15/06/2026
অর্থনীতি এবং ব্যবসার অন্ধকার জগতে একটি অত্যন্ত নির্মম এবং শীতল প্রবাদ আছে, যদি কোনো পণ্যের জন্য আপনাকে কোনো মূল্য পরিশোধ করতে না হয়, তবে বুঝে নেবেন সেখানে আপনি কোনো গ্রাহক নন, বরং আপনি নিজেই হলেন সেই পণ্য।
হ্যাঁ, আপনি আক্ষরিক অর্থেই ঠিক শুনেছেন।
আপনি কোনো স্বাধীন ব্যবহারকারী বা সম্মানিত গ্রাহক নন, আপনি হলেন আধুনিক সভ্যতার সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে ভয়ংকর ডিজিটাল নিলাম হাটে বিক্রি হওয়ার জন্য তৈরি করা একটি অত্যন্ত দামি এবং লাভজনক পণ্য। আপনার প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি স্ক্রল, প্রতিটি লাইক এবং প্রতিটি ব্যক্তিগত অনুভূতি আজ পর্দার আড়ালে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারে বিক্রি হচ্ছে।
একবার খুব গভীর এবং যৌক্তিকভাবে চিন্তা করে দেখুন।
মার্ক জাকারবার্গের মতো বিলিয়নিয়াররা কেন হাজার হাজার প্রকৌশলী নিয়োগ দিয়ে, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সার্ভারগুলো চালু রেখে আপনাকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তাদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে দিচ্ছেন?
তারা কি কোনো বিশাল দাতব্য সংস্থা খুলে বসেছেন, যাদের একমাত্র উদ্দেশ্য মানুষের সাথে মানুষের যোগাযোগ স্থাপন করা? মোটেও না।
আপনি যখন সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখ কচলাতে কচলাতে প্রথমবার ফেসবুকের নিউজফিডে স্ক্রল করেন, তখন আপনি আসলে নিজের অজান্তেই আপনার মনের সবচেয়ে গোপন দরজাগুলো তাদের সামনে খুলে দেন। আপনি কোন পোস্টে কতক্ষণ তাকিয়ে থাকলেন, কোন রাজনৈতিক নেতার কথায় লাইক দিলেন, রাতে মন খারাপ করে কোন দুঃখের গানটি শুনলেন, কিংবা কবে আপনার সম্পর্কের স্ট্যাটাস পরিবর্তন করে সিঙ্গেল লিখলেন, এই সবকিছু অত্যন্ত নিখুঁতভাবে রেকর্ড করা হচ্ছে।
এরপর আপনার এই প্রতিটি ইমোশন, আপনার রাগ, আপনার হতাশা, আপনার ধর্মীয় বিশ্বাস এবং আপনার দুর্বলতাগুলোকে প্যাকেটজাত করে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে অচেনা সব ডেটা ব্রোকার এবং বহুজাতিক বিজ্ঞাপনদাতা কোম্পানিগুলোর কাছে।
তারা আপনার এই ডেটাগুলো কিনে নিয়ে তাদের অত্যন্ত উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স দিয়ে বিশ্লেষণ করে এবং ঠিক সেই মুহূর্তেই আপনার সামনে এমন সব বিজ্ঞাপন বা কনটেন্ট তুলে ধরে, যা আপনার অবচেতন মনকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।
আপনি ভাবছেন আপনি স্বাধীনভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বা নিজের পছন্দমতো কোনো কিছু কিনছেন, কিন্তু আসলে আপনার মস্তিষ্ককে আগে থেকেই হ্যাক করে একটি নির্দিষ্ট দিকে চালিত করা হচ্ছে।
আপনি একটি জলজ্যান্ত, স্বাধীন মানুষ থেকে পরিণত হয়েছেন শুধুমাত্র কিছু ডেটা পয়েন্ট এবং অ্যালগরিদমের কাঁচামালে। আপনার ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত এখন ওই সিলিকন ভ্যালির কর্পোরেট দানবদের সার্ভারে জমা থাকা একেকটি ভার্চুয়াল কারেন্সি।
এই চরম ডিজিটাল দাসত্ব শুধু আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চুরির মাঝেই সীমাবদ্ধ নেই, এটি আপনার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ, আপনার সময় এবং আপনার মনন-কে এমনভাবে শুষে নিচ্ছে, যা যেকোনো ভয়ংকর রাসায়নিক মাদকের চেয়েও হাজার গুণ বেশি ধ্বংসাত্মক।
বিজ্ঞানীরা আজ গভীর আতঙ্কের সাথে লক্ষ্য করছেন যে, সোশ্যাল মিডিয়া কোনো সাধারণ যোগাযোগের মাধ্যম বা বিনোদনের জায়গা নয়, এটি মানব ইতিহাসের সবচেয়ে নিখুঁতভাবে ডিজাইন করা একটি মরণফাঁদ। পরিসংখ্যান বলছে, একজন সাধারণ মানুষ বছরে গড়ে প্রায় সাড়ে ছত্রিশ দিন শুধু ফেসবুকের নিউজফিড স্ক্রল করেই কাটিয়ে দেয়।
জীবনের এই বিশাল এবং অমূল্য সময়টি আপনি কোথায় হারাচ্ছেন, আপনার আয়ু থেকে এই সাড়ে ছত্রিশটি দিন কীভাবে হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে, তা কি একবারও অন্ধকারে একা বসে ভেবে দেখেছেন?
