ভাবতে আচমকা চোখ বেয়ে পানি পড়ে গেল। এমন সময় পেছন থেকে মেয়েলি কন্ঠে বললো।
_ এ কি? আপনি কাঁদছেন কেন।
পেছনের দিকে তাকিয়ে দেখি এটা সোহানা। আমি চোখের জল মুছে নিলাম।
_ ম্যাম কাঁদছি না বিকালের আকাশ দেখছি।
_ এই শুনেন আমি আপনার ছোট হই। আমাকে ম্যাম নয় সোহানা ডাকবেন। আর আপনি মিথ্যা বলবেন না আমার সাথে।
_ জী, আমি নিচে যাই আপনি থাকুন।
_ কেন আমি আসাতে খারাপ লাগছে নাকি?
_ না তেমন কিছু না।
_ তাহলে দাঁড়িয়ে থাকুন সন্ধ্যা পর্যন্ত আড্ডা দেব। আর সকালের জন্য আমি সরি।
_ ম্যাম সরির কি আছে আপনার জায়গা থেকে আপনি রাইট।
_ আবার ম্যাম সাথে আপনি ( রাগি গলায়)
_ সরি।
_বাদ দিন আপনি এত চুপচাপ থাকেন কেন?
_ ভালো লাগে তাই।
_ আপনার সম্পর্কে আম্মুর কাছ থেকে কিছু শুনেছি। তবে পুরানো সব ভুলে আগামী দিন থেকে আমার সাথে কলেজে যাবেন। আমি এবার ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি।
_ আমার আর পড়ার ইচ্ছা নাই ।
_ এই ছেলে এত কথা বলবা না, আমার কথার উপর কথা বললে খুন করে ফেলবো।
চলবে,,,,,
গল্প :-"অভিযোগ"
((পর্ব- ২))
_তোমায় দেখতে তো অনেক দুর্বল দেখা যায়। রাতে খেয়েছো কিছু?
_ না আন্টি। এখন কোনো জায়গা থেকে পানি খেয়ে নিব।
_ পানি খেলে কি আর ক্ষুধা যায়? চলো আমার সাথে। খেয়ে নিবে।
_ আন্টি রাতের আঁধারে আপনার বাড়িতে থেকেছি এর জন্য আমায় কথা শুনাননি এতেই আমি কৃতজ্ঞ ।
_ এই বেশি কথা না বলে চলো খেয়ে নিবে।
পেটের ক্ষুধার কাছে শেষ পর্যন্ত আমাকে হার মানতে হলো। আর কিছু না বলে উনার পিছু পিছু বাসার ভিতরে ডুকলাম। ভিতরটা বেশ সুন্দর। একটু পর আমায় খেতে দিল আন্টি। ক্ষুধা অনেক থাকায় প্লেটের সব খেয়ে আমি আন্টির দিকে তাকালাম।
_ বসো আমি আরো নিয়ে আসছি।
খাবার খাওয়ার পর আন্টি বললেনঃ- বাবা তুমি এখন কোথায় যাবে।
_ আন্টি জানি না কোথায় যাব।
_ তুমি কি কাজ করতে পারবা?
_ কেমন কাজ আন্টি?
_ এই ধরো আমাদের বাসার অনেক কাজ ই থাকে। তুমি কি করতে পারবা?
_ হ্যা পারব আন্টি। আপনি শুধু আমায় খেতে আর থাকতে দিলেই হবে।
_ পাগল ছেলে। কাজ করলে খাওয়া আর থাকা ছাড়া ও বেতন দেব ।
_ ঠিক আছে আন্টি। আমি আপনাদের সব কাজ নিজের পরিবার মনে করে করব। মনে করার কি আছে।!আজ এখানে ঠাঁই না হলে আমার যে না খেয়ে মরতে হত। আচ্ছা আন্টি আপনি কি একাই থাকেন এই বাড়িতে।
_ না,আমার সাথে আমার মেয়ে সোহানা থাকে। ও নানু বাড়ি গেছে। আগামীকাল আসবে ।
_ আর আঙ্কেল?
_ তোমার আঙ্কেল গত দুই বছর আগে আমাদের ছেড়ে ওপাড়ে চলে গেছে।
_ সরি আন্টি। আমি না বুঝে আপনাকে দুঃখ দিয়ে দিলাম।
_ আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে। তোমার নাম কি?
_ জী আন্টি রাফি।
_ লেখাপড়া করেছো কি?
_ আন্টি গত দুই বছর আগে ইন্টারে পাশ করতে পারি নাই। আর তারপর লেখা পড়া করা হয়নি।
_ তোমার পরিবার নাই? ওরা কিছু বলে নাই?
_ প্লিজ আন্টি পরিবারের কথা বলবেন না। আমি আমার ভংঙ্কর অতীত ভুলে যেতে চাই ।
_ ওকে তোমার কাজ হল আমাদের বাড়ীর বাগানটা দেখে রাখা আর আমাদের সুবিধা অসুবিধা পাশে থাকা। আর তুমি চাইলে স্টাডি ও নতুন করে শুরু করতে পারো। এখন বিশ্রাম নাও। ওইটা তোমার রুম।
রুমে এসে ভাবতে লাগলাম। নিজের পরিবার রাস্তায় ছুঁড়ে মারলো। আর অচেনা কেউ বলা যায় আমার জীবন ফিরিয়ে দিলো। বড় আজব এই দুনিয়া!
