হযরত উমর ফারুক (রা.)-এর আমলে এক পরহেজগার যুবক ছিলেন। তিনি নিয়মিত মসজিদে ইবাদত করতেন এবং নামাজ শেষে বাড়িতে গিয়ে তার বৃদ্ধ বাবার সেবা করতেন। উমর (রা.) তাকে খুব পছন্দ করতেন।
যুবকটি যখন প্রতিদিন বাবার কাছে যেতেন, পথের ধারে এক নারী তাকে গুনাহের পথে ডাকত। একদিন শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে যুবকটি সেই নারীর ঘরের দরজায় গিয়ে দাঁড়ালেন। ঠিক যখন তিনি ভেতরে ঢুকতে যাবেন, হঠাৎ তার মনে আল্লাহর ভয় জেগে উঠল। তার মুখে পবিত্র কুরআনের এই আয়াতটি চলে এল,
"যারা আল্লাহকে ভয় করে, শয়তান যখনই তাদের কু-মন্ত্রণা দেয়, তখনই তারা আল্লাহকে স্মরণ করে এবং সাথে সাথেই তাদের চোখ খুলে যায়।" (সূরা আরাফ: ২০১)
আয়াতটি পড়ামাত্রই আল্লাহর ভয়ে যুবকটি জ্ঞান হারিয়ে দরজায় পড়ে গেলেন। পরে তাকে তার বাবার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। রাতে জ্ঞান ফেরার পর বাবা যখন জানতে চাইলেন কী হয়েছিল, যুবকটি পুরো ঘটনা খুলে বললেন।
বাবা যখন জিজ্ঞেস করলেন, "কোন আয়াতটি পড়ে তুমি বেহুঁশ হয়েছিলে?" যুবকটি আবারও সেই আয়াতটি পাঠ করলেন। আয়াতটি শেষ হওয়ার আগেই আল্লাহর ভয়ে যুবকটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। রাতেই তাকে দাফন করা হলো।
পরদিন সকালে হযরত উমর (রা.) খবর পেয়ে সেই যুবকের কবরের পাশে গেলেন। তিনি কবরের দিকে তাকিয়ে বললেন, "হে যুবক! আল্লাহ তো কোরআনে বলেছেন— 'যে ব্যক্তি তার রবের সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করে, তার জন্য রয়েছে দুটি জান্নাত।' (সূরা আর-রাহমান: ৪৬)"
সাথে সাথে কবর থেকে একটি আওয়াজ ভেসে এল, "আমার দয়াময় রব আমাকে সেই দুটি জান্নাতই দান করেছেন!"
গুনাহ করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর কথা মনে করে নিজেকে থামিয়ে দেওয়া হলো সবচেয়ে বড় বীরত্ব। যারা আল্লাহকে ভয় পায়, আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জগতেই তাদের সম্মানিত করেন।
সূত্র: তারিখে দিমাশক -- ইবনে আসাকির রহ.
Nobi Rasuler Bani - নবী,রাসূলের বাণী
আসুন আমরা আল্লাহ তায়ালার তার নবী ও রাসূলদের অনুসরনে চলি....সৎপথে জীবন গড়ি
চোখের পাপ (হারাম দৃষ্টি) মনের মধ্যে এমনভাবে গেঁথে যায় যে, নামাজের সিজদায়ও (যেখানে মানুষ সবচেয়ে বিনয়ী অবস্থায় থাকে) সেই ছবি ভেসে ওঠে এবং খুশু-খুজু নষ্ট হয়। ফলে নামাজ পূর্ণ প্রশান্তি দেয় না।
চোখের গুনাহ কী?
