তারুয়া উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ১৯৫৭ইং
প্রধান শিহ্মক জনাব মো: হারুনুর রশিদ
Tarua Girls High School "তারুয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়"
শিক্ষা,শান্তি,প্রগতি
30/01/2017
14/06/2016
Tiffin Time
28/05/2016
26 th march.....
21/05/2016
পাঁচ মিনিট আগেও আমি
ফ্যামিলির
ছোট ছিলাম। তন্নী হওয়ার
সাথে
সাথে আমি মেজো হয়ে
গেলাম। মা
যখন প্রেগন্যান্ট ছিল আমার
সমস্ত
স্কুলের বন্ধবীরা আমাকে ভয়
দেখাতো,আমার ছোট জন
আসার পর
থেকে আমার প্রতি সবার আদর
নাকি
কমে যাবে। আমি ব্যাপারটায়
মোটেও
পাত্তা দিতাম না। কিন্তু এই
কথা
শুনার পর মনটা ভিষন খারাপ
হতো।
আবার নিজেকে নিজেই
শান্তনা
দিতাম,আদর কি কমে যাওয়ার
জিনিস!
যতো দিন যাচ্ছিলো আমার
বান্ধবীরা
আমাকে ততোই খেপাতে
লাগলো।
সবচেয়ে বেশি খেপাতো
অর্জুন।
আমাদের পাশের ঐ সাদা
বাড়ীটাতে
থাকে। আমার জন্মের পর
থেকে যখন
বুঝতে শিখেছি তখন থেকেই
অর্জুনকে
চিনি। সে আজ সকালেও
বলেছে, তোর
সকল আদরের অংশিদার আসছে
রে
আন্নি! তোর আদরে ভাগ না
বসালেই
হয়। কথাটা বলেই সে ফিক
করে হেসে
দিলো। বান্দরের কুতসিৎ
দাঁতগুলো
দেখে আমার ভীষণ কান্না
পাচ্ছিলো। তখন অর্জুনের মা
শিফা
আন্টি অর্জুনের দিকে কড়া
দৃষ্টিতে
তাকিয়ে আমাকে বুকে টেনে
বলল,এসব
ভুল কথা মামণি। মা,বাবার
আদর কি
কখনো কমার জিনিস?
প্রতিটা
মা,বাবারাই তাদের
সন্তানদের
সমানভাবে দেখে। প্রতিটা
সন্তান
তাদের কাছে রত্ন সমতূল্য
বুঝেছিস
বোকা? আমার বয়েসি
মেয়েদের
যতোটুকু বোঝা উচিৎ তা হয়তো
আমি
ঠিকই বুঝেছিলাম। আঙ্কেল
আন্টির
সাথে আমাদের পরিবারের
সম্পর্ক
যথেষ্ট ভালো।
মা,কে হাসপাতালে নেওয়া
হল এখন
থেকে দু,ঘন্টা আগে। হঠাৎ
প্রসব ব্যাথা
শুরু হলে বাবাকে ফোন করা
হলো।
বাবা মেডি এইড থেকে
এ্যাম্বুলেন্স
পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। এখন
বাজছে
ঠিক দুপুর বারোটা। গ্রীষ্মের
উষ্ণতম মাস
মার্চের ১৩ তারিখ ঠিক
বারোটায়
আমার ছোট বোন তন্নীর জন্ম
হলো। ১৩
আবার আনলাকি নয়তো?
বাংলাদেশের জাতীয় দলের
বেশির
ভাগ ক্রিকেটাররা আনলাকি
১৩ রান
করেই আউট হয়। সে থেকেই ১৩
আনলাকি
হিসেবে, সুনাম নাকি দূর্ণাম
যাইহোক
কিছু একটা অর্জন করেছে।
আমার ছোট
বোনের নাম অবশ্য এখনো ঠিক
হয়নি।
ছেলে হলে বাবার নাম
সফিউলের
সাথে মিল রেখে সাফি,আর
মেয়ে
হলে মা এর নাম ঢেউ এর সাথে
মিল
রেখে উর্মি। তন্নী ডাকটা
আমার
নামের সাথে মিল রেখে
আমি
রেখেছি। অন্য কেও অন্য নামে
ডাকলেও আমার ছোট্ট
বোনটাকে
আমি তন্নী বলেই ডাকবো।
আমার
আদরের অংশিদার হলেও
আমার
বোনকে আমি অনেক
ভালোবাসবো।
তন্নী হওয়ার পর থেকেই আমি
হাসপাতালে যাওয়ার জন্য
ব্যাকুল হয়ে
গেলাম। পিচ্চিটাকে কখন
কোলে
নিবো এই নিয়ে তরিহরি
করতে
লাগলাম। ইশ পিচ্চিটাকে
কোলে
নিলে কি ফিলিংসটাই না
হবে,এটা
ভাবতেই মনে আনন্দের একটা
লেশ বয়ে
গেল। অন্যদিনের থেকে আজ
আমি
মনটাকে যথেষ্ট হাসিখুশি
রাখছি।
বিকালের দিকে অর্জুন এসে
বলল,কি
রে আন্নী,,,শুনলাম তোর বোন
হয়েছে
নাকি?
