05/25/2026
শিশুধর্ষণের প্রবণতা ঠেকাতে জার্মানির মডেল কি বাংলাদেশে সম্ভব?
মিরপুরে আলোচিত শিশু হত্যাকাণ্ডের পর আবারও সেই চিরচেনা প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে—ব্যাপক ক্ষোভ, খুনির দ্রুত ফাঁসি দাবি ও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি। দ্রুত বিচার জরুরি; কিন্তু শুধু শাস্তি দিয়ে এই ধরনের অপরাধ বন্ধ হবে—এই ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।
বাংলাদেশের আইনি ও বিচারিক ব্যবস্থা এখনো প্রধানত ‘অপরাধের পর শাস্তি’—এই ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক কাঠামোতেই আটকে আছে। অথচ আধুনিক অপরাধবিজ্ঞানে শাস্তির চেয়ে অপরাধ প্রতিরোধের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়।
কেন অপরাধটি ঘটছে এবং কীভাবে এর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে—এসবের মূল কারণ খুঁজে বের না করলে কোনো সমাধানই টেকসই হয় না। কেননা আধুনিক অপরাধবিজ্ঞানের মূলকথাই হলো অপরাধীকে চেনার আগে অপরাধের পেছনের মনস্তত্ত্বকে চেনা।
এই দূরদর্শিতার অভাব আমাদের রাষ্ট্রীয় নীতি ও চিকিৎসা খাতেও স্পষ্ট। আমাদের আইনি ও সামাজিক কাঠামোতে যেকোনো শিশু নির্যাতনকারীকে ঢালাওভাবে স্রেফ ‘ধর্ষক’ বা ‘খুনি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
অথচ একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীকে ধর্ষণ করা আর শিশুকে টার্গেট করার পেছনে কখনো কখনো যে মনস্তাত্ত্বিক ও যৌন বৈশিষ্ট্যের (যেমন শিশুকামিতা বা পেডোফিলিয়া) মৌলিক পার্থক্য থাকতে পারে, সেই ক্লিনিক্যাল বিভাজনটাই আমাদের এখানে অনুপস্থিত।ফলে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট বা কোনো সরকারি হাসপাতালে এই সুপ্ত বিকৃতি নিয়ে কাজ করার মতো কোনো বিশেষায়িত উইং বা গবেষণার উদ্যোগ গড়ে ওঠেনি। এই সূক্ষ্ম পার্থক্য আমাদের নীতিনির্ধারণে প্রতিফলিত হয় না। ফলে চিকিৎসা, গবেষণা ও প্রতিরোধ—সব ক্ষেত্রেই ঘাটতি থেকে যায়।
উন্নত বিশ্বে এই বিভাজনটি অত্যন্ত স্পষ্ট। তারা এই সমস্যাটিকে কেবল একটি ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি’র অবনতি হিসেবে না দেখে বরং জনস্বাস্থ্যসংকট হিসেবে বিবেচনা করে।
তারা বুঝতে পেরেছে যে একজন অপরাধী যখন কোনো শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করে, তখন রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থা যতই কঠোর হোক না কেন, সেই শিশুটির জীবন আর ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয় না।
তাই তারা অপরাধীর শাস্তির পাশাপাশি কেন এই মানসিকতার জন্ম হচ্ছে এবং কীভাবে সমাজ অপরাধ ঘটার আগেই তা প্রতিরোধ করতে পারে—সেই মনস্তাত্ত্বিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারির বিজ্ঞানসম্মত পথটিই বেছে নিয়েছে।
এ বিষয়ে কথা হচ্ছিল মনোরোগবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আহমেদ হেলালের সঙ্গে। তিনি বললেন, শিশু বা প্রাপ্তবয়স্ক যাকেই ধর্ষণ করা হোক না কেন, ধর্ষণের মূল মনস্তত্ত্ব সব সময় যে আলাদা হয়, তা নয়। অপরাধী সাধারণত দুর্বল লক্ষ্য বেছে নেয়।
05/25/2026
প্রতিবেশীর বাড়িতে টিভি দেখতে যাওয়া শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ
প্রতিবেশীর বাড়িতে টেলিভিশন দেখতে যাওয়া এক শিশু ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যশোরের কেশবপুরের একটি গ্রামে আজ সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এক কিশোরকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন এলাকাবাসী।পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে উপজেলার চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী পাশের বাড়িতে দুপুরে টেলিভিশন দেখতে যায়। এ সময় ওই বাড়ির এসএসসি পরীক্ষার্থী এক কিশোর মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। মেয়েটি বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি তার মাকে জানায়। পরে মা গিয়ে ওই কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকার লোকজন বাড়িতে গিয়ে ওই কিশোরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
পুলিশ ওই কিশোরকে কেশবপুর থানায় নিয়ে এসেছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকসানা খাতুন জানান, শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য যশোরে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় শিশুর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করবেন। মামলা প্রক্রিয়াধীন। এ মামলায় আটক কিশোরকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
05/25/2026
জর্জকুট্টির পরিবার ফিরেই বাজিমাত, কত আয় করল ‘দৃশ্যম ৩’
‘দৃশ্যম’ ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে দর্শকের উন্মাদনার শেষ নেই। এই ফ্র্যাঞ্চাইজির কেন্দ্রে আছেন জর্জ, একজন সাধারণ কেব্ল ব্যবসায়ী। কিন্তু পরিবারকে বাঁচাতে তাঁর বুদ্ধির সঙ্গে টক্কর দিতে পারে কম মানুষই।
ফ্র্যাঞ্চাইজির শেষ সিনেমা ‘দৃশ্যম ৩’ মুক্তি পেয়েছে ২১ মে। রোববার সিনেমাটির বৈশ্বিক আয় ১৪১ কোটি ৩৪ লাখ রুপিতে পৌঁছেছে।
ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট স্যাকনিল্ক জানিয়েছে, মুক্তির চতুর্থ দিন রোববার সিনেমাটি ভারতে ১৩ কোটি ৯৫ লাখ রুপি আয় করেছে। এ নিয়ে দেশটিতে সিনেমাটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৫৪ কোটি ৫৫ লাখ রুপি।
সিনেমাটির সবচেয়ে বড় বাজার ছিল কেরলম। রোববার শুধু এই রাজ্য থেকেই এসেছে ৯ কোটি ৭০ লাখ রুপি। এর আগের দিন শনিবার ভারতে সিনেমাটির আয় ছিল ১৩ কোটি ৭০ লাখ রুপি। ফলে রোববারের আয় সামান্য হলেও বেড়েছে।সব ভাষার মধ্যে মালয়ালম সংস্করণই সবচেয়ে বেশি আয় করেছে। ৩ হাজার ১৮৬টি শো থেকে সংস্করণটি আয় করেছে ১১ কোটি ৭৫ লাখ রুপি। দর্শক উপস্থিতির হার ছিল ৬৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ। তেলেগু সংস্করণ আয় করেছে ১ কোটি ২০ লাখ রুপি। তামিল ও কন্নড় সংস্করণ থেকে এসেছে যথাক্রমে ৬৫ লাখ ও ৩৫ লাখ রুপি। রোববার সব মিলিয়ে সিনেমাটি প্রদর্শিত হয়েছে ৫ হাজার ২৭০টি শোতে।
মুক্তির প্রথম দিনে সিনেমাটি নেট আয় করেছিল ১৫ কোটি ৮৫ লাখ রুপি। দ্বিতীয় দিনে নেট আয় ছিল ১১ কোটি ৫ লাখ রুপি।
আন্তর্জাতিক বাজারেও সিনেমাটি ভালো সাড়া পাচ্ছে। বৈশ্বিক আয় ১৪১ কোটি ৩৪ লাখ রুপির মধ্যে ভারত থেকে এসেছে ৬৩ কোটি ৩৪ লাখ রুপি এবং বিদেশি বাজার থেকে ৭৮ কোটি রুপি। উপসাগরীয় অঞ্চল, উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের দর্শকেরা বিদেশি আয়ে বড় অবদান রেখেছেন।
২০১৩ সালে মুক্তির পরই জিতু জোসেফের মালয়ালম থ্রিলার ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। পরে এর সিক্যুয়েলটিও ব্যাপক প্রশংসিত হয়। একইভাবে ব্যবসায়িক সাফল্য পায় হিন্দি রিমেক দুটিও।
‘দৃশ্যম ৩’ ছবিতে আবারও ফিরে এসেছে জর্জকুট্টির পরিবার। জর্জকুট্টির চরিত্রে আগের মতোই আছেন মোহনলাল। রানী জর্জের চরিত্রে মীনা, অঞ্জু চরিত্রে আনসিবা হাসান ও অনু চরিত্রে এস্থার অনিল।
05/25/2026
পায়জামা পার্টিতে ২ হাজার ৫২ জন
05/25/2026
মানিকগঞ্জে অক্সিজেনবাহী লরির সঙ্গে বাসের সংঘর্ষ, পুড়ল বাস ও যাত্রীদের মালামাল
