16/01/2018
শিক্ষকের মৃত্যু V ভারতীয় হাতির মৃত্যু
লেখকঃ মাওঃশাহিদুর রাহমান(এস আর সাঈদী)
বি.এ(অনার্স)এম.এ মাস্টার্স, ইসলামের ইরিহাস ও সংস্কৃতি,এম.সি কলেজ, সিলেট।
"শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড " এই কথাটি আমরা সকলেই বলে থাকি। কিন্তু আবার সুযোগ পেলে সবাই মেরুদন্ডে লাথি মেরে বাকা করে ফেলি কিংবা মানবতার কাণ্ডারি শিক্ষকের গলা টিপে হত্যা করে ফেলি।কুষ্টিয়ার বেসরকারি শিক্ষক মাওঃআব্দুল মান্নানের মৃত্যুতে আমরা দেখেছি, শুনেছি, কেঁদেছি কিংবা দুইদিন অনলাইন মিডিয়ায় একটু লেখালেখি করে তোলপাড় করে দিয়েছি এই আমাদের দায়িত্ব শেষ।অনশনরত বেসরকারি শিক্ষক/কর্মচারীদের ন্যায্য দাবী আদায়ের লক্ষ্যে বিরতিহীন অনশন ধর্মঘটে জাতি শুধু একজন শিক্ষককে হারালোনা একটি শিক্ষিত জাতিকে হারলো।বিগত বিছর গুলুতে বিভিন্ন দাবী আদায়ের লক্ষ্যে অনশন করে হালুয়া বিরিয়ানি আর নারী নৃত্যের কলঙ্কিত অধ্যায় জাতি দেখেছে।সেখানে ছিল হলুদ মিডিয়ার ছড়াছড়ি, ছিল নেতা, পাতি নেতার, খাতা, কম্বল আর বিরিয়ানি, পুলাও,হালুয়া নিয়ে দৌড় প্রতিযোগিতা।মিডিয়া ছিল, ওদের পাহাদারি দারওয়ানের ভূমিকায়।কিন্তু আজ কোথায় সেই হলুদ মিডিয়া? কোথায় মানবাধিকার কর্মী জয় ললিতা? কোথায় গণজাগরণ মঞ্চ? নাই কেহ নাই।ওদের ভাগ্যটাই খারাপ ওরা কুরআন,হাদিস,ফিক্বহ কালাম পড়ে মৌলভী হয়েছে বলে।আফসুস জাতির জন্য! যারা কোন এক সময় সবই স্বীকার করে, স্বীকার করে ঐ সময়,যখন মৃত্যুর দুয়ারে পাঞ্জা লড়ে তখন মৌলভী ঢাকে,হাদিয়া,দেয়,শিরনী করে দুয়া কালাম সবই করায় আর চায় তিন টাকা দিয়ে জান্নাত কিনে নিবে।আজ কোথায় মানবাধিকার? এই শিক্ষককের মৃত্যু কি তোমার গায়ে একটু নাড়া দেয়না? শিরায় উপশিরায় কি একটু ব্যতীত মানবতাবোধ জাগ্রত হয়না? আফসুস আমরা একটি কলঙ্কিত জাতি।আমরা ৬০ ঊর্ধ্ব মুরব্বীদের দাড়িতে ধরে যখন টানা হেচড়া করি তখন আমাদের মানবতবোধ কুনু ব্যঙ্গের গর্তে গিয়ে লোকিয়ে থাকে।আজ পেঠের তাড়নায় শিক্ষকরা অনশন করে আর মন্ত্রীরা বলে আমাদের কিছু করার নাই।ভারতীয় একটি মরা হাতির মূল্যায়ন করে আমরা বিশ্ব রেকর্ড করতে পারি কিন্তু জাতির সূর্য সন্তান দাবী আদায়ের লক্ষ্যে না খেয়ে মারা গেলেও আমরা শোক বাণী টুকু দিতে পারিনা।আবার আমরা যখন মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেই তখন বলি যে জাতি গুরুজনের সম্মান করেনা সেই জাতির ঘরে গুনিজন জন্মায়না।আফসুস কবে সেই এক চোখা মানবতা বিদায় নিবে এবং স্বতঃস্ফূর্ত মানবতা জাগ্রত হবে সেই প্রত্যাশায়।