ইসলামিক গল্পের লিংক

ইসলামিক গল্পের লিংক

Share

ইসলামিক গল্প

23/06/2026

স্ত্রীর পর্দা, নিরাপত্তা ও পৃথক বাসস্থানের অধিকার: ইসলামের দৃষ্টিতে স্বামীর দায়িত্ব

বিবাহ শুধু দু’জন মানুষের একত্রে বসবাসের নাম নয়; বরং এটি একটি আমানত, দায়িত্ব ও পারস্পরিক অধিকার সংরক্ষণের চুক্তি। ইসলামে স্বামীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো স্ত্রীর দ্বীন, ইজ্জত, নিরাপত্তা ও পর্দার পরিবেশ নিশ্চিত করা।

বর্তমান সমাজে বহু পরিবারে যৌথভাবে বসবাসের কারণে নারীদের পর্দা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে দেবর, ভাসুর বা অন্যান্য গায়রে মাহরাম আত্মীয়দের সঙ্গে অবাধ মেলামেশা অনেক সময় ফিতনা ও পারিবারিক অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই ইসলামী শরীয়ত এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে।

গায়রে মাহরাম আত্মীয়দের ব্যাপারে ইসলামের সতর্কবাণী

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ: إِيَّاكُمْ وَالدُّخُولَ عَلَى النِّسَاءِ، فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَرَأَيْتَ الْحَمْوَ؟ قَالَ: الْحَمْوُ الْمَوْتُ

অর্থঃ “তোমরা নারীদের নিকট (নির্জনে) প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকো।” তখন এক আনসারী সাহাবী জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! দেবর বা স্বামীর নিকটাত্মীয় সম্পর্কে কী বলবেন?’ তিনি বললেন, ‘দেবর (বা ভাসুর) তো মৃত্যুতুল্য।’
— সহীহ আল-বুখারী, হাদিস: ৫২৩২; সহীহ মুসলিম, হাদিস: ২১৭২

উলামায়ে কেরাম ব্যাখ্যা করেছেন যে, ‘মৃত্যুতুল্য’ বলার অর্থ হলো—এদের ব্যাপারে মানুষ সাধারণত অসতর্ক থাকে। ফলে শয়তান সহজে ফিতনা সৃষ্টি করতে পারে এবং এর পরিণতি অনেক সময় একটি পরিবারের ধ্বংস পর্যন্ত গড়ায়।

পর্দা কেবল মাথায় কাপড় দেওয়ার নাম নয়

অনেকেই মনে করেন, মাথায় ওড়না বা কাপড় থাকলেই পর্দা সম্পন্ন হয়ে যায়। অথচ শরীয়তের পর্দা এর চেয়ে অনেক বিস্তৃত।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا

অর্থঃ “মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে, নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে এবং তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তবে যা স্বাভাবিকভাবেই প্রকাশ পায় তা ছাড়া।”
— সূরা আন-নূর, আয়াত: ৩১

পর্দার অন্তর্ভুক্ত হলো—

- গায়রে মাহরাম পুরুষদের সামনে সৌন্দর্য প্রকাশ না করা।
- অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা ও হাসি-ঠাট্টা থেকে বিরত থাকা।
- নির্জনে অবস্থান না করা।
- চলাফেরা ও পোশাকে শালীনতা বজায় রাখা।
- ফিতনার আশঙ্কা সৃষ্টি করে এমন পরিবেশ এড়িয়ে চলা।

স্ত্রীর জন্য পৃথক বাসস্থানের অধিকার

ফকীহগণ উল্লেখ করেছেন যে, স্ত্রীর মৌলিক অধিকারগুলোর একটি হলো এমন বাসস্থানের ব্যবস্থা, যেখানে তিনি নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করতে পারেন এবং নিজের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করতে পারেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

أَسْكِنُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ سَكَنتُم مِّن وُجْدِكُمْ

অর্থঃ “তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী যেখানে তোমরা বসবাস কর, সেখানে তাদেরও বসবাসের ব্যবস্থা কর।”
— সূরা আত-তালাক, আয়াত: ৬

ইসলামী আইনবিদগণ এ আয়াত থেকে স্ত্রীর জন্য উপযুক্ত ও নিরাপদ বাসস্থানের অধিকার প্রমাণ করেছেন।

যৌথ পরিবারে বসবাসের ক্ষেত্রে করণীয়

যদি কোনো কারণে যৌথ পরিবারে বসবাস করতেই হয়, তাহলে স্বামীর উচিত—

১. পৃথক ঘরের ব্যবস্থা করা

স্ত্রীর জন্য এমন কক্ষ নির্ধারণ করতে হবে, যেখানে তিনি নিরাপদে অবস্থান করতে পারেন এবং গায়রে মাহরামদের অবাধ যাতায়াত না থাকে।

