18/06/2026
📌নবীজি ﷺ যে আমল একদিনও ছাড়তেন না,ইস্তিগফার — হৃদয়ের অশান্তি থেকে মুক্তির দোয়া...
প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় "أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ" ১০০ বার পাঠ করা একটি সহজ কিন্তু অসাধারণ বরকতময় আমল। এর অর্থ — "আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁর দিকেই ফিরে আসি।"
রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজেও নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও প্রতিদিন সত্তরবারেরও অধিক ইস্তিগফার করতেন। (সহিহ বুখারী: ৬৩০৭, সহিহ মুসলিম: ২৭০২)
এই ছোট আমলটি যদি আন্তরিকভাবে করা হয়, বাস্তব জীবনে কিছু জিনিস স্পষ্টভাবে দূর হতে দেখা যায়।
হৃদয়ের অস্থিরতা দূর হয়। যে মানুষ গুনাহের বোঝা বুকে নিয়ে ঘুরে, তার ভেতরে এক ধরনের অজানা অশান্তি থাকে। ইস্তিগফার সেই ভার হালকা করে, মনে প্রশান্তি ফিরিয়ে আনে।
দুশ্চিন্তা ও সংকট দূর হয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তিগফার করে, আল্লাহ তার প্রতিটি সংকট থেকে মুক্তির পথ বের করে দেন এবং অপ্রত্যাশিত উৎস থেকে রিযিক দেন। (আবু দাউদ: ১৫১৮, ইবনে মাজাহ: ৩৮১৯)
আল্লাহ থেকে দূরত্ব দূর হয়। গুনাহ মানুষকে আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। ইস্তিগফার সেই দূরত্ব ঘুচিয়ে দিয়ে বান্দাকে আবার আল্লাহর নৈকট্যে নিয়ে আসে।
অহংকার ও আত্মতুষ্টি দূর হয়। যে নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চায়, তার হৃদয়ে নম্রতা ও বিনয় জন্ম নেয়। সে নিজেকে বড় মনে করার সুযোগ পায় না।
জীবন থেকে বরকত কমে যাওয়া দূর হয়। গুনাহ রিযিক ও বরকত কমিয়ে দেয়। নিয়মিত তাওবা-ইস্তিগফার জীবনে আবার বরকত ফিরিয়ে আনে।
ইস্তিগফার শুধু মুখের কথা নয়, এটি হলো অন্তরের অনুশোচনা এবং আল্লাহর দিকে বারবার ফিরে আসার সংকল্প। মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়, কিন্তু উত্তম সে-ই, যে ভুলের পর আল্লাহর দরজায় ফিরে আসে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সকাল-সন্ধ্যায় আন্তরিক ইস্তিগফারের তাওফীক দান করুন। আমীন।
17/06/2026
📌আশুরার সিয়াম —
মুহাররম মাসের দশম দিন, আশুরা, ইসলামী ইতিহাসে এক বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ দিন। এই দিনের সিয়াম এবং এর ফজিলত নিয়ে পবিত্র কুরআন ও সহিহ হাদিসে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়, যা আমাদের ঈমান ও আমলকে নতুনভাবে জাগ্রত করার এক সুবর্ণ সুযোগ।
সিয়ামের মূল ভিত্তি পাওয়া যায় সুরা বাকারার একটি আয়াতে, যেখানে আল্লাহ তাআলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
অর্থ: হে মুমিনগণ, তোমাদের উপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো (সুরা বাকারা, আয়াত ১৮৩)।
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, সিয়াম শুধু এই উম্মতের জন্য নতুন কোনো বিধান নয়, বরং পূর্ববর্তী নবী-রাসুলদের যুগেও সিয়ামের প্রচলন ছিল। আর আশুরার সিয়ামের ইতিহাস সরাসরি জড়িত মূসা আলাইহিস সালাম এবং বনি ইসরাইলের ফিরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্তির ঘটনার সাথে, যার বর্ণনা কুরআনে একাধিক স্থানে এসেছে। সুরা বাকারায় আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَإِذْ فَرَقْنَا بِكُمُ الْبَحْرَ فَأَنجَيْنَاكُمْ وَأَغْرَقْنَا آلَ فِرْعَوْنَ وَأَنتُمْ تَنظُرُونَ
অর্থ: এবং স্মরণ করো, যখন আমি তোমাদের জন্য সাগর বিভক্ত করে দিয়েছিলাম, অতঃপর তোমাদের রক্ষা করেছিলাম এবং ফিরাউনের সম্প্রদায়কে ডুবিয়ে দিয়েছিলাম, আর তোমরা তা স্বচক্ষে দেখছিলে (সুরা বাকারা, আয়াত ৫০)।