পরের দিন বাগানটা ঘুড়ে দেখলাম। একটা গোলাপ খুবই ভালো লাগলো। তাই গোলাপটা ছিঁড়ে নিলাম। যেই ছিঁড়লাম ঠিক তখনই পেছন থেকে একটা মেয়ের গলার শব্দ শুনতে পেলাম।
_এই ছেলে এখান থেকে ফুল ছেঁড়ার সাহস হয় কি করে তোমার?
-(পরর্বতি ৩ পর্ব পড়তে সাথেই থাকুন)
★ গল্প:-৩ "অভিযোগ"
লেখা: রাফি
((পর্ব-১))
খালাতো বোনের ড্রেস চেইঞ্জ করার সময় তার রুমে নাকি উঁকি দিছিলাম। সেই অপরাধে আজ ৩ দিন ধরে একটা ঘরে বন্দি আমি। আটকে রাখা হয়েছে৷
তিনদিনে কোনো খাবারও দেয়নি।
মেঘলা আমাদের বাসায়ই থাকে। তাই ব্যাপারটা পরিবারের মধ্যেই আছে। বাইরে ছড়ালে মেয়েটার বদনাম হতো। কিন্তু আমি এসব কিছুই করিনি।
মেঘলা আব্বুর কাছে বিচার দিলো আর আব্বুও তার কথা বিশ্বাস করে নিলো। আমার কথা কেউ শুনলোই না, উল্টা আব্বু স্টিলের লাঠি দিয়ে মারলো আমাকে৷ আম্মুও কিছু বললো না। তবে উনার চোখেও ঘৃণা। মাও বিশ্বাস করে নিয়েছে আমি এই কাজটা করেছি।
ছাদের অন্ধকার ঘরটাতে
হাত বেঁধে দরজায় তালা লাগিয়ে রাখা হইছে আমাকে।
তিনদিন ধরে না খেয়ে থাকায় শরীরটা ভেঙে পড়েছে। মাথা ব্যথা আর গ্যাস্টিক তো আছেই।
মেঘলার কথা মনে পড়তেই লজ্জা লাগতেছে। মেয়েটা সামান্য একটা ভুলের জন্য এতবড় মিথ্যে বললো আব্বুর কাছে।৷ আমি পাগল হয়ে গেছি প্রায়, ড্রাগ নেইনা তিনদিন হলো।
আপনারা ভাবছেন আমার আব্বু আম্মুই বা কেমন?
তারা এরকম ছিলেন না। কিন্তু তারাও বাধ্য হয়েছেন
এমন হতে। দুবছর আগে ইন্টার পরীক্ষায় ফেল করার পর থেকে তারা এমন হয়ে গেছেন। অবশ্য ফেল করার কারণ ছিলো। নুসরাত।
বুঝতেই তো পারছেন কেনো। সে চলে যাওয়ার পর নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি আমি। এতোটাই আসক্ত ছিলাম যে তাকে ভুলতে আমার ড্রাগ নেওয়ার প্রয়োজন হলো।
তারপর থেকে আব্বু আম্মু কেউ আমাকে আগের মতো ভালোবাসেনা। আর মেঘলার সাথে তো কখনোই পড়েনা আমার। কোনো একটা ভুল পেলেই সে আমাকে শাস্তি দিয়েই যাবে। ছোট খাটো থেকে হলেও এবারের শাস্তিটা একটু বেশিই হয়ে গেছে।
আব্বু যখন আমাকে মারছিলো তখন তার দিকে তাকাইছিলাম।
তার মুখে স্পষ্ট হাসি দেখতে পেয়ে আমি আর তাকাইনি। চোখ নামিয়ে নিয়ে মার সহ্য করেছি।
প্রত্যেকটা আঘাত চোখ থেকে রক্তকান্না বের করে এনেছে। বারবার বলেও কাজ হয়নি৷ আমি মাদকাসক্ত। করতেও পারি। আর মেঘলা ভুল বলবেনা। এটা তাদের ধারণা নয় বিশ্বাস। যেই সময়টায় আমার পরিবারের সাপোর্ট দরকার সেই সময়ই তারা আমাকে বন্ধ রুমে আটকে রেখেছে। দম বন্ধ হয়ে আসছে সত্যি। তৃষ্ণায় গলা শুকিয়ে গেছে। একফোঁটা পানিও নেই ঘরে৷ অবশ্য বৃষ্টি হলে একটু পানি পাওয়া যেতো উপরে একটু ফুটা আছে ওখান দিয়ে পানি পড়ে।
আজ চতুর্থ দিন। কেউ একবার দেখতেও আসেনি আমাকে। বাড়ির কুকুরটা দুদিন না দেখলে তারও খোঁজ নেয়। আর আমিতো আস্ত একটা মানুষ!! যদিও তারা আর এখন আমাকে মানুষ ভাবেনা তাই হয়তো।
এই ভাবে কয়টা দিন কেটেছে জানি না। কারণ যখন আমার জ্ঞান ফিরলো তখন দেখি আমি নিজের রুমে শুয়ে আছি। প্রচন্ড ক্লান্ত লাগছে। নিজের শরীরটাই আলগাতে পারছি না। শরীরের প্রতিটা অংশ ব্যথায় জর্জরিত।
কিছুক্ষণ পর দেখলাম মেঘলার আমার রুমে এলো। আমার চোখ খোলা দেখে মেঘলা ব্যঙ্গ করে হাসলো।
_কিরে বেঁচে আছিস? আমরা তো মনে করেছিলাম মরে গেছিস।
মেঘলার কথাটা শুনেই চোখ বেয়ে পানি পড়তে লাগলো। এ বাড়ির মানুষজন আমায় এতটা ঘৃণা করে!! কোন পশু যদি অসুস্থ হয় তাকে ও তো ডাক্তার দেখানো হয়। আর আমাকে তারা? হয়ত তারা মৃত্যুই কামনা করেছিল আমার।
আমি মেঘলাকে কোন মতে বললামঃ- অনেক ক্ষুধা পেয়েছে একটু খেতে দিবি??
