Qur'anic Wisdom

Qur'anic Wisdom

Share

"Sharing timeless wisdom from the Quran for personal growth, spiritual understand!!

20/03/2026
11/03/2026

সূরা আদ দোহা যেদিন নাজিল হয় সেদিন একটা চমৎকার ঘটনা ঘটে।
জিবরাইল (আঃ) যখন নবী (সঃ) কে শিখাচ্ছিলেন-

ওয়া লাছাওফা ইউ‘তীকা রাব্বুকা ফাতারদা।

তখন নবী (সঃ) থেমে গেলেন। কোরআন নাজিলের সময় তিনি খুব কষ্ট পেতেন। ওনার উপর অনেক প্রেসার পড়ত। তিনি ঘেমে যেতেন। আরবে তখন অনেক বেশি গরম ছিল। এত কষ্টের মাঝেও তিনি জিবরাইল (আঃ) কে বললেন,

এই জিবরাইল থাম।থাম। আমার কিছু কথা আছে। তুমি সাক্ষী। আল্লাহ্‌ বলেছেন তিনি আমাকে খুশি করে ছাড়বেন। তাই আমি আল্লাহ্‌র কাছে কিছু চাইতে চাই।

জিবরাইল (আঃ) অবাক হয়ে প্রশ্ন করলেন,হে নবী আপনি কি চান আল্লাহ্‌র কাছে?

তখন তিনি বললেন, তোমাকে সাক্ষী রেখে বলতে চাই,আমার একজন উম্মতও যদি জাহান্নামে থাকে তাহলে আমি আল্লাহ্‌র উপর খুশি হব না। না না না। সবাইকে জান্নাতে না নেয়া পর্যন্ত আমি আল্লাহ্‌র উপর খুশী হব না।

তিনি এমন এক সৃষ্টি যিনি এই উম্মতের জন্য অসীম মায়া নিয়ে দুনিয়ায় এসেছেন।

মারা যাবার আগে ওনার চোখে পানি। আজরাইল (আঃ) ওনার বুকে হাত দেয়ার অপেক্ষায় বসে আছেন।নবী(সঃ) এর অনুমতি ছাড়া জান কবজ করতে আল্লাহ্‌ নিষেধ করে দিছেন।

জিবরাইল (আঃ) তখন নবী(সঃ) কে বললেন, হে নবী,আল্লাহ আপনার জন্য অপেক্ষা করছেন।আপনি কি যেতে চান না?

তখন তিনি বললেন,না।আগে আল্লাহ্‌কে জিজ্ঞেস কর আমি না থাকলে আমার উম্মতকে দেখে রাখবে কে?

তখন আল্লাহ্‌ জিবরাইল(আঃ) কে বললেন, আমার নবীকে বল আমি তার উম্মতকে একা রাখবো না।। আমি তাদেরকে দেখে রাখবো। আমি তাদেরকে আগলে রাখবো।

আল্লাহ্‌ তাঁকে যে ওয়াদা করেছেন তা আজও আছে। হাশরের মাঠেও থাকবে।

আল্লাহ্‌ আমাদের একা রাখেন নাই। যে কোন বিপদে তিনি আমাদের ছায়া দেন।

জীবনে কত ঝামেলায় পড়লাম। কত কি গেল জীবনের উপর দিয়ে। কিন্তু আল্লাহ্‌ কোন না কোন ভাবে একটা উপায় বের করে দিয়েছেন। তিনি আমাকে একা করেন নি। তিনি আমাকে নিঃস্ব করেন নি। আলহামদুলিল্লাহ্‌।

©️

10/03/2026

Reminds me of "The flood of Nuah (As.)..🌊

07/03/2026

রমাদান কেমন কাটলো? একজন আলিম প্রশ্ন করলেন।

বললাম, আলহামদুলিল্লাহ ভাল।

উত্তর শুনে একই প্রশ্ন আবার করলেন, কেমন কাটলো?

উত্তর আগেরটাই দিলাম, ভাল আলহামদুলিল্লাহ।

কিছুক্ষন চুপ করে থেকে বললেন, সত্যিই ভাল কেটেছে? ভাল থাকার অর্থ তো হলো, আমার রমাদান এমন ভাবে শেষ হলো, আল্লাহ আমাকে মাফ করে দিয়েছেন। আমার গুনাহগুলো মিটে গিয়েছে। আমার রোজা তারাবী, আমার সব আমল তিনি কবুল করে নিয়েছেন।

এরপর নিজেই কাঁদতে লাগলেন। অঝোরে…

হাত উঠিয়ে তারপর দু'আ শুরু করলেন। দু'আর ভেতর আওড়াতে লাগলেন মাওলানা তারিক জামিল সাহেবের সেই কথাগুলো—

আল্লাহ! বাচ্চারা খাতার মধ্যে আঁকাবাঁকা উল্টো পাল্টা নানা কিছু লিখে নিয়ে এসে বলে, আব্বু/আম্মু! দেখো আমি কত সুন্দর লিখেছি। বাবা মাও তার সাথে সাথে বলেন, সত্যিই তো বাবা! অনেক সুন্দর হয়েছে!