ঠিক একই ঘটনার আরেকটি বর্ণনা পাওয়া যায় সুরা ইউনুসে, যেখানে আল্লাহ তাআলা ফিরাউনের শেষ পরিণতি ও বনি ইসরাইলের মুক্তির কথা উল্লেখ করেছেন। এই মহাবিজয়ের কৃতজ্ঞতা প্রকাশার্থেই মূসা আলাইহিস সালাম এই দিনে সিয়াম রাখতেন, যা পরবর্তীতে ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে রীতি হয়ে দাঁড়ায়।
এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি সহিহ হাদিস বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ যখন মদিনায় হিজরত করে আসেন, তখন তিনি দেখলেন ইহুদিরা আশুরার দিনে সিয়াম রাখছে। তিনি এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা জানাল, এই দিনে আল্লাহ মূসা ও তাঁর সম্প্রদায়কে ফিরাউনের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন, তাই মূসা কৃতজ্ঞতাবশত এই দিন সিয়াম রাখতেন। তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, মূসার প্রতি আমাদের অধিকার তোমাদের চেয়ে বেশি। অতঃপর তিনি নিজেও সিয়াম রাখলেন এবং সাহাবিদেরও সিয়াম রাখার নির্দেশ দিলেন।
প্রাথমিক যুগে রমজানের সিয়াম ফরজ হওয়ার পূর্বে আশুরার সিয়াম মুসলিমদের জন্য ফরজ ছিল, যেমনটি সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে। রমজানের সিয়াম ফরজ হওয়ার পর আশুরার সিয়াম ঐচ্ছিক হয়ে যায়, তবে এর ফজিলতের কারণে নবী ﷺ নিজে নিয়মিত এই সিয়াম পালন করতেন।
আশুরার সিয়ামের ফজিলত সম্পর্কে সহিহ মুসলিমে আবু কাতাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আশুরার দিনের সিয়াম সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশা করি যে তিনি এর পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন। এই হাদিস থেকে স্পষ্ট হয় যে, আশুরার একদিনের সিয়াম একজন মুসলিমের জন্য কতটা বড় রহমতের কারণ হতে পারে।
ইহুদিদের থেকে স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার জন্য রাসুলুল্লাহ ﷺ কেবল দশম দিন নয়, বরং নবম দিনও সিয়াম রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন। সহিহ মুসলিমে ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, যখন সাহাবিরা বললেন যে আশুরা তো ইহুদি ও খ্রিস্টানরাও সম্মান করে, তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, আগামী বছর আমি বেঁচে থাকলে নবম তারিখেও সিয়াম রাখব। এই হাদিসের ভিত্তিতে আলেমরা মত দিয়েছেন, মুহাররমের নবম ও দশম তারিখ একসাথে সিয়াম রাখা সুন্নত, যাতে অন্য ধর্মের অনুসারীদের সাথে সাদৃশ্য এড়ানো যায়।
কুরআনের আয়াত ও রাসুলুল্লাহ ﷺ এর হাদিস একত্রে আমাদের শিক্ষা দেয়, আল্লাহর নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হয় ইবাদতের মাধ্যমে। মূসা আলাইহিস সালাম যেমন ফিরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্তির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন সিয়ামের মাধ্যমে, আমাদের নবী ﷺ আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করে তাঁর নিকটবর্তী হওয়া যায়। মুহাররম মাস আসলে আমাদের উচিত এই সুন্নতকে জীবিত রাখা এবং আল্লাহর কাছে নিজের গুনাহ মাফের আশায় তাসুআ ও আশুরার সিয়াম পালনের প্রস্তুতি নেওয়া।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই ফজিলতপূর্ণ সিয়াম পালনের তাওফিক দান করুন এবং আমাদের গুনাহগুলো ক্ষমা করে দিন।
16/06/2026
📌যে আমল জান্নাতে নিয়ে যায়, আর যে পাপ জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেয়.....