২. পৃথক বাথরুম ও গোসলখানার ব্যবস্থা করা

এটি শুধু পর্দার বিষয় নয়; বরং ব্যক্তিগত মর্যাদা ও স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

৩. প্রবেশের আদব নিশ্চিত করা

আল্লাহ তাআলা বলেন—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتًا غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتَّىٰ تَسْتَأْنِسُوا وَتُسَلِّمُوا عَلَىٰ أَهْلِهَا

অর্থঃ “হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের ঘর ছাড়া অন্য ঘরে প্রবেশ করো না, যতক্ষণ না অনুমতি গ্রহণ কর এবং অধিবাসীদের সালাম দাও।”
— সূরা আন-নূর, আয়াত: ২৭

সুতরাং পরিবারের সদস্যদেরও অনুমতি ছাড়া স্ত্রীর নির্ধারিত কক্ষে প্রবেশ করা উচিত নয়।

৪. আলাদা রান্না বা খাবারের ব্যবস্থা (প্রয়োজনে)

যদি পারিবারিক পরিবেশে দ্বন্দ্ব, অস্বস্তি বা পর্দা রক্ষার সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে আলাদা রান্না বা খাবারের ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।

৫. নির্জনতা থেকে বিরত রাখা

দেবর, ভাসুর বা অন্য গায়রে মাহরাম পুরুষের সঙ্গে স্ত্রীর নির্জনে অবস্থান করা শরীয়তে নিষিদ্ধ।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلَّا كَانَ الشَّيْطَانُ ثَالِثَهُمَا

অর্থঃ “কোনো পুরুষ কোনো নারীর সঙ্গে নির্জনে অবস্থান করবে না; কারণ তাদের তৃতীয়জন হয় শয়তান।”
— সুনান আত-তিরমিযী, হাদিস: ২১৬৫

বিয়ের পূর্বেই পরিকল্পনা করা জরুরি

অনেক সময় দেখা যায়, বিয়ের পর স্ত্রীকে এমন পরিবেশে রাখা হয় যেখানে তার জন্য পর্দা রক্ষা করা অত্যন্ত কঠিন। এতে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি সৃষ্টি হয় এবং দ্বীনি অনুশীলন ব্যাহত হয়।

তাই একজন দায়িত্বশীল মুসলিম যুবকের উচিত বিয়ের আগেই চিন্তা করা—

- কোথায় স্ত্রীকে রাখা হবে?
- পর্দার পরিবেশ থাকবে কি না?
- গায়রে মাহরামদের থেকে নিরাপদ ব্যবস্থা আছে কি না?
- পৃথক ঘর ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব কি না?

কারণ একজন স্ত্রীকে শুধু ভরণ-পোষণ দিলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না; বরং তার ঈমান, পর্দা, মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষা করাও স্বামীর অন্যতম বড় দায়িত্ব।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ

অর্থঃ “তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।”
— সহীহ আল-বুখারী, হাদিস: ৮৯৩; সহীহ মুসলিম, হাদিস: ১৮২৯
cp
:
#হাদিস

21/06/2026

ভারত যদি বাংলাদেশের উপরে আক্রমণ করে তাহলে মুসলিমদের কী করনীয়?
দেশের সার্বভৌমত্ব এবং মুসলিম ভূখণ্ডের নিরাপত্তা ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কোনো শত্রু বাহিনী যখন মুসলিমদের মাতৃভূমিতে আক্রমণ করে তখন মুসলিমদের করণীয় কী—এ বিষয়ে ইসলামি শরিয়তের আলোকে বিজ্ঞ আলেমগণ সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেছেন। শরিয়তের পরিভাষায় একে বলা হয় 'জিহাদুদ দিফা' বা আত্মরক্ষামূলক লড়াই। এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা ও অপরিহার্যতা বিবেচনায় যুগের শ্রেষ্ঠ আলেমগণ যেসব ফতওয়া প্রদান করেছেন তার সারসংক্ষেপ নিচে উপস্থাপন করা হলো:

▪️১. ইবনে কুদামাহ (রহিমাহুল্লাহ):

ইমাম ইবনে কুদামাহ (রহ.) বলেন,
"إِذَا دَخَلَ الْعَدُوُّ بِلَادَ الْإِسْلَامِ، وَجَبَ عَلَى أَهْلِ تِلْكَ الْبِلَادِ قِتَالُهُمْ، وَدَفْعُهُمْ، فَلَا يَجُوزُ لِأَحَدٍ التَّخَلُّفُ، وَيَتَعَيَّنُ عَلَى الْقَرِيبِ فَالْقَرِيبِ، حَتَّى لَا يَبْقَى أَحَدٌ يَقْدِرُ عَلَى الْخُرُوجِ إِلَّا وَخَرَجَ"

