18/06/2020
বইপ্রেমীদের জন্য আদর্শ কিছু ‘বইয়ের শহর’
আপনি একজন বইপ্রেমী। নীরবে বই পড়তে আপনি ভালোবাসেন। অথচ নিজ বাড়ি ছাড়া শহরের কোনো জায়গায় গিয়ে বই পড়তে আপনার ভালো লাগে না। এর কারণ হতে পারে শহরের কোলাহল, ব্যস্ততা। ঠিক এই আপনাকেই যদি এমন কোনো জায়গার কথা বলা হয় যেখানে আপনি পাবেন বই পড়ার জন্য অফুরন্ত সময় আর সুযোগ? যেখানে নেই শহরের কোলাহলপূর্ণ অস্থিরতা আর ব্যস্ততা। আপনি যতক্ষণ চান বইয়ের দোকানে গিয়ে বই পড়তে পারেন, রাস্তার পাশ থেকে বই নিতে পারেন পড়ার জন্য। যোগ দিতে পারেন নানা ধরনের বইয়ের উৎসবে। আবার সেখানে গিয়েও মিলবে অনেক সাহিত্যপ্রেমী মানুষের সাথে।
কী ভাবছেন? এমন জায়গা কোথায় হতে পারে? আপনার মতো বইপ্রেমীর জন্য রয়েছে ‘বইয়ের শহর’। এ শহরের আনাচে-কানাচে শুধু বই আর বই। খুঁজলে পেয়ে যাবেন অনেক প্রাচীন আর পুরাতন বইও।
চলুন ঘুরে আসি এমন কিছু ‘বইয়ের শহর’ থেকে:
উরুয়েনা, স্পেন
উঁচু দেয়াল ঘেরা একটি মধ্যযুগীয় শহর কল্পনা করুন। সে শহরের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে একটি প্রাসাদ, আর তার চারপাশ ঘিরে রয়েছে আঙুরের ক্ষেত আর গম ঘেরা মাঠ। এরপর কল্পনা করুন, উঁচু দেয়ালে ঘেরা এই শহরের সবাই বই পাগল। ভাবুন, পুরো শহরটা ভর্তি বইয়ের দোকান দিয়ে। এ শহরে নেই মানুষের ব্যস্ততা, অতিরিক্ত যানবাহনের কোলাহল। চারদিকে শুধু বই আর বই। ছিমছাম এই বইয়ের শহরটার নাম উরুয়েনা।
স্পেনের মাদ্রিদ থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে মাত্র দুই ঘণ্টার দূরত্বে ক্যাস্টিলাই লিওন অঞ্চলে অবস্থিত ছোট্ট সুন্দর এক শহর উরুয়েনা। শহরটি ঘিরে আছে মধ্যযুগীয় দেয়াল। সাম্প্রতিক বছরে শহরটি পরিণত হয়েছে ‘ভিলা ডেল লিব্রো’ বা বইয়ের নগরীতে।
ছোট্ট এই শহরে বাস করে মাত্র ২০০ জন মানুষ। কিন্তু এই অল্প সংখ্যক মানুষের জন্য এখানে রয়েছে ১২টি ভিন্ন ভিন্ন বইয়ের দোকান। অর্থাৎ প্রতি ১৬ জন মানুষের জন্য একটি করে দোকান! কিছু দোকানে পাওয়া যায় সব ধরনের বই, আর কিছু দোকান সুপরিচিত শুধু পুরনো এবং দুর্লভ বইয়ের জন্য। এখানে শিশুদের জন্যেও রয়েছে নানা ধরনের বই। উরুয়েনায় ‘ইএল সেভেন’ নামের একটি দোকান আছে যেটি বিখ্যাত ষাঁড়ের লড়াইয়ের বইয়ের জন্য। অন্য একটি জায়গায় রয়েছে ওয়াইন বিষয়ক বই, সে জায়গার নাম সেলার।
উরুয়েনাতে প্রাচীন ক্যালিগ্রাফি শেখার কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে মধ্যযুগে খুঁজে পাওয়া বইগুলো থেকে অক্ষর লেখা শেখানো হয়। উরুয়েনাতে বই বিষয়ক আরেকটি ভিন্ন জিনিস হয়। এখানে সরাসরি কীভাবে বই বাঁধাই করতে হয়, কীভাবে মলাট করতে হয় এ সব বিষয়ে ওয়ার্কশপ করানো হয়।
উরুয়েনায় আপনি আরও দেখতে পাবেন বই আর ইতিহাসে ভর্তি মিউজিয়াম। এখানে আরও আছে মানবজাতিসমূহের বিজ্ঞানসম্মত বিবরণ নিয়ে মিউজিয়াম। এটি পরিচালনা করেন স্থানীয় লোকাচারবিদ্যার স্কলার জাওকুইন দিয়াজ। এই মিউজিয়ামটি অষ্টাদশ শতাব্দীর একটি প্রাসাদে অবস্থিত।