_ আমার ক্ষুধার কথা শুনে মেঘলা বললোঃ "দেখি ঝুটা কিছু আছে কি না।"
মেঘলার কথাটা শুনে বুকের ভিতরটা মুচড়ে উঠলো। আমি আজ এত অবহেলিত? সব ওই নুসরাতের জন্য। একটু পর মেঘলা একটা প্লেটে কিছু ভাত সাথে আলু ভর্তা আর ডাল দিয়ে গেলো। ক্ষুধার তাড়নায় দেখার সময় ছিলনা কেমন ছিল খাবারগুলা। তবে খাবার গুলো কেমন টক টক লাগছিল। এই ভাবেই চলছে আমার দিন। একদিন রাতে খাবার খাইতে বসছি এমন সময় আব্বু এলো রুমে।
_রাফি,প্লিজ তুই আমাদের মুক্ত কর। তোর জন্য এলাকায় যে সম্মান ছিল তা তো অনেক আগেই চলে গেছে এখন অন্তত ঘরের শান্তি টুকু টা ও কেড়ে নিস না।
রাতে ঘুমানোর সময় বাবার বলা কথাটা চিন্তা করতে লাগলাম। আসলেই তো! আমি তো শেষ হলাম নুসরাতের জন্য। সাথে বাবা মায়ের সম্মান ও শেষ করে দিলাম। এবার তাদের মুক্ত করে দিব। যেখানে নুসরাত আমায় ছেড়ে অন্যের সাথে খুব ভালোভাবেই সংসার করছে সেখানে আমি উল্টো। আমি আর এই বাড়ি তে কাউকে আমার মুখ দেখাবো না। কিন্তু যাবই বা আর কোথায়? যেখানেই যাই তবে আমি আমার জীবনের এই দুই বছরের গল্পটা পালটাতে চাই।
রাতে আব্বু আম্মুর জন্য একটা চিরকুট লিখলাম।
চলবে,,,,
(5& last part)
আমি দৌরে তিতলির দরজার পাশে গিয়ে
তিতলিকে ডাকতে লাগলাম,,,
আমি- এই তিতলি দরজা খুল বলছি, পিল্জ
বোন দরজাটা খুল ৷
ওপাশ থেকে কোনো সারা শব্দ পেলাম
না,,
আমি- তিতলি পিল্জ আমাকে মাফ করে
দে ! সরি রে, দরজটা খুল পিল্জ ৷
এবারও কোনো সার শব্দ পেলাম না ৷
আমি ভয় পেয়ে গেলাম ভিতরে তিতলি কিছু
করে বসল নাতো ৷
আমি- দরজা ভাঙতে হবে !
এই বলে যেই দরজাটা জুরে ধাক্কা দিতে
যাব তখনই তিতলি দরজা খুলে বলল,,
তিতলি- কি হল ভাইয়া তোমরা সবাই
একসাথে, কিছু হয়েছে নাকী?
আমি দেখতে পেলাম তিতলির চোখ দুটো বিষন
লাল আর অনেক ফুলে আছে ৷
ওর চুল গুলো এলমেলো ৷
আমি নিশ্চিত হলাম তিতলি এতক্ষণ
কান্না করছিল ৷
আমি- এই তিতলি এতক্ষণ দরজা খুলছিলি
না কেন?
তিতলি- ঘুমিয়ে ছিলাম ভাইয়া তাই শুনতে
পারি নি ৷(মিথ্যা বলল)
আম্মু- অহহ..ঘুমিয়ে ছিলে ! আমরা আরও
ভয় পেয়ে গেছিলাম, ভেবেছিলাম তোমার
কিছু হয়েছে তাই দরজা খুলছ না ৷ আচ্ছা মা
ফ্রেশ হয়ে নিচে আস রাতের খাবার খেয়ে
তারপর শুয়ে পড় ৷ আহিয়া তুমি চল মা
আমার সাথে খাবারটা রেডি করি!
এই বলে সবাই চলে গেল ৷
আমি- তিতলি তুই কেন এরকম পাগলামী
করছিস?
তিতলি- আমি আবার কি করলাম ৷(একটু
হাসি দিয়ে)
আমি- তুই জানস না তুই কি করতেছিস ৷
তিতলি দেখ আমার প্রতি তর যেই ফিলিংস
সেটা আসলে ভালবাসা না ভাললাগা ৷ আর
ফ্রেশ হয়ে তাড়াতাড়ি নিচে আয় ৷
এই বলে আমি ওর রুম থেকে বেড়িয়ে যেতে
লাগলাম !
পেছন থেকে আহিয়া আমাকে ডাক দিল,,,
তিতলি- ভাইয়া দাড়াও ৷
আমি- বল কি বলবি?
তিতলি- ভাইয়া টিকেটের ডেট এগিয়ে দুই
দিনের ভিতরে একটা টিকেট কেটে দিতে
পারবে?
আমি- কেন রে, আর কয়েকটা দিন থেকে
যেতে পারতি?