"যখন শত্রু ইসলামি ভূখণ্ডে প্রবেশ করে তখন সেই অঞ্চলের অধিবাসীদের ওপর তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং তাদের প্রতিহত করা ওয়াজিব হয়ে যায়। কারো জন্যই এ থেকে পিছিয়ে থাকা জায়েজ নেই। বরং নিকটবর্তী অঞ্চল থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে সবার ওপর এটি ফরজে আইন হয়ে যায়। এমনকি এমন কেউ বাকি থাকবে না যে বের হতে সক্ষম অথচ সে বের হলো না।"

▪️২. ইমাম নওয়াবি (রহ.):

ইমাম নওয়াবি (রহ.) বলেন,

إِذَا دَخَلَ الْعَدُوُّ بَلَدًا مِنْ بِلَادِ الْمُسْلِمِينَ تَعَيَّنَ عَلَى أَهْلِهِ قِتَالُهُمْ، وَيَجِبُ عَلَى مَنْ قَرُبَهُمُ الْمُسَاعَدَةُ، فَإِنْ لَمْ يَكْفُوا تَعَيَّنَ عَلَى مَنْ وَرَاءَهُمْ، وَلَمْ يَبْقَ لِأَحَدٍ التَّخَلُّفُ"
"যখন শত্রু মুসলিম ভূখণ্ডের কোনো একটি দেশে প্রবেশ করে তখন সেই দেশের অধিবাসীদের ওপর তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা ফরজে আইন হয়ে যায়। যারা তাদের কাছাকাছি থাকে তাদের ওপরও সাহায্য করা ওয়াজিব। যদি তারা শত্রুকে প্রতিহত করতে যথেষ্ট না হয় তবে তাদের পেছনের লোকজনের (তাদের পার্শ্ববর্তী অন্যান্য অঞ্চলের মুসলিমদের উপর) ওপরও তা ফরজে আইন হয়ে যায়। তখন কারো জন্যই পিছিয়ে থাকা জায়েজ থাকে না।"

▪️৩. ইমাম ইয বিন আব্দুস সালাম (রহ.):

"ইয বিন আব্দুস সালাম (রহ.) বলেন,
يَجِبُ عَلَى الْمُسْلِمِينَ قِتَالُ الْكُفَّارِ إِذَا دَخَلُوا دِيَارَهُمْ، وَيَصِيرُ الْجِهَادُ حِينَئِذٍ فَرْضَ عَيْنٍ، وَعَلَى النِّسَاءِ وَالْخَدَمِ وَالصِّبْيَانِ إِذَا أَطَاقُوا الْقِتَالَ

"কাফেররা যখন মুসলিমদের বাড়িঘরে প্রবেশ করে তখন তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা মুসলিমদের ওপর ওয়াজিব হয়ে যায়। তখন জিহাদ ফরজে আইন হয়ে দাঁড়ায়, এমনকি নারী, খাদেম বা কাজের মানুষ এবং শিশুদের ওপরও তা ফরজ হয়ে যায় যদি তারা লড়াই করতে সক্ষম হয়।"

▪️৪. শাইখ আব্দুল আজিজ বিন বায (রহিমাহুল্লাহ):

"جِهَادُ الدَّفْعِ فَرْضُ عَيْنٍ إِذَا دَاهَمَ الْعَدُوُّ بِلَادَ الْمُسْلِمِينَ، فَيَجِبُ عَلَى كُلِّ قَادِرٍ أَنْ يَخْرُجَ، سَوَاءٌ أُذِنَ لَهُ أَوْ لَمْ يُؤْذَنَ"

"শত্রু যখন মুসলিম ভূখণ্ডে আক্রমণ করে তখন দিফায়ি জিহাদ বা আত্মরক্ষামূলক জিহাদ ফরজে আইন হয়ে যায়। তাই সক্ষম প্রত্যেক ব্যক্তির জন্যই জিহাদে বের হওয়া আবশ্যক তাকে অনুমতি দেওয়া হোক বা না হোক।"

▪️৫. শাইখ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন (রহ.)
শাইখ বলেন,
"إِذَا هَجَمَ الْعَدُوُّ عَلَى الْمُسْلِمِينَ، صَارَ الْجِهَادُ فِي هَذِهِ الْحَالَةِ فَرْضَ عَيْنٍ، وَلَا يَحْتَاجُ إِلَى إِذْنِ وَلِيِّ الْأَمْرِ، لِأَنَّ الْأَمْرَ صَارَ أَمْرَ ضَرُورَةٍ"

"শত্রু যখন মুসলিমদের ওপর আক্রমণ করে তখন এই অবস্থায় জিহাদ ফরজে আইন হয়ে যায়। আর এক্ষেত্রে অলিউল আমর বা শাসকের অনুমতির প্রয়োজন নেই। কারণ বিষয়টি তখন জীবন রক্ষার জরুরি পর্যায়ে চলে যায়।"

▪️৬. শাইখ সালেহ আল ফাউযান (হাফিযাহুল্লাহ):