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় তরল অক্সিজেনবাহী লরির সঙ্গে ঈদে যাত্রীবাহী একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আগুন লেগে বাস ও যাত্রীদের বিভিন্ন মালামাল পুড়ে গেছে। বাস থেকে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে বেশ কয়েকজন যাত্রী সামান্য আহত হয়েছেন।
আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার ভাটবাউর এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহন আটকা পড়ে। পরে রেকার দিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত যান দুটিকে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নিলে প্রায় আধা ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সদর থানার পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে ঢাকার গাবতলী থেকে এফকে পরিবহনের একটি বাস কুষ্টিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। বাসের যাত্রীরা পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপন করতে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছিলেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ভাটবাউর এলাকায় কুষ্টিয়াগামী বাসটির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা তরল অক্সিজেনবাহী একটি লরির সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটিতে আগুন ধরে যায়। এ সময় বাসের যাত্রীরা বাসের দরজা ও জানালা দিয়ে হুড়োহুড়ি করে নেমে যান। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী কর্মীরা গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে বাস ও যাত্রীদের বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়। এ ঘটনায় দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত প্রায় আধা ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়। মহাসড়কের উভয় পাশে যানবাহন আটকা পড়ে।
আজ বেলা দুইটার দিকে পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় রবিউর ইসলাম নামের এক বাসযাত্রীর। ওই যাত্রী জানান, ঈদে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তিনি কুষ্টিয়ায় গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন। তাঁদের বাসের সামনের একাংশের সঙ্গে তরল অক্সিজেনবাহী লরির সংঘর্ষের পরপরই বাসটিতে আগুন লেগে যায়। এরপরই এক সন্তানকে নিয়ে তিনি ও তাঁর স্ত্রী বাসের জানালা দিয়ে নেমে পড়েন। এ সময় তাঁরা সামান্য আহত হন। বাসে থাকা তাঁদের বিভিন্ন মালামাল পুড়ে গেছে। অন্য যাত্রীদের মালামালও পুড়ে গেছে।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকরাম হোসেন বলেন, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। দুর্ঘটনার পর সাময়িকভাবে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। পরে দুর্ঘটনাকবলিত যান দুটিকে সরিয়ে নেওয়া হলে চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়।
05/25/2026
পীরগাছার নারীদের স্বনির্ভরতার অনন্য নজির
উন্নয়নবৈষম্যের কারণে রংপুর অঞ্চলের পিছিয়ে থাকার বিষয়টি কারও অজানা নয়। তবে সেখানকার মানুষের মধ্যে দারিদ্র্যকে জয় করতে যে প্রচেষ্টা দেখা যায়, তা অভাবনীয়। পীরগাছা উপজেলার পাঁচটি গ্রামের নারীরা এ ক্ষেত্রে অনুসরণীয় হতে পারেন। প্রযুক্তির জয়জয়কার আর বৈদ্যুতিক পাখার ভিড়ে বিলুপ্তপ্রায় ‘হাতপাখা’ যে ১ হাজার ৫০০ নারীর ভাগ্য পরিবর্তনের হাতিয়ার হতে পারে, সেটি প্রমাণ করেছেন তাঁরা।