---
একদিন সাহাবায়ে কেরাম রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞেস করলেন —
*"ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন আমল মানুষকে সবচেয়ে বেশি জান্নাতে নিয়ে যাবে?"*
তিনি ﷺ বললেন —
> **"তাকওয়া এবং সচ্চরিত্র।"**
তারপর জিজ্ঞেস করা হলো —
*"কোন জিনিস মানুষকে সবচেয়ে বেশি জাহান্নামে নিয়ে যাবে?"*
তিনি ﷺ উত্তর দিলেন —
> **"মুখ এবং যৌনাঙ্গ।"**
📖 *তিরমিযী: ২০০৪ | হাদীসটি সহীহ*
---
কতটা সংক্ষিপ্ত, অথচ কতটা গভীর এই কথা!
রাসূলুল্লাহ ﷺ দুটি প্রশ্নের জবাবে মাত্র চারটি শব্দ বললেন — কিন্তু এই চারটি শব্দের ভেতরেই রয়েছে পুরো জীবনের দিকনির্দেশনা।
---
🌸 **জান্নাতের পথ — তাকওয়া ও সচ্চরিত্র**
তাকওয়া মানে শুধু নামাজ-রোজা নয়।
তাকওয়া মানে — আল্লাহ দেখছেন, এই বিশ্বাসে জীবন পরিচালনা করা।
একা ঘরে বসেও পাপ থেকে বিরত থাকা।
মানুষ না দেখলেও সৎ থাকা।
আর সচ্চরিত্র — এটি শুধু ব্যক্তিগত গুণ নয়, এটি সমাজের আলো।
যে মানুষটি সত্য বলে, কাউকে কষ্ট দেয় না, বিপদে পাশে দাঁড়ায়, ক্ষমা করতে জানে — সে-ই উত্তম চরিত্রের অধিকারী।
রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজেই বলেছেন —
> **"কিয়ামতের দিন মিযানের পাল্লায় সবচেয়ে ভারী হবে সচ্চরিত্র।"**
> 📖 *আবূ দাউদ: ৪৭৯৯*
---
🔥 **জাহান্নামের পথ — মুখ ও যৌনাঙ্গ**
এখানে একটু থামুন এবং ভাবুন।
অনেকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন।
রমজানে রোজা রাখেন।
কিন্তু জিহ্বাকে সংযত রাখতে পারেন না।
গীবত — অনুপস্থিত ভাইয়ের দোষ বলা।
মিথ্যা — সামান্য স্বার্থের জন্য সত্যকে বিকৃত করা।
অপবাদ — যা ঘটেনি তা রটানো।
কটূক্তি — কথার আঘাতে মানুষের হৃদয় ভাঙা।
আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন —
> **"যে ব্যক্তি আমাকে তার দুই চোয়ালের মাঝের বস্তু (জিহ্বা) এবং দুই রানের মাঝের বস্তু (যৌনাঙ্গ) সম্পর্কে নিশ্চয়তা দেবে, আমি তাকে জান্নাতের নিশ্চয়তা দেব।"**
> 📖 *বুখারী: ৬৪৭৪*
---
আজ নিজেকে একটু জিজ্ঞেস করুন —
✦ আমার মুখ কি সত্য কথা বলে?
✦ আমার ভাষা কি কাউকে কষ্ট দেয়?
✦ আমি কি গীবত ও মিথ্যা থেকে বেঁচে আছি?