তিনি বলেন,

"جِهَادُ الدَّفْعِ لَا يُشْتَرَطُ فِيهِ إِذْنُ الْإِمَامِ، بَلْ يَجِبُ عَلَى كُلِّ مَنْ يَسْتَطِيعُ الْمُشَارَكَةَ أَنْ يُشَارِكَ لِرَدِّ الْعُدْوَانِ، وَهَذَا بِاتِّفَاقِ الْعُلَمَاءِ"

"আত্মরক্ষামূলক জিহাদের ক্ষেত্রে ইমাম বা শাসকের অনুমতির শর্ত নেই। বরং শত্রুতা প্রতিহত করতে সক্ষম প্রত্যেক ব্যক্তির পক্ষেই অংশগ্রহণ করা ওয়াজিব। আর এ বিষয়ে সকল আলেমের ঐকমত্য রয়েছে।"
উপসংহার:
সারকথা হলো, কোনো মুসলিম অধ্যুষিত বা ইসলামি ভূখণ্ডে শত্রু বাহিনী আগ্রাসন চালালে তখন প্রতিরোধ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া সকল সক্ষম মুসলিমের ওপর ফরজে আইন। এমন জরুরি পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অনুমতি থাকুক অথবা না থাকুক অপেক্ষা না করে ইসলাম ও মাতৃভূমির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিটি সক্ষম ব্যক্তিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এটাই সকল হক্কানী আলেমের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত।
কেউ সামর্থ্য থাকার পরেও তা না করলে গুনাহগার হবে।
আল্লাহ আমাদের দেশকে বহিঃশত্রুর সব ধরনের আগ্রাসন এবং ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করুন। আমিন।
অনুবাদক:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি

20/06/2026

বউ যখন ঘরের কষ্টের কথা বলে... স্বামীর করণীয় কি?

অনেক ভাই প্রশ্ন করে - "বউ শাশুড়ির নামে বিচার দিলে আমি কার পক্ষ নিবো? মা নাকি বউ?"

উত্তর: আপনি কারো পক্ষ নিবেন না ভাই। আপনি "সমাধানের" পক্ষ নিবেন।

বউ যখন ঘরের ঝগড়া নিয়ে আসে, সে আসলে "কোর্ট" বসায় না। সে তার ভাঙা মনটা নিয়ে আসে জোড়া লাগাতে।

ইসলাম + মনোবিজ্ঞান মিলায় স্বামীর 4 টা করণীয়:

১. শোনেন - সমাধান দিতে যাবেন না। [সবচেয়ে জরুরি]
বউ 80% সময় সমাধান চায় না, শুধু শোনার মানুষ চায়। নবী ﷺ আয়েশা (রা.) এর 11 জন বান্ধবীর গল্প ঘন্টার পর ঘন্টা শুনতেন।

কিভাবে শুনবেন?
- ফোন নামান, চোখে চোখ রাখেন
- মাঝে বলেন: "আচ্ছা... তারপর?... ইশ, তোমার কষ্ট হওয়ারই কথা"
- শেষে সারাংশ টানেন: "তার মানে তোমার কষ্ট হইছে এই কারণে, তাই তো?"

মুখে আনা যাবে না এই ৩টি কথা:
"বাদ দাও তো" | "তুমিও কম না" | "আম্মা তো এমনই"

২. বিচারক না, ঢাল হন।

সূরা নিসা ৩৪: পুরুষ "কাওয়াম" - মানে দায়িত্বশীল, বস না।
আপনার কাজ বউয়ের ইজ্জত বাঁচানো। মা ভুল করলে আদবের সাথে একা বুঝান। বউ ভুল করলে একা ডেকে নরমে বুঝান। সবার সামনে কেউ কাউকে ছোট করবেন না। এটা আমানতের খেয়ানত।

৩. দেয়াল হন:
বউ আপনাকে ভরসা করে ঘরের কথা বলছে। আপনি যদি মা-বোনের কাছে গিয়ে "বউ এই বলছে" লাগান, তাহলে সে পরেরবার আর কাঁদবে, বলবে না।বুক ভরা কষ্ট নিয়ে চুপচাপ সংসার ভাঙবে।

নবীজি ﷺ কখনো স্ত্রীর দোষ মানুষের সামনে বলতেন না। ঘরের কথা ঘরেই রাখতেন।

৪. একশন নিন - হিকমতের সাথে।
শোনা শেষ হলে জিজ্ঞেস করেন: "এখন তুমি কি চাও? আমি কি আম্মার সাথে আদবের সাথে কথা বলবো, নাকি তুমি নিজেই সামলাবা?"

