24/07/2023
টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও বুটেক্সের এডমিশন টেস্ট রেজাল্ট ইতোমধ্যে পাবলিশ হয়ে গেছে।
এই লেখাটা একটু কম্পলিকেটেড হবে আমি এই লেখাটা লিখবো বেসিক্যালি যারা ২য় ও ৩য় বর্ষে পড়ে তাদের জন্য। তারা এই লেখাটা ক্যান্ডিডেটদের সাথে শেয়ার করবে। এর কারন হলো আমার পেজে ভর্তিচ্ছু ক্যান্ডিডেট নাই বললেই চলে।
যারা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভর্তি হবে তাদের এই সেক্টর সম্পর্কে সাম্যক জ্ঞান নিয়ে সবার সাথে আলোচনা করে ভর্তি হওয়া ভালো।
দেশের টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি একটু ডাউন যাচ্ছে। ব্র্যান্ডগুলোর সেল ড্রপ করেছে। বৈশ্বিক অর্থনীতির মন্দা ও রাজনৈতিক প্রভাবে। এর ভালো প্রভাব দেশের পোশাক শিল্পে পড়েছে। তবে যেহেতু এটা একটা গ্লোবাল বিজনেজ ওরিয়েন্টেড সেক্টর আপ এন্ড ডাউন থাকবেন। তবে এই মন্দা অবস্থা ও করোনা পরবর্তী সময়েও যে দেশের পোশাক খাত এবারও ৮০+ রপ্তানী আয় অর্জন করেছে এটা নিতান্ত পজিটিভ। যারা ব্র্যান্ডগুলোতে চাকরী করেন তারা এই ব্যাপারগুলো বুঝবেন।
এবার আসি আসল কথায়। কেনো আপনার টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া উচিত :
১. জব। দেশের পোশাক শিল্পে এখন পর্যন্ত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য চাকরীর ভালো একটা হাব।
২. চাকরী পাওয়ার দিক থেকে দেশের অন্যান্য সাবজেক্টের তুলনায় টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংকে এগিয়ে রাখবো আমি। এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত।
৩. পাশাপাশি হায়ার স্টাডির করার ইচ্ছা থাকলে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং একবারে খারাপ চয়েজ হবে না।
৪. পাশাপাশি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, কলেজ, ইন্সটিটিউট, বিশ্ববিদ্যালয়, ভকেশনাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউট, গবেষনা কেন্দ্র, অধিদপ্তরে সরকারি চাকরীর ছোট পরিসরে হলেও সুযোগ আছে।
৫. পড়াশোনা একেবারে কম্পলিকেট না। মোটামুটি মনোযোগী হলে ভালো রেজাল্ট করা সহজ।
৬. পর্যাপ্ত স্কিল ও নেটওয়ার্কিং ভালো থাকলে চাকরী পাওয়ার কঠিন না।
৭. লেগে থাকলে ভালো করা সম্ভব ইনশাআল্লাহ।
এখন আসুন কেনো আপনার টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এ আসা উচিত না?
১. চাকরীর শুরুতে ৫০+ বেতনের আশা করলে।
২. চ্যালেন্জ না নেওয়ার ইচ্ছে থাকলে। এখানে প্রত্যেকটা দিন চ্যালেন্জের ও লার্ণিয়ের।
৩. ফ্রেসার হিসেবে চাকরীর সময়ের কোনো গ্যারান্টি নাই। এটা আগা গোড়া প্রডাকশন রিলেটেড সাবজেক্ট।
৪. একটু বেশি ক্রিয়েটিভ মানুষের জন্যও এই সেক্টর না।
৫. প্রচুর মানসিক প্রেসার নিতে হবে শুরুর দিকে। দায়িত্ব পালনে অনিহা থাকলে না আসাই ভালো।
৬. খুব আরামপ্রিয় মানুষ এই সেক্টরে না আসা ভালো। যারা কষ্ট করে উপরে উঠতে চায় এটা তাদের জন্যই।
এখন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে যারা ভর্তি হবে তাদের জন্য কিছু কথা :
১. টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সৌন্দর্য দেখে কলেজ সিলেক্ট না করা। কলেজ সিলেক্ট করবেন যে কলেজে বেশি ব্যাচ বাহির হয়েছে তাদের দেখে।
২. পদার্থ রসায়ন এ পড়বো না টেক্সটাইলে পড়বো এমন প্রশ্ন কেউ করলে তাদেরকে বলবেন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এ যেনো ভর্তি না হয়।
৩. টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হওয়ার পর। নিজের ক্যাম্পাসের নামে পরিচয় দিবেন সবসময়। বুটেক্স বলবেন না এটা পুরোপুরি অপরিপক্কতা হিসেবে গণ্য হয়। বুটেক্স ও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ আলাদা।
৪. বাড়ির আসে পাশে পড়ার ইচ্ছে যদি থাকে। তাহলে যে কলেজটা বাড়ির পাশে ওটাতে ভর্তি হবে। তবে যে কলেজের এলামনাই বেশি ওটাতে ভর্তি হওয়া ভালো।
টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে আপনি কি করবেন কোথায় চাকরী করবেন এটা ভালোভাবে জেনে শুনে স্টাডি করে ভর্তি হবেন। ভর্তি হওয়ার পর হায় হুতাশ করলে ব্যর্থ মন মানসিকতার প্রভাব আপনার ক্যারিয়ারে পড়তে পারে৷ মানসিকভাবে শক্ত হয়ে জেনে ভর্তি হবার ডিসিশন নেওয়া ভালো। যে মানুষগুলো চ্যালেন্জ নিতে ভালোবাসে এই সেক্টরটাই তাদের জন্য।
সব জেনে বুঝে ভর্তি হবেন কি হবেন না এটা নিতান্ত আপনার সাইকোলজির উপর।
এই লেখার মেসেজগুলো ইমিডিয়েট সিনিয়ররা তাদের জুনিয়র ভর্তিচ্ছুদের শেয়ার করতে পারো। তাদের ডিসিশন নিতে সুবিধা হবে।
.