07/25/2026
🌙🕊️ঝর্নাদি আঁচল সামলানোর ভঙ্গি, ক্লান্ত শরীরেও সবকিছু আগলে রাখার চেষ্টা, দোতলার পাশের ঘরেই ঝর্নাদি থাকত।
বাড়ির সব আলো নিভে গেলে,তখনও তার ঘরে একটা ছোট্ট হ্যারিকেন জ্বলত।
আমি প্রায়ই দেখতাম,দরজার কাছে যেতেই ঝর্নাদি আমাকে দেখে ফেলল। আমি ভেবেছিলাম বকা দেবে। কিন্তু না...
সে মিষ্টি হেসে বলল, "কিরে, ঘুম আসছে না বুঝি? আয়, বস।
ঝর্নাদি আর নিঝুম দুপুরের সেই প্রাচীন বাড়ির কাহিনী✨
আমাদের বাড়ির চিলেকোঠার জানালা দিয়ে দুপুরটা দেখলে মনে হতো, সময় যেন এখানে এসে ঘুমিয়ে পড়েছে। আর সেই ঘুমন্ত সময়ের একমাত্র পাহারাদার ছিল আমাদের ঝর্নাদি। 🌸
তোমরা কি কখনো এমন একজনের মায়ায় পড়েছো, যার শাসনের মধ্যেও মমতা লুকিয়ে থাকে?
দুপুরের খাওয়া-দাওয়া শেষ। বাড়ির সবাই যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন আমাদের পুরনো আমলের বাড়িটা এক অদ্ভুত নীরবতায় ডুবে যেত।
বাইরে কাঠফাটা রোদ, ভেতরে পাখার ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ আর টিকটিকির ডাক। 🏠
ঝর্নাদি কাজ শেষ করে রান্নাঘরটা গুছিয়ে একটু জিরিয়ে নিত। পুরনো দিনের বাড়ি তো, তাই দরজাটা সবসময় আলগা করে ভেজানো থাকত, যাতে হাওয়া চলাচল করে।
আমি তখন চিলেকোঠার ঘরে বই নিয়ে বসতাম ঠিকই, কিন্তু পড়ার দিকে মন থাকত না।
আমার সমস্ত মনোযোগ থাকত নিচ থেকে ভেসে আসা ঝর্নাদির সেই চেনা সুরের দিকে।
কখনো সে গুনগুন করে পুরনো দিনের গান গাইত, কখনো বা আমাদের ছোটবেলার রূপকথার গল্প আওড়াতো। 📚
গরমে ক্লান্ত ঝর্নাদি যখন একটু বিশ্রাম নিত, তার চোখে-মুখে লেগে থাকত সারাদিনের পরিশ্রমের ছাপ,
কিন্তু তার মধ্যেও একটা অদ্ভুত স্নিগ্ধতা ছিল। যেমন এই ছবিটা দেখো - রঙিন শাড়ি, হাতে রঙিন চুড়ি, চোখে একরাশ মায়া।
ঠিক যেন স্বপ্নের মতো। তার সেই রূপটা ছিল পরিশ্রমী, মমতাময়ী আর পবিত্র।
তার এলোমেলো হয়ে যাওয়া আঁচল সামলানোর ভঙ্গি, ক্লান্ত শরীরেও সবকিছু আগলে রাখার চেষ্টা - এগুলো দেখে শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসত। 🙏
রোজ দুপুরের এই লুকোচুরি খেলাটা আসলে লুকোচুরি ছিল না, ছিল মায়ার খেলা। আমি লুকিয়ে তার গল্প শুনতাম, আর সে জানত আমি শুনছি।
শুধু দুপুর নয়, রাতের নিস্তব্ধতাতেও এই মায়া আমাকে তাড়িয়ে বেড়াত। দোতলার পাশের ঘরেই ঝর্নাদি থাকত।
বাড়ির সব আলো নিভে গেলে, সবাই যখন ঘুমের দেশে, তখনও তার ঘরে একটা ছোট্ট হ্যারিকেন জ্বলত।
আমি প্রায়ই দেখতাম, সে তখনও জেগে আছে। কখনো আমাদের ছিঁড়ে যাওয়া জামা সেলাই করছে, কখনো কাল সকালে রান্নার জন্য সবজি কেটে রাখছে। ✨
এক রাতে, আমি আর থাকতে না পেরে ধীরে ধীরে বিছানা ছেড়ে উঠে পা বাড়ালাম। পা টিপে টিপে এগিয়ে গেলাম সেই আলোর দিকে।
🎀তাপসি দিদি কে সাতার শিখাতে নামলাম পুকুরে & পাশের ফ্ল্যাটের রজনী আপা💃 নতুন স্বাদে ছোট কাহিনী পড়তে চাইলে পেজে ঘুরে আসুন: চৈতালী রায় খবর রসগোল্লা 🥰
ভাবলাম, আজ জিজ্ঞেস করবই - তুমি এত পরিশ্রম করো কেন দিদি?