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: চোখের যিনা হলো দৃষ্টি (হারামের দিকে তাকানো)। (সহীহ মুসলিম ও অন্যান্য সূত্রে বর্ণিত, সহীহ)
আর কুরআন মজীদে স্পষ্ট নির্দেশ:
“মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।” (সূরা নূর: ৩০)
একইভাবে মহিলাদের জন্যও (সূরা নূর: ৩১)। হারাম দৃষ্টি (নন-মাহরামের সৌন্দর্য দেখা, অশ্লীল ছবি/ভিডিও) চোখের যিনা, যা হৃদয়কে কলুষিত করে এবং বড় গুনাহের দিকে নিয়ে যায়।
✅ এ থেকে বাঁচার বিস্তারিত আমল
এ গুনাহ থেকে বাঁচতে শুধু দোয়া নয়, প্র্যাকটিক্যাল + আধ্যাত্মিক আমল একসাথে করতে হবে। নিচে ধাপে ধাপে লিখছি:
১. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: দৃষ্টি নত রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা
➡️ হারাম কিছু চোখে পড়লে তৎক্ষণাৎ চোখ ফিরিয়ে নিন।
রাসূল ﷺ জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.)-কে বলেছেন:
“অনিচ্ছাকৃত দৃষ্টি পড়লে তা ফিরিয়ে নাও।” (সহীহ, আবু দাউদ ২১৪৮)
➡️ দ্বিতীয় দৃষ্টি দেওয়া একেবারে হারাম। আলী (রা.)-কে বলা হয়েছে: প্রথম দৃষ্টি তোমার জন্য, দ্বিতীয়টি নয়।” (আবু দাউদ, তিরমিযী—সহীহ)
➡️ বাস্তব পদক্ষেপ:
রাস্তায়/বাজারে চলার সময় মাটির দিকে বা সামনের দিকে তাকিয়ে চলুন। মোবাইল/কম্পিউটারে অ-শ্লী-ল কনটেন্টের ফিল্টার লাগান (যেমন: ওয়েবসাইট ব্লকার অ্যা-প)।
টিভি/ইউটিউব/সোশ্যাল মিডিয়ায় অপ্রয়োজনীয় স্ক্রলিং কমান। প্রয়োজন ছাড়া নন-মাহরামের সাথে মেলামেশা এড়ান।
২. নিয়মিত দোয়া পড়ুন (সবচেয়ে শক্তিশালী আমল)
রাসূল ﷺ শকল ইবনে হুমাইদ (রা.)-কে শিখিয়েছেন:
“আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন শাররি সাময়ী ওয়া মিন শাররি বাসারী ওয়া মিন শাররি লিসানী ওয়া মিন শাররি ক্বালবী ওয়া মিন শাররি মানিয়্যী।”
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই আমার কানের অনিষ্ট থেকে, চোখের অনিষ্ট থেকে, জিহ্বার অনিষ্ট থেকে, হৃদয়ের অনিষ্ট থেকে এবং আমার বীর্যের (যৌন কু-প্রবৃত্তির) অনিষ্ট থেকে।
(সুনান আবু দাউদ ১৫৫১—সহীহ, আলবানী)
সংক্ষিপ্ত সংস্করণ (যা অনেকে বলেন):
“আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন শাররি বাসারী।”
(হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আমার চোখের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।)
✅ কখন পড়বেন?
➡️ ফজর ও মাগরিবের পর।
➡️ ঘুমাতে যাওয়ার আগে।
➡️ বাইরে বের হওয়ার আগে।
➡️ হারাম দৃষ্টি পড়ার সাথে সাথে “আস্তাগফিরুল্লাহ” + এই দোয়া। ৩. তওবা করুন (প্রতিদিন)
➡️ যদি গুনাহ হয়ে যায়, তৎক্ষণাৎ তওবা করুন।
“আস্তাগফিরুল্লাহ ওয়া আতূবু ইলাইহি” বলুন + আল্লাহর কাছে কাঁদুন। রাসূল ﷺ বলেছেন: যে তওবা করে, সে যেন কখনো গুনাহ করেনি। (ইবনে মাজাহ—সহীহ)
প্রতি জুমার দিন বা রাতে বিশেষ তওবা করুন।
৪. অন্যান্য শক্তিশালী আমল
➡️ নিয়মিত নামাজ + খুশু: সিজদায় দোয়া বেশি পড়ুন। চোখের গুনাহ কমলে সিজদায় শান্তি আসবে। রোজা রাখুন: রাসূল ﷺ বলেছেন, রোজা যৌন কু-প্রবৃত্তি দমন করে। কুরআন তিলাওয়াত: প্রতিদিন অন্তত ১ পারা। চোখের গুনাহ কমায়। যিকির: “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বেশি পড়ুন। হৃদয় আল্লাহমুখী হলে চোখ স্বয়ংক্রিয় নত হয়।
মৃত্যু স্মরণ: প্রতিদিন ৫ মিনিট চিন্তা করুন—এ চোখ কবরে কী জবাব দেবে?
