28/04/2026
শিবের উগ্রতম রূপ শরভের কথা তো বলেছি। আজ বলব, নারায়ণের উগ্রতম স্বরূপ নরসিংহের কথা। আর বলব, সেই নরসিংহের থেকেও উগ্রতম গণ্ডভেরুণ্ড নরসিংহের কথা যিনি সাক্ষাৎ মৃত্যুঞ্জয় শিবকেও মৃত্যুমুখে ঠেলে দিতে পারেন।
নরসিংহদেব এক বিচিত্র দেবতা। অর্ধ সিংহ, অর্ধ মানব। পূর্ণ পৌরুষ ও বিক্রমের প্রকাশ তিনি। আবার একই সঙ্গে নিঃশ্বাস ও প্রশ্বাসে বহমান সোহং-ও তিনি।
সেই তিনিই যখন অরণ্যের বিধ্বংসী সমস্ত পশুদের একত্রিত বিগ্রহ হন, তখন তিনি যে কী ভয়ংকর হতে পারেন, তা ভাবলেও শিহরণ জাগে।
অথচ এই সমস্ত লীলা তিনি করেছেন প্রহ্লাদের মতো এক শিশুভক্তকে উদ্ধার করতে।
আসুন, সমস্ত অহংকাররূপ হিরণ্যকশিপুনাশক নরসিংহদেবের সেই বিচিত্র লীলাকথা জেনে নিই।
মতামত জানাবেন কমেন্টে।
15/04/2026
উচ্ছিষ্টগণেশ নিয়ে আপনাদের প্রশ্নের অন্ত নেই। অনেকেই ইনবক্সে মেসেজ করে জানতে চেয়েছেন উচ্ছিষ্টগণেশের উপাসনা কীভাবে করবেন? কে এই দেবতা? কী তাঁর তত্ত্ব? এই উপাসনার অধিকারী কে? উচ্ছিষ্টগণেশের ক্রম কী? তাঁর শক্তি কে? তিনি কি শাক্তেরও আরাধ্য দেবতা? তাঁর পরম্পরা কী? তাঁর কী কী রূপ আছে? কোন রূপটি গৃহীর পূজ্য?
ইত্যাদি অজস্র প্রশ্ন আপনাদের। সেই সব প্রশ্নের উত্তর পাবেন এই পুস্তকে। উচ্ছিষ্টগণেশ নিয়ে যা যা তথ্য আছে, তা শাস্ত্রপ্রমাণ, ঐতিহাসিক ও মন্ত্রতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ সহ প্রকাশ করেছি।
তাই উচ্ছিষ্টগণেশ নিয়ে সবিস্তারে জানতে হলে অবশ্যই বইটি সংগ্রহ করুন।
বইটি পাবেন--
Website : https://shorturl.at/9f4MM
Amazon : https://shorturl.at/h3RwI
WhatsApp : 9073523063/9830806799
E-mail: [email protected]
Phone : 9433075550
পত্রভারতীর শোরুম :
কলেজ রো - ৩/১, কলেজ রো, কলকাতা ৭০০০০৯
প্রভু উচ্ছিষ্টগণেশের শ্রীচরণে আপনাদের সকলে ভক্তি অচলা হোক। শুভ নববর্ষ।
15/04/2026
উৎকৃষ্টাশ্চাপি শিষ্টাশ্চ প্রলয়ে নাশবর্জিতাঃ।
গণা উচ্ছিষ্টসংজ্ঞাঢ্যাস্তেষাং চ পতিরীশ্বরঃ।।
উচ্ছিষ্টগণপশ্চেতি গুণেশসম্ভবস্মৃতঃ।
অমৃতাব্ধৌ গণৈঃ সার্ধং নিবাসং কুরুতে সদা।।