নেদারল্যান্ডের ব্রেভডোর্টে প্রতিদিন দশ হাজারেরও বেশি মানুষ বিভিন্ন উৎসবে আসে অথবা আসে শুধু সেকেন্ড-হ্যান্ড বইয়ের দোকানগুলো একবার ঘুরে দেখতে। ঠিক এমনটাই চেয়েছিল উরুয়েনা। ইতিহাস আর শিক্ষার প্রাচুর্যে পরিপূর্ণ এই শহরটি ২০০৭ সালে সিদ্ধান্ত নেয় ‘বইয়ের শহরে’ পরিণত হওয়ার। তারা আন্তর্জাতিক বইয়ের শহরে নিজেদের নাম লেখায়। আর এরপর থেকেই আন্তর্জাতিকভাবে স্পেনের ‘বইয়ের শহর’ বলতে সবাই উরুয়েনাকেই চেনে।
বর্তমানে এই শহর অন্তত চল্লিশ হাজারেরও বেশি গ্রন্থানুরাগীকে পায়। তারা ক্যাস্টিলাতে আসেন ঐতিহাসিক বইগুলো খুঁজতে, পুরনো লেখার উপর লেকচার শুনতে, ক্যালিগ্রাফির উপর ক্লাস করতে। আর এর সাথে অবশ্যই থাকে একে অন্যের সাথে বই খুঁজে পাওয়ার আনন্দ ভাগাভাগি করতে।
কী ভাবছেন? বইয়ের শহর উরুয়েনাতে একবার ঘুরে না আসলেই নয়? তাহলে ঘুরে বেড়ানোর সময়টা ঠিক করে ফেলুন শহরের উৎসবের দিনগুলোকে। এই শহরের বইপাগলেরা জানে কীভাবে বই নিয়ে উৎসব করতে হয়। এপ্রিলে বিশ্ব বই দিবসে এখানে প্রচুর ভিড় হয়। আবার মার্চে শহরটির বর্ষপূর্তিতেও এখানে বইয়ের উৎসব হয়।
আপনি যখনই এই শহরে পা রাখবেন তখন থেকেই সময়কে বেশ দক্ষতার সাথেই খরচ করতে হবে আপনাকে। কারণ এখানে ইতিহাসের অনেক অজানা জিনিস ছড়িয়ে আছে। উরুয়েনার মধ্যযুগীয় দেয়ালগুলো তো বটেই, দ্বাদশ’ এবং ত্রয়োদশ শতাব্দীর আদিম পাথরের কাজগুলো এখনও এখানে শোভা পায়।
এখানে আরও রয়েছে গোথিক, রেনেসাঁ এবং বারোক সময়ে টিকে থাকা সান্তা মারিয়া ডেল আজোগ চার্চ। ষোড়শ শতক থেকে শুরু করে অষ্টাদশ শতকের সংমিশ্রিত এই চার্চ বিভিন্ন সময়ে গড়েছে, ভেঙেছে আর নতুন সংযোজিত হয়েছে।
বর্তমানে এই শহরের প্রাচীন গেট দিয়ে অন্তত ২১ হাজারেরও বেশি পর্যটক ভ্রমণে আসে। সুযোগ করে কিন্তু আপনিও চাইলে ঘুরে আসতে পারেন বইয়ের এই স্বর্গরাজ্য থেকে।
বিচরেল, ফ্রান্স
আপনি কি একজন বইপ্রেমী? দেশ বিদেশের সাহিত্য, ইতিহাস জানতে আপনার ভালো লাগে? তাহলে ফ্রান্সের বিট্টলি আপনার জন্য হতে পারে একটি আদর্শ জায়গা। বিট্টলির বিচরেল শহরটি পরিচিত ‘বইয়ের শহর’ হিসেবে। এ শহরে প্রায় ১৫টির মতো বইয়ের দোকান আছে। এখানে আরও রয়েছে মাসিক বইয়ের দোকান।
এ শহরে বসবাস ৭০০ জন মানুষের। বইয়ের দোকানের পাশাপাশি এখানে রয়েছে আর্ট গ্যালারি আর বইয়ের ক্যাফে।
ফ্রান্সের রেনেস শহর যেটি স্থাপত্য ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত সেই শহর থেকে ৩৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিম দিকে এই শহরটির অবস্থান।