আপনি যদি "আমি আছি, ভয় নাই" - এই ভরসাটা দিতে পারেন, দেখবেন 70% ঝগড়া ওখানেই শেষ।

বিয়ে মানে দুইজন ফেরেশতা না। দুইজন মানুষ। যারা ওয়াদা করছে - "তোমার দোষ-গুণ নিয়াই জান্নাত পর্যন্ত যাবো"।

নবীজি ﷺ বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম"।

ভালো স্বামী হওয়া অত কঠিন না। শুধু "ভালো শ্রোতা" হন।
বউ শান্ত = ঘর জান্নাত।

আল্লাহ সব স্বামীকে বউয়ের "সাকান" - প্রশান্তির জায়গা বানার তৌফিক দিক। আমিন।

ইসলামিক পেইজটাকে ফলো করার অনুরোধ রইল- Ummah of Muhammad-SW

20/06/2026

❤️নারীর হৃদয় জয় করার চাবিকাঠি: ভালোবাসা, কোমলতা ও উত্তম আচরণ❤️

আল্লাহ তাআলা নারীকে সৃষ্টি করেছেন মমতা, কোমলতা ও আবেগের এক অপূর্ব সমন্বয়ে। তাদের হৃদয় সাধারণত কঠোরতা নয়, বরং ভালোবাসা, সম্মান ও আন্তরিকতায় বেশি সাড়া দেয়। একজন নারী যখন নিজের স্বামী বা অভিভাবকের কাছ থেকে স্নেহ, মূল্যায়ন ও সুন্দর আচরণ পায়, তখন তার অন্তরে নিরাপত্তা, প্রশান্তি ও ভালোবাসার অনুভূতি জন্ম নেয়। আর এ অনুভূতি তাকে পরিবার, স্বামী ও সন্তানদের জন্য আরও বেশি নিবেদিতপ্রাণ করে তোলে।

▪️ দাম্পত্য জীবনের মূল ভিত্তি: ভালোবাসা ও রহমত

আল্লাহ তাআলা স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে কেবল দায়িত্বের বন্ধন হিসেবে নয়, বরং ভালোবাসা ও করুণার বন্ধন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন—

﴿ وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةً وَرَحْمَةً ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ ﴾

“আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে একটি হলো, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করো; আর তিনি তোমাদের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন ভালোবাসা ও দয়া। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে।" — (সূরা আর-রূম, ৩০:২১)

এই আয়াত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের প্রাণ হলো ‘মাওয়াদ্দাহ’ (ভালোবাসা) এবং ‘রাহমাহ’ (দয়া ও করুণা)। যেখানে ভালোবাসা নেই, সেখানে সম্পর্ক কেবল দায়-দায়িত্বে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।

▪️ রাসূলুল্লাহ ﷺ ছিলেন কোমল আচরণের সর্বোত্তম আদর্শ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। তিনি তাঁর স্ত্রীদের সঙ্গে এমন কোমলতা, নম্রতা ও ভালোবাসাপূর্ণ আচরণ করতেন, যা আজও প্রতিটি মুসলিম স্বামীর জন্য অনুসরণীয়।

তিনি বলেছেন—

« خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ، وَأَنَا خَيْرُكُمْ لِأَهْلِي »

“তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার পরিবারের প্রতি উত্তম। আর আমি আমার পরিবারের প্রতি তোমাদের সবার চেয়ে উত্তম।” — (জামে তিরমিযী, হাদীস: ৩৮৯৫)

অন্য হাদীসে তিনি বলেন—

« اسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ خَيْرًا »

“তোমরা নারীদের ব্যাপারে কল্যাণের উপদেশ গ্রহণ করো (তাদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করো)।” — (সহীহ বুখারী, হাদীস: ৩৩৩১; সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১৪৬৮)

এগুলো প্রমাণ করে যে, একজন পুরুষের প্রকৃত চরিত্রের পরীক্ষা হয় ঘরের ভেতরে— সে তার স্ত্রীর সঙ্গে কেমন আচরণ করে।

▪️ নারীর হৃদয়ের ভাষা: সম্মান ও অনুভূতির মূল্যায়ন

অনেক পুরুষ মনে করেন, কেবল ভরণ-পোষণ দিলেই স্ত্রীর প্রতি দায়িত্ব সম্পন্ন হয়ে যায়। অথচ নারীর প্রয়োজন শুধু খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থান নয়; তার প্রয়োজন মানসিক নিরাপত্তা, সম্মান এবং অনুভূতির মূল্যায়ন।

একটি সুন্দর কথা, একটি আন্তরিক হাসি, সামান্য কৃতজ্ঞতা কিংবা সময়মতো খোঁজ নেওয়া— এসব বিষয় নারীর হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলে। অনেক সময় মূল্যবান উপহারের চেয়েও আন্তরিক আচরণ বেশি আনন্দ দেয়।

রাসূলুল্লাহ ﷺ স্ত্রীদের সঙ্গে হাস্যরস করতেন, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন এবং তাদের অনুভূতির প্রতি গুরুত্ব দিতেন। এমনকি আয়েশা (রা.)-এর সঙ্গে তিনি দৌড় প্রতিযোগিতাও করেছিলেন। — (সুনান আবু দাউদ, হাদীস: ২৫৭৮)