সরস্বতীং ব্রহ্মপুত্রীং পুষ্টিলক্ষ্মীং হরেঃ সুতাম্।
জগ্রাহবিধিপূর্বন্তু দেবোচ্ছিষ্টগণাধিপঃ।।
সেই উৎকৃষ্ট (পরমব্রহ্ম)-এর যে অবশিষ্ট বা সারতত্ত্বগণ প্রলয়কালেও বিনাশপ্রাপ্ত হন না, সেই তাঁদের উচ্ছিষ্টগণ বলে। সেই উচ্ছিষ্টগণের পতি যে ঈশ্বর, সেই তিনিই উচ্ছিষ্টগণেশ নামে পরিচিত। তিনি গুণেশের (সগুণব্রহ্ম) পুত্র। তিনি অমৃতসাগরে নিজের উচ্ছিষ্টগণেদের নিয়ে নিবাস করেন। তাঁর সঙ্গে থাকেন ব্রহ্মপুত্রী সরস্বতী এবং নারায়ণপুত্রী পুষ্টিলক্ষ্মী। এই দুই শক্তিকে গ্রহণ করে উচ্ছিষ্টগণপতি নিজের ধামে বিরাজ করেন।
গোটা একটা বছর শেষ হল। একটি উৎকৃষ্ট বছর। উৎকৃষ্টই বটে। কত প্রাপ্তি, কত অনুভূতি, কত উপলব্ধি, কত স্মৃতি দিয়ে গেল এই বছরটা।
বছরটাতো রইল না। রইল পড়ে শুধু ঐ প্রাপ্তিগুলো, অনুভূতিগুলো, উপলব্ধি আর স্মৃতিসম্পদগুলো।
এই শিষ্টাংশগুলি নিয়েই শুরু করব নতুন বছর। আরও যে অনেক প্রাপ্তি, অনুভূতি, উপলব্ধি আর স্মৃতি পাওয়া বাকি আছে।
তাই সকলউৎকৃষ্টের শিষ্টগণের পতি, উচ্ছিষ্টগণপতির কাছে প্রার্থনা—দেহে আমাদের পুষ্টি দাও, মনকে দেখাও জ্ঞানের পথ, যাতে সমস্ত আপদবিপদ থেকে ত্রাণলাভ করে আমরা তোমার অমৃতলোকে যাত্রা করতে পারি।
শ্রী-তারাপতি গণপতি আমাদের সকলের কল্যাণ করুন।
শুভ নববর্ষ।
Picture Credit-- Souvik Pal
09/04/2026
ভগবান শিবের বিভিন্ন মূর্তি নিয়ে পূর্বে আমাদের কথাবাচকে সবিস্তার আলোচনা হয়েছে। আজ আলোচনা করলাম সেই উগ্রতম শিবমূর্তির কথা, যাঁর মন্ত্রসাধনায় অসাধ্যসাধন তো হয়--কিন্তু বিনা দীক্ষা নিয়ে এই সাধনা করলে অকালে সংসারমোহ ছাড়তে হয়।
শরভেশ্বর। আকাশভৈরব। সালুবেশ। পক্ষীরাজ।
কিন্তু আদতে তিনি কে? কেমন প্রাণী এই শরভেশ্বর? কেউ জানে না। এক অদ্ভুত পৌরাণিক জীব এই শরভ। আর সেই অদ্ভুত ভয়ংকর জীবের স্বরূপ ধারণ করেই শিব হয়েছেন অতিশয় উগ্রতম শরভেশ্বর।
জানাবেন, কেমন লাগল আজকের এই পর্ব?
আর হ্যাঁ, মতামত দেবেন, আপনাদের কী মনে হয়--এই শরভ নামক কোনো প্রাণী কি সত্যি আমাদের দেশে তথা এই পৃথিবীতে ছিল? নাকি পুরোটাই পুরাণকথা?