প্রথম আলো জনাচ্ছে, হাড়িয়াপাড়া, কামদেব, কালীগঞ্জ, আটানী ও কালিয়াপাড়া—পীরগাছার এসব গ্রামের নারীদের সাফল্যের পেছনে রয়েছে স্থানীয় উদ্ভাবন ও কঠোর পরিশ্রম। পোশাক কারখানার পরিত্যক্ত রঙিন সুতা আর বাঁশের বাতা ব্যবহার করে যে শৈল্পিক পাখা তৈরি হচ্ছে, তা কেবল গ্রীষ্মের দহনই জুড়াচ্ছে না, গ্রামগুলোর অন্তত ৮০০ পরিবারের কপালও খুলে দিয়েছে। একসময়কার ভূমিহীন বা অতিদরিদ্র নারীরা আজ পাখা তৈরির আয়ে জমি কিনছেন, গাভি-ছাগল পালন করছেন, এমনকি নিজস্ব পুকুর খনন করে মাছ চাষও করছেন। মাসে ১২ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করার এই সক্ষমতা গ্রামীণ অর্থনীতির ভিতকে যে কতটা মজবুত করতে পারে, পীরগাছার নারীরা তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।গৃহকর্মের ফাঁকে ফাঁকে বা বিশ্রামের অবসরে দল বেঁধে পাখা তৈরির এই প্রক্রিয়া এখন একটি কুটিরশিল্পে রূপ নিয়েছে। ৩০ বছর আগে আমেনা ও দুলালী বেগমের হাত ধরে যে উদ্যোগের শুরু, আজ তা দেড় হাজার নারীর জীবনে বসন্তের হাওয়া নিয়ে এসেছে। অভাব-অনটনের জাঁতাকলে পিষ্ট স্বামীহারা রশিদা বা ভূমিহীন মঞ্জিলা খাতুনদের এই ঘুরে দাঁড়ানো আমাদের শেখায় যে যথাযথ কর্মসংস্থান আর সদিচ্ছা থাকলে কোনো বাধাই অজেয় নয়।
তবে এই শিল্পের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হতে পারে, যদি সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বর্তমানে খামারিরা নিজস্ব উদ্যোগে দূরদূরান্ত থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করছেন এবং পাইকারদের কাছে পণ্য বিক্রি করছেন। যদি তাঁদের সহজ শর্তে ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করা হয় এবং বিপণনব্যবস্থায় সরাসরি বাজারের সংযোগ ঘটিয়ে দেওয়া যায়, তবে লাভের অঙ্ক আরও বাড়বে। উপজেলা সমাজসেবা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাদের নজরদারির পাশাপাশি এই ‘পাখাশিল্প’কে যদি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া যায়, তবে পীরগাছা মডেল সারা দেশের দুস্থ নারীদের জন্য একটি পথপ্রদর্শক হতে পারে।
পীরগাছার নারীরা প্রমাণ করেছেন যে বড় কোনো কলকারখানা নয়, হাতের নৈপুণ্য আর সামান্য মূলধন দিয়েই দারিদ্র্যের শিকল ভাঙা সম্ভব। তাঁদের প্রতি আমাদের অভিবাদন।
05/25/2026
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৭ শিশুর মৃত্যু
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে, আর একটি শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে গত ৭১ দিনে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা ৫৪৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৫৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামে ৮৭ শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এই হিসাব ২৪ মে সকাল আটটা থেকে আজ ২৫ মে সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ের।গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে যে ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ৭ শিশুই ঢাকা বিভাগের। এ ছাড়া সিলেট বিভাগে তিন জন, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে দুই জন করে এবং ময়মনসিংহে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
শেষ ২৪ ঘণ্টায় হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ১২৭ জন। এই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৭ শিশু। তাদের মধ্যে ৪২৭ শিশুই ঢাকা বিভাগের। এরপর আছে চট্টগ্রাম (২০৮), বরিশাল (১২৮) ও খুলনা (৯৫)। গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৪০৫ জন হাসপাতাল থেকে ছুটিও পেয়েছে।