আল্লাহ!
আমাদের আমলগুলোও তো এমন। আমাদেরও মনে হয়, কত ভাল ভাল কাজ করেছি। কত সাওয়াব কামিয়েছি। কিন্তু তুমি তো জানো, আমাদের আমলের প্রকৃত অবস্থা। তুমি যদি পাকড়াও করো, আমরা কেউ বাঁচতে পারবো না।

আল্লাহ! মার চেয়েও তুমি বেশি ভালবাসো। বাবার চেয়েও বেশি মুহাব্বত করো। আমাদের সাথে সেই ছোট বাচ্চার মতই মুআমালা করো। মাফ পাওয়ার যোগ্য না হলেও মাফ করে দাও…


— মুহতারাম রিজওয়ানুল কবির (হাফি.)

05/03/2026

নবী (ﷺ) বলেন যে, লোকেরা দাজ্জালের আতঙ্কে পর্বতে পালিয়ে যাবে। এ কথা শুনে উম্মু শারীক বললেন, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! সেদিন আরবের মানুষেরা কোথায় থাকবে? জবাবে তিনি (ﷺ) বললেন, তখন তারা সংখ্যায় নগণ্য হবে।

📚 (সহিহ মুসলিম, হাদিস একাডেমি নাম্বারঃ ৭২৮৩ ৭২৮৪; আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ২৯৪৫)

03/03/2026

কিছুদিন আগে কুরআন পড়তেছিলাম অর্থ সহ। অনেক্ক্ষণ ফ্লো তে ছিলাম, হঠাৎ ফ্লো ভেঙে যায় সুরা আদিয়াতে এসে। প্রথম আয়াত পড়েই ভ্যাবাচেকা খাইছি। আল্লাহ একটা ঘোড়ার শপথ নিয়ে একটা সূরা শুরু করলো!! আমি আবার পড়লাম আয়াতটা, "শপথ সেই ঘোড়াগুলোর, যারা উর্ধশ্বাসে শব্দ করতে করতে দৌড়ায়"। আমি তখন বসে ভাবা শুরু করলাম, দুনিয়ায় এত কিছু থাকতে ঘোড়া কেন!? কোরআনে অনেক সূরাই এরকম বিভিন্ন জিনিসের শপথ নিয়ে শুরু হইছে। যেমন, 'শপথ সূর্যের ও তার রৌদ্রচ্ছটার', 'শপথ আসমানের ও শপথ তারার', 'সময়ের শপথ', 'শপথ রাতের যখন তা আধারে ঢেকে যায়', 'শপথ আলোকোজ্জ্বল মধ্য দিনের', 'শপথ ভোরের', 'শপথ ফেরেশতাদের যারা ডুব দিয়ে আত্মা ছিনিয়ে আনে'। বিশেষ করে ত্রিশ নাম্বার পারার বেশিরভাগ সূরাই এরকম বিভিন্ন জিনিসের শপথ নিয়েই শুরু হইছে। কিন্তু ঘোড়া কেন!?

আমি তারপর আদিয়াতের পরের আয়াত গুলা পড়া শুরু করলাম,
"শপথ সে সব সাহসী ঘোড়ার যাদের ক্ষুরাঘাতে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ বের হয়। শপথ এমন সব ঘোড়ার যারা প্রভাতে অভিযানে বের হয়। এবং সেই সময়ে ধূলি উৎক্ষিপ্ত করে। অতঃপর নির্দ্বিধায় শত্রুদলের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে তাদের ছিন্নভিন্ন করে দেয়।"

আমার মাইন্ড ব্লো হয়ে গেছে ঠিক এর পরের আয়াতটা পড়েই! "মানুষ সত্যিই তার মালিকের ব্যাপারে অকৃতজ্ঞ"

আমার মাথা কিছুক্ষণের জন্য পুরা ব্ল্যাংক হয়ে গেছিলো। আমি পুরা জিনিসটা আবার রিয়েলাইজ করার চেষ্টা করলাম। বলতে চাইতেছে কি?! একেবারে হঠাৎ করেই ঘোড়ার কাহিনি থেকে মানুষের অকৃতজ্ঞতার কথায় কেন চলে গেছে আল্লাহ?! তাও আবার এরকম নাটকীয় ভাবে!