তিতলি- না ভাইয়া, আমাকে যেতে হবে কিছু
কাজ আছে ৷
আমি- আচ্ছা ঠিক আছে, আমি দেখছি কি
করা যায় ৷
...
পরে আরও দুইদিন তিতলি আমাদের
বাড়িতে থাকার পর,, আজ তিতলি ফিরে
যাচ্ছে আমেরিকায় ওর আম্মু আব্বুর কাছে
৷
আমি ওকে ইয়ারপোর্টে এগিয়ে দিতে
আসলাম,,,
তিতলি যাওয়ার আগে আমাকে বলল,,
তিতলি- ভাইয়া আমার হয়তো আর
বাংলাদেশে আসা হবে না ৷
আমি- কেন রে?
তিতলি- আমি আর এদেশে এসে কারও
মায়ায় পড়তে চাই না ৷
আমি-.........(চুপ)
তিতলি- ভাইয়া যাওয়ার আগে তুমি আমার
একটা অনুরোধ রাখবে?
আমি- কি অনুরোধ বল?
তিতলি- আমি কি তোমাকে একবার জরিয়ে
ধরতে পারি ৷
আমি- হুম ধরবি,,,কিন্তু ভাই হিসেবে ৷
তারপর তিতলি আমাকে জরিয়ে ধরে বলতে
লাগল,,,
তিতলি- ভাইয়া তোমার বউটা কিন্তু
অনেক কিউট, আমি জানি
তোমার বউ তোমাকে অনেক ভালবাসে,
ভাবীটাকে কোনো দিন কষ্ট
দিয়না ভাইয়া, ভাবীকে নিয়ে সুখে থেক ৷
তারপর আমাকে ছেড়ে দিয়ে বলল,,,
যাই ভাইয়া, আর নিজের খেয়াল রেখ ৷
এই বলে তিতলি চলে যেতে লাগল ৷
কিছুদূর যাওয়া পর পিছন ফিরে একবার
আমার দিকে তাকাল তারপর ছোখ মুছতে
মুছতে আবার চলে যেতে লাগল ৷
আমিও চলে আসলাম বাড়িতে,,,
তারপর আহিয়ার রাগ আর দুষ্টি মিষ্টি
খুনসুটিতে কেটে গেল 2মাস !
আজকে আহিয়া বায়না ধরল যে আমাকে
নিয়ে ওদের বাড়িতে যাবে ৷
এই দুই মাসে একবারো ওদের বাড়িতে যাই
নি আহিয়া ৷
কিন্তু আমি যেতে পারব না ৷
আব্বু অফিসের কাজে দেশের বাইরে
যাওয়াতে, এখানে সারা অফিস আমাকেই
সামলাতে হবে ৷
তাই আমি আহিয়াকে বললাম আমি
ড্রাইভারকে বলে দিচ্ছি ওকে পৌছে দিয়ে
আসবে ৷
কিন্তু আহিয়া জেদ ধরে বসে আছে, যে
আমি না গেলে নাকি অ নিজেও যাবে না ৷
আমি বললাম,,
তুমি আজ যাও আমি কয়েকদিন পর না হয় যাব ৷
তারপর আহিয়া একরকম রাগ করেই চলে
গেল ৷
আমিও অফিসে চলে আসলাম,,,
রাতে অফিস থেকে ফিরে খেয়ে দেয়ে ঘুমতে
যাব তখন মনে পড়ল আহিয়ার কথা ৷
পাগলীটাকে একটা ফোন দেই,,,
ফোন দিলাম আহিয়াকে ,
রিং হচ্ছে কিন্তু আহিয়া ফোনটা তুলছে
না ৷
রিং হতে হতেই ফোনটা কেটে গেল ৷
আবার ফোন দিলাম,
এবার ফোনটা ধরল,,,
আমি- হ্যালো জান,,,,আমার বাবুটা, কি
করছ?
আমি আপনার জানও না বাবুও না,
আমি রুপা ৷
আমি- এই সালি,,আমার বউটা কই গো?
রুপা- আপনার বউ বলেছে আপনার সাথে
নাকি তার কথা নাই ৷
(আমি শুনতে পারলাম আহিয়া রুপাকে
কথাগুলা শিখিয়ে দিচ্ছে)
আমি ভাবলাম একটু মজা করে নেই !
আমি- আচ্ছা সালি আমার বউটা যখন
আমার সাথে কথা বলবে না তুমিই তাহলে
আমার বউ হয়ে যাও ৷
ওপাশ থেকে কিছু একটা ভাঙার আওয়াজ
পেলাম !
সাথে সাথে টুট টুট করে ফোনটাও কেটে
গেল ৷
তারমানে আহিয়া আমাদের কথা শুনছিল ৷
আমি তো মজা করতে গিয়ে আহিয়ার রাগ
আরও বাড়িয়ে দিলাম ৷
,,,,,
এরপরে এক সাপ্তাহ কাজের অনেক চাপ
ছিল !
সকালে ঘুম থেকে ওঠেই অফিস যাওয়া,
রাতে ক্লান্ত হয়ে অফিস থেকে ফিরে
খেয়েদেয়ে ঘুমিয়ে পড়া ৷
আহিয়ার কথা মনে পড়লেও ওকে একবারো
ফোন দিতে পারি নাই এই আট দিনে ৷
আর আহিয়াও বাড়িতে ফিরার নামই নেয়
নাই !