➡️ পরিবেশ পরিবর্তন:
বন্ধুবান্ধব যাদের সাথে অ'শ্লীল আলোচনা হয়, তাদের এড়ান। ঘরে/মোবাইলে অ'শ্লীল কনটেন্ট রাখবেন না।
বিয়ে করতে পারলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব (হালাল পথ খুলে যায়)।
৫. বিশেষ টিপস (প্র্যাকটিক্যাল)
প্রথম ৪০ দিন কঠোরভাবে চোখ নত রাখার চ্যালেঞ্জ নিন। আল্লাহ সাহায্য করবেন। হা'রাম দেখলে সাথে সাথে “আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম” + দোয়া।
মহিলাদের জন্যও একই নিয়ম—পুরুষদের দিকে অপ্রয়োজনীয় দৃষ্টি এড়ান।
✅ শেষ কথা:
এ গুনাহ থেকে বাঁচলে আল্লাহ হৃদয়ে নূর দান করেন, চোখের মাধ্যমে জান্নাতের পথ সহজ হয়। রাসূল ﷺ বলেছেন, যে আল্লাহর জন্য কিছু ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তার জন্য তার চেয়ে উত্তম কিছু দেন।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে চোখের হেফাজত দান করুন। 🤲
20/03/2026
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته
عيد مبارك🌙
تقبل الله منا ومنكم ✨
"আল্লাহ তাআলা আমাদের ও আপনাদের (নেক আমল বা ভালো কাজগুলো) কবুল করুন"
✨ঈদ মোবারক
16/03/2026
12/03/2026
আজ রাতে যদি শবে কদর হয়, তার জন্য আপনি প্রস্তুত তো? কী কী আমল করতে চান সম্ভাব্য এই হাজার মাসের চেয়ে উত্তম রজনীতে?
রাসূল (সা) এর শেখানো সেই শ্রেষ্ঠ দুআটি আজ বারবার পড়ুন:
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
(হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাকারী, তুমি ক্ষমা করতেই ভালোবাসো। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও)
#রমজান
10/03/2026
🌟 রমাদানের শেষ দশদিনের জন্য এক চমৎকার আমলের ফর্মুলা
১। প্রতিদিন এক দিরহাম (এক টাকা) দান করুন, যদি দিনটি লাইলাতুল কদরের মাঝে পড়ে, তবে আপনি ৮৪ বছর (১০০০ মাস) পর্যন্ত প্রতিদিন এক টাকা দান করার সওয়াব পাবেন।
২। প্রতিদিন ২ রাক'আত নফল সালাত আদায় করুন, যদি দিনটি লাইলাতুল কদরের মাঝে পড়ে, তবে আপনি ৮৪ বছর (১০০০ মাস) পর্যন্ত প্রতিদিন ২ রাক'আত সালাত আদায়ের সওয়াব পাবেন।
৩। প্রতিদিন তিন বার সূরা ইখলাস পাঠ করুন, যদি দিনটি লাইলাতুল ক্বদরের মাঝে পড়ে, তবে আপনি ৮৪ বছর (১০০০ মাস) পর্যন্ত প্রতিদিন এক খতম কুরআন পাঠের সওয়াব পাবেন।
৪। প্রতিদিন কুরআন তিলাওয়াত করুন, যদি দিনটি লাইলাতুল ক্বদরের মাঝে পড়ে, তবে আপনি ৮৪ বছর (১০০০ মাস) পর্যন্ত প্রতিদিন কুরআন তিলাওয়াত এর সওয়াব পাবেন।
৫। প্রতিদিন রাতে প্রচুর যিকির করুন, যদি দিনটি লাইলাতুল ক্বদরের মাঝে পড়ে, তবে আপনি ৮৪ বছর (১০০০ মাস) পর্যন্ত প্রতিদিন যিকির করার সওয়াব পাবেন।
সুবহান'আল্লাহ
সুবহান'আল্লাহ
সুবহান'আল্লাহ
উপরের কথাগুলো মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিন, যারা আপনার কথা শুনে আমল করবে, আপনি ও তাদের আমলের সমান সওয়াব পাবেন ইন শা আল্লাহ।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,
ভালো কাজের পথ প্রদর্শনকারী আমলকারীর সমপরিমাণ সওয়াব পাবে কিন্তু আমলকারীর সওয়াবে কোন ঘাটতি হবে না। [মুসলিম ২৬৭৪]
#রমজান
রমাদানে যে ৭টি দোয়া আপনার জীবন বদলে দেবে | প্রতিটি মুহূর্তে বরকতের গোপন চাবি
আপনি কি জানেন, রমাদানের সবচেয়ে শক্তিশালী মুহূর্তগুলো আপনি হাতছাড়া করছেন?