আমি তাফসির খুললাম। পুরা সূরার তাফসির পড়লাম। কয়েকটা ভিন্ন ভিন্ন গ্রন্থ থেকে পড়লাম। তারপর আমার রিয়েলাইজেশনে যা আসছে, তা হলো:

এই সূরা ঈমান, ইসলাম, জান্নাত, জাহান্নাম কিচ্ছু দিয়ে শুরু হয় নাই। শুরু হইছে ঘোড়া দিয়ে। আল্লাহ এমন একটা জন্তুর উদাহরণ দিয়ে সূরা শুরু করলেন, যার লয়ালটি নিয়ে কোনো সন্দেহ নাই। আবার যেমন তেমন ঘোড়া না, যুদ্ধঘোড়া। যার পায়ের থেকে আগুনের ঝল্কা বের হয়! যে ধুলা উড়াইতে উড়াইতে শত্রুদের মাঝখানে ঢুকে শত্রুদের ছিন্নভিন্ন করে ফেলে।। যুদ্ধঘোড়া ভয় পায়, ক্লান্ত হয়, আহত হয়, কিন্তু কখনো পিছনে দৌড়ায় না। সে জানেও না যুদ্ধ কেন, তবুও সে তার মালিকের প্রতি বিশ্বস্ত। রিপিট, সে জানেও না যুদ্ধ কেন।

তারপর হঠাৎ আল্লাহর রায়: ইন্নাল ইংসানা লি রব্বিহি লাকানুদ, 'মানুষ সত্যিই তার মালিকের ব্যাপারে অকৃতজ্ঞ'। আল্লাহ মানুষকে বলতেছে, দেখো, একটা প্রাণী তার মালিকের জন্য এত বিশ্বস্ত। আর তুমি?

এইটা insult না, এইটা moral comparison।
তাফসিরে “কানূদ” মানে বলা হইছে, যে ব্যক্তি নিয়ামত গুনে না বা আল্লাহর দেয়া নেয়ামত গুলাকে উপলব্ধি করে না, অভিযোগ গুনে, রবকে ভুলে যায়, নিজের অর্জন নিজের বলে মনে করে। যে বিপদ স্মরণ রাখে এবং নেয়ামত ভুলে যায়। অর্থাৎ: মানুষ নেয় অনেক, স্বীকার করে কম। নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে না। নেয়ামত কে অস্বীকার করে।

সবচেয়ে ভয়ংকর আয়াত: ওয়া ইন্নাহু আলা যালিকা লাশাহিদ, এবং সে নিজেই নিজের অকৃতজ্ঞতার সাক্ষী। এখানে আল্লাহ মানুষকে অভিযুক্ত করতেছে না। বরং বলতেছে, তোমার বিরুদ্ধে সাক্ষী আমি না, তুমি নিজেই। অর্থাৎ মানুষ অবহিত, সে জানে কে তারে রিজিক দেয়, সে জানে সে কার কাছে ফিরে যাবে, সে জানে কোন কাজটা ভুল। মানুষ নিজেই জানে যে সে অকৃতজ্ঞ। এখানে বড় রিয়েলাইজেশন হইতেছে মানুষ ইগ্নোরেন্সের কারণে হারায় যায় বিষয়টা এমন না। মানুষ তার সেল্ফ এর সাথে বিট্রে করে।

কুরআন এখানে মানুষের ভেতরের বিভাজন দেখায়।
একই মানুষের মধ্যে থাকে: ১. কর্মকারী সত্তা। যে ভুল করে, দৌড়ায়, লোভ করে। ২. সাক্ষী সত্তা। যে নীরবে দেখে। কোনো ভুল করার পর, ভিতরে একটা কণ্ঠ বলে “এটা ঠিক হয়নাই ” এই কণ্ঠটাই আয়াতের "শাহিদ" (সাক্ষী)।

আমরা ভাবি বিচার দিবস ভবিষ্যতে। কিন্তু এই আয়াত বলতেছে, বিচার প্রক্রিয়া অলরেডি শুরু হয়ে গেছে। মানুষ প্রতিদিন নিজের বিরুদ্ধে প্রমাণ জমা করতেছে। তাফসিরে বলা হয়: মানুষ যখন একা থাকে, তার আসল বিচারক সক্রিয় হয়। কারণ তখন সমাজ নাই, image নাই, audience নাই। শুধু নিজে আর নিজের সত্য।