যখন আপনি স্ক্রল করেন, তখন আপনার মস্তিষ্কে ডোপামিন নামক এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থের নিঃসরণ ঘটে, যা ঠিক কোকেইন বা হেরোইনের মতো ভয়ংকর মাদকের মতোই কাজ করে।
আপনি একটি পোস্ট দেখার পর অবচেতনভাবেই আরও একটি পোস্ট দেখার জন্য স্ক্রল করেন, তারপর আরও একটি এবং আরও একটি। এই অন্তহীন লুপ বা চক্র থেকে আপনার আর কোনোদিন বের হওয়া হয় না।
আপনি হয়তো আপনার পরিবারের সাথে ডাইনিং টেবিলে বসে আছেন, কিন্তু আপনার মন পড়ে আছে হাজার মাইল দূরের কোনো অচেনা মানুষের জীবনযাপনের মিথ্যে ঝলকানির দিকে।
এই সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের চারপাশের জ্যান্ত মানুষগুলোকে একেকটি অনুভূতিহীন, মৃতপ্রায় রোবটে পরিণত করেছে, যাদের জন্ম দিয়েছে এক ভয়ংকর জম্বি প্রজন্ম বা জম্বি জেনারেশনের।
এই প্রজন্মের মানুষেরা সত্যিকারের হাসতে ভুলে গেছে, এরা কাঁদতে ভুলে গেছে, এদের চোখের সামনে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এরা সাহায্যের জন্য এগিয়ে যাওয়ার বদলে পকেট থেকে ফোন বের করে ভিডিও করা শুরু করে। এরা শুধু জানে কীভাবে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে বোকার মতো আঙুল ঘষতে হয় এবং ভার্চুয়াল হাততালির জন্য নিজেদের আত্মাকে প্রতিনিয়ত ছোট করতে হয়।
আর এই জম্বি প্রজন্মের সবচেয়ে ভয়ংকর, নির্মম এবং মর্মান্তিক অধ্যায়টির নাম হলো টিকটক বা শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্মগুলো।
জার্মানির হ্যামেলিন শহরের সেই বিখ্যাত রূপকথার বাঁশিওয়ালার গল্পটি কি আপনার মনে আছে? সেই বাঁশিওয়ালা যেমন তার জাদুকরী বাঁশির সুরে শহরের সমস্ত শিশুদের সম্মোহিত করে এক অজানা অন্ধকারের দিকে নিয়ে গিয়েছিল, ঠিক তেমনি এই টিকটক হলো একবিংশ শতাব্দীর সেই ডিজিটাল বাঁশিওয়ালা।
এই প্ল্যাটফর্মগুলো পনেরো সেকেন্ডের সস্তা বিনোদন এবং মিথ্যে জনপ্রিয়তার এমন এক ভয়ংকর মোহ তৈরি করেছে, যা আমাদের তরুণ প্রজন্মকে আক্ষরিক অর্থেই মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এই কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও ভাইরাল করার নেশায়, মাত্র কয়েকটা লাইক বা ভিউ বাড়ানোর অন্ধ এবং পৈশাচিক লোভে প্রতিদিন অসংখ্য তরুণ-তরুণী নিজেদের জীবনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলো নিচ্ছে।
আমরা প্রতিদিন খবরের কাগজে পড়ছি, কেউ টিকটক ভিডিও বানাতে গিয়ে চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে ছিটকে পড়ে মারা যাচ্ছে, কেউ বহুতল ভবনের ছাদ থেকে পা পিছলে নিচে পড়ে নিজের জীবন শেষ করে দিচ্ছে, আবার কেউবা ব্ল্যাকআউট চ্যালেঞ্জ-এর মতো ভয়ংকর সব মরণখেলায় মেতে উঠে নিজের শ্বাসরোধ করে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারাচ্ছে।