✦ আমি কি আমার দৃষ্টি ও লজ্জাস্থান হেফাজত করছি?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর যদি আপনাকে অস্বস্তি দেয় — তাহলে জানুন, এই অস্বস্তিটাই তাওবার প্রথম ধাপ।
---
আল্লাহ তা'আলা আমাদের সবাইকে তাকওয়া নসীব করুন।
আমাদের চরিত্রকে সুন্দর করুন।
জিহ্বা ও লজ্জাস্থানের পাপ থেকে হেফাজত করুন।
আমীন। 🤲
---
পোস্টটি উপকারী মনে হলে শেয়ার করুন — হয়তো একটি শেয়ারে কারো জীবন বদলে যেতে পারে।*🌸
03/06/2026
⚖️ মিযানের পাল্লায় সবচেয়ে ভারী আমল
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"কিয়ামতের দিন মুমিনের আমলের পাল্লায় উত্তম চরিত্র (সচ্চরিত্র) অপেক্ষা অধিক ভারী কোনো বস্তু থাকবে না।"
📖 সহীহ সূত্র: Sunan Abu Dawud, হাদিস: ৪৭৯৯
সংক্ষিপ্ত শিক্ষা: নামাজ, রোজা ও অন্যান্য ইবাদতের পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে সুন্দর আচরণ, নম্রতা, সত্যবাদিতা, ক্ষমাশীলতা ও সদ্ব্যবহার আল্লাহর কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। একজন মুসলিমের উত্তম চরিত্র তার ঈমানের সৌন্দর্য প্রকাশ করে এবং কিয়ামতের দিন তার নেক আমলের পাল্লাকে ভারী করবে।
আসুন, আমরা সবাই উত্তম চরিত্র গঠনে সচেষ্ট হই এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর আদর্শ অনুসরণ করি। 🌿🤲
31/05/2026
📌বিদআত: এমন একটি বিপদ যা মানুষকে তওবার পথ থেকেও দূরে সরিয়ে দিতে পারে....
আনাস ইবনে মালেক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
> "নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক বিদআতীর তওবাকে আটকিয়ে রাখেন (যতক্ষণ না সে বিদআত পরিত্যাগ করে)।"
— আল-মু'জামুল আওসাত, হাদিস: ৪২০৪
বিদআত হলো দীনের মধ্যে এমন কিছু সংযোজন করা, যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ অনুমোদন করেননি। বিদআতের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো—মানুষ এটিকে ভালো কাজ মনে করে। ফলে সে নিজের ভুল বুঝতে পারে না, তওবা করার প্রয়োজনও অনুভব করে না। আর যখন ভুলকেই সঠিক মনে করা হয়, তখন হিদায়াতের পথ থেকে দূরে সরে যাওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
তাই একজন মুমিনের কর্তব্য হলো, নিজের আমলকে সর্বদা কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর আলোকে যাচাই করা। যে আমল রাসূলুল্লাহ ﷺ ও সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে প্রমাণিত নয়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা। কারণ আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য আমল সেইটিই, যা একনিষ্ঠভাবে তাঁর জন্য এবং রাসূল ﷺ-এর সুন্নাহ অনুযায়ী করা হয়।
🤲 হে আল্লাহ! আমাদেরকে সকল প্রকার বিদআত, গোমরাহী ও বিভ্রান্তি থেকে হেফাজত করুন এবং কুরআন ও সুন্নাহর ওপর অটল থাকার তাওফীক দান করুন। আমীন।
#কুরআন_ও_সুন্নাহ #বিদআত #ইসলাম #হাদিস #দাওয়াহ #তওবা #সুন্নাহ_অনুসরণ
25/05/2026
📌কুরবানীর পশু যবেহে ইসলামের সঠিক বিধান....
