01/12/2023
১৫৭ বছরের সন্ধিক্ষণে গড়ভবানীপুর রামপ্রসন্ন বিদ্যানিকেতন
____________________________
'ওই যে জ্বলে জ্ঞানের প্রদীপ, ওই যে জ্বলে কালো
অমানিশার আঁধার কাটায় সেই তো আমার আলো।'-----সৌমেন
'আলো আরো আলো' বলে মহাকবি গ্যেটে যে আলোর আকাঙ্খায় এই পৃথিবী-আকাশ-মাটির দিকে তাকিয়ে একদিন চিৎকার করেছিলেন সেই আলো অবশ্যই জ্ঞানের আলো। অজ্ঞানতা দূর করার অসি হলো এই জ্ঞানপীঠ।
সেই আলো প্রজ্ঞার সূর্যলোক এনে আলোকিত করে মানুষের মনকে। এই আকাঙ্খিত আলোকে বাস্তবায়িত করেছিলেন স্থানীয় জমিদার বাবুরামপ্রসন্ন রায়। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছিল এই প্রাণপ্রিয় প্রতিষ্ঠান।
বাবু রামপ্রসন্ন রায় বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন পড়ুয়াদের আদর্শ মানুষ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে।
বিগত ১৮৬৭ সালের ১লা ডিসেম্বর এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্ম। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঠিক দশ বছর পরে। ঊনবিংশ শতাব্দীতে ইংরাজী শিক্ষার প্রচলন যখন আমাদের দেশে লর্ড বেন্টিকের নির্দেশে তৎকালীন আইন সচিব মেকলের কর্মকুশলতায় সবেমাত্র শিকড় বিস্তার শুরু করেছে, তখনও এ শিক্ষা গ্রহণে অনেকেই সন্দেহ পরবশ, সংস্কারবদ্ধ বিশেষ করে পল্লীগ্রামে। তখন কে জ্বালাবে জ্ঞানের আলো? কে ঘোচাবে দুঃখ? তখন এগিয়ে এলেন বাবুরামপ্রসন্ন রায়।
আর এই মহৎ কাজে তাঁকে অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন প্রাতঃস্মরণীয় বিদ্যাসাগর মহাশয় ও তৎকালীন বহু মণীষিগণ এবং সহযোগিতা করেছিলেন তাঁর জ্যেষ্ঠ সহোদর সারদাপ্রসন্ন এবং কৃষ্ণপ্রসন্ন রায়।
যতকাল বাঙালি জীবিত থাকবে, যতকাল কোটিকণ্ঠে উচ্চারিত হবে বঙ্গবাণী, উদাত্ত ছাত্র ছাত্রী কন্ঠে কল্লোলিত হবে জ্ঞানের বাণী, সমৃদ্ধ হবে কুসংস্কার বর্জিত সমাজ,ততকাল তারই মধ্য দিয়ে প্রবাহিত, প্রকীর্তিত হবে আমাদের প্রেরণা "গড়ভবানীপুর রামপ্রসন্ন বিদ্যানিকেতন"।।