কেন এই আয়াত এত ভয়ংকর?
কারণ মানুষ আল্লাহকে অস্বীকার করতে পারে। সমাজকে প্রতারণা করতে পারে। ইতিহাস বদলাইতে পারে। কিন্তু মানুষ কখনো নিজের ভিতরের জ্ঞান/স্মৃতি মুছতে পারে না। এই জন্যই অন্য জায়গায় কুরআন বলে: মানুষ নিজের বিরুদ্ধে নিজেই স্পষ্ট সাক্ষী। মানে, শেষ বিচারে নতুন কিছু জানানো হবে না। শুধু প্রকাশ করা হবে যা মানুষ অলরেডিই জানে।

সবচেয়ে গভীর Realisation, এই আয়াত আসলে বলতেছে: তোমার সবচেয়ে বড় সমস্যা পাপ না। তোমার সমস্যা তুমি জানো। যদি মানুষ সত্যিই না জানতো, তাহলে অপরাধ হতো ignorance। কিন্তু এখানে অপরাধ, conscious neglect। জেনেও ভুল পথে থাকা। কিয়ামতের দিন আল্লাহ নতুন অভিযোগ আনবে না। তিনি বলবেন: “তুমি নিজেই বলো।” কারণ সাক্ষী: তোমার স্মৃতি, তোমার নিয়ত, তোমার অন্তর। সব তোমারই অংশ।

সূরা আদিয়াতের এই আয়াতে মানুষের সবচেয়ে লুকানো সত্য প্রকাশ করে। মানুষ পথ হারায় না কারণ সে অন্ধ। মানুষ পথ হারায় কারণ হইতেছে সে চোখ বন্ধ রাখে।

Root Disease: ওয়া ইন্নাহু লিহুব্বিল খইরি লাশাদিদ, নিশ্চয়ই মানুষ সম্পদের ভালোবাসায় প্রবলভাবে আসক্ত। এখানে খাইর (خير)” কেন বলা হলো? আরবরা সম্পদকে খাইর বলত। আল্লাহ এইটা বলে নাই যে মানুষ সম্পদ ভালোবাসে। বলছে: লাশাদীদ, violent intensity। মানে: অন্ধ আসক্তি, যুক্তিহীন আকর্ষণ, আত্মপরিচয় নির্ভরতা। মানুষ সম্পদকে নিরাপত্তার হাতিয়ার ভাবা শুরু করছে। এখানে সূরা একটা terrifying সত্য বলে। মানুষ আল্লাহকে অস্বীকার করে না। সে শুধু replace করে। Replace করে ambition দিয়ে, success দিয়ে, recognition দিয়ে, influence দিয়ে। তাফসিরকাররা বলেন, হৃদয়ে দুই ভালোবাসা পূর্ণ শক্তিতে একসাথে থাকতে পারে না। যেটা intense হবে, সেটাই মানুষকে চালাবে। মানুষ ভাবে টাকা, সম্পদ, মালিকানা, এসব থাকলে মানুষ নিরাপদ। অর্থাৎ মানুষের নিরাপত্তা দেয়ার বস্তুর রিপ্লেসমেন্ট ঘটে যায়। আল্লাহকে নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট মনে হওয়া কমে আসে।

ফ্লো টা দেখেন:
১. ঘোড়া দৌড়াচ্ছে মালিকের জন্য
২. মানুষ অকৃতজ্ঞ
৩. মানুষ জানে সে অকৃতজ্ঞ
৪. কারণ, সে দুনিয়ার প্রেমে বন্দী

মানুষ কেন রবকে ভুলে যায়? কারণ তার হৃদয় already occupied। মানুষ আল্লাহকে ছাড়ি দেয় না কারণ সে যুক্তি হারায়। মানুষ আল্লাহকে ছাড়ি দেয় কারণ সে অন্য কিছুকে বেশি ভালোবেসে ফেলতাছে।

এর পরের দুই আয়াত: আফালা ইয়া‘লামু ইযা বু‘ছিরা মা ফিল কুবূর, যখন কবরের ভিতরের সবকিছু উল্টে দেওয়া হবে। ওয়া হুসসিলা মা ফিসসুদূর, এবং বুকে যা ছিল তা বের করে আনা হবে।

এখানে দুইটা স্তর আছে। একটা দৃশ্যমান, একটা অদৃশ্য। একটা শরীরের, একটা অন্তরের। একটা ইতিহাসের, একটা নিয়তের।