Picture credit to https://bronzesofindia.com/sarabeshwara/
জানাবেন কমেন্টে। (লিঙ্ক কমেন্টে)
শিব শিব।।
25/03/2026
দশমহাবিদ্যার মধ্যে ভগবতী ছিন্নমস্তার স্থান অনন্য। তিনি একইসঙ্গে ভয় ও শ্রদ্ধার উদ্রেক করে ভক্তদের নিজেদের দিকে আকর্ষিত করেন--আর একবার সেই আকর্ষণে তাঁর কাছে গেলে আর মুক্তি নেই। তিনি নিজের অনন্য ভক্তির পাশে সাধককে নিজের সঙ্গে বেঁধে ফেলেন।
তাঁকে নিয়ে বিভ্রান্তির শেষ নেই। অথচ তাঁকে ছাড়া শক্তিসাধকের কোনো গতি নেই। কালীকুল হোক বা শ্রীকুল হোক, সকল মতবাদই নারীদেবতাপূজকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ছিন্নমস্তা সেখানে এক অনন্য দেবী--তিনি নিছক নারী নন, তিনি স্বয়ং সাধকের সত্তা।
অন্যান্য দেবীদের মূর্তিতে শুধুই লীলার আস্ফালন থাকে। ছিন্নমস্তার মূর্তিতেই যেন প্রকাশিত হয়েছে একটি গোটা দর্শন, একটি অনন্য সাধনমার্গ, আর লীলা--ছিন্নমস্তার স্বরূপটিই এক অসাধারণ লীলা, আজও কালের গতিতে চিরবহমান সে লীলা! এ হলো নিত্যলীলা! নিত্য এক মহাযজ্ঞের অনুষ্ঠান!
তিনি কালীর মতো গ্রাসময়ী নন, দুর্গার মতো অসুর বধে আসক্তা নন, ললিতার মতো ঐশ্বর্যে সীমাবদ্ধাও নন, আবার তিনি ভুবনেশ্বরীর মতো ভুবন-নির্ভরশীলাও নন।
দেবী স্বয়ংসম্পূর্ণা। দেবী নিজেতে নিজে স্থিতা। দেবীর স্বরূপ দেখলে আর সকল মহাবিদ্যার স্বরূপকে নিছক ভেলকিবাজি বলে মনে হয়।
মহাবিদ্যা ছিন্নমস্তার স্বরূপ দেখলে কিন্তু সাধকের অন্তর আপনাআপনি সমস্ত মোহমুক্ত হয়ে যায়। তাঁকে দেখে সাধক শুধু শেখে--মৌন হয়ে শেখে। সব দম্ভ, আস্ফালন, মোহ সেখানে ধূলায় মিশে যায়।
দেবী ছিন্নমস্তার সমতূল্য কোনো দেবমূর্তিভাবনা সারা পৃথিবীতে কোনো ধর্মে, কোনো সম্প্রদায়ে, কোনো জাতিতে নেই। যদি বা থেকে থাকে--তা এই ছিন্নমস্তার অনুপ্রেরণাতেই রচিত বলে জানবে।
দেবীকে নিয়ে বলার আছে অনেক কথা। কিন্তু সেসব কথা এক পর্বে বলা সম্ভব না। তাই এই একটি পর্বে যতটা পারলাম বললাম। বললাম তাঁর ভৈরবের কথা, বজ্রযান বৌদ্ধধর্মে দেবীর উপাসনার রহস্যের কথা। কেমন লাগল, জানাতে ভুলবেন না।
19/03/2026
সনাতনী নববর্ষের শুভেচ্ছা সকলকে।
03/03/2026
শুভ গৌরপূর্ণিমা। শ্রীশ্রীগুরুগৌরাঙ্গৌ জয়ত:।
কথাবাচক চ্যানেলের কমেন্ট বক্সে আসা অনুরোধ উপলক্ষ্য করে শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের অষ্টসখীর সংক্ষিপ্ত পরিচয় বিষয়ে একটি ছোট্ট কাজ করা গেল৷ কমেন্ট বক্সে লিঙ্ক দিলাম।
ললিতা প্রমুখ বরিষ্ঠা গোপীদের শৃঙ্গাররসলীলা বিষয়ক চর্চা আমাদের অনধিগম্য, তা নিয়ে কথা বলার চেষ্টা মানে তা অনধিকার চর্চা। তাই সেই সব বিষয়ে আলোচনার চেষ্টা করা হয়নি। কেবল তাঁদের নাম, বয়স, পিতামাতার নাম, কুঞ্জের নাম, বিশেষ বিশেষ সেবাকার্যে দক্ষতা ইত্যাদি প্রসঙ্গ নিয়ে সংক্ষেপে দু'চার কথা বলার চেষ্টা করেছি। অষ্টসখীর শোভনসুন্দর ছবিগুলি মূলত mayapur.com পেজ থেকে সংগৃহীত।
সেইসঙ্গে, গৌরলীলায় এই সখীগণ কে কোন ভূমিকা গ্রহণ করেন, কবি কর্ণপূরের গৌরগণোদ্দেশদীপিকা অনুসারে তা আলোচনা করা হয়েছে।
সকলকে হোরিলীলার শুভেচ্ছা!
