08/06/2026
সম্মানিত অভিভাবকবৃন্দ ও প্রিয় শিক্ষার্থীরা,
পবিত্র ঈদুল আযহার ছুটি শেষে আবারও মাদ্রাসার কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। আশা করি সবাই ঈদের আনন্দ পরিবারের সঙ্গে সুন্দরভাবে উপভোগ করেছেন।
নির্ধারিত সময়ে মাদ্রাসায় উপস্থিত হয়ে পাঠদান কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার জন্য সকল শিক্ষার্থীর প্রতি আহ্বান জানানো যাচ্ছে। সম্মানিত অভিভাবকদেরও সহযোগিতা কামনা করছি, যেন সন্তানরা নিয়মিত ও সময়মতো মাদ্রাসায় উপস্থিত হয়।
সকলের জন্য দোয়া ও শুভকামনা রইল। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে দ্বীনের সঠিক জ্ঞান অর্জন ও আমল করার তাওফিক দান করুন। আমীন।
24/05/2026
প্রিয় অবিভাবক
ঈদের ছুটির পর যেন আপনার সন্তানের হিফজ দুর্বল না হয়, এজন্য অভিভাবক হিসেবে আপনার কী করনীয়?
অভিজ্ঞদের মতামত দিচ্ছি?
20/05/2026
যে ছাত্র একদমই পড়তে চায় না বা বারবার বুঝিয়েও পড়ে না, তাদের জন্য কিছু কার্যকর করণীয়ঃ
১. প্রথমে ছাত্রের মন বুঝার চেষ্টা করুন — কেন পড়ছে না, সেটা খুঁজে বের করুন।
২. ছোট ছোট টার্গেট দিন — একসাথে বেশি চাপ দিবেন না।
৩. পড়া পারলে সবার সামনে উৎসাহ দিন।
৪. দুর্বল ছাত্রকে ভালো ছাত্রের সাথে বসান।
৫. শুধু বকা নয়, মাঝে মাঝে বন্ধুর মতো কথা বলুন।
৬. প্রতিদিন অল্প অল্প করে আগের পড়া নিন।
৭. মোবাইল বা খারাপ সঙ্গ আছে কিনা খোঁজ নিন।
৮. অভিভাবকের সাথে সুন্দরভাবে যোগাযোগ রাখুন।
৯. পড়াকে প্রতিযোগিতা বা আনন্দময় করুন।
১০. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ — ছাত্রের জন্য দোয়া করুন এবং ধৈর্য হারাবেন না।
অনেক সময় যে ছাত্রকে সবাই “অমনোযোগী” বলে, সঠিক পরিচর্যায় সেই ছাত্রই একদিন সবার থেকে ভালো হয়ে যায়।
16/05/2026
নূরানী পদ্ধতিতে বিশেষ করে দুর্বল ছাত্রদের এগিয়ে নেওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। নূরানী পদ্ধতির মূল প্রাণ হলো মশ্ক (অনুশীলন) এবং ভঙ্গি (অ্যাকশন)। একজন দুর্বল ছাত্রকে দ্রুত নূরানী শেষ করিয়ে নাজেরায় নেওয়ার জন্য আপনি নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে পারেন:
১. নূরানী কায়দার ‘মোরাক্কাব’ (যুক্তাক্ষর) মজবুত করা
অধিকাংশ দুর্বল ছাত্র নাজেরায় গিয়ে আটকে যায় কারণ তারা যুক্তাক্ষর চিনতে পারে না।
* কৌশল: ছাত্রকে শুধু সোজা হরফ নয়, বরং হরফের মাঝখানের রূপ, শেষ রূপ এবং শুরুর রূপগুলো আলাদাভাবে চেনান। ব্ল্যাকবোর্ডে একটি হরফ লিখে সেটিকে বিভিন্ন হরফের সাথে যুক্ত করে দেখান।
২. ‘এক শাস’ বা দীর্ঘ শ্বাসের অনুশীলন
দুর্বল বাচ্চারা পড়ার সময় প্রতিটি হরফে থেমে যায়। এতে তাদের গতি বাড়ে না।
