27/09/2026
এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গেটস বলেছেন, প্রযুক্তিটির ঝুঁকি কোনোভাবেই উপেক্ষা করা উচিত নয়। বিশেষ করে অসৎ উদ্দেশ্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের হাতে সর্বাধুনিক এআই প্রযুক্তি গেলে তা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণ হতে পারে।
গেটস বলেন, এআই এমন ঘটনা ঘটানোর মতো সক্ষমতা রাখে, যার পরিণতিতে ১০০ কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে। তার মতে, প্রায় শতভাগ নিশ্চিতভাবে এমন ঘটনা ঘটবে বলা কঠিন হলেও, অসৎ উদ্দেশ্যসম্পন্ন মানুষের হাতে সর্বাধুনিক এআই প্রযুক্তির সমন্বয়ের মতো শক্তিশালী কোনো অস্ত্র এর আগে ছিল না।
এআইয়ের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোকেও আলোচনায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গেটস। তিনি বলেন, এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে কী ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নজরদারি থাকবে, তা নির্ধারণে আইনপ্রণেতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা প্রয়োজন।
গেটসের ভাষায়, এসব নিরাপত্তাব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করতে হবে। এতে প্রযুক্তি খাতের ওপর কিছু অতিরিক্ত দায়িত্ব পড়বে, তবে এর ফলে এআই উন্নয়নের গতি নাটকীয়ভাবে কমে যাবে না।
গেটসের এই সতর্কবার্তার কয়েক দিন আগে যুক্তরাজ্যভিত্তিক অ্যালান টিউরিং ইনস্টিটিউটও এআই নিয়ে উদ্বেগজনক সতর্কতা প্রকাশ করে।
গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এমন ‘সুপারইন্টেলিজেন্ট’ এআই ব্যবস্থা তৈরি হওয়ার বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা রয়েছে, যা প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানগত কাজে মানুষের সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এআই এমন কৌশল তৈরি করতে সক্ষম হলে, যেগুলো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারবে না, তাহলে এসব প্রযুক্তির ওপর কার্যকর মানব নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যেতে পারে।
প্রতিবেদনে এআইয়ের সম্ভাব্য রাসায়নিক ও জৈবিক হুমকির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তথ্য পরিবেশ এবং বৃহত্তর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকির কথাও বলা হয়েছে।
এর আগে মার্কিন এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দারিও আমোদেই ফ্রন্টিয়ার এআইয়ের উন্নয়নে সাময়িক বিরতি দেওয়ার পাশাপাশি তৃতীয় পক্ষের মূল্যায়ন, অভিন্ন নিরাপত্তা মানদণ্ড এবং চীনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রস্তাব দেন।
অ্যানথ্রপিকের সাবেক গবেষক জ্যাকব কক্সনও চলতি দশকের শেষ নাগাদ এআইয়ের কারণে মানবজাতি বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির অ্যালাইনমেন্ট সায়েন্সের প্রধান ইভান হাবিঙ্গারও আগামী এক দশকের মধ্যে এমন ঘটনার সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি বলে মন্তব্য করেছেন।
#উপকূলেরকথা