20/04/2024
নিউজের শিরোনামগুলো একটু লক্ষ্য করুন। সাধারণ দৃষ্টিতে শিরোনামগুলো দেখে যা মনে হচ্ছে-
** ম ন্দি রে মুসলিমরাই আগুন দিয়েছে- বাংলাদেশের তো হিন্দুরা সংখ্যলঘু। তাই এটা ধরেই নেয়া যায় মুসলিমরাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
আর মন্দিরে আ গু নে র পর দুইজনকে হ ত্যা। কোথাও বলা হয়নি যারা মারা গিয়েছে তারা মুসলিম।
অথচ তাদেরই নিউজের ভিতরে গেলে বুঝা যাচ্ছে –
মন্দিরে কে বা কারা আ গু ন লাগিয়েছে তা স্পষ্ট না। কেনই বা হঠাৎ মন্দিরে আগুন লেগে গেল তাও অজানা।
সেখানে কোনো দাংগা ঘটেনি। মুসলিমদের তরফ কোনো উস্কানি, কোনো হামলা, পালটা হয়নি। মন্দিরে আগুন লেগেছে , একটু দূরেই মুসলিম নির্মাণ শ্রমিক কাজ করছে। কাজেই ওরাই আগুন লাগিয়েছে। এমন শিশুতোষ চিন্তাভাবনায় সমীকরণ মিলিয়ে উগ্রবাদী হিন্দু জনতা মুসলিম নির্মাণ শ্রমিকদের উপর আক্রমণ করেছে। অবস্থা এমনই বেগতিক ছিল যে তিন প্ল্যাটুন বিজিবি মোতায়েন করতে হয়েছে।
২ ভাই নিহত হননি। তাদের খুন করা হয়েছ্র উ%গ্র হিন্দু জনতা তাদের গনপিটুনি দিয়ে খুন করেছে তাদের কর্মস্থলে। তারা হিgন্দুদের সাথে মারামারি করতে যাননি। এবং তারা হিgন্দুg না মুসলিম ছিলেন।
এখানে মরল মুসলিমরা আবার দোষীও করা হলো মুসলিমদের। খুন করল হিgন্দুgরা। অথচ তাদেরকে আড়াল করে রাখা হচ্ছে।
অধিকাংশ মানুষই সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করার সময় শিরোনাম পড়ে। ভেতরে কি লেখা আছে তা পড়ে না। আরটিভির মতো বাংলাদেশের অধিকাংশ মূলধারার মিডিয়া এভাবে অর্ধ সত্য বলে প্রকৃত দোষীদের আড়াল করে রাখে। এবং দোষটা চাপিয়ে দেয় মুসলিমদের ঘাড়ে। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে তারা সম্মিলিতভাবে প্রোপ্যাগান্ডা চালিয়ে মুসলিমদের উগ্রg, সন্ত্রাgসী, বর্বর গোষ্ঠী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছে। সংখ্যালঘুদের অধিকার দেবার নামে সংgখ্যাগুরু মুসলিমদের উপর জুলুম, শোষণ করার ন্যায্যতা, সম্মতি তৈরি করেছে। মিডিয়াসাহার এ কাজে পেছন থেকে ভূমিকা পালন করেছে সাংস্কৃতিক জমিদাররা।
বাংলাদেশে দ্রব্যমূল্যের দাম ভয়ঙ্কর রকমের বাড়ছে। বাজারে সব কিছুর দাম আকাশছোঁয়া। এতো কিছুর মধ্যে সবচেয়ে কমদামী যা তা হলো- মুসলমানের জীবন। দিন দিন এর দাম কমছে। এই দুই ভাইকে খুন করার বিচার হবে না এটা নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়।
ভারgতে স্রেফ সন্দেহের বশে মুসলিমদের পিgটিয়ে মেgরে ফেলা হয়। বাংলাদেশেও এ কালচার শুরু হলো। এ ভূখন্ডের মুসলিমদের জন্য ভবিষ্যতে কি অপেক্ষা করছে ভাবুন। একবার ভাবুন, মিডিয়াসাহা, সাংস্কৃতিক জমিদাররা আমাদের ও আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবনকে কেমন ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
করণীয়:
১। হা হুতাশ করা- কেউই কি দেখার নাই- টাইপ পোস্ট দিয়ে কোনো লাভ নাই। আসলেই কেউ দেখার নাই। দেখতে হবে আমাকে আপনাকে। আত্মপরিচয়কে আকড়ে ধরুন। মুসলিম পরিচয়কে আকড়ে ধরুন। এভাবে কান্নাকাটি করে কোনো লাভ নেই। কেউই আপনাকে বাঁচাতে আসবে না। না এ দল না বি দল। এদের কারোরই কিবলা মক্কাতে না।
২। সামাজিকভাবে শক্তিশালী হোন। সামাজিক শক্তি অর্জনের জন্য এক্টিভিজম করুন।
৩। মিডিয়াসাহা ও সাংস্কৃতিক জমিদাররা এ ভূখন্ডে আমাদের প্রধান শত্রু। এ বাস্তবতা বুঝতে হবে। তাদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে।
৪। আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা আমরা কোনো বিষয়ে লেগে থাকিনা। আজ এক ইস্যু তো কাল অন্য ইস্যু। এবং প্রচন্ড মাত্রার রিএক্টিভ। দীর্ঘমেয়াদের চিন্তাভাবনা করে কোনো কাজ আমরা করি না। এটা আমাদের জাতিগত সমস্যা। এই সমস্যার মাশুল আমাদের দিতে হচ্ছে পিটুনি খেয়ে জীবন দিয়ে। এখনো যদি আমরা প্রো এক্টিভ না হই, এলোমেলো,বিক্ষিপ্ত যখন যা মনে চাইল বা যখন যা ট্রেন্ডি তখন সেটা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম এমন জীবন যাপন করি তা হলে আজ মুসলিম নির্মাণ শ্রমিকেরা মরেছে আগামীকাল আপনি মরার প্রস্তুতি নিন। আপনার চোখের সামনে আপনার স্ত্রী কন্যা বোন ধgর্ষিgত হচ্ছে এটা দেখার প্রস্তুতি নিন। এর পরেও আপনি চুপ করে থাকবেন নাকি তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়ে এক্টিভিজম শুরু করবেন সিদ্ধান্ত আপনার।