গত রমাদানে ফারুক সাহেব ৩০টি রোজা রেখেছিলেন। কিন্তু তিনি বলেন, "মনে হয় যেন কিছুই হলো না। রোজা রাখলাম, কিন্তু জীবনে কোনো পরিবর্তন আসলো না।"
সমস্যাটা কোথায়?
সমস্যা হলো, আমরা রোজা রাখি, কিন্তু রোজার প্রতিটি মুহূর্তের দোয়াগুলো জানি না। আর দোয়া ছাড়া ইবাদত যেন শরীর ছাড়া আত্মা।
আজ আপনি জানবেন সেই ৭টি বিশেষ দোয়া, যেগুলো রমাদানের প্রতিটি মুহূর্তকে বরকতময় করে তুলবে।
১. সেহরির জাদুকরী দোয়া: যা বরকত এনে দেয় সারাদিনের জন্য
সমস্যা: আপনি সেহরি খাচ্ছেন তাড়াহুড়ো করে, ফজরের আগে শেষ করতে হবে বলে। কিন্তু খাবারে বরকত আসছে না, সারাদিন দুর্বল লাগছে।
সমাধান: সেহরিতে খাওয়ার আগে ২ মিনিট সময় নিন।
দোয়া:
বাংলা: হে আল্লাহ, এই খাবারে বরকত দিন। আমার রোজাকে কবুল করুন। আমার শরীরকে সারাদিন ইবাদতের শক্তি দিন।
আরবি:
اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيمَا رَزَقْتَنَا
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফিমা রাযাক্বতানা
প্রো টিপ: সেহরি খাওয়া সুন্নাত, কিন্তু বরকতের দোয়া না পড়লে খাবারে পূর্ণ বরকত আসে না। দেখবেন, এই দোয়া পড়ে সেহরি করলে সারাদিন শক্তি পাবেন।
২. রোজা শুরুর দোয়া: যে নিয়ত না করলে রোজাই হবে না
অনেকে ভাবেন: "নিয়ত তো মনে মনেই করা যায়।"
কিন্তু সত্য হলো: রাতেই পরিষ্কারভাবে নিয়ত করা উত্তম। সকালে তাড়াহুড়োতে ভুলে যেতে পারেন।
দোয়া:
আরবি:
نَوَيْتُ أَنْ أَصُومَ غَدًا مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ
উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন আসুমা গাদাম মিন শাহরি রমাদান
অর্থ: আমি আগামীকাল রমাদান মাসের রোজা রাখার নিয়ত করছি।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: রাতেই নিয়ত করে নিন—সকালে ব্যস্ততায় ভুলে যাবেন না।
৩. দুপুরে ক্লান্তি এলে: এই দোয়া নতুন শক্তি দেবে
সবচেয়ে কঠিন সময়: দুপুর ২টা থেকে ৪টা। রোদ তীব্র, পেট খালি, মাথা ঝিমঝিম করছে।
আপনি ভাবছেন, "আর পারছি না।"
এই মুহূর্তে করুন:
দোয়া:
আরবি:
حَسْبُنَا اللهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ
উচ্চারণ: হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি'মাল ওয়াকিল
অর্থ: আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
বাংলায় আরো বলুন: হে আল্লাহ, আমার শরীরকে শক্তি দিন। আমার মনকে ইবাদতে স্থির রাখুন। আমার ক্লান্তিকে সওয়াবে রূপান্তরিত করুন।
সিক্রেট ট্রিক: অযু করে ২ রাকাত নামাজ পড়ুন—দেখবেন শক্তি ফিরে আসবে। অযুর পানি শরীরকে সতেজ করে, নামাজ মনকে প্রশান্ত করে।
৪. রাগ কন্ট্রোল করার দোয়া: যখন মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে
বাস্তব পরিস্থিতি: রোজার মধ্যে কেউ আপনাকে বিরক্ত করলো। অফিসে বস চেঁচামেচি করছে। বাসায় বাচ্চারা উত্ত্যক্ত করছে।
আপনার রোজা নষ্ট হয়ে যাবে কি?