এই মৃত্যুগুলো কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়। এগুলো হলো সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদমের হাতে হওয়া একেকটি নিখুঁত এবং সুপরিকল্পিত খুন। এই প্ল্যাটফর্মগুলো আমাদের সন্তানদের মস্তিষ্কের ভেতরে এই ভয়ংকর চিন্তাটি অত্যন্ত সুকৌশলে ঢুকিয়ে দিয়েছে যে, যদি তোমার ভিডিওতে লাখ লাখ ভিউ না থাকে, যদি তুমি ক্যামেরার সামনে অদ্ভুত কোনো অঙ্গভঙ্গি করে মানুষকে আনন্দ দিতে না পারো, তবে এই পৃথিবীতে তোমার বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই। মানুষের জীবনের মূল্যের চেয়ে এখন একটি ভিডিওর রিচ বা এঙ্গেজমেন্ট অনেক বেশি দামি হয়ে গেছে।
আমরা একটি অত্যন্ত অদ্ভুত এবং দমবন্ধ করা বিভ্রমের ভেতর বসবাস করছি। আমরা ভাবি সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের পুরো বিশ্বকে একটি গ্লোবাল ভিলেজে পরিণত করেছে, আমাদের একে অপরের খুব কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। আপনার ফেসবুক প্রোফাইলে হয়তো পাঁচ হাজার বন্ধু আছে, ইনস্টাগ্রামে হয়তো হাজার হাজার ফলোয়ার আছে। কিন্তু যেদিন গভীর রাতে আপনার বুকের ভেতর এক অজানা কষ্ট দলা পাকিয়ে উঠবে, যেদিন আপনি এক চরম ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতায় ভুগবেন, সেদিন কি ওই পাঁচ হাজার মানুষের মধ্যে একজনও আপনার পাশে এসে বসবে? আপনার চোখের জল মুছে দেবে? না।
এই ডিজিটাল দুনিয়া আমাদের হাজার হাজার মিথ্যে বন্ধু দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু দিনশেষে আমাদের চরম একাকিত্বের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
আমরা এমন এক সমাজে বাস করছি যেখানে সবাই সবার নিখুঁত জীবনের মিথ্যে ছবি পোস্ট করতে ব্যস্ত। আমরা অন্যের সাজানো জীবন দেখে নিজেদের জীবন নিয়ে হতাশায় ভুগি, অকারণে হীনমন্যতায় ভুগি।
আমাদের মনে হতে থাকে, পৃথিবীর সবাই বোধহয় খুব সুখে আছে, খুব আনন্দে আছে, শুধু আমিই বোধহয় চরম ব্যর্থ। এই মিথ্যে তুলনা, এই কৃত্রিম সামাজিক চাপ মানুষকে ধীরে ধীরে চরম অবসাদের দিকে নিয়ে যায় এবং অনেক ক্ষেত্রেই আত্মহত্যার মতো ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে। আপনি যে যন্ত্রটিকে বিনোদনের খোরাক ভাবছেন, সেটি আসলে আপনার মানসিক শান্তিকে তিল তিল করে ধ্বংস করার এক অদৃশ্য অস্ত্র।
সবচেয়ে গা-হিম করা এবং আতঙ্কের বিষয় হলো, যারা এই ডিজিটাল মরণফাঁদগুলো তৈরি করেছে, সেই সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি সম্রাটরা নিজেরা খুব ভালোভাবে জানে যে তারা পৃথিবীর বুকে কী ভয়ংকর এক ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের দানব ছেড়ে দিয়েছে।
আপনি একটু গভীরভাবে খোঁজ নিলে অবাক হয়ে দেখবেন, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর বড় বড় কর্মকর্তা বা স্বয়ং এর প্রতিষ্ঠাতারা তাদের নিজেদের সন্তানদের এই অ্যাপগুলো ব্যবহার করতে দেন না। তারা তাদের সন্তানদের স্মার্টফোন থেকে দূরে রেখে বইয়ের জগতে বা প্রকৃতির মাঝে বড় করেন, কারণ তারা জানেন এই স্ক্রিনের নীল আলোর পেছনে কতটা ভয়ংকর বিষ লুকিয়ে আছে।
