19/09/2024
লেখক : সাদেকুর রহমান খান
বেশিরভাগ পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে লোড শেডিং হয় না।
অনেক সময়ই ক্যাম্পাসের বাইরে এসে যখন দেখতাম, কারেন্ট নাই। অবাক লাগতো। যত দ্রুত সম্ভব ক্যাম্পাসে ফেরার একটা তাড়া কাজ করতো সবসময়ই।
ক্যাম্পাসে খাবার দাবারের দামও বাইরের চে অনেক কম। ধরেন বাইরে যে খাবার আপনি ২০০ টাকায় খাবেন, ক্যাম্পাসে গিয়ে খাইলে ওটা অর্ধেকেই পাবেন।
দেখবেন পোলাপাইন উল্টা পথে ক্যাম্পাসের বাস নিয়ে হ্যাডাম দেখায়।
আর হলের মধ্যে রাম রাজত্ব তো আছেই। বাংলাদেশের কোন ক্যাম্পাসেই বাংলাদেশের আইন চলে না। একেক হলে একেক নিয়ম থাকে।
অমুককে সালাম দিতে হবে,তমুক এর সাথে পরিচিত হতে হবে,নানান কিসিমের সব রুলস। মারধোর স্বাভাবিক ঘটনা, মারামারির পর খাইয়ে দিলেই হয়।
এমন একটা পরিবেশে একদল পোলাপাইনকে রেখে তাদের থেকে ভালো কিছু আশা করা কঠিন।
জনগণের ট্যাক্সের টাকায় এরা ২৪ ঘন্টা কারেন্ট পায়, ফ্রি এডুকেশন পায়, হলে থাকতে পারে, ফ্রিতে বাসে উঠতে পেরে নিজেদের বিরাট বড় হ্যাডা ভাবতে শুরু করে।
এখান থেকেই মূলত ইনস্টিটিউশনাল প্রাইড আসে। বহিরাগতদের উপর বিরক্তি আসে, নিজেদের সুপিরিয়র ভাবতে শেখে।
মূলত রাষ্ট্রই ছাত্রদের এইটা ভাবতে বাধ্য করায় যে তারা স্পেশাল।
ছাত্ররাও ভাবতে শুরু করে তারা বাইরের জগত থেকে আলাদা।
ঋজ পর্যন্ত বাসে বা ট্রেনে কোথাও প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির পোলাপাইনদের হ্যাডাম দেখাতে দেখেছেন? দেখেননি। কারণ তারা নিজেদের টাকায় পড়াশোনা করে। এক্সট্রা প্রিভিলেজ তারা পায় না।
পাবলিক ইউনিভার্সিটির পোলাপাইনের এই ভয়ঙ্কর সুপিরিওরিটি কমপ্লেক্স দূর করার জন্য এদের স্পেশাল ট্রিটমেন্ট অফ করতে হবে।
হরে দরে সবাইকে ফ্রিতে উচ্চশিক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন নাই।
দেশে লোডশেডিং রেখে তাদের ২৪ ঘন্টা কারেন্ট দেওয়ার কোন প্রয়োজন নাই। তাদেরকে ফিল করান যে তারা আলাদা কিছু না। যদি দেশের মানুষ ৬ ঘন্টার লোডশেডিং পায়, ক্যাম্পাসগুলোতেও থাকুক।
দাম বাইরে যা, ভেতরেও তাই করেন। উল্টা দিকে বাসের চলাফেরা অফ করেন। গণহারে ভর্তুকি বন্ধ করে দেন।
হ্যা, মেধাবী আর নিডি পোলাপাইনের জন্য স্কলারশিপ থাকুক, বিভিন্ন পার্ট টাইম জব থাকুক। বাট এক ঘন্টার একটা পরীক্ষায় ভালো করে ৬ বছর হলে ফ্রি থাকা আর শুয়ে থেকে হ্যাডাম দেখানো বন্ধ হোক।
হয় ভালো লেখাপড়া করে স্কলারশিপ নিয়ে থাকবে নাহলে জব করে লেখাপড়ার খরচ জোগাবে। তাইলেই এইসব আজাইরা বড় ভাইগিরি বের হয়ে যাবে।
একইসাথে হলগুলোকে মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার রেইডে আনেন। ক্যাম্পাসগুলোতে আইন প্রতিষ্ঠা করেন। ইউনিভার্সিটির একটা ছেলেও যেন নিজেরে আইনের উর্ধ্বে ভাবতে না পারে, সেই ব্যবস্থা করা জরুরি।
এই সুপিরিয়রিটি কমপ্লেক্স একদিনে তৈরি হয়নি।
একদিকে সমাজ এদের মাথায় তুলে ওদিকে রাষ্ট্র সবকিছু ফ্রিতে দিয়া দেয়। ফলাফল? এরা নিজেদের বিরাট হনু ভাবতে শুরু করে। কেউ হয় নেতা, কেউ হয় মাফিয়া, কেউ হয় রোমিও।
এই মব আমাদের মানসিকতার সাথে জড়িয়ে গেছে।
এবং এই মানসিকতা তৈরি করেছে আমাদের রাষ্ট্র, আমাদের সমাজ।
কাজেই, এই সুপিরিয়রিটি কমপ্লেক্স ভাঙার কাজটাও রাষ্ট্রকেই প্রথমে শুরু করতে হবে।
©️ Sadekur Rahman khan