গত ১৫ মার্চ দেশে প্রথম হাম রোগী শনাক্ত হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৭১ দিনে মোট হাম রোগীর সংখ্যা ৬৪ হাজার ৯৪০ জন। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫১ হাজার ৫৮৫ জন। মোট হাম শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৭১৯ জনের। এ ছাড়া ৭১ দিনে হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছে ৪৭ হাজার ৬১৯ জন।
05/25/2026
শিশুধর্ষণ ও হত্যা: জনতুষ্টিবাদী বিচার ও আইনের বিপদ
পত্রিকা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খুললেই অপরাধপ্রবণতার নানা খবর, বিশেষভাবে শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার সংবাদ ধারাবাহিকভাবেই আমাদের চোখে পড়ে। সেটি অন্তর্বর্তী সরকারের গাফিলতির কারণে হওয়া হামের প্রাদুর্ভাবে ৫০০ শিশুর পদ্ধতিগত হত্যাকাণ্ডই হোক অথবা যৌন নিপীড়নের মতো নৃশংসতম অপরাধই হোক না কেন। কয়েক দিন ধরে পল্লবীর কন্যাশিশু হত্যাকাণ্ড এবং বনশ্রীর মাদ্রাসাশিক্ষার্থীর আত্মহত্যা নিয়ে জোর প্রতিবাদ হচ্ছে সমাজের সব স্তর থেকে। দুঃখজনক হলেও সত্যি, দুটি ঘটনাতেই শিশু দুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
এ ধরনের নৃশংস ঘটনায় সাধারণ জনগণের ক্ষোভ থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক। কেননা শিশুদের ব্যাপারে আমরা সবাই সংবেদনশীল ও আবেগপ্রবণ। কিন্তু আমাদের সেই আবেগ যেন রাষ্ট্রক্ষমতা ও বিচারব্যবস্থাকে এমনভাবে প্রভাবিত না করে, যা নতুন কোনো অবিচার বা অন্যায়ের জন্ম দেয়। কিন্তু গত কয়েক দিনে সরকার ও বুদ্ধিজীবী মহলের নানা বক্তব্যে সে আশঙ্কাই বেড়ে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।
বাংলাদেশ সংবিধানের অন্যতম মৌলিক অধিকারের একটি হলো, ‘সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী (অনুচ্ছেদ ২৭)।’ এ প্রসঙ্গে সংবিধানে আরও বলা আছে, ‘যথাযথ আইন ব্যতীত এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না, যা কোনো ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করে (অনুচ্ছেদ ৩১)।’ এ ছাড়া আইনের মৌলিক একটি নীতি হচ্ছে, অভিযোগ প্রমাণের আগপর্যন্ত সব ব্যক্তিকে ‘নির্দোষ’ বলে ভাবতে হবে। এই নীতি সাধারণ নাগরিক হিসেবে আপনি-আমি যতই অপছন্দ করি না কেন (বিশেষ করে শিশুধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে) আইনকে তার নিয়মে চলতে দেওয়াই বাঞ্ছনীয়।
অথচ আমরা দেখেছি, জনপ্রতিবাদের মুখে নানা সময়ে আইনের পরিবর্তন এসেছে বাংলাদেশে। বিশেষ করে ধর্ষণের ক্ষেত্রে কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়েছে অনেক সময়েই। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে, বিচারের চেয়ে ‘ফাঁসি’ই বেশি কাম্য হয়ে ওঠে এই সব দাবিদাওয়ায়।
এর পেছনে মূলত দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, সাধারণ মানুষ মনে করেন, এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে অন্যান্য সম্ভাব্য ধর্ষকদের ভয় দেখানো সম্ভব, যা মূলত ধর্ষণের মতো অপরাধ কমাতে সাহায্য করবে। দ্বিতীয়ত, বিচারহীনতার এই দেশে মানুষ ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ডকেই কেবল উপযুক্ত শাস্তি বলে মনে করে। এটি আদতে এখনো আমাদের সেই আদিম যুগের ‘চোখের বদলে চোখ বা দাঁতের বদলে দাঁত’ নেওয়ার প্রবৃত্তিরই বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সরকার কি জনতুষ্টিমূলক সিদ্ধান্ত নেবে, নাকি সব জনগণের জন্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এবং শিশুধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধ প্রতিরোধে সচেষ্ট হবে?