বেচরেলে রয়েছে দ্বাদশ শতাব্দীতে গঠিত দুর্গ। এই দুর্গের কিছু ধ্বংসাবশেষ এখনও রয়ে গিয়েছে। সে সময়ে আলাইন ডি ডিনান যখন এখানে একটি দুর্গ নির্মাণ করেন, এ শহরের গোড়াপত্তন হয় তখনই। পরে ব্রিট্টনির সাংস্কৃতিক পরিষদের পরিচালক বার্নাড লে নেইল এই ছোট্ট শহরটিকে বইয়ের নগরীতে পরিণত করার পরিকল্পনা করেন।
শহরের সাথে সাথে দুর্গটি অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে শহরটি নিজেদেরকে নতুনভাবে সাজাচ্ছে বইয়ের আর পর্যটকদের শহর হিসেবে। বেচেরেল ফ্রান্সের প্রথম বইয়ের দোকান হলেও ইউরোপে এটি তৃতীয়।
যেহেতু শহরটি বইয়ের শহর এখানে প্রতিনিয়ত বই সম্পর্কিত নানা অনুষ্ঠান হয়। সর্বপ্রথম এখানে বই উৎসব অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৯ সালে। তারপর থেকে প্রতিবছর বসন্তে ও ইস্টারে এটি নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
ফ্রান্স এমনিতেই শিল্পের দেশ, সাহিত্যের দেশ। ছবির মতো সুন্দর এ দেশটির আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নানা ইতিহাস। সাহিত্য-শিল্পপ্রেমী মানুষ এক কথায় বইপাগল মানুষেরা যদি একবার ফ্রান্সে পা রাখেন তাহলে এখানে তারা একবার হলেও এসে ঘুরে যান।
হে-অন-ওয়ে, ওয়েলস
ওয়েলস-ইংলিশ সীমান্তে অবস্থিত ছবির মতো সাজানো এক শহর হে-অন-ওয়ে। এর উত্তরে রয়েছে ওয়ে নদী, দক্ষিণে রয়েছে ব্ল্যাক মাউন্টেইন, পশ্চিমে আছে ব্রেকন বেকন আর পূর্বে রয়েছে চাষাবাদের জমি। এই শহর বিখ্যাত বইয়ের জন্য। আর সুপরিচিত হে উৎসবের জন্য।
হে-অন-ওয়ে হচ্ছে পৃথিবীর সর্বপ্রথম এবং সবচেয়ে পুরনো বইয়ের নগরী। ১৯৬১ সালে রিচার্ড বুথ এই শহরকে বিশ্বের সর্বপ্রথম বইয়ের শহরে পরিণত করেন এবং সেই সাথে এর নামকরণ করেন।
এ শহরে আছে প্রচুর সেকেন্ড হ্যান্ড বইয়ের দোকান। আরও রয়েছে বেশ কিছু আর্ট আর ক্রাফটের দোকান, রয়েছে ভালো মানের এন্টিকের দোকান, রয়েছে পোশাকের জন্য ভালো মানের বেশ কিছু দোকানও। বৃহস্পতিবারে শহরের দোকান আর রাস্তাগুলো একেকটি মেলায় পরিণত হয়। সেখানে প্রচুর মানুষ এসে নানা ধরনের তথ্য বিনিময় করেন।
প্রতিবছর মে ও জুন মাসে এখানে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সাহিত্য উৎসব ‘হে সাহিত্য ও শিল্পকলা উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৮৭ সাল থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবটির জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে ২,৫০,০০০ জনের বেশি দর্শক ও বইপ্রেমী অংশ নেন এই উৎসবে।
জিনবোচো, জাপান
জাপানের টোকিওতে অবস্থিত জিনবাচো চিওডা অঞ্চলের একটি প্রতিবেশী এলাকা। এটি অন্যান্য শহরের মতো আলাদা একটি শহর নয়।
বর্তমানে জিনবোচোতে প্রায় ১৭০টির বেশি নতুন পুরাতন বইয়ের দোকান, প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান ও সাহিত্যিক সমাজ রয়েছে। এদের বেশিরভাগই ইয়াশুকুনি ও হাকুশান সরণীর পাশে অবস্থিত।
জাপানের সবচেয়ে পুরোনো ও দুর্লভ বইয়ের দোকান আছে এখানে। রয়েছে বেশ কিছু ইংরেজি বইয়ের দোকানও।