ভাষ্যপাঠে-- উৎসব চৌধুরী
অষ্টসখী চিত্রপরিবেশনে--মায়াপুর ইস্কন ধাম
প্রারম্ভসঙ্গীত পরিবেশনে--আগমনী
link in the comment box...
16/02/2026
প্রিয় বন্ধুরা,
শ্রীশ্রীউচ্ছিষ্টগণেশের কৃপায় আমার জীবনে শুরু হতে চলেছে এক নতুন অধ্যায়ের। কথাবাচক ইউটিউব চ্যানেলের সাফল্য এবং পাঠকসমাজে আমার লেখালিখির কদর পেয়েছি বলে কিছুটা দুঃসাহস করেই শুরু করছি এই যাত্রা।
এ'দেশে ধর্ম নিয়ে পড়াশুনা প্রায় নেই। তায় আবার তন্ত্রের জগৎ রহস্যময়। সাহিত্য থেকে বিনোদন-মাধ্যমে এই তন্ত্র হয়েছে কুসংস্কার ও কুপ্রথার আস্তানা।
এমতাবস্থায় একজন সহজিয়া মনের মানুষ হয়ে আমার পক্ষে চুপ করে থাকা সম্ভব হচ্ছিল না। শম্ভল উপন্যাসে সেই আর্তি ছিল। তন্ত্রচর্যায় এই তান্ত্রিক অসংগতি সংশোধনের উপায়ও দিয়েছি। আর তাতেই পেয়েছি মনোবল--আপনাদের সকলের কাছ থেকে।
আপনাদের অনেকেই আমাকে মেসেজে, কমেন্টে এবং আলাপে আলোচনায় জানিয়েছেন যে আপনারা আরও বিস্তারে এই তন্ত্রতত্ত্ব নিয়ে পড়াশুনা করতে চান।
আমার ভালো লেগেছিল। কেউ আমার কাছে তান্ত্রিক হতে চায়নি--তন্ত্র নিয়ে পড়াশুনাই করতে চেয়েছে। জানতে চেয়েছে, গবেষণার পরিধিকে আরও বিস্তারিত করতে চেয়েছে। চেয়েছে অগাধ বিশ্বাসের সূত্র এবং সৃজনাত্মক কাজের প্রেষণা।
আর তাই, আশৈশব হেন সমমনস্ক মানুষের অভাবে জর্জরিত আমি যখন দেখি, আপনারাও আমারই মতো একই তৃষ্ণায় কাতর, তখন আমি যে কুয়োর জলে নিজের তেষ্টা মিটিয়েছি, তাকেই সামান্য শুল্কের বিনিময়ে আপনাদের প্রদান করতে রাজি হয়েছি।
ভিডিও বা লেখালিখিতে একটাই জিনিসের অভাব--প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার। সেই জন্যেই এই কোর্স।
আমি মস্ত বড় পণ্ডিত, তা বলছি না। আমিও আপনাদেরই মতো এক পথিক। জ্ঞানের পথের পথিক। আমি যতটুকু ম্যাপিং করে এই পথের আনাচে কানাচে ঘুরেছি, আপনাদেরও আমার সঙ্গে সেই সেই পথে নিয়ে যাব।
লক্ষ্যে নিয়ে যেতে আমি অপারগ--আগেই বলে দিলাম। আর আমি লক্ষ্যে বিশ্বাসীও নই। আমি লক্ষ্য-লাভের পিতা অলক্ষে বিশ্বাসী। আমি পথে বিশ্বাসী। কারণ তিনি বলেছেন--"আমিই পথ, সত্য ও জীবন!"