দরজার কাছে যেতেই ঝর্নাদি আমাকে দেখে ফেলল। আমি ভেবেছিলাম বকা দেবে। কিন্তু না...
সে মিষ্টি হেসে বলল, "কিরে, ঘুম আসছে না বুঝি? আয়, বস।"
আমি ভয়ে ভয়ে তার পাশে গিয়ে বসলাম। সে তার হাতের রঙিন চুড়িগুলো একটু ঠিক করে নিয়ে আমার মাথায় হাত রাখল।
বলল, "এই বাড়িটা অনেক পুরনো। এই বাড়ির প্রতিটা ইটে মায়া জড়িয়ে আছে। তোরা সবাই যখন শান্তিতে ঘুমাস, তখন মনে হয় আমার সব কষ্ট সার্থক।"
সেদিন বুঝেছিলাম, ঝর্নাদির সৌন্দর্য তার শাড়ি বা চুড়িতে নয়। তার সৌন্দর্য তার মনের মধ্যে। তার ত্যাগে, তার ভালোবাসায়। 💖
সেই রাতের অন্ধকারে আমি ধরা পড়ে গিয়েছিলাম ঠিকই, কিন্তু শাস্তি হিসেবে পেয়েছিলাম এক পৃথিবী মমতা।
সে আমাকে একটা পুরনো রূপকথার গল্প শুনিয়েছিল - যেখানে পরীরা আকাশে পদ্মফুল ফোটায়, প্রজাপতি আর শান্তির প্রতীক সাদা পায়রা
উড়ে বেড়ায়। ঠিক যেন এই ছবিটার মতো - স্বপ্ন, শান্তি আর পবিত্রতায় ভরা। 🕊️🦋🌷
আজ অনেক বছর পর, আমি শহরে থাকি। আমাদের সেই প্রাচীন বাড়িটা আর আগের মতো নেই।
ঝর্নাদিও এখন অন্য জায়গায় থাকে। কিন্তু আজও যখন নিঝুম দুপুর আসে, আমার বুকের ভেতর সেই অদ্ভুত তোলপাড় শুরু হয়।
মনে পড়ে যায় সেই আধখোলা দরজা, সেই গুনগুন গান আর সেই মমতাময়ী মুখ।
জীবনে কিছু মানুষ আসে, যারা রক্তের সম্পর্কের থেকেও বড় হয়ে যায়। ঝর্নাদি আমার কাছে তেমনই একজন। সে আমাকে শিখিয়েছে, কিভাবে নিঃশব্দে ভালোবাসতে হয়।
তোমাদের জীবনেও কি এমন কোনো 'ঝর্নাদি' আছে, যার কথা মনে পড়লেই দুপুরটা আজও নিঝুম হয়ে যায়? 🎀 কাহিনীটি কিন্তু এখানেই শেষ নয়...কাহিনীটির যতটুকু সম্ভব Facebook প্রকাশ পেয়েছে, 👑পুরো ঘটনাটি পড়ার অনুরোধ রইলো!👇
কাহিনী সম্পন্ন ভার্সন পেতে কমেন্টে স্বাগত জানাই!🥰
🌸আমাদের তৈরি PDF book, অডিও বুক, ভিডিও, দরকার হলে 'Add me' লিখে কমেন্ট💖🥰
📌 মনে রাখবেন:
আপনি 🇺🇸 নিউইয়র্কে ব্রেকফাস্ট করছেন, 🇬🇧 ম্যানচেস্টারে লাঞ্চ টাইম, নাকি 🇦🇺 মেলবোর্নে ডিনার সারছেন? যেখানেই থাকুন, তবে এই লেখাটা ১০০% কাল্পনিক, শুধু আপনাদের বিনোদনের জন্য 💛
📖
ভালোবাসা রইলো সবার জন্য ❤️
🇺🇸 USA | London 🇬🇧 | 🇦🇺 Australia | 🇩🇪 Germany | 🇮🇹 Italy 🔥
07/24/2026
07/23/2026
07/22/2026
07/21/2026
07/20/2026
07/19/2026