এমনকি এক বারের জন্যও আমাকে নিজে
থেকে ফোন দেয় নাই ৷
যে মেয়েটা আমি অফিসে থাকলে ঘন্টায়
ঘন্টায় ফোন দিয়ে খুজ খবর নিত সেই
মেয়েই আজ আট দিন ধরে আমাকে একটা
ফোনও দেয় নাই ৷
বুঝলাম আমার উপর অনেক বেশিই রেগে
আছে আহিয়া ৷
,,,,,
আজ কাজের চাপ থেকে মুক্তি পেলাম ,
আব্বুও কাল ফিরে আসছে,,, রাত 11টা
অফিস থেকে বাসায় ফিরছি,,,
আজ আহিয়ার কথা খুব মনে পড়ছ ৷ ওকে
খুব দেখতে ইচ্ছে করতেছে ৷
আজ অনন্ত আহিয়াকে একটা ফোন দেই,,,
পরে মনে হল ফোন না দিয়ে ওদের বাড়িতে
গেলে কেমন হয়?
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম রাত 11:15
বাজে ৷ তার মানে ওদের বাড়িতে পৌছতে
পৌছতে 12টা বেজে যাবে, এত রাতে কি
ওদের বাড়িতে যাওয়া ঠিক হবে??
এসব ভাবতে ভাবতেই গাড়িটা ওদের বাড়ির
রাস্তার দিকে ঘুড়িয়ে নিলাম ৷
,,,,
আহিয়াদের বাড়ির বাইরে দাড়িয়ে আছি,,,,
কলিং বেল চাপ দিব কি দিব না এই নিয়ে
দ্বিধায় আছি ?
আর কিছু না ভেবে কলিং বেলে একটা চাপ
দিয়েই দিলাম ৷
আহিয়া এসে দরজা খুলল,,,
আহিয়া আমাকে দেখে হা হয়ে দাড়িয়ে আছে।
৷
আমাকে দেখে অনেক বেশি অবাক হয়েছে ৷
আমাকে যেরকম ভাবে দেখছে যেন আমি
কোনো এলিয়েন, ভূল করে পৃথিবীতে
ডুকে পড়েছি ৷
কিছুক্ষণ অবাক চোখে তাকিয়ে থাকার
পর,,,
অভিমানী সূরে বলল,,,
আহিয়া- কে আপনি? এত রাতে আমাদের
বাড়িতে কি করছেন?
আমি- আসলে আমি আমার বউটাকে
দেখতে আসছিলাম ৷
আহিয়া< অহহ..এখানে আপনার বউ থাকে না।আপনি হয়তো রাস্তা ভূলে এখানে চলে আসছেন।
আমি- কাওকে ডাক দিয়না
পিল্জ, তোমাকে দেখার জন্যই
এসেছিলাম ৷ তোমাকে দেখা হয়ে গেছে
তাই চলে যাচ্ছি ৷
আমি চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালাম,,
তখনই আহিয়া ওর আম্মুকে ডাক দিল,,,,
আহিয়া- আম্মু দেখে যাও কে এসেছে?
আমি- এই এই শাশুরি আম্মাকে আবার
ডাকছ কেন?
আহিয়ার আম্মু- কে আসছে রে আহিয়া?
আরে বাবা তুমি?
আহিয়ার আম্মুও আমাকে দেখে অনেক
অবাক হলেন ৷
আরে বাবা বাইরে দাড়িয়ে আছ কেন?
ভিতরে আস ৷
আমি- আমি বলছিলাম কি আম্মা আজ
চলে যাই ৷ কাল আবার আসব ৷
আহিয়ার আম্মু- কি বলছ কি বাবা? এত
রাতে কিভাবে যাবে?
তাছাড়া রাস্তা ঘাটের যা অবস্তা,,,
কখণ কোন দুর্ঘটনা ঘটে যায় তা কি বলা
যায় ৷
অতঃপর,,,বাধ্য হয়ে ঘড়ে ডুকলাম ৷
খাওয়া দাওয়া সেরে আহিয়ার রুমে ঘুমতে
গেলাম ৷
আমি রুমে ডুকার সাথে সাথেই আহিয়া
বালিশ হাতে নিয়ে বেরিয়ে যেতে লাগল !
আমি ওর হাত ধরে আটকালাম,,,,
আমি- কোথায় যাচ্ছ?
আহিয়া- আমি রুপার সাথে ঘুমাব
(অভিমানী সূরে)
আমি- তাহলে আমি কি একা ঘুমাব নাকি?
আহিয়া- এতদিন কিভাবে ঘুমিয়েছিলে?
তারপর আমি আহিয়ার দুই হাত ধরে
বললাম,,
আমি- পিল্জ আহিয়া যেও না আমি
তোমাকে ছাড়া ঘুমাতে পারব না ৷
তারপর আহিয়া হুট করে আমাকে জরিয়ে
ধরে কান্না করতে লাগল, আর বলতে
লাগল,,,
আহিয়া- তুমি একটা বদ ছেলে ৷ কিভাবে
পারলে আমাকে ছাড়া এতদিন থাকতে?
জান আমার কতটা কষ্ট হয়েছে এতদিন ৷
এবার ফুফিয়ে ফুফিয়ে কান্না করছে
আহিয়া !
আমি ওকে আমার বাহু থেকে ছাড়িয়ে ওর
চোখের পানি মুছে দিয়ে কপালে একটা চুমু
খেলাম,
তারপর বললাম,,
আমি- সরি গো বউ,,,এই যে কান ধরছি
1,2,3,
আহিয়া এবার একটা হাসি দিয়ে বলল,,,
কান ধরতে হবে না ৷
আমি আহিয়াকে বেডের উপর বসিয়ে ওর
মন নরম করার জন্য বললাম,,,
আমি- আচ্ছা আহিয়া আমাদের বেবি
কোনদিন হবে গো?