* কৌশল: তাকে ছোট ছোট শব্দ এক নিশ্বাসে পড়ার অভ্যাস করান। যেমন: 'خلق'جعل— ইত্যাদি এই শব্দগুলো তাকে বলুন তিনবার না থেমে পড়তে। এতে তার জড়তা কাটবে।
৩. জোড়ায় জোড়ায় পড়া ।
দুর্বল ছাত্রকে একজন সবল (ভালো) ছাত্রের সাথে বসিয়ে দিন।
* কৌশল: পড়া শেষ করার পর সবল ছাত্রটি দুর্বল ছাত্রকে পড়াটা ৫ বার শোনাবে এবং দুর্বল ছাত্রটি তাকে ৫ বার পড়ে শোনাবে। এতে আপনার অনুপস্থিতিতেও তার পড়া ঝালাই হবে।
৪. ব্ল্যাকবোর্ড ও চকের ব্যবহার
দুর্বল ছাত্ররা বইয়ের ছোট লেখা দেখে অনেক সময় ঘাবড়ে যায়।
* কৌশল: তাকে প্রতিদিন অন্তত ৫টি শব্দ ব্ল্যাকবোর্ডে বড় করে লিখে দিন। সে যখন বড় হরফে দেখবে, তার মস্তিষ্ক দ্রুত সেটা ধরতে পারবে। তাকে বোর্ড থেকে দেখে খাতায় লেখার অভ্যাস করান ।
৫. ‘হরকত’ ও ‘মদ্দ’ এর পার্থক্য স্পষ্ট করা
নাজেরায় ওঠার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো টানের ভুল (মদ্দ)।
* কৌশল: হাতের ইশারায় মদ্দ বা টান শেখান। যখন এক আলিফ টান হবে, তখন হাত এক বিঘত পরিমাণ সরাবেন। দুর্বল বাচ্চারা এই ভিজ্যুয়াল অ্যাকশন (দৃশ্যমান ভঙ্গি) দেখে দ্রুত আয়ত্ত করতে পারে।
৬. নিয়মিত ‘ছবক’ ও ‘আমোখতা’ (পুরানো পড়া)
দুর্বল বাচ্চাদের নতুন পড়ার চেয়ে পুরানো পড়ার ওপর বেশি জোর দিতে হয়।
* কৌশল: প্রতিদিন নতুন পড়া দেওয়ার আগে গত ৩ দিনের পড়া তাকে না দেখে বা দেখে দ্রুত গতিতে পড়তে বলুন। যদি সে পুরানো পড়া দ্রুত পড়তে পারে, তবেই নতুন সবক দিন।
দ্রুত নাজেরায় নেওয়ার একটি সংক্ষিপ্ত রুটিন:
( সময় কার্যক্রম )
১.প্রথম ১০ মিনিট আগের দিনের পড়ার দ্রুত রিভিশন।
২.মাঝখানের ২০ মিনিট | নতুন সবক বোর্ডে লিখে হাতে-কলমে মশ্ক। |
৩.শেষ ১০ মিনিট | ছাত্র নিজে নিজে অন্তত ২০ বার পড়াটি পড়বে। |
একটি বিশেষ টিপস:
দুর্বল ছাত্রকে কখনোই ক্লাসের সবার সামনে বকাঝকা করবেন না। বরং সে একটি শব্দ সঠিক পড়লে সবার সামনে তাকে বাহবা দিন। এতে তার পড়ার আগ্রহ বহুগুণ বেড়ে যাবে ইনশাআল্লাহ
16/05/2026
একটি মাদ্রাসার প্রাণ হলো মুহতামিম ও শিক্ষকদের মধ্যকার সুসম্পর্ক। ইসলামি পরিভাষায় এটি কেবল নিয়োগকর্তা ও কর্মচারীর সম্পর্ক নয়, বরং এটি মুরুব্বি ও সাথীদের একটি দ্বীনি কাফেলা।
১. মুহতামিম যেভাবে শিক্ষকদের হক আদায় করবেন
মুহতামিম হলেন মাদ্রাসার অভিভাবক। তার আচরণ হতে হবে অত্যন্ত দয়ালু এবং ইনসাফপূর্ণ।
* ন্যায্য ও সময়মতো পারিশ্রমিক: শিক্ষকদের বেতন ও ভাতা মাসের নির্দিষ্ট সময়ে পরিশোধ করা। মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার মান বিবেচনা করে সম্মানি নির্ধারণ করা।