এখানে “বু'ছিরা” — শুধু উঠানো না, উল্টেপাল্টে দেওয়া। এখানে “بُعْثِرَ” শব্দটা সাধারণ “পুনরুত্থান” না। এর অর্থ: ওলটপালট করা, উল্টে দেওয়া, লুকানো জিনিস বের করে দেওয়া। অর্থাৎ কবর শুধু খোলা হবে না, ভেতরের গোপন ইতিহাস সব উন্মোচিত হবে। কবর হইতেছে মানুষের শেষ ব্যক্তিগত জায়গা। আল্লাহ বলতেছেন সেই শেষ আশ্রয়ও ভেঙে দেওয়া হবে।

"হুসসিলা” মানে শুধু বের করা না। এর অর্থ: ছেঁকে নেওয়া, বিশুদ্ধ করে আলাদা করা, ফিল্টার করা, যেটা আসল সেটা তুলে ধরা। মানে, তুমি যে ভালো কাজ করছিলা, কিন্তু ভেতরে ছিল রিয়া (লোক দেখানো),ওইটা ছেঁকে আলাদা হবে। তুমি যে হাসছিলা, কিন্তু ভেতরে আছিল হিংসা, ওইটা প্রকাশ পাবে। তুমি যে ইবাদত করছিলা, কিন্তু ভেতরে ছিল অহংকার, ওইটা সামনে আসবে।

হৃদয় আসলে আর্কাইভ। মানুষ ভাবে যে সে ভুলে গেছে। কিন্তু নফস ভুলে না। তুমি হয়তো কোনো পাপের স্মৃতি মুছে ফেলছো। কিন্তু তোমার অন্তর জানে কেন তুমি ওই কাজ করছিলা। এই আয়াত বলতেছে, বিচার দিবসে নতুন কিছু তৈরি হবে না, নতুন কোনো ইনফো এড হবে না। শুধু তোমার ভিতরের লুকানো আর্কাইভ খুলে দেওয়া হবে।

শেষ আয়াত: ইন্না রাব্বাহুম বিহিম ইয়াওমা-ইযিল্লাখাবীর, নিশ্চয়ই তাদের রব সেই দিনে তাদের সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে অবগত থাকবেন। অর্থাৎ আল্লাহ প্রত্যেক মানুষের অন্তর, নিয়ত, এবং কাজের প্রতি সম্পূর্ণ সচেতন। এখানে “خبير” মানে শুধু জানা' বোঝায় নাই। এখানে বুঝাইছে যে আল্লাহর হৃদয় বোঝার ক্ষমতা আছে। আল্লাহ জানেন তোমার মন কোথায়, তোমার অনাস্থা কোথায়, তোমার ভালবাসা কোথায়। কেউ মুখে সত্য বলে, অন্তরে অন্য কিছু ভাবতে পারে। কিন্তু আল্লাহ সেই অন্তরের আবেগ, আকাঙ্ক্ষা, লোভ, ভয়, আশা, সব কিছুই জানেন।

একটা ঘোড়া তার মালিকের কাছ থেকে যতসামান্য খাবার পায়। অল্প চনা, বা ছোলা, বা ঘাস। যা তার জন্য অনেক সমহ পর্যাপ্তও হয় না। তারপরেও সে তার মালিকের অন্ধ আনুগত্য করে। সে জানে না তার মালিক তারে কোথায় নিতেছে, তবুও সে দৌড়ায়। কিন্তু মানুষরে আল্লাহ এত এত নেয়ামত দিছে, এত সম্পদের মালিক বানাইছে, উপলব্ধি করার মত, বিচার বুদ্ধি করার জন্য একটা মগজ দিছে, অন্ধ্য আনুগত্য করতেও বলে নাই।তারপরেও সে অকৃতজ্ঞ। আল্লাহ কে বাদ দিয়া দুনিয়ার সব কিছুর পিছনে দৌড়ায়।

সমস্যা এই না যে মানুষ দৌড়ায়। সমস্যা হইতেছে, মানুষ ভুল জিনিসের জন্য দৌড়ায়। ঘোড়া জানে না, তবু সঠিক মালিকের জন্য প্রাণ দেয়। মানুষ জানে, তবুও ভুল মালিক বেছে নেয় (আসল মালিকরে রিপ্লেস করে, ওইখানে যা ইচ্ছা তা বসায়)। সবচেয়ে বড় ভয় হইতেছে এইটাই যে, মানুষের জীবনের “দৌড়” যদি ভুল উদ্দেশ্যের জন্য হয়, তইলে জীবনের সমস্ত পরিশ্রমই তো অর্থহীন। সমস্ত পরিশ্রমই অর্থহীন।

ক্রেডিট: Abu Bakr Siddiq

Photos from Etayat's post 01/03/2026

নিতে চাইলে জলদি ইনবক্স করুন🤍🤍

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Website

Address

Mirpur, Dhaka
Dhaka