07/07/2022
শিখণ্ডী (সংস্কৃত) হিন্দু মহাকাব্য মহাভারতের একটি চরিত্র। দ্রুপদ কন্যা ও দ্রৌপদীর বড় বোন। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে তার পিতা দ্রুপদ ও ভাই ধৃষ্টদ্যুম্ন এর সাথে পাণ্ডবদের পক্ষে যুদ্ধ করেছিলেন এবং ভীষ্মের মৃত্যুর কারণ হয়েছিলেন। তার পুত্রের নাম ক্ষত্রদেব।
(১)পূর্বজন্ম
পূর্বজন্মে শিখণ্ডী ছিলেন কাশীরাজার বড় মেয়ে অম্বা। হস্তিনাপুরের রাজা বিচিত্রবীর্য এর সাথে বিয়ে দেয়ার জন্য ভীষ্ম তাঁর দুই বোনসহ তাঁকে স্বয়ম্বর সভা থেকে জয় করে নিয়ে যান। কিন্তু তিনি সুবলের রাজ শাল্বকে ভালোবাসেন জেনে বিচিত্রবীর্য তাঁকে বিয়ে করেননি। শাল্বও পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে তাঁকে বিয়ে করতে রাজী না হওয়ায় তাঁর দুর্দশার জন্য তিনি ভীষ্মকে দায়ী করেন এবং ভীষ্মের মৃত্যু কামনায় সাধনা করে শিবের বর লাভ করে শিখণ্ডী নামে দ্রুপদ রাজার মেয়ে হিসেবে জন্ম গ্রহণ করেন।
(২)শৈশব ও পুরুষত্ব লাভ
শৈশবে শিখণ্ডী রাজপ্রাসাদের ফটকে রাখা একটা মালা গলায় পড়ে দ্রুপদের কাছে এলে দ্রুপদ বুঝতে পারে শিখণ্ডীই অম্বা। কারণ কার্ত্তিকের প্রদত্ত চিরসবুজ পদ্মের মালাটি শুধু অম্বাই পরতে পারতো। তখন রাজা ভীষ্মের আক্রমণ এড়ানোর জন্য শিখণ্ডীকে বনে থাকার ব্যবস্থা করেন।[৩] সেখানে শিখণ্ডী সাধনা করে স্থুণাকর্ণ নামে এক যক্ষের কাছ থেকে পুরুষত্ব লাভ করে। এরপর শিখণ্ডী বন থেকে রাজ প্রাসাদে ফিরে আসে। বিয়ে করে সংসারী হয়। তার ঔরসে ক্ষত্রদেবের জন্ম হয়।
(৪)কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ
কুরুক্ষেত্রে যুদ্ধে শিখণ্ডী পুরুষ যোদ্ধা হিসেবে অংশগ্রহণ করে। ভীষ্মের সাথে যুদ্ধের সময় ভীষ্ম তাকে দ্রুপদের মেয়ে হিসেবে জানতে পেরে অস্ত্রপরিত্যাগ করে শরাক্রান্ত হয়ে শরশয্যায় শায়িত হয় এবং মৃত্যুবরণ করে। যুদ্ধের অষ্টাদশ দিনে অশ্বত্থামার সাথে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে শিখণ্ডী মৃত্যুবরণ করে।
(৫)কোন কোন স্থানে বলা হয়েছে, শিখণ্ডীকে শুধু কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের ১০ম দিন এই দেখা যায়, সে তার প্রতিজ্ঞা পূরণ তথা ভীষ্মদেবকে নিরস্ত্র করতে যুদ্ধে পদার্পণ করেন, সে যুদ্ধক্ষেত্রে যে প্রবেশ করবে একথা আগেই জানিয়া শকুনি শিখণ্ডীকে রুখতে মায়াস্ত্র যোজনা করেন এবং শিখণ্ডীকে তার রচিত সংক্ষিপ্ত বূহ্যে বন্দী করেন, যার মহারথী হিসেবে ছিলেন রাজকুমার দুঃশাসন, মহাবীর অশ্বত্থামা, আর গান্ধার রাজ শকুনি। শিখণ্ডীকে নিরস্ত্র করা সহজসাধ্য ব্যাপার ছিল না। আর তার সামনে তারা টিকতেও পারছিলেন না। শেষ পর্যায়ে মিলিত আক্রমনে শিখণ্ডী মারাত্মক আহত হলেন এবং মূর্ছা গেলেন। তারা শিখণ্ডীকে মৃত ভেবে চলে গেলেন। কিন্তু শিখণ্ডীর দেহে তখনও প্রাণ অবশিষ্ট ছিল যা হয়ত মহাবীর ভীষ্মদেবকে নিরস্ত্র বা পরাজিত করার জন্যই, শেষ পর্যন্ত সে তার প্রতিজ্ঞা রক্ষা করলেন এবং ভীষ্মদেব শরশয্যায় শায়িত হলেন। অনেকে বলেন এর পরই শিখণ্ডী মৃত্যুবরণ করেন। কারণ ১০ম দিনের পর আর কখনো তাকে রণাঙ্গনে দেখা যায়নি।দুটো প্যারালাল টাইমলাইন ধরে এগিয়েছে বইয়ের কাহিনী। বর্তমানে যুগের মিতু সংক্রান্ত 'থ্রিলার' দখল করেছে বইয়ের বিশভাগ (এই অংশটা আমার কাছে ভাল লাগেনি)। আর বাকি আশিভাগ জুড়ে ব্যপ্তি মহাভারতের চরিত্র শিখণ্ডীর। রেটিং এর তিনটি তারার সবগুলোই এই অংশের জন্য, তাই বাদবাকি আলাপ এই নিয়েই করা যাক।
মহাভারত: আঠারো পর্বের এই সুবিশাল মহাকাব্যে রয়েছে অসংখ্য চরিত্র, পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে হাজারো গল্প। পঞ্চপাণ্ডব কি দ্রৌপদী, ভীষ্ম কি দ্রোণাচার্য- বিখ্যাত সব চরিত্রের গল্পে আজও আমরা বিমোহিত হই।
তবে অগণিত বলিষ্ঠ চরিত্রের আড়ালে, পাদপ্রদীপের তলায় চাপা পড়েছেন আরো অনেকে। তেমনই এক অত্যন্ত যোগ্য ও শক্রিশালী চরিত্র পাঞ্চাল প্রদেশের রাজা দ্রুপদের পুত্র, শিখণ্ডী। দেবাদিদেব শম্ভু তার পিতাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নারীর শরীর নিয়ে জন্মগ্রহণ করলেও একদিন তিনি পুরুষত্ব লাভ করবেন।
দ্বাপরযুগে তিনি এক রূপান্তরকামী রাজকুমার। কখনও নারী হিসেবে বীরযোদ্ধা অর্জুনকে কামনা করে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। আবার কখনও পৌরুষত্বের অভাবে উপহাসের শিকার হয়েছেন নববিবাহিতা স্ত্রী দশার্ণ রাজকন্যার কাছে।
বঞ্চিত-লাঞ্ছিত হয়েক ভাগ্যের পরিহাসে শিখণ্ডীর হাতেই মোড় ঘুরেছে মহাভারতের। পূর্বজন্মে তিনিই ছিলেন কাশীর রাজকুমারী অম্বা।