06/11/2015
রাগ করে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়লাম,
এতটাই রেগেছিলাম যে, বাবার
জুতাটাই পড়ে বেরিয়ে পড়লাম।
বাইকই যদি কিনে দিতে না পার,
তাহলে ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ার
বানাবার সখ কেন?
হটাৎ মনে হল পায়ে খুব লাগছে, জুতাটা
খুলে দেখি একটা পিন উঠে আছে।
পা দিয়ে একটু রক্তও ঝড়ছে, তাও চলতে
থাকলাম,
এবার পাটা ভেজা ভেজা লাগল,
দেখি পুরো রাস্তাটাতেই জল,
পা তুলে দেখি জুতার নিচটা পুরো নষ্ট
হয়ে গেছে,
বাসস্ট্যান্ডে এসে শুনলাম এক ঘন্টা পর
বাস,
অগত্যা বসে রইলাম,
হটাৎ , বাবার মানিব্যাগটার কথা মনে
পড়ল.,
যেটা আমি বেরোনোর সময় সাথে
করে নিয়ে এসেছিলাম,
বাবা এটাতে কাউকে হাত দিতে
দিত না।
এমনকি মাকেও না,
ভাবলাম এখন দেখি কত জমা করেছে।
খুলতেই তিনটি কাগজের টুকরো
বেরিয়ে এল,
প্রথমটাই লেখা, ল্যাপটপের জন্য চল্লিশ
হাজার টাকা "লোন"
কিন্তু আমার ল্যাপটপ আছে, পুরনোও
বটে,
দ্বিতীয়টা একটা ডাক্তারের
প্রেসক্রিপশন।
লেখা,নতুন জুতা ব্যবহার করবেন,
নতুন জুতো!
মা যখনই বাবাকে নতুন জুতা কেনার
কথা বলত, তখন বাবার উত্তর ছিল,
আরে, এটা এখনও ছয়মাস চলবে।
অথচ এখনই নষ্ট হয়ে গেছে,
তারাতারি শেষ কাগজটা খুললাম,
লেখা পুরোনো স্কুটারের বদলে নতুন
বাইক নিব।
বুঝতে পেরেই বাড়ির দিকে এক
দৌড়ে লাগালাম, এখন আর জুতাটা
পায়ে লাগছে না,
বাড়ি গিয়ে দেখি বাবা নেই,
জানি কোথায় গেছে, একদৌড়ে সে
শোরুমটাই,
দেখলাম স্কুটার নিয়ে বাবা
দাড়িয়ে।
আমি ছুটে গিয়ে বাবাকে জড়িয়ে
ধরলাম।
কাঁদতে কাঁদতে বাবার কাঁধটা পুরো
ভিজিয়ে ফেললাম।
বললাম, বাবা…
আমার নতুন বাইক চাইনা, তুমি তোমার
নতুন জুতা আগে কেন বাবা!
আমি ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই, তবে
তোমার মত করে,,
"মা" হল এমন একটা ব্যাংক, যেখানে
আমরা আমাদের সকল রাগ-অভিমান, কষ্ট
জমা রাখত পারি।
আর "বাবা" হল এমন একটা ক্রেডিট
কার্ড, যেটা দিয়ে আমরা পৃথিবীর
সমস্ত সুখ কিনতে পারি!!
---সংগ্রহীত