ইয়াশুকুনির বেশিরভাগ দোকানের বইগুলো দক্ষিণমুখী করে রাখা। এর কারণ হিসেবে দোকানীরা বলেন, এতে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে বইকে রক্ষা করা যায়। আপনি যদি বই খুঁজতে গিয়ে আনন্দ পেয়ে যান তাহলে এখানে আপনি আরও পাবেন সদ্য পাবলিশ হওয়া ভলিউম, নানা ধরনের একাডেমিক বইয়ের সংগ্রহ, আর্টের বই, পুরনো ম্যাগাজিন আর দুর্লভ আর অনেক পুরনো বই। আপনি যদি জাপানিজ ভাষা নাও জানেন তবু এখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও আপনি বই খুঁজে নিতে পারেন।
১৯১৩ সালে অধ্যাপক শিগেও আইওয়ানামি সর্বপ্রথম এই এলাকায় একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান চালু করেন। সময়ের সাথে সাথে এখানে নানা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও বইয়ের দোকান গড়ে ওঠে। ১৯২০ সালের মধ্যেই এই শহর ছাত্রছাত্রী ও বইপ্রেমীদের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। বর্তমানে দিনের প্রায় পুরোটা সময় এখানে বহু বইপ্রেমীর ভিড় লেগে থাকে।
সেইন্ট-পিয়ের-ডে-ক্লাজেস, সুইজারল্যান্ড
সুইস পর্বতমালার কেন্দ্রে সুইজারল্যান্ডের ফ্রেঞ্চ ভাষাভাষী অংশটিতে ছোট্ট একটি সুন্দর শহরের অবস্থান। ছবির মতো সাজানো শহরটির নাম সেইন্ট-পিয়ের-ডে-ক্লাজেস। জেনেভা থেকে মাত্র ১৫০ কিলোমিটার পূর্বে এর অবস্থান।
১৯৯০ সালে প্রথম ‘বইয়ের শহর’ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয় দৃষ্টিনন্দন এই শহরটি।
শহরটি বিখ্যাত তার বই উৎসবের জন্য। ১৯৯৩ সালে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই উৎসব এখনও অনুষ্ঠিত হয় আগস্টের শেষ সপ্তাহে। এই উৎসবে বইয়ের দোকান, পাবলিশার, লেখক, সাহিত্যিক মিলিয়ে অন্তত ১০০জনকে একত্র করে। আর আসেন পনেরো হাজারেরও বেশি দর্শক।
বই উৎসব এখানকার সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় বিষয় হলেও আপনি চাইলে যে কোনো সময় বইয়ের দোকানগুলো ঘুরে আসতে পারেন। এছাড়াও যোগ দিতে পারেন প্রতি শনিবার অনুষ্ঠিত হওয়া সাহিত্য আড্ডাতেও।
সুন্দর এই শহরের প্রধান চত্বরেই রয়েছে ১০টি বইয়ের দোকান। বহু পুরাতন বইয়ের পাশাপাশি আপনি এখানে পাবেন নতুন প্রকাশিত বিভিন্ন বিষয়ের উপর রচিত বই।
মান্ডাল, নরওয়ে
নরওয়ের জস্টেডালসব্রিন হিমবাহের কাছে মধ্য ফিয়ারল্যান্ডে অবস্থিত ছোট্ট শহর মান্ডাল। ১৯৯৫ সালে এটি ‘নরওয়ের বইয়ের শহর’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এই শহরে বসবাস করে মাত্র ৩০০ জন অধিবাসী। এ শহরেই রয়েছে সবচেয়ে সুন্দর বইয়ের দোকানগুলো।
নানা প্রাচীন আর ব্যবহৃত বইয়ের দোকানগুলো গড়ে উঠেছে বিভিন্ন পরিত্যক্ত ভবনে। এর মধ্যে রয়েছে ওয়েটিং রুম, মুদির দোকান, ব্যাংক আর পোস্ট অফিস।