তিনি নিজেকে পথ বলেছেন, লক্ষ্য বলেননি। পথকেই তিনি সত্য বলেছেন। আর তাই আমি সেই সত্যময় পথে আমার কাফেলা নিয়ে জীবনকে উপভোগ করাতেই বিশ্বাসী। কোনো একটি ঘরে বা প্রাসাদে বা দেশে গিয়ে যাত্রা শেষ করায় আমি বিশ্বাসী নই, আমি যাত্রাপথেই গাড়িরূপ বাড়ি নিয়ে দেশে দেশান্তরে ঘোরায় বিশ্বাসী।
এই যাত্রায় আপনারা যারা আমার সঙ্গী হতে চাইবেন, শুধুমাত্র তারাই এই কোর্সে যুক্ত হবেন। একসঙ্গে আমাদের তন্ত্রদর্শনের কাফেলায় করে ঘুরব না হয়।
আজ অমাবস্যাবিদ্ধ সোমবাসরীয় শিবচতুর্দশীর এই পুণ্যলগ্নে, ভগবান মূষিকের আবির্ভাব দিবসে এই বিজ্ঞপ্তি জারি করলাম। সম্পূর্ণ মার্চমাস জুড়ে ভর্তি চলবে। আবেদনকারীরা বিজ্ঞাপনে প্রদত্ত নাম্বারেই গুগল-পে করবেন এবং পেমেন্টের রিসিট ইমেইলে পাঠাবেন।
যেকোনো সংশয় নিঃসংকোচে জাহির করবেন--হোয়াটস্যাপ নাম্বারে (ঐ একই) এবং ইমেইলে।
আমাকে শুধু ফোন করবেন না, এইটির জন্য আমি শুরুতেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। বক্তব্য অগোছালো হলেও তা নির্দ্বিধায় লিখে বা ভয়েস মেসেজ করে পাঠাবেন, আমি যথাসময়ে আপনাদের সংশয় নিরসন করব।
শ্রীগণেশ আপনাদের সকলের সাধ মিটিয়ে সাধনসিদ্ধ করুন।
ইতি,
আপনাদের সুরজ
12/02/2026
মুদ্গল পুরাণ বলছে--
মায়য়া বিম্বরূপোঽয়ং জাতঃ সদ্যশ্চ নামতঃ ।
মায়া বিম্বং দ্বিতীয়ং তত্তত্র মোহপ্রধারণাৎ ॥
মোহধারণমাত্রেণ বিস্মৃতং স্বস্বরূপকম্ ।
মায়াসুখেপ্সুনা জাতা তস্য দেবস্য তৎক্ষণাৎ ॥
বিম্বরূপ মায়াতে নিজের প্রতিবিম্ব দেখতেই বিম্ববান গণেশের প্রতিবিম্বরূপী গণেশের সদ্য জন্ম হল। এই বিম্বগণেশের নাম তাই সদ্যোজাত। সেই বিম্বগণেশ আমি ও আমার বিম্ব এই দ্বন্দ্বমোহকে ধারণ করে নিজের স্বরূপসত্তাকে ভুলে মায়াসুখে মত্ত হলেন। তাঁর এই মায়াসুখের ইচ্ছাই সেইদিন তাঁর জন্মের কারণ (মায়াবিম্ব সদ্যোজাত গণেশের) হয়েছিল।
মুদ্গলের এই শ্লোকের সঙ্গে শাক্ততন্ত্রের কথাও মিলে যায়। "পঞ্চশূন্যে স্থিতা তারা সর্বান্তে কালিকা স্থিতা"।