* সম্মান ও মর্যাদা প্রদান: শিক্ষকদের সবসময় সম্মানের চোখে দেখা। ছাত্রদের সামনে বা জনসম্মুখে তাদের সমালোচনা না করে কোনো ভুল হলে একান্তে সংশোধন করে দেওয়া।
* সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা: অসুস্থতায় পাশে দাঁড়ানো, থাকার সুব্যবস্থা করা এবং পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় ছুটির ব্যবস্থা করা।
* মতামতের মূল্যায়ন: মাদ্রাসার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের সাথে পরামর্শ করা। এতে তাদের মধ্যে মালিকানাবোধ ও দায়িত্বশীলতা তৈরি হয়।
* পক্ষপাতহীনতা: কোনো বিশেষ শিক্ষকের প্রতি অতিরিক্ত ঝুঁকে না পড়ে সবার সাথে ইনসাফপূর্ণ আচরণ করা।
২. শিক্ষকরা যেভাবে মুহতামিমের হক আদায় করবেন
মুহতামিম হলেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং আমীর। তাকে সহযোগিতা করা এবং তার প্রতি অনুগত থাকা শিক্ষকদের প্রধান দায়িত্ব।
* আনুগত্য ও আনুগত্য (ইতাআত): শরিয়ত পরিপন্থী নয় এমন প্রতিটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে মুহতামিমের নির্দেশ মেনে চলা।
* আমানতদারিতা: অর্পিত দায়িত্ব (ক্লাস নেওয়া, ছাত্রদের দেখাশোনা) পূর্ণ নিষ্ঠার সাথে পালন করা। সময়ের প্রতি যত্নবান হওয়া।
* সম্মান ও আদব: মুহতামিমকে নিজের মুরুব্বি ও বড় মনে করা। তার সামনে বা পেছনে এমন কোনো কথা না বলা যা তার মর্যাদাহানি করে।
* গোপনীয়তা রক্ষা: মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ বা দাপ্তরিক গোপন বিষয়গুলো বাইরে আলোচনা না করা। প্রতিষ্ঠানের বদনাম হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকা।
* পরামর্শ ও সহযোগিতা: মাদ্রাসার কোনো ত্রুটি চোখে পড়লে তা সরাসরি মুহতামিমকে বিনয়ের সাথে জানানো এবং প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে তাকে বুদ্ধি দিয়ে সাহায্য করা।
সারকথা
মুহতামিম এবং শিক্ষকদের সম্পর্ক হতে হবে 'দেহ ও প্রাণের' মতো। মুহতামিম যদি শিক্ষকদের সম্মানি ও সম্মানের দিকে খেয়াল রাখেন, আর শিক্ষকরা যদি মুহতামিমকে তাদের আমীর মেনে ইখলাসের সাথে কাজ করেন, তবে সেই মাদ্রাসায় আল্লাহর খাস রহমত নাযিল হয়।
16/05/2026
হিফজ বিভাগের ছাত্রদের প্লান অনুযায়ী না পড়ালে প্রতিটি ছাত্রের জীবনে চরম ক্ষতি বয়ে আনবে।
16/05/2026
সন্তানকে কুরআনের হাফেজ হিসেবে গড়ে তোলার সকল পিতা-মাতার স্বপ্ন আল্লাহ পূরন করুন, আমীন।
15/05/2026
শারীরিক মিহনতের পাশাপাশি মানসিক মেহনত (ফিকির) আরোও বেশি জরুরি ❤️❤️
08/05/2026
সন্তানকে খেলনা না দিলে ১ঘন্টা কাঁদবে,জ্ঞান না দিলে সারা জীবন কাঁদবে আর ধর্মীয় শিক্ষা না দিলে কিয়ামতের দিনে ও কাঁদবে