▪️ কঠোরতা নয়, নম্রতাই সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখে

আল্লাহ তাআলা বলেন—

﴿ فَبِمَا رَحْمَةٍ مِّنَ اللَّهِ لِنتَ لَهُمْ ۖ وَلَوْ كُنتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ ﴾

“আল্লাহর অনুগ্রহেই আপনি তাদের প্রতি কোমল হয়েছেন। আর যদি আপনি রূঢ় ও কঠোর হৃদয়ের হতেন, তবে তারা আপনার চারপাশ থেকে সরে যেত।” — (সূরা আলে ইমরান, ৩:১৫৯)

যদিও এই আয়াত মূলত রাসূলুল্লাহ ﷺ ও সাহাবিদের প্রসঙ্গে নাযিল হয়েছে, তবুও এর শিক্ষা পারিবারিক জীবনেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কঠোরতা মানুষকে দূরে সরিয়ে দেয়, আর কোমলতা হৃদয়কে কাছে টেনে আনে।

▪️ প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা নারীর ভালোবাসা বৃদ্ধি করে

নারীরা সাধারণত প্রশংসা ও মূল্যায়ন পছন্দ করে। স্বামীর কাছ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও সম্মান পেলে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং দাম্পত্য সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।

যখন একজন স্বামী তার স্ত্রীর পরিশ্রম, ত্যাগ ও অবদানের স্বীকৃতি দেয়, তখন স্ত্রীর অন্তরে তার প্রতি ভালোবাসা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। পক্ষান্তরে অবহেলা, তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও কটুক্তি সম্পর্কের উষ্ণতা নষ্ট করে দেয়।

▪️ নারীর মন জয় মানে তাকে নিয়ন্ত্রণ করা নয়

ইসলাম নারীর প্রতি ভালোবাসা ও কোমল আচরণের শিক্ষা দিয়েছে তাকে ব্যবহার করার জন্য নয়, বরং তার প্রাপ্য সম্মান দেওয়ার জন্য। একজন মুসলিম পুরুষের লক্ষ্য হওয়া উচিত স্ত্রীকে নিজের অধীনস্থ কর্মচারী মনে না করে, বরং জীবনসঙ্গী হিসেবে মর্যাদা দেওয়া।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

﴿ وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ ﴾

“আর তোমরা তাদের সঙ্গে সদাচরণের ভিত্তিতে জীবনযাপন করো।” — (সূরা আন-নিসা, ৪:১৯)

এই ‘মা‘রূফ’ বা উত্তম আচরণের মধ্যে সুন্দর কথা, সহনশীলতা, ক্ষমাশীলতা, সম্মান, সহযোগিতা ও ভালোবাসা— সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত।

▪️ ভালোবাসা দিলে নারী কেন নিজেকে উজাড় করে দেয়?

নারীর স্বভাবেই রয়েছে ভালোবাসার প্রতিদান ভালোবাসা দিয়ে দেওয়া। যখন সে অনুভব করে যে তাকে সম্মান করা হচ্ছে, তার অনুভূতির মূল্য দেওয়া হচ্ছে এবং সে নিরাপদ— তখন সে তার পরিবার, স্বামী ও সন্তানদের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত হয়ে যায়।

এই কারণেই দাম্পত্য জীবনে জোর-জবরদস্তি, রাগ বা কর্তৃত্বের চেয়ে ভালোবাসা, কোমলতা ও আন্তরিকতা অনেক বেশি কার্যকর। হৃদয় জয় করে যে কাজ পাওয়া যায়, কঠোরতা দিয়ে তা কখনো পাওয়া যায় না।

--- আরবি থেকে অনূদিত

🍂💦🍂💦🍂💦🍂💦🍂💦🍂💦🍂

18/06/2026

আমাকে একজন জিজ্ঞেস করেছিলো, আপনি কি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন?

আমি বললাম, "পড়ি, কখনো ৩ ওয়াক্ত, কখনো ৪ ওয়াক্ত, কখনো ৫ ওয়াক্ত "।

উনি আমাকে বললেন, " আপনি যখন নামাজ পড়বেন, তো আপনি আসরের সালাত আদায় করলে আল্লাহর কাছে তখন দোয়া করুন, যেন মাগরিবের নামাজ মিস না হয়ে যায়। এরপর মাগরিবের নামাজ পড়ে দোয়া করুন, আল্লাহ আমার যেন এশার নামাজ বাদ না যায়। এশার নামাজ পড়ে দোয়া করুন, আল্লাহ আমার যেন ফজর মিস না হয়।

এভাবে প্রত্যেক নামজের পর পরবর্তী ওয়াক্তের নামাজের জন্য দোয়া করুন। এই কাজটা ৪০ দিন অনবরত করুন। একটু কষ্ট হলেও চেষ্টা করুন।
এরপর আপনি যতটুকু পারেন, সালাত আদায় কইরেন।