যে ব্রহ্ম পঞ্চশূন্যের পরপারে কালী নামে বিরাজ করেন, সেই একই ব্রহ্ম পঞ্চশূন্যে তারা নামে বিরাজ করেন।
গুণাতীতার প্রতিবিম্বরূপে গুণময়ী। গণেশের প্রতিবিম্বরূপে গুণেশ।
তন্ত্রান্তরে আমরা পাব, এই সদ্যোজাত মায়াবিম্ব গণেশই "অব্যাকৃতস্তুরীয়ো বৈ অস্মিতাময়রূপধৃক্" শ্রীমদ উচ্ছিষ্টগণেশ রূপে কীর্তিত হয়েছেন।
গণেশ যদি অহম্ হন, উচ্ছিষ্টগণেশ তাঁর অস্মিতা। "পিতাপুত্রস্যেশানো..." বলছে অথর্ববেদ। সেই এক ব্রহ্ম পিতা আর পুত্র হয়েছেন।
পিতা গণেশ, পুত্র উচ্ছিষ্টগণেশ। বিম্বমান গণেশ, প্রতিবিম্ব উচ্ছিষ্টগণেশ। অহম্ গণেশ, অস্মিতা উচ্ছিষ্টগণেশ। কালী গণেশ, তারা উচ্ছিষ্টগণেশ।
আর এইরূপেই তারাপতি উচ্ছিষ্টগণেশের সদ্যোজাততত্ত্ব গাণপত্যশাস্ত্রে সুকীর্তিত হয়েছে।
এই সদ্যোজাত শিবের পশ্চিমমুখ। পরমশিবের সৃষ্টিকৃত্যলীলাধর--প্রথমজ। এই মুখ থেকেই ব্রহ্মার উৎপত্তি।
শৈবসিদ্ধান্তে শিবের এই পশ্চিমমুখই গাণপত্য ও স্বায়ম্ভূব দর্শনের উৎস।
গণেশের এই সদ্যোজাতত্বকে গাণপত্যরা খণ্ডন করেনি। বরঞ্চ, তার পরিবর্তে গণেশের সদ্যোজাততত্ত্বকে উচ্ছিষ্টগণেশরূপে স্বীকার করে গাণপত্যরা পরমশিবস্থলে ভগবান স্বানন্দেশ গণেশকেই স্বীকার করেছেন।
এইরূপে গাণপত্য, শৈব, স্বায়ম্ভূব এবং শাক্ততারাক্রম এক সূত্রে গ্রন্থিত হয়ে আছে।
নমো গণেভ্যো গণপতিভ্যশ্চ বৈ নমো নমঃ।।
শিবের পঞ্চমুখের সঙ্গে শিবের দিব্যপরিবারের প্রত্যেকের সম্বন্ধতত্ত্ব আলোচিত হয়েছে কথাবাচকের নতুন ভিডিওতে।
লিংক কমেন্টে।
06/02/2026
পঞ্চব্রহ্মের মধ্যে ব্রহ্মা সরস্বতীযুক্ত, বিষ্ণু লক্ষ্মীযুক্ত, রুদ্র গৌরীযুক্ত, ঈশ্বর (জীব) ঈশ্বরী (জীবশক্তি)-যুক্ত, সদাশিব মনোন্মনীযুক্ত এবং পরশিব পরাশক্তিযুক্ত। অন্তিম পরশিব ও পরাশক্তি বস্তুত উপলক্ষ্য নাম। এঁদের স্থলে সাধকের ইষ্ট মহাবিদ্যা ও তাঁর ভৈরবই পূজিত হন। যেমন—
কালীসাধকের পরশিব মহাকাল, পরাশক্তি কালী;
তারাসাধকের পরশিব উচ্ছিষ্টগণেশ (পিশাচ), পরাশক্তি তারা;
ত্রিপুরাসাধকের পরশিব কামেশ্বর, পরাশক্তি ত্রিপুরসুন্দরী;