কুরবানী মুসলিম উম্মাহর একটি মহান ইবাদত।
এ ইবাদতের মূল উদ্দেশ্য শুধু পশু জবাই নয়; বরং আল্লাহর আদেশ পালন, তাকওয়া অর্জন এবং সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করা। তাই কুরবানীর পশু যবেহ করার ক্ষেত্রেও ইসলামের নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলা অপরিহার্য।
📖 যবেহ করার সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে হাদীস
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
> “যে পদ্ধতিতে যবেহ করলে রক্ত প্রবাহিত হয় এবং আল্লাহর নাম নেওয়া হয়, তা খাও। তবে দাঁত ও নখ দ্বারা যেন যবেহ না করা হয়।”
📚 সহীহ বুখারী — হাদীস নং: ৫৫৪৩
---
✨ হাদীস থেকে শিক্ষা
🔹 ১. যবেহের সময় আল্লাহর নাম নিতে হবে
পশু যবেহ করার সময়
“بِسْمِ اللهِ، اللهُ أَكْبَرُ”
উচ্চারণ করা সুন্নাহ।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
> “তোমরা সেই জন্তুর গোশত খেও না, যার উপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়নি।”
📖 সূরা আল-আন‘আম : ১২১
---
🔹 ২. এমনভাবে যবেহ করতে হবে যাতে রক্ত প্রবাহিত হয়
ইসলাম পশুর প্রতি দয়া ও উত্তম আচরণের শিক্ষা দেয়।
তাই পশুকে কষ্ট না দিয়ে দ্রুত ও সুন্দরভাবে যবেহ করা উচিত।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
> “নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ে উত্তম পদ্ধতি অবলম্বন করা ফরজ করেছেন। সুতরাং যখন তোমরা যবেহ করবে, উত্তমভাবে যবেহ করো। তোমাদের কেউ যেন তার ছুরি ধারালো করে এবং পশুকে কষ্টমুক্ত রাখে।”
📚 সহীহ মুসলিম — হাদীস নং: ১৯৫৫
---
🔹 ৩. দাঁত ও নখ দিয়ে যবেহ করা নিষিদ্ধ
হাদীসে স্পষ্টভাবে দাঁত ও নখ দিয়ে যবেহ করতে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ এটি অমানবিক ও অপবিত্র পদ্ধতি।
রাসূল ﷺ বলেছেন—
> “দাঁত ও নখ দ্বারা যবেহ করো না।”
📚 সহীহ বুখারী — হাদীস নং: ৫৫০৪
---
🌿 কুরবানীর প্রকৃত উদ্দেশ্য
কুরবানীর মূল শিক্ষা হলো—
ত্যাগ, তাকওয়া এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
> “আল্লাহর কাছে পৌঁছে না এগুলোর গোশত ও রক্ত; বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।”
📖 সূরা আল-হাজ্জ : ৩৭
---
🤲 আমাদের করণীয়
✅ সুন্নাহ অনুযায়ী পশু যবেহ করা
✅ ধারালো ছুরি ব্যবহার করা
✅ পশুকে কষ্ট না দেওয়া
✅ আল্লাহর নাম নিয়ে যবেহ করা
✅ লোক দেখানো নয়, একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কুরবানী করা
---
🌸 আসুন, আমরা কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ অনুযায়ী কুরবানীর ইবাদত আদায় করি এবং ইসলামের সৌন্দর্য মানুষের সামনে তুলে ধরি।
🤲 আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সহীহভাবে কুরবানী আদায় করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
24/05/2026
📌আরাফার দিনের সিয়াম...
📅 ২৬ মে ২০২৬ (মঙ্গলবার) — বাংলাদেশে
🕋 সেহরির সময়:
সোমবার গভীর রাতে অর্থাৎ
২৬ মে ভোরের আগে সেহরি খেতে হবে।
বাংলাদেশে ফজরের আজানের আগ পর্যন্ত সেহরি করা যাবে।
✨ আরাফার দিনের সিয়ামের ফজিলত ✨
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ
❝
“আরাফা দিবসের সিয়াম সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশা করি,
তিনি এর মাধ্যমে বিগত এক বছর ও আগামী এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।”
❞
📚 সহীহ মুসলিম — ১১৬২
🤲 তাই আসুন,
এই মহান দিনের সিয়াম পালন করি,
বেশি বেশি তাওবা, ইস্তিগফার, দোয়া ও আমলে সময় ব্যয় করি।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে কবুল করুন। আমীন।
23/05/2026
📌 কুরবানীর পশুর ক্ষেত্রে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা....