আহিয়া- যাহ দুষ্ট, সেটা আমি কিভাবে
বলব?(লজ্জা পেয়ে)
আমি- আচ্ছা তাহলে চল আমরা ম্যাচ
শুরু করে দেই ৷
আহিয়া আজকে আমরা ফুটবল খেলি !!
আহিয়া লজ্জা পেয়ে আমার বুকে মুখ
লুকাল !!!!!!!
...
*সমাপ্ত*
(গল্পটা কেমন লাগল জানাবেন পিল্জ ৷
🤗🤣👇
লেখক:
(part 4)
তিতলি তুই,
তুই আমেরিকা থেকে কোনদিন ফিরলি?
তিতলি- কালকে আসলাম, শুনলাম তুমি
নাকি বিয়ে করে ফেলেছে? (কিছুটা হতাশ
হয়ে বলল)
আমি- হুম,,,রে ! ও হচ্ছে আমার বউ আহিয়া
৷
আর আহিয়া ও হচ্ছে আমার চাচাত বোন
তিতলি ৷
আহিয়া- কেমন আছ তিতলি?
তিতলি- হুম,,,ভাল ৷(কিছুটা গম্ভীর হয়ে)
আমি- কিরে তিতলি চাচা চাচী আসেন নাই?
তিতলি- নাহ,,,,আমি একাই আসছি !
তিতলি হচ্ছে আমার চাচাত বোন,
ছোটবেলা থেকেই আমাকে পছন্দ করত ৷
সারাক্ষন আমার পিছে পিছে লেগে থাকত ৷
কিন্তু আমি কখনো ওকে নিয়ে অইভাবে
ভাবতাম না ৷
আমি সব সময় ওকে বোনের চোখেই
দেখতাম ৷
তিন বছর হল ওরা আমেরিকা চলে যায় !!
..
তিতলি- ভাবী তুমি এখটু উপরে যাবে? আমি
ভাইয়ার সাথে একা কিছু
কথা বলতে চাই ৷
আহিয়া আমার দিকে রাগী চোখে কিছুক্ষণ
তাকিয়ে রইল ৷
তারপর রাগে ফুসতে ফুসতে
হন হন করে চলে গেল ৷
আমি- তিতলি তাড়াতাড়ি বল কি বলবি?
তিতলি- তুমি কেন এমন করলে?(কান্না করে দিল) অই মেয়ের মধ্যে কি এমন আছে যা
আমার মধ্যে নাই ৷
আমি- তিতলি বোন বুঝার চেষ্টা কর
আমি তোকে কোনো দিনও ওরকম
চোখে দেখি নাই ৷ তকে সব সময় ছোট
বোনের চোখে দেখি?
তিতলি- কেন চাচাত বোনকে কি চাচাত
ভাই বিয়ে করতে পারে না?
আমি- অন্যরা পারলেও আমি পারিনা ৷
দেখ তিতলি তকে আমি কোনো দিনও
অই চোখে দেখি নাই, আর ভবিষ্যতে
দেখবও না ৷
পিল্জ তুই আমার ছোট বোন হয়েই থাক ৷
তিতলি তুই কিন্তু স্মার্ট এবং বুদ্ধিমতি
মেয়ে ৷
তুই ইচ্ছা করলে আমি কেন আমার ছেয়ে
হাজার গুন ভাল ছেলে পাবি ৷
তিতলি- আমার তোমাকে চাই ৷ আমি চাই
না তোমার চেয়ে হাজার গুন ভাল ছেলে !
বলেই তিতলি আমাকে জরিয়ে ধরে কান্না
করতে লাগল !
আমি- তিতলি ছাড় বলছি ৷ বুঝার চেষ্টা
কর আমার এখন একটা বউ আছে, আমার
বউ দেখলেই বা কি বলবে ৷
আমি ওকে যত ছাড়ানোর চেষ্টা
করছি সে আরও শক্ত করে আমাকে জরিয়ে
ধরছে ৷
তারপর আমার রাগ উঠে গেল চরমে
আমি ওকে ধাক্কা দিয়ে ছাড়িয়ে,
ঠাসসস করে একটা চর মেরে রুমে যেতে
লাগলাম ৷
সিরি বেয়ে উপরে উঠতে যাব তখনই
দেখলাম আহিয়া দাড়িয়ে আছে উপরে ৷
তারমানে আহিয়া এতক্ষণ যা যা ঘঠে গেছে
সবই দেখল ৷
আহিয়া আমার দিকে কিছুক্ষণ রক্ত লাল
চোখে তাকিয়ে রুমের দিকে যেতে লাগল ৷
আমিও ওর পিছে পিছে রুমে গেলাম ৷
আমি ভাবলাম রুমে গিয়ে মনে হয়
আহিয়া অনেক চিল্লা চিল্লি করবে ৷
আমাকে হাজারটা প্রশ্ন করবে?
কিন্তু না এসব কিছুই করছে না ৷
আহিয়া সারা রুমে জুড়ে হাটতে
লাগল, আর সামনে যা পাচ্ছে সেটাই এদিক
সেদিক ছুড়ে মারতে লাগল,
আমি বুঝতে পারলাম আহিয়ার রাগ কতটা
উচ্চ পর্যায়ে আছে ৷
আহিয়া রাগে ফুসতে লাগল।
আমি আহিয়ার এই অবস্থা দেখে হাসি আর
আটকাতে পারলাম না...
