06/05/2026
তরিকায়ে আতায়া'র ইমাম, হযরত সৈয়দ শাহ শের আলী জাহাঁরৌশন তারাগনী (র.)-এর দাদাপীর হযরত সায়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী (র.) এবং তাঁর পীর-মুরশিদ গাজীয়ে বালাকোট, হযরত মাওলানা শাহ কুতুব্বুজ্জামান দ্বীন মুহাম্মদ জাহাঁরৌশন মুজাররদ (র.)-এর স্মরণে আল-আতায়া কমপ্লেক্সের ‘সায়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী (র.) ভবন’-এ আজ আলোচনা, মিলাদ ও দু‘আ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, হিজরি ত্রয়োদশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ, উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের অমর শহীদ, আমিরুল মু’মিনীন, তরিকায়ে মুহাম্মদিয়ার ইমাম ও শহীদে বালাকোট সায়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী (র.) ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দের ৬ মে বালাকোটের প্রান্তরে পাঞ্জাবের মহারাজ রণজিৎ সিং-এর বিরুদ্ধে জিহাদে অবতীর্ণ হন। ঐ যুদ্ধে তিনি সহ তাঁর তিন শতাধিক মুরিদ-খলিফা, মুজাহিদ ও আলিম-উলামা শাহাদাতের অমর মর্যাদা লাভ করেন।
তাঁর রক্তে রঞ্জিত সেই সংগ্রাম আজও মুসলিম উম্মাহর গৌরবের প্রতীক। তিনি মৃত্যুর পরও দ্বীনের জন্য আত্মত্যাগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছেন। বালাকোটের সেই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে শাহ সাহেব হুজুর তারাগনী (র.)-এর পীর-মুরশিদ হযরত মাওলানা শাহ কুতুব্বুজ্জামান দ্বীন মুহাম্মদ জাহাঁরৌশন মুজাররদ (র.) গাজী হয়ে প্রত্যাবর্তন করেন।
সমাজ থেকে শিরক, বিদ‘আত, অন্যায় ও বিভ্রান্তি দূরীকরণে তিনি ইসলামী সংস্কার আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। ইসলামের জন্য তাঁর আত্মত্যাগ আমাদের ঈমানি শক্তি বৃদ্ধি, নেক আমলে উদ্বুদ্ধ হওয়া এবং আল্লাহর পথে অবিচল থাকার সাহস জোগায়। তাঁর আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করে আমাদের উচিত শিরক-বিদ‘আত পরিহার করা, ইসলামি শিক্ষা প্রসার করা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে অবস্থান নেওয়া।
হযরত সৈয়দ শাহ শের আলী জাহাঁরৌশন তারাগনী (র.) তাঁর স্বহস্তে রচিত পুথি ‘জোয়াহেরে মারফত ও সিরগঞ্জ’-এ লিখেছেন-
“সায়্যিদ আহমদ হয় যে বেরেলী শহরে,
মুহাম্মদিয়া তরিকা জারি ঐ নাম পরে।
আহম্মদিয়া তরিকা যে নাহি করে জারী,
মুহাম্মদিয়া নাম দেন, জ্ঞানী ছিল ভারী;
রাষ্ট্র নাম নবীর দেয় বরকতের কারণ,
বুঝিতে লিখিনু এথায় শুন গুনীগণ।
রণজিৎ সিং রাজায় যে করিল জুলুম,
খোরাসান দেশের মধ্যে সবার মালুম;
আরো আরো বহু মন্দ মল্লুকেতে হয়,
তজ্জন্যে মুজাদ্দিদ যে সৃষ্ট করয়।
তেরশতে মুজাদ্দিদ যে জানহে তাহায়,
দাদাপীর হয় মোর পাইবে শাজরায়;
শহীদ হইলো তিনি খোরাসান দেশে,
পেসুয়া মানিয়া গেল সকল দরবেশে।”
তিনি আরও লিখেছেন-
“আতায়া’র মূল যেই লিখি বুঝিবারে…
কাদরিয়া-চিশতিয়া-নকশবন্দিয়া যে হয়,
মুহাম্মদিয়া পন্থ এক জানহে নিশ্চয়;
মম পীর মাওলানা দ্বীন মুহাম্মদ শাহ্,
পীরের পীর সায়্যিদ আহমদ শাহ্।
তিনির তরিকায়ে মুহাম্মদিয়া যে হয়,
তৎশাখা আতায়া ইলহামে মিলয়।”
মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁকে এবং বালাকোটের প্রান্তরে শাহাদাত বরণকারী সকলকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন; এবং আমাদের সকলকে তাঁদের দেখানো পথে চলার তাওফিক দান করুন-আমীন।