না! এই দোয়া পড়ুন:
দোয়া:
আরবি:
أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ
উচ্চারণ: আউজু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম
তারপর নিজেকে বলুন: "আমি রোজাদার, আমি রোজাদার।"
নবীজি (সা.) এর পরামর্শ:
দাঁড়িয়ে থাকলে বসে যান
বসে থাকলে শুয়ে যান
অযু করুন
কেন এটা কাজ করে? রাগ হলো শয়তানের অস্ত্র। আর রোজা হলো আল্লাহর ঢাল। দোয়া পড়ে শয়তানকে তাড়িয়ে দিন।
৫. ইফতারের ১ মিনিট আগে: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত
এই সময়টা মিস করবেন না!
রাসূল (সা.) বলেছেন: "রোজাদারের দোয়া ইফতারের সময় ফেরত যায় না।"
অর্থাৎ, সূর্যাস্তের ঠিক আগের এই মুহূর্তগুলো হলো গ্যারান্টিড দোয়া কবুলের সময়।
এই সময় কী চাইবেন?
বাংলায় দোয়া:
হে আল্লাহ, আমার রোজা কবুল করুন
আমার সমস্ত দোয়া কবুল করুন
আমার পরিবারকে হেফাজত করুন
আমার রিজিকে বরকত দিন
আমার সন্তানদের হেদায়েত দিন
আমার ঋণ পরিশোধ করে দিন
আমার অসুস্থ মাকে সুস্থ করে দিন
এই সময়টা হলো আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় সুযোগ। ১ মিনিটে যা চাইবেন, তা পেতে পারেন। কিন্তু আমরা কী করি? মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকি।
৬. ইফতারের সময়ের দোয়া: প্রথম লোকমা মুখে দেওয়ার আগে
ভুল: অনেকে আজানের সাথে সাথে গোগ্রাসে খাওয়া শুরু করেন। দোয়া পড়া হয় না।
সঠিক পদ্ধতি: প্রথমে দোয়া, তারপর খেজুর/পানি।
দোয়া:
আরবি:
اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা আফতারতু
অর্থ: হে আল্লাহ, আপনার জন্য রোজা রেখেছি, আপনার রিজিক দিয়ে ইফতার করছি।
বোনাস: ইফতারের সময় রোজাদারের দোয়া কবুল হয়—নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, পুরো উম্মাহর জন্য দোয়া করুন।
৭. তারাবির আগে: যে দোয়া খুশু এনে দেয়
সমস্যা: তারাবিতে দাঁড়িয়ে মন অন্যদিকে চলে যায়। ২০ রাকাত শেষ হলো, কিন্তু মনে হলো কিছুই হলো না।
সমাধান: মসজিদে যাওয়ার আগে এই দোয়া পড়ুন।
দোয়া:
বাংলায়: হে আল্লাহ, আমার তারাবিতে খুশু দিন। আমার প্রতিটি রাকাতে মনোযোগ দিন। আমার ক্লান্তিকে সওয়াবে পরিণত করুন।
তারাবিতে দাঁড়িয়ে পড়ুন:
رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي
উচ্চারণ: রব্বি ইশরাহলি সদরি
অর্থ: হে আল্লাহ, আমার বুক প্রশস্ত করে দিন।
আপনার রমাদান প্ল্যান: আজ থেকেই শুরু করুন
এই ৭টি দোয়া মুখস্থ করতে সময় লাগবে মাত্র ১ দিন মাত্র । কিন্তু এর বরকত পাবেন সারা জীবন।
করণীয়:
১. এই পোস্টটি সেভ করুন (পরে আবার পড়বেন)
২. প্রতিদিন ১টি করে দোয়া মুখস্থ করুন
৩. পরিবারকে শেখান (সন্তানদের শেখানো সদকায়ে জারিয়া)
৪. বন্ধুদের শেয়ার করুন (১ জন যদি উপকৃত হয়, আপনিও সওয়াব পাবেন)
এই রমাদানে আপনার লক্ষ্য কী?
কমেন্টে লিখুন: এই ৭টি দোয়ার মধ্যে কোনটি আপনি আজ থেকে শুরু করবেন?