আমি- হা হা হা হা হা...
আহিয়া- অই দাত খেলিয়ে হাসবি না...দাত
ভেঙে ফেলব !!
আমি আমার হাসি যেন তামাতেই পারছি
না,,,
তারপর আহিয়া তেড়ে আসল আমাকে
মারার জন্য ৷
আমার কাছে এসেই আমার উপর ধপাসসস
করে পরল,,,তারপর আমার বুকে কয়েকটা
কিল দিয়ে আমার বুকে মুখ লুকিয়ে কান্না
করতে লাগল ৷
মেয়েরা সব কিছু সহ্য করতে পারে
কিন্তু তাদের স্বমীকে অন্য মেয়ের পাশে
দেখলে সেটা কিছুতেই সহ্য করতে পারে
না,,,
আমি- এই পাগলী কাদছ কেন?(মাথায় হাত
বুলিয়ে দিয়ে)
আহিয়া- আমি জানি তোমার কোনো
দোষ নাই ৷ কিন্তু অই মেয়েটা তোমাকে
যেরকম ভাবে জরিয়ে ধরল এটা আমি
কিছুতেই মেনে নিতে পারছি ৷
তোমাকে জরিয়ে ধরার অধিকারটা শুধু
আমারই আছে, অন্য কোনো মেয়ের না ৷
(কেদে কেদে)
আহিয়ার আমার উপর ভালবাসা দেখে
আমার চোখ দিয়ে কিছুটা পানি বেড়িয়ে
আসল ৷
মেয়েটা এই তিন দিনে আমাকে কতটা
ভালবেসে ফেলেছে !!
এই কথাটা ভাবতেই মেয়েটার প্রতি
ভালবাস আরও বেড়ে গেল ৷
আমি- পিল্জ আহিয়া কান্না থামাও ৷
তোমার কান্না কেন জানি আমার সহ্য
হচ্ছে না ৷
আরে তিতলি তো একটা পাগল মেয়ে ৷
হয়তো আবেগের ছুটে আমাকে জরিয়ে
ধরেছে ৷ আর ওর আমাকে জরিয়ে ধরার
শাস্তিও তো পেয়েছে , দেখলেই তো ওকে
কত্ত জুরে একটা থাপ্পর দিলাম ৷
এই বলে আমি আহিয়াকে শান্তনা
দিতেছি,,,
হঠাৎ শুনলাম দরজায় কে যেন কড়া
নারতেছে !!
আমি আহিয়াকে আমার উপর থেকে
সরিয়ে দরজা খুলে দেখলাম আম্মু দাড়িয়ে
আছে ৷
আম্মুর মুখটা চিন্তিত মনে হচ্ছে,,,
আমি- কি হয়েছে আম্মু?
আম্মু- নিয়ান দেখত তিতলিকে কখন
থেকে ডাকছি কিন্তু তিতলি ওর রুমের
দরজা লাগিয়ে বসে আছে, খুলছেই না !
আমি দৌরে ওর রুমের পাশে গেলাম ৷
ভালো লাগলে শেয়ার হবে কি।❤
(3rd part)
আহিয়াদের ঘড়ে ডুকতে যাব
তখনই দেখলাম অনেক গুলো
মেয়ে আমার রাস্তা আটকাল ৷
আহিয়া- কিরে তরা রাস্তা
আটকাচ্ছিস কেন?
একটা মেয়ে- আপু তুমি ঘড়ে
আস ৷
আহিয়াকে টেনে মেয়েটা
ঘড়ে ডুকাল,
আমি ডুকতে যাব তখনই রাস্তা আটকাল রুপা(আহিয়ার বোন)।
রুপা- আরে ভাইয়া আপনি দাড়ান, টাকা না দিয়ে ঘড়ে ডুকতে
পারবেন না ৷
আমি- কিসের টাকা রে সালি?
রুপা- ভাইয়া আপনি আমাকে
গালি দিলেন?(অবাক হয়ে)
আমি- আরে আমি তকে গালি
দিতে যাব কেন? বউয়ের বোনকে
তো সবাই
সালি বলেই ডাকে ৷
রুপা- অহ...আমি আরো ভাবছি
গালি দিছেন ৷
অন্য আরেকটা মেয়ে- আরে
অইসব এখন বাদ দে রুপা ৷
আগে আমাদের টাকাটা নিয়ে
নেই, তারপরে নাহয় কথা হবে
অইসব সালি আর গালি নিয়ে ৷
মেয়ে- দেন দুলাভাই তাড়াতাড়ি
টাকাটা দিয়ে গড়ে আসেন ৷
আমি- কিন্তু আমি তো টাকা
সাথে আনি নাই? ATM কার্ড আছে,
নাও এইটা নিয়ে টাকাটা
তুলে নিয়ে আস ৷
মেয়ে- লাগবে না ভাইয়া আপনি
পরে দিয়ে দিয়েন ৷
তারপর সবাই আমার হাত ধরে
টেনে ঘড়ে ডুকাল,,,
শাশুরিকে সালাম করার পর,,,
সবাই আমাকে আহিয়ার রুমে
নিয়ে গেল ৷
সালি গলো আমাকে এখনই যে
রকম ভাবে টানাটানি শুরু করছে,
না জানি বাকী দুইদিন কি করবে,
হয়তো টেনে টেনে ছিড়েই ফেলবে ৷
আমাকে রুমে ডুকিয়ে দিয়ে
ওরা চলে গেল ৷
আমি আহিয়াকে বললাম,,,
আমি- এই আহিয়া তোমার এত্তগুলা
বোন কেন গো? তোমার আব্বু আম্মু
মনে হয় অনেক রোমান্টিক ছিলেন তাই
এত্তগুলা !!