ভুবনাসাধকের পরশিব ভুবনেশ্বর, পরাশক্তি ভুবনা;
ভৈরবীসাধকের পরশিব কামভৈরব, পরাশক্তি ভৈরবী;
ছিন্নমস্তাসাধকের পরশিব হেরুক, পরাশক্তি ছিন্নমস্তা;
ধূমাবতীসাধকের পরশিব শরভেশ্বর, পরাশক্তি জ্যেষ্ঠা;
বগলাসাধকের পরশিব ঘোররুদ্র, পরাশক্তি বগলামুখী;
শ্যামাসাধকের পরশিব সুন্দরেশ্বর, পরাশক্তি শ্যামা;
সুমুখীসাধকের পরশিব উচ্ছিষ্টগণেশ (বিবাহ), পরাশক্তি উচ্ছিষ্টচাণ্ডালিণী;
লঘুমাতঙ্গীসাধকের পরশিব বটুক, পরাশক্তি লঘুমাতঙ্গী;
বারাহীসাধকের পরশিব ধ্বনিতাণ্ডবেশ, পরাশক্তি মহাবারাহী;
কমলাসাধকের পরশিব নারায়ণ, পরাশক্তি মহালক্ষ্মী;
দুর্গাসাধকের পরশিব তুম্বুরু, পরাশক্তি দুর্গা…
এইরূপে সকল মহাবিদ্যাই পরাশক্তি, তাঁদের ভৈরবেরা অনুরূপভাবেই পরশিব।
এইরূপে ছয়চক্রের ছয়শিবকে অতিক্রম সাধকের আত্মা পরশিবময় গুরুময় সচ্চিদানন্দ ব্রহ্মপদে সুস্থিত হয়। তখন সাধকের আত্মাই পরশিব, এবং এই জগৎসংসারের সবই পরাশক্তি। সেই অবস্থায় সাধক যখন জগতের রসাস্বাদন করে, তখন তাকেই বলে জগদানন্দ। সম্ভোগের ক্রিয়াকে বলে সহজানন্দ, অথচ পদ্মপাতায় জলের মতো নির্লিপ্ত থেকে আত্মাতেই সন্তুষ্ট থেকে দ্রষ্টামাত্র হয়ে থাকাকে বলে স্বানন্দ।
দশমহাবিদ্যার সঙ্গে তাঁদের ভৈরবের সাধনার মূলরহস্য এখানেই।
এইবার, এই ভৈরবেতর শিবগণকে ওই ওই ভৈরব-ভৈরবীর অঙ্গদেবতারূপে পূজা করাই নিয়ম। সেখান থেকেই পঞ্চায়তন ভাবনা।
ব্রহ্মার স্থলে সূর্য বসেছেন;
বিষ্ণু স্থলে ক্ষীরোদকশায়ী উপেন্দ্র বিষ্ণু বসেছেন;
রুদ্রস্থলে কৈলাসবাসী ব্রহ্মপুত্র রুদ্র বসেছেন;
ঈশ্বরস্থলে জীবের চৈতন্যশক্তি স্বয়ং শক্তি বসেছেন এবং
সদাশিবস্থলে শিবশক্তিময় গণেশ বসেছেন।
(কোনো কোনো মতে পরশিবের স্থূলপ্রকাশ সুব্রহ্মণ্য। আবার কোনো কোনো মতে ঈশ্বর জীবতত্ত্ব হওয়ায় ঈশ্বরের স্থূলপ্রকাশই সুব্রহ্মণ্য, পরশিবের স্থূলপ্রকাশ শক্তি স্বয়ং। এটি ষণ্মতক্রমে মান্য।)