আমি হাসিমুখে বললাম,হ্যা।
ঠিকই
শুনেছো।
অর্জুন মায়া দেখানোর মতো
করে
বলল,তোর দু:খের দিন শুরু হলো
রে...!!
দু:খের দিন কেন শুরু হবে?
আমার ছোট
বোন আসছে। কোলে
নিবো,কতো মজা
হবে,,,আর তুমি বলছো,দু:খের
দিন শুরু?
অর্জুন ভাই কিছু একটা বলতে
চাচ্ছিলো,,,তার আগেই শিফা
আন্টি
এসে হাসিমুখে বলল,আন্নী
তোর ছোট
বোনকে দেখতে যাবি?
আমি তখন প্রায় লাফিয়ে উঠে
বললাম,
যাবো।
অর্জুন ভাই তখন বলল,কিছুদিন
যাওয়ার পর
বুঝবি এতো আনন্দ কোথায়
যায়?
শিফা আন্টি রেগে গিয়ে
বলল,অর্জুন
তুই আবার শুরু করেছিস?
আমার মন খারাপ হওয়ার
আগেই মন
ভালো হয়ে গেল। অর্জুন
ভাইয়াকে
বকা দিলে আমার ভীষন মজা
লাগে।
হাসপাতালের দু,তলায় ছোট্ট
একটা
কেবিনে মাকে রাখা হয়েছে।
মা
চিত হয়ে শুয়ে আছে। মায়ের
বুক
উঠানামা করছে। নি:শ্বাস
ঘন। কিছুক্ষণ
আগে তার কি দখলটাই না
গেল...!! দুই
ঘন্টা আগে মা যখন বাসায়
ছিল তখন
তার চোখগুলো হয়ে
গিয়েছিলো
প্যাচার মতো বড় বড়। এখন কেন
যেন মনে
হচ্ছে টিক টিকির থেকেও ছোট
হয়ে
গিয়েছে। মায়ের পাশে একটা
ছোট্ট
দোলনায় আমার লক্ষ্যি বোনটা
আঙুল
চুষছে,সন্তান জন্ম হওয়ার পর
প্রথমে কি
সে আঙুল চোষা শিখে? কি
জানি?
দাদুকে এক ফাকে জিঙ্গাসা
করতে
হবে। আন্নী মনে করে আপাদত
তার সব
থেকে কাছের মানুষ এখন তার
দাদু।
আমার ছোট বোনকে দেখে
আমি ভিষণ
একসাইটেড হয়ে গেলাম। ইচ্ছা
করছে
এক্ষুনি কোলে নিয়ে একটু আদর
করে
দেই। কি সুন্দর করে পিচ্চিটা
আঙুল
চুষছে।
আমি উত্তেজনায় বলেই
ফেললাম ওমা!
দাদু দেখেছো আমার বোন
আমার মতো
হয়েছে,,,কি সুন্দর পুতুপুতু বাবু!!
দাদু বলল,গালে হাত দিও না
আন্নি!
ব্যাথা পাবে।
আমি আর্তনাধ করে বললাম,
দাদি আমি
ওকে কোলে নেবো।
দাদি চোখ বড় বড় করে
বলল,কোলে
অবশ্যই নিবে। তবে আজ নয়।
বাড়ীতে
যাওয়ার পর। আমিও
নাছোড়বান্দা।
তন্নীকে কোলে নেওয়ার জন্য
মন ছটফট
করতে লাগলো। হুট করে এক
নার্স এসে
বলল,রোগীর সামনে উচ্চ স্বরে
কথা
বলবেন না। আমি আবার
মায়ের দিকে
তাকালাম। বড় একটা
অক্সিজেন
সিলিন্ডার ঝুলানো মায়ের
মুখে।
মাকে দেখে মনে হচ্ছে মায়ের
বুকের
হ্রদপিন্ড হাপরের মতো
লাফাচ্ছে...
যাকে সত্যিকার
ভালবাসা যায়
সে অতি অপমান, আঘাত
করলে, হাজার
ব্যাথা দিলেও
তাকে ভোলা যায় না...
___কাজী নজরুল ইসলাম
ছেলে এবং মেয়ে বন্ধু
হতে পারে,
কিন্তু তারা অবশ্যই একে অপরের
প্রেমে পড়বে।
হয়ত খুবই অল্প সময়ের জন্য, অথবা ভুল
সময়ে।
কিংবা খুবই দেরিতে, আর না হয়
সব সময়ের জন্য।
.............হুমায়ুন আহমেদ
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Telephone
Website
Address
Tarua
Ashuganj
3402