আহিয়া- তোমার মাথায় সব সময় শুধু
আজেবাজে চিন্তা,
ওরা সবাই আমার বোন না?
শুধু রুপাই আমার আপন বোন,
আর সবাই আমার কাজিন ৷
আমি- অহ,,,আমি আরও ভাবছিলাম
সবকটি তোমার আব্বুরই ফসল,,
যাই বল না কেন তোমার কাজিন
গুলা না এক একটা হেব্বি সুন্দর ৷
আহিয়া- কি বললি?(আমার কলার ধরে)
আমি ছাড়া অন্য মেয়ের দিকে
তাকাবি তো চোখ তুলে ফেলব ৷
ওরে বাবারে বাবা কি গুন্ডি মেয়ে
(মনে মনে)
মূখে বললাম,,,
আমি- কথায় কথায় শুধু রাগ কর কেন?
আমি তো এমনি মজা করলাম ৷
আহিয়া- কি বললি আমি কথায়
কথায় রাগ করি?
আমি- হুম..করই তো ! এই যে
এখন তো রাগ করেই কথাটা বললা ৷
আহিয়া- তুই আমাকে রাগাস
বলেই তো আমি রেগে যাই ৷
যা তর সাথে কথা নাই ৷
আমি- ওলে আমাল মিষ্টি, গুলুমুলু রাগী বউ,
রাগ করে না বাবু, তুমি না আমার
মিষ্টি বাবুনি,,
এই বলেই আমি ওকে কাতকুতু দিতে
লাগলাম,
আহিয়া- এই ছাড় বলছি ছাড়(হাসতে
হাসতে)
হঠাৎ সালি গুলা এসে বলল,,
দুলাভাই রোমান্স পরে কইরেন
এখন খেতে চলেন ৷
আমি- সালিরা,,,পরের বার রুমে ডুকার
আগে
একটু নক করে ডুকবেন ৷
কারণ বুঝই তো নতুন নতুন
বিয়ে রুমের ভিতরে কখন কি চলে ৷
একটা সালি- দুলাভাই আপনিও পরের
বার রোমান্স করার আগে দরজাটা
লক করে কইরেন ৷
বলেই সবাই হাসতে লাগল,,,
আহিয়া লজ্জায় লাল হয়ে বলল,,,
আহিয়া- এই তরা কি শুরু করছিস ৷
যা তরা আমরা আসছি !!
তারপর দুজন ফ্রেশ হয়ে দুপুরের
খাবার খেতে আসলাম !!
সবাই মিলে আমার পেল্টে সব
খাবার তুলে দিচ্ছে ৷
সালি গুলা আমার মূখে একেক
ধরনের খাবার গুজে দিচ্ছে ৷
কি খাবারই না খাইলাম আমার
জীবনেও মনে হয় এত্তগুলা খাবার
একসাথে খাই নাই ৷
যদি এটাকে জামাই আদর বলে,
তাহলে জীবনেও আসব না
শশুর বাড়ী এই রকম জামাই
আদর খেতে !!
...
রাতে সালিদের সাথে আড্ডা
দিতে দিতে কখন যে 12টা বেজে
গেল খেয়ালই করি নাই ৷
রুমে গিয়ে দেখি আহিয়া বিছানা
ঠিক করছে ৷
আহিয়া আমার দিকে তাকিয়ে বলল,,
আহিয়া- সালিদের পেয়ে বউকে ভূলে গেলে?
আহিয়াকে পেছেন থেকে জরিয়ে ধরে
বললাম,,,
আমি- আমার মিষ্টি বউটাকে কি
কখনো ভূলতে পারি??
তোমার ফাজিল বোন গুলা
ছাড়ছিলই একেক জন একেক রকমের
প্রশ্ন করছিল ৷
আহিয়া- আচ্ছা যাও ফ্রেশ হয়ে
চেইন্জ করে আস ৷
..
ফ্রেশ হয়ে ওয়াস রুম থেকে বের হয়ে
এসে দেখি আহিয়া বসে বসে কি যেন
ভাবছে ৷
আমি বললাম,,,
আমি- কি ভাবছ?
আহিয়া- কিচ্ছুনা ৷
আমি- আচ্ছা বউ,,,আজকে কি ম্যাচ
খেলব গো? ক্রিকেট না ফুটবল?
আহিয়া লজ্জায় লাল হয়ে বলল,
আহিয়া- যাহ...অসভ্য কোথাকার,
ম্যাচ মানে কি?
আমি- কালকে রাতে যেইটা
খেলছিলাম অইটা ৷ চল আজকে
আমরা ক্রিকেট খেলি, টেস্ট খেলব
কিন্তু, লম্বা ইনিংস ৷
আহিয়া লজ্জা পেয়ে আমার বুকে
মূখ লুকাল ৷
.....
তারপর আরও একদিন আহিয়াদের
বাড়িতে থেকে চলে আসলাম
আমাদের বাড়িতে ,,,,
ঘড়ে ডুকেই বড় ধরনের একটা শকড
খেলাম !!
এই মেয়েটা এখানে কি করছে???
#চলবে
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Telephone
Website
Address
Dhaka
Badda
1212