এইরূপে সুক্ষ্ম পঞ্চ-চক্রেশ্বরই স্থূল পঞ্চদেবতা হয়েছেন। আর তাই পঞ্চদেবতার বিন্যাসে মূল আরাধ্য মহাবিদ্যার ভৈরবের সঙ্গে পঞ্চদেবতার বিন্যাসকে আলাদা রাখা কর্তব্য। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই পঞ্চদেবতাদের প্রত্যেকেরই রূপভেদে, মন্ত্রভেদে সেই সেই মহাবিদ্যার পতি-মূর্তি আছে। মহাবিদ্যার পতিরূপে ওই ওই পঞ্চদেবতা ব্রহ্মমূর্তি হয়ে যান, পরশিব হয়ে যান, আর মহাবিদ্যার অঙ্গবিদ্যারূপে তখন সেই সেই পঞ্চদেবতার স্থূল মূর্তি বসে।
পরশিবময় পরব্রহ্মমূর্তিগুলিই দেবতাদের কারণশরীর;
সদাশিবময় চক্রেশ্বরমূর্তিগুলিই দেবতাদের সুক্ষ্মশরীর এবং
দেবতারূপ স্বর্গবাসীমূর্তিগুলিই দেবতাদের স্থূলশরীর।
সাধক নিজে এই ত্রিদেহাতীত স্বয়ং পরব্রহ্ম। সাধকের ব্যষ্টি (সাধকসত্তা) এবং সমষ্টি (ঈশ্বর—ঐ ত্রিদেহ) সত্তার পরপারে যে আলম্বনহীন অনপেক্ষ কেবলসত্তা আছে, সেটিই সর্বকারণের পরমকারণ “ভগবান”।
সেই ভগবানই লীলা করবেন বলে কারণ, সুক্ষ্ম ও স্থূল শরীর ধারণ করে ঈশ্বর, জীব ও জগতের রচনা করে করে লীলা করে থাকেন। এই চক্র চলতে থাকে।
মহাবিদ্যাদের পঞ্চদেবতাসমণ্বিত সাধনা আমাদের সেই ব্রহ্মজ্ঞানই প্রদান করে।
চিত্রঋণ-- Anirban Roy এর আঁকা পরাশক্তি ত্রিপুরসুন্দরী কর্তৃক ত্রিদেহ ধারণ করে ত্রিমূর্তির জন্মদান।
30/01/2026
সত্যনারায়ণের কথা আমরা সকলেই শুনেছি। আমরা অনেকেই জানি যে, তিনি হলেন নারায়ণ ঠাকুর।
কিন্তু সত্যি কি তাই? তিনি কি শুধুই নারায়ণ?
আজকের পর্বে সেই সত্যনারায়ণের মূল স্বরূপ নিয়ে আলোচনা করলাম, আলোচনা করলাম তাঁর সত্যব্রতের আদি উৎসের কথা।
আর অবশ্যই--কীভাবে এই হিন্দু ব্রত সত্যনারায়ণ পূজা ধর্মান্তরিত মুসলমানদের ধর্মে ফিরে আসার হাহাকার হয়ে ওঠে সত্যপীর ব্রতের মাধ্যমে, তাও আলোচনা করলাম আজকের পর্বে।
সমণ্বয়ের কথা আজকাল বলা দায়। কিন্তু সত্যনারায়ণ যে মেকি সমণ্বয়ের দেবতা নন, তিনি স্বধর্ম রক্ষার দেবতা--প্রতিবাদের দেবতা, বাস্তব জীবনের দেবতা।
কলিতে কেন সত্যনারায়ণ এতো গুরুত্বপূর্ণ, তা আজকের ভিডিও না দেখলে বুঝতে পারবেন না।
লিঙ্ক কমেন্টে...