15/07/2026
গর্ভাবস্থায় একটিমাত্র পরীক্ষা কীভাবে একটি পরিবারকে আজীবন কান্না থেকে বাঁচাতে পারে?
সম্প্রতি ২২ সপ্তাহের এক গর্ভবতী মায়ের পরীক্ষা করতে গিয়ে একটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক কিন্তু চোখ খুলে দেওয়ার মতো ঘটনা সামনে এসেছে। গর্ভধারণের এই পর্যায়ে যখন একটি বিশেষ আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়, তখন দেখা যায় গর্ভস্থ শিশুটির হাতের আঙুলগুলো তৈরিই হয়নি।
শুধু তাই নয়, তার হাতটি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক ছোট এবং হাতের প্রধান একটি হাড় জন্ম থেকেই নিখোঁজ।
পরীক্ষা করে নিশ্চিত হই যে, এই শিশুটি তীব্র শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বড় হচ্ছে এবং পৃথিবীতে আসার পর তার বেঁচে থাকা ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করা অসম্ভব।
এই অবস্থায় শিশুটির ভবিষ্যৎ কষ্ট এবং পরিবারের সীমাহীন মানসিক বিপর্যয়ের কথা চিন্তা করে আমার পরামর্শে তারা একটি অত্যন্ত কঠিন কিন্তু বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার গর্ভাবস্থার সমাপ্তি ঘটানো হয়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'Medical Termination of Pregnancy' (MTP) বলা হয়।
এই ঘটনাটি শেয়ার করার উদ্দেশ্য কাউকে ভয় দেখানো নয়, বরং প্রতিটি পরিবারকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সচেতন করা।
এই কেস থেকে আমাদের যা শেখার আছে:
১. অ্যানোমালি স্ক্যান (Anomaly Scan) কোনো সাধারণ পরীক্ষা নয়: গর্ভাবস্থার ২০ থেকে ২২ সপ্তাহের মধ্যে এই বিশেষ আল্ট্রাসনোগ্রাফিটি করা বাধ্যতামূলক।
অনেকে মনে করেন সাধারণ আল্ট্রাসনোগ্রাফি করলেই চলে, কিন্তু সেটি ভুল। শিশুর চোখ, কান, হাত, পা, হার্ট ও কিডনি ঠিকমতো তৈরি হচ্ছে কি না, তা কেবল এই অ্যানোমালি স্ক্যানের মাধ্যমেই ধরা পড়ে।
২. কুসংস্কার থেকে দূরে থাকুন: অনেকে বাচ্চার এমন বিকলাঙ্গতার জন্য মায়ের ওপর দোষ চাপান কিংবা অলৌকিক কারণ খোঁজেন। এটি সম্পূর্ণ ভুল। এটি একটি জন্মগত ও জিনগত ত্রুটি, যা সঠিক সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমেই কেবল চিহ্নিত করা সম্ভব।
৩. সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ: যদি এই মায়ের পরীক্ষাটি সময়মতো না করা হতো, তবে একটি তীব্র প্রতিবন্ধী শিশুর জন্ম হতো, যার পুরো জীবন কাটত চরম কষ্টে। সঠিক সময়ে পরীক্ষাটি করার ফলেই চিকিৎসকরা এবং পরিবারটি একটি বড় বিপর্যয় এড়াতে পেরেছেন।
গর্ভাবস্থায় কোনো পরীক্ষাকে অবহেলা করবেন না। ২০ থেকে ২২ সপ্তাহের মধ্যে আপনার নিকটস্থ ভালো সেন্টারে গিয়ে অবশ্যই 'অ্যানোমালি স্ক্যান' নিশ্চিত করুন। আপনার একটি সচেতন সিদ্ধান্ত একটি অনাগত জীবনের কষ্ট এবং একটি পরিবারের আজীবন কান্না থামাতে পারে।
দীর্ঘ ৪৭ ঘন্টা চেষ্টার পর তার নরমাল ডেলিভারী হয়েছে।
Dr. Shahida Begum Minu; Womens health