অথচ সেই একই বিষ তারা অত্যন্ত সুন্দর মোড়কে সাজিয়ে আপনার এবং আমার সন্তানের হাতে তুলে দিচ্ছে প্রতিদিন। তারা আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য ধ্বংস করে, আমাদের পারিবারিক সম্পর্কগুলো ছিন্ন করে এবং আমাদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়ে নিজেদের ব্যাংক ব্যালেন্স বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারে পূর্ণ করছে।
আমরা বোকার মতো তাদের তৈরি করা এই গ্ল্যাডিয়েটর রিংয়ে একে অপরের সাথে তর্ক করছি, কে কাকে ট্রোল করবে বা কার পোস্টে কত বেশি লাইক পড়বে তা নিয়ে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে মেতে উঠেছি। আর গ্যালারিতে বসে থাকা ওই কর্পোরেট গডফাদাররা আমাদের বোকামি দেখে হাসছে এবং আমাদের প্রতিটি রক্তবিন্দুকে, আমাদের প্রতিটি আবেগকে ডলারে রূপান্তর করছে।
একবার শান্ত মাথায় এই মিথ্যে মায়াজাল থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করে দেখুন। আপনার পকেটে থাকা ওই ছোট, আয়তাকার যন্ত্রটি আসলে কোনো যোগাযোগের মাধ্যম নয় এটি হলো আপনার আত্মাকে বন্দি করে রাখার জন্য তৈরি করা এক অত্যাধুনিক ডিজিটাল কারাগার। আপনি যতক্ষণ এই জালের ভেতরে থাকবেন, আপনি কখনোই আপনার নিজের জীবনের আসল অর্থ খুঁজে পাবেন না।
এই চরম সত্যটিকে আপনি যতই অস্বীকার করার চেষ্টা করুন না কেন, দিনের শেষে যখন আপনার ঘরের বাতি নিভে যাবে এবং আপনি অন্ধকারে সম্পূর্ণ একা থাকবেন, তখন আপনার নিজের ভেতরের শূন্যতা ঠিকই আপনাকে প্রশ্ন করবে, তুমি আসলে কার জীবন বাঁচছ? তোমার এই অস্তিত্বের কি সত্যিই কোনো মূল্য আছে?
আগামীবার যখন আপনার হাত অবচেতনভাবেই ফেসবুক বা টিকটক অ্যাপটি খোলার জন্য এগিয়ে যাবে, তখন শুধু এক সেকেন্ডের জন্য থমকে দাঁড়াবেন। আপনার চারপাশের বাস্তব পৃথিবীটার দিকে একবার গভীরভাবে তাকাবেন। হয়তো তখন আপনি বুঝতে পারবেন, সত্যিকারের জীবন স্ক্রিনের ওই পিক্সেলগুলোর ভেতরে নয়, বরং ওই স্ক্রিনটা বন্ধ করার পর যে শান্ত এবং নিস্তব্ধ জগতটা শুরু হয়, ঠিক সেখানেই লুকিয়ে আছে।
আপনি কি প্রস্তুত এই ভয়ংকর ডিজিটাল দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে নিজের জীবনকে নিজের শর্তে আবার নতুন করে বাঁচার জন্য? নাকি ওই পনেরো সেকেন্ডের সস্তা বিনোদন আর মিথ্যে লাইকের লোভে নিজের আত্মাকে চিরতরে ওই অন্ধকার নিলাম হাটে বিক্রি করে দেওয়াকেই নিজের চরম নিয়তি হিসেবে মেনে নেবেন?
পছন্দ সম্পূর্ণ আপনার, কিন্তু মনে রাখবেন, আপনি একবার এই জম্বি ভাইরাসে আক্রান্ত হলে, এখান থেকে সুস্থ হয়ে ফিরে আসার আর কোনো রাস্তা অবশিষ্ট থাকবে না। মহাবিশ্বের এই অত্যন্ত নিখুঁত এবং নির্মম খেলায় আপনার নিজের মস্তিষ্কই এখন আপনার সবচেয়ে বড় শত্রু।