আল্লাহ আমাদের সবাইকে রমাদানের পূর্ণ বরকত দান করুন। আমীন।
সাওয়াবের নিয়তে পৌঁছে দিন সবার কাছে
#রমজান
07/03/2026
শাইখ ইউনুস আল-শারবাজি رَحِمَهُ ٱللَّٰهُ যিনি সিরিয়ায় সুন্দর এক ইসলামি ঐতিহ্যকে আঁকড়ে রেখে ছিলেন। প্রতি জুম'আর দিনে তিনি পূর্ণ ইখলাসের (নিষ্ঠা) সহিত বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ৩১৩ জন মহান সাহাবি'র নাম স্মরণ করতেন। সুখ-দুঃখ এবং সমস্ত প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি এই আমল কখনো ত্যাগ করেননি। সাহাবা-ই-কিরামের প্রতি গভীর আনুগত্য ও শ্রদ্ধাই তাকে এই মহান সাধনায় অবিচল রাখে।
অতঃপর যখন তার ইন্তিকালের মূহুর্ত এলো, আল্লাহ ﷻ তাকে এক গভীর মর্যাদা দান করেন; ইন্তিকাল করলেন রমাদ্বানের ১৭ তারিখে; যে তারিখে ১৪০০ বছর আগে সংঘটিত হয়েছিল মহিমান্বিত বদরের যুদ্ধ। অনেকেই এটিকে কাকতালীয় ঘটনা না দেখে বরং এক ঐশ্বরিক সম্মান হিসেবে বিবেচনা করেন। তার জিন্দেগির এই আমল যেন বদরি সাহাবাদের সাথে চিরস্মৃতির বন্ধনে জুড়ে গেল। শাইখের অন্তিম সফর স্মরণে আল-ফাতিহা!
#বদর #রমাদ্বান #রমজান
আজ ১৭ই রমজান ঐতিহাসিক বদর দিবস এবং আম্মাজান উম্মুল মুমিনীন সায়্যিদাতুনা আ'য়িশা সিদ্দিক্বা رضي الله عنها'র ওফাত দিবস।
05/03/2026
জুম'আ মোবারক
04/03/2026
মক্কার হারামে কর্মরত একজন পাকিস্তানি পরিচ্ছন্নতা কর্মীর এক বিস্ময়কর ঘটনা। ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে তিনি অত্যন্ত বিনয় ও একাগ্রতার সাথে আল্লাহর কাছে দোয়া করছিলেন।
অভাব-অনটনে জর্জরিত এই ব্যক্তিটি নিজের ঋণ থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর দরবারে হাত তুলে কাঁদছিলেন।
ঠিক সেই মুহূর্তে হারামের লাইভ ক্যামেরাটি তাঁর ওপর ফোকাস করে। হারাম শরীফের চ্যানেল থেকে সেই দৃশ্যটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।
সৌদি আরবের একজন দানবীর ব্যক্তির চোখে ভিডিওটি পড়লে তিনি সেই কর্মীর সাথে যোগাযোগ করেন এবং তাঁর সমস্ত ঋণ পরিশোধ করার দায়িত্ব নেন।
পরবর্তীতে সেই কর্মীকে জিজ্ঞেস করা হলো, তিনি তখন কোন দোয়াটি পড়ছিলেন? তিনি জানালেন, তিনি অভাব মুক্তির সেই দোয়াটি পড়ছিলেন যা রাসূলুল্লাহ ﷺ এক মেহমানের আগমনের সময় পড়েছিলেন।
ঘটনাটি হলো, একবার নবীজী ﷺ-এর ঘরে একজন মেহমান এলেন। তিনি তাঁর স্ত্রীদের কাছে খাবারের খোঁজে লোক পাঠালেন, কিন্তু খবর এলো ঘরে কিছুই নেই। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ এই দোয়াটি পাঠ করলেন,
"اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ وَرَحْمَتِكَ، فَإِنَّهُ لَا يَمْلِكُهَا إِلَّا أَنْتَ"
(আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন ফাদলিকা ওয়া রাহমাতিকা, ফাইন্নাহু লা ইয়ামলিকুহা ইল্লা আন্তা)
অর্থ: "হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আপনার অনুগ্রহ ও রহমত প্রার্থনা করছি। কেননা, আপনি ছাড়া আর কেউ এর মালিক নয়।" (আবু দাউদ, সহীহ আল জামে, তাবারানী)
দোয়া করার কিছুক্ষণ পরই নবীজী ﷺ-এর কাছে উপহার হিসেবে একটি ভাজা বকরি এলো।
উলামাদের মতে, অভাব ও সংকটের সময় এই দোয়াটি পড়া অত্যন্ত বরকতময়।
আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে তাঁর কাছে চাইলে তিনি এমন জায়গা থেকে সাহায্য করেন যা আমরা কল্পনাও করতে পারি না।
Click here to claim your Sponsored Listing.