"তো আমি তাই করলাম, ৪০ দিন টানা নামাজ পড়লাম। সেই সময় থেকেই আলহামদুলিল্লাহ নামাজটা বাদ দেওয়া হয়না।"

—[ ড. জাকির নায়েক ]

একবার চেষ্টা করে দেখুন, ৪০ দিন টানা সালাত আদায় করে, দেখবেন মায়ায় পড়ে যাবেন। এরপর এক ওয়াক্ত সালাত আদায় না করলে মনে হবে কিছু একটা বাদ যাচ্ছে।

— [ সংগৃহীত ]

17/06/2026

ফেনীতে নামাজ চলাকালীন মসজিদের সামনে ঢোল বাজনা কেয়ামতের আলামত।

16/06/2026

কিছু অপদার্থ আছে এটাও শিখে নাই কোথায় কিভাবে কথা বলতে হয়....

16/06/2026

তারা আমাকে চোখ বেঁধে বেডরুমে নিয়ে গেল। সব কাপড় খুলতে আদেশ দিল।

পুরোপুরি নগ্ন করে তল্লাশি করল আমাকে। বলল–সোজা হয়ে দাঁড়া, ১৪ বার উঠবস কর। তারপর পেছনে ঘুর। ঘুরে ১৪ বার উঠবস কর।

আমি উঠবস করছিলাম আর জিজ্ঞেস করছিলাম এর কি আদৌ কোনো দরকার ছিল? তারা বলল–অবশ্যই দরকার আছে। চুপ থাক। যা বলছি সেটা কর।

পেছন থেকে ৪-৫ জন মেল সোলজার হো হো করে হাসছিল।

তারপর আমি বললাম–ওকে, ঠিক আছে। আমার কাপড়গুলো ফিরিয়ে দাও। তারা স্লো মোশনে একটা একটা করে কাপড় ফেরত দিল।

তারপর একটা মেল সোলজার আমার চোখের বাঁধন খুলে দিল। দিয়ে বলল–তোর ফোন ওপেন কর। এখনো তো মরিস নাই।

আমি তার মুখে থুতু দিলাম। সাথে থাকা ফিমেল সোলজার আমার উপর হামলে পড়ল। ক্রমাগত আমার মুখে ঘুষি মারতে লাগল।

এরপর তারা বেরিয়ে গেল।

কিছুক্ষণ পর আবার এল! একজন একজন করে। এসে আমার চারপাশ ঘিরে বসল। আমার শরীর হাতড়াতে লাগল। বলল–উই আর গোইং টু রে*ই*প ইউ!

একজন আমার আবায়া টান দিয়ে ছিড়ে ফেলল। আমার গায়ে হাত দিল! আরেকজন টান দিয়ে ভেতরে নামাজের কাপড়টাও ছিড়ে ফেলল।

তারপর শুরু হল চারদিক থেকে আক্রমণ! কেউ উপর থেকে হাত দিচ্ছে তো কেউ নিচ থেকে। কেউ সামনে থেকে, কেউ পেছন থেকে। শরীরের কোনো জায়গাই বাদ ছিল না।

আমি যতটা সম্ভব শরীর গুটিয়ে রাখছিলাম। তাদেরকে যতটা দূরে রাখা যায়, সেই চেষ্টা করছিলাম।

তারপর তারা চলে গেল। আর আসেনি।

আল জাযিরার প্রকাশিত বডিজ অব এভিডেন্স ডকুমেন্টারি থেকে এক ফিলিস্তিনি তরুণীর সাক্ষাৎকার।

জাতিসংঘ, হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন্স, লইয়ার, ইজরাইলি হুইসেল ব্লোয়ার, সবার বক্তব্য থেকে একটা প্যাটার্নই উঠে এসেছে–ইজরাইল অত্যন্ত সিস্টেম্যাটিক্যালি শিশু, যুবক, বৃদ্ধ, নারী, পুরুষ সবার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নকে অস্ত্র হিসেবে ইউজ করে।

— [ সূত্রঃ আল জাযিরা ]

16/06/2026

"কুরআনে কেন বারবার বলা হয় নারীদের দুঃখিত হওয়া উচিত না?"

কেন আল্লাহ তা'য়ালা বারবার বলেন:
"দুঃখ করো না", "ভয় পেয়ো না"?

এই আয়াতগুলো ভালো করে পড়ো। কারণ এগুলো শুধু আয়াত না এগুলো যেন শব্দে মোড়ানো একেকটা সান্ত্বনার আলিঙ্গন।

মহান আল্লাহ তা'য়ালার বলেন:
"যাতে তার চোখ শীতল হয় এবং সে দুঃখ না করে।"
[সূরা আল-কাসাস, ২৮:১৩]

এবং সূরা আল-আহযাবে:
"যাতে তাদের চোখ প্রশান্ত হয় এবং তারা দুঃখ না করে।" [৩৩:৫১]

সূরা মারইয়ামে:
"তুমি দুঃখ করো না।" [১৯:২৪]

আবারও সূরা আল-কাসাসে:
"ভয় পেয়ো না এবং দুঃখ করো না।" [২৮:৭]

বারবার… একই বাক্য, একই সান্তনা!!!