নবীজি ﷺ আমাদেরকে কুরবানীর পশুর ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক করেছেন। এমন চার ধরনের দোষযুক্ত পশু কুরবানীর জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“চার প্রকার দোষযুক্ত পশু দ্বারা কুরবানী করা বৈধ নয়ঃ
১) স্পষ্ট কানা পশু
২) স্পষ্ট রোগাক্রান্ত পশু
৩) স্পষ্ট খোঁড়া পশু
৪) এমন দুর্বল পশু যার হাড়ে মজ্জা নেই।”
📖 সহীহ ইবনে মাজাহ: ৩১৪৪
🔸 ১) স্পষ্ট কানা হওয়া
যে পশুর একটি চোখ নষ্ট বা অন্ধ হয়ে গেছে এবং তা স্পষ্ট বোঝা যায়, এমন পশু কুরবানী করা বৈধ নয়।
ইসলাম আমাদেরকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে উত্তম ও ত্রুটিমুক্ত জিনিস পেশ করার শিক্ষা দেয়।
🔸 ২) স্পষ্ট রোগী হওয়া
যে পশুর অসুস্থতা পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় — যেমন জ্বর, গুরুতর চর্মরোগ বা দুর্বলতা — তা কুরবানীর উপযুক্ত নয়।
কারণ কুরবানী শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি তাকওয়া ও আন্তরিকতার ইবাদত।
🔸 ৩) স্পষ্ট খোঁড়া হওয়া
যে পশু ঠিকভাবে হাঁটতে পারে না বা পায়ে গুরুতর সমস্যা রয়েছে, সেই পশুও কুরবানীর জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।
ইসলাম দয়া, সৌন্দর্য ও পূর্ণতার শিক্ষা দেয়।
🔸 ৪) দুর্বল ও অচল হওয়া
এত বেশি দুর্বল পশু যার শরীরে শক্তি নেই বা হাড়ে মজ্জা নেই, এমন পশু কুরবানী করা বৈধ নয়।
কুরবানী মানে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের প্রিয় ও উত্তম সম্পদ উৎসর্গ করা।
✨ আমাদের কুরবানী যেন শুধুই লোক দেখানো না হয়ে, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য খাঁটি ইবাদত হয়।
🤲 আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সহীহ নিয়মে কুরবানী করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
20/05/2026
আল্লাহ ﷻ আরাফায় অবস্থানরতদেরকে নিয়ে আকাশবাসীদের সাথে গর্ব করেন এবং বলেন, আমার বান্দাদের দিকে তাকিয়ে দেখো, তারা আমার কাছে এসেছে এলোথেলো ও ধুলায় আবৃত অবস্থায়।
(মুসনাদে আহমদ : ২/২২৪)
18/05/2026
📌 তাকবীরে তাশরীক......
🕋
اللّٰهُ أَكْبَرُ، اللّٰهُ أَكْبَرُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ، وَاللّٰهُ أَكْبَرُ، اللّٰهُ أَكْبَرُ، وَلِلّٰهِ الْحَمْدُ
উচ্চারণঃ
“আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।”
অর্থঃ
“আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।”
━━━━━━━━━━━━━━
📌 কখন পড়তে হয়?
🕌 ৯ জিলহজ ফজর থেকে
🕌 ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত
প্রতি ফরজ সালাতের পর একবার করে তাকবীরে তাশরীক পড়া হয়।
━━━━━━━━━━━━━━
📖 আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
﴿وَاذْكُرُوا اللَّهَ فِي أَيَّامٍ مَعْدُودَاتٍ﴾
“তোমরা নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো।”
— আল-কুরআন ২:২০৩
━━━━━━━━━━━━━━
🤍 আসুন, জিলহজের এই বরকতময় দিনগুলোতে বেশি বেশি তাকবীর, তাহলীল, তাহমীদ ও ইস্তিগফার পাঠ করি।
#তাকবীরে_তাশরীক
#জিলহজ
#ঈদুল_আযহা
#ইসলামিক_পোস্ট