এই শহর পরিপূর্ণ প্রচুর বইয়ের সমারোহে। কথিত আছে, মান্ডালের সমস্ত বইয়ের তাককে যদি একসারি করা হয় তবে সব মিলিয়ে তার দৈর্ঘ্য হবে ২.৫ মাইল লম্বা। মে থেকে সেপ্টেম্বর মাসে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বইয়ের দোকানগুলো খোলা থাকে।
বার্জেন থেকে ২৫০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিম পাশে এ শহরের অবস্থান। বার্জেন থেকে গাড়িতে অথবা নৌকায় করে ৪-৫ ঘণ্টায় আপনি পৌঁছাতে পারেন বইয়ের এ শহরে।
রেডু, বেলজিয়াম
মাত্র ৪০০ অধিবাসী নিয়ে বেলজিয়ামের ছোট্ট শহর আর্ডেনাসের রেডু। ব্রাসেলস থেকে ১৩০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এর অবস্থান। এটি ইউরোপের প্রথম বইয়ের শহর। এটির প্রতিস্থাপন কাল ১৯৮৪।
বর্তমানে রেডুতে ২৪টির মতো বইয়ের দোকান আছে। দোকানগুলোতে রয়েছে বিভিন্ন প্রাচীন বই আর কমিক বই। এখানে আরও রয়েছে ক্যাফে, রেস্টুরেন্ট আর ক্রাফটের দোকান। প্রতি বছর এ শহরে দুই লাখেরও বেশি দর্শকের সমাগম হয়।
ইস্টারের সময় এখানে বার্ষিক একটি বইয়ের উৎসব হয়। এর নাম ‘ফেত ডিউ লিভর’। এ সময় এখানে পনেরো হাজারেরও বেশি দর্শক আসে।
ওবিডোস, পর্তুগাল
রোমান সময়কালে শুরু হওয়া এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত সবচেয়ে কমবয়সী বইয়ের শহর হলো পর্তুগালের ওবিডোস। এই শহরকে বইয়ের নগরীতে রূপ দেওয়ার কাজ প্রথম শুরু হয় ২০১৩ সালের দিকে। শহরের ওবিডোস সিটি হল ও লার ডেভাগার বুকস্টোর সর্বপ্রথম এই কাজে যোগদান করে।
প্রতিবছর অক্টোবরে এখানে অনুষ্ঠিত হয় ‘ফোলিও আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসব’। সারা বিশ্বের নানা বইপ্রেমী এই উৎসবে যোগ দেন। পর্তুগালের সবচেয়ে বড় সাহিত্য উৎসব এটাই।
নব্য প্রতিষ্ঠিত এই বইয়ের শহরে আপনি বইয়ের অনেক দোকান পাবেন। দিন দিন এ শহরের জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে।
উইগটাউন, স্কটল্যান্ড
স্কটল্যান্ডের দৃষ্টিনন্দন শহর উইগটাউন স্কটল্যান্ডের জাতীয় বইয়ের শহর হিসেবে অফিসিয়ালি স্বীকৃতি পায় ১৯৯৮ সালে। এক হাজার অধিবাসীর বিপরীতে এখানে বইয়ের দোকান আছে ১০টি। আর তাতে বইয়ের সংখ্যা দুই লাখ পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি!
সেপ্টেম্বর মাসে উইগটাউনের বই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এখানে দর্শক হিসেবে থাকে শিশু-কিশোর, বয়স্ক থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষ। আর এ উৎসবে শুধুমাত্র সাহিত্যই নয়, থাকে নানা ধরনের মিউজিক, থিয়েটার আর নানা ধরনের শিল্পকলার প্রদর্শন।
এই শহরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ‘দ্য ওপেন বুক’ নামে একটি অ্যাপার্টমেন্ট যেখানে আপনি চাইলে থাকতেও পারবেন।
গ্লাসগো থেকে ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে এই শহরের অবস্থান।
05/06/2019
03/03/2019
21/02/2019
01/01/2019
20/11/2018
24/08/2018
24/08/2018