কেন?

কারণ তোমার কষ্ট
তোমার রবের কাছে তুচ্ছ নয়।

একজন নারীর দুঃখ শুধু একটা অনুভূতি নয়,
এটা একটা ঝড় যা তার ভেতরটাকে নাড়িয়ে দেয়,
তার শরীরকে দুর্বল করে, ঘুম কেড়ে নেয়,
কখনও কখনও তার ভেতরের আলোটুকু নিভিয়ে দেয়।

আর আল্লাহ তা'য়ালা তা জানেন।
তাই তো কুরআনে তাঁর ভাষা এত কোমল!

তাই তো তিনি বলেন:
দুঃখ করো না।
ভয় পেয়ো না।
তোমার চোখ যেন শান্তি খুঁজে পায়।

কারণ তিনি জানেন:
একজন নারীর দুঃখ শুধু চোখের পানিতে থেমে থাকে না,
এটা ছড়িয়ে পড়ে তার হৃদস্পন্দনে,
তার ভেতরের অনুভূতিতে,
তার শরীরের গভীরে,
তার হাসির আড়ালে।

আল্লাহ শুধু তার দেহকে নয়,
তার অনুভূতিকেও হেফাজত করেন,
তার মর্যাদা, তার শান্তিকেও।

তাই মা-বাবার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন:
"তাদেরকে 'উফ' পর্যন্ত বলো না।" [১৭:২৩]

কারণ শব্দও আঘাত করে। আর তার হৃদয় কোমল কিন্তু তার মর্যাদা অমূল্য। তাই, যদি তুমি একজন নারী হও আর তোমার বুকের ভেতর ঝড় বয়ে যায়, চোখে নীরব কান্না লুকিয়ে রাখো,

তাহলে জেনে রাখো
তোমার দুঃখ আল্লাহর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
তোমার প্রতিটি অশ্রু তিনি দেখেন।
তোমার প্রতিটি কষ্ট তার কাছে লিপিবদ্ধ।
আর তোমার সুস্থতাও ইতিমধ্যেই তাঁর কাছে নির্ধারিত।

তাইতো প্রতিবারই তিনি তোমাকে মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য বলেন: তুমি একা নও। দুঃখ করো না।

আল্লাহ তা'য়ালা যেন প্রতিটি ভাঙা হৃদয়কে আরোগ্য দান করেন। বিশেষ করে সেই হৃদয়গুলোকে, যেগুলো নীরবে ভেঙে যায়। (আমিন)

মনে রাখবে, তোমার গল্প এখানেই শেষ নয়, এটা এখনও লেখা হচ্ছে, আর সেই কলম এমন একজনের হাতে যিনি সবচেয়ে দয়ালু (عطوف), যিনি আর-রহ'মানির রহিম (الرحمن الرحيم), যিনি আহ'কামিল হাকিম (أهكاميل حكيم)।

নিঃশব্দে কষ্ট পাওয়া প্রতিটি নারীর জন্য আল্লাহ এক মুহূর্তও ভুলে যাননি।

যে নারী নীরবে কাঁদে,
হাসির আড়ালে ভেঙে পড়ে,
অদৃশ্য কষ্ট বয়ে বেড়ায়
আল্লাহ তাকে দেখেন।

তোমার প্রতিটি অশ্রু,
যা তুমি ভেবেছিলে কেউ জানে না
কখনোই হারিয়ে যায়নি।

ইসলামে তোমার কষ্ট দেখা হয়,
তোমার ধৈর্যকে মূল্য দেওয়া হয়,
আর তোমার হৃদয়কে ঘিরে রাখে এমন এক দয়া
যা তোমার কল্পনার চেয়েও গভীর।

আর হ্যাঁ, অবশ্যই—
"আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত কোমল।" [৪২:১৯]

— [ সংগৃহীত ]

13/06/2026

"আল্লাহ যখন মুসা (আঃ)-কে সাগরে লাঠি দিয়ে আঘাত করতে বললেন, তখন ওই লাঠিতে কোনো জাদুকরী ক্ষমতা ছিল না; ক্ষমতা ছিল আল্লাহর আদেশে। এর শিক্ষা হলো—আপনার সামর্থ্য যতই কম হোক, আপনি আপনার সর্বোচ্চ চেষ্টাটুকু করুন, বাকি পথ আল্লাহ নিজে তৈরি করে দেবেন।"

© নোমান আলী খান

Want your school to be the top-listed School/college in Ajman Industrial 2?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Telephone

Address


Ajman Industrial 2