05/25/2026
নরসিংদীতে দুই হিজড়াকে ছুরিকাঘাত, একজনের মৃত্যু
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় ইয়াসমিন ওরফে সুমন (২৭) নামের এক হিজড়াকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন আরেক হিজড়া চাঁদনী ওরফে বাবু (২৬)। গতকাল রোববার রাত ১২টার দিকে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের পিরিজকান্দি গ্রামের রেলগেটসংলগ্ন একটি মুরগির খামারে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইয়াসমিন ওরফে সুমন ওই গ্রামের মো. রবিউল্লাহর সন্তান। আহত চাঁদনী ওরফে বাবু মিন্টু মিয়ার সন্তান। পরিবার থেকে বের হয়ে দুজন একসঙ্গে থাকতেন। ঘটনাস্থল থেকে তাঁদের বাসা পাঁচ মিনিটের হাঁটার পথ বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মো. রাসেল মোস্তফা (৩৫)। তিনি তিন বছর ধরে ওই মুরগির খামারের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তবে খামারের মালিক জাকির মিয়ার কাছে তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রের কোনো কপি নেই এবং ঠিকানাও জানা নেই।
আহত চাঁদনীর বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গতকাল রাত ১২টার দিকে ইয়াসমিন ও চাঁদনী মুরগির খামারের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় খামারের শ্রমিক রাসেল মোস্তফার সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত অবস্থায় রাসেল তাঁদের দুজনকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। ঘটনাস্থলেই ইয়াসমিনের মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় ব্যক্তিদের ভাষ্য, মাদক ব্যবসার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ও ভুক্তভোগী তিনজনের বিরুদ্ধেই এলাকায় মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ আছে।
চাঁদনীর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে ইয়াসমিনের মরদেহ উদ্ধার করেন।
ওসি বলেন, আহত চাঁদনীকে প্রথমে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন। ছুরিকাঘাতে নিহত হিজড়া ইয়াসমিনের লাশ রাতে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। কেন এ হত্যাকাণ্ড, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত ওই শ্রমিককে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে।
05/25/2026
বাবার লাশ মর্গে, ছেলে হাসপাতালে, মামা থানায় লাশের অপেক্ষায়
তরিকুল ইসলাম চট্টগ্রাম থেকে রডবোঝাই ট্রাকে উঠেছিলেন গতকাল রোববার দুপুরে। সঙ্গে ছিলেন শ্যালক নজরুল ইসলাম ও শ্যালকের ছেলে তুহিন। ঈদ উপলক্ষে কম ভাড়ায় বাড়ি যাওয়ার জন্য তাঁরা ট্রাকের আরোহী হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের বাড়ি ফেরা হয়নি। আজ সোমবার ভোরে যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তের সংযোগ সড়কের সরাতৈলে ট্রাকটি উল্টে যায়।
তরিকুল ইসলাম অক্ষত অবস্থায় বেঁচে যান। ঘটনাস্থলেই নিহত হন নজরুল ইসলাম। আহত হন তুহিন।
আজ সকাল ১০টার দিকে যমুনা সেতু পূর্ব থানায় কথা হয় তরিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বাড়ির লোকজন আশায় বইসা আছে, আমরা দুপুরের মধ্যেই পৌঁছাইয়া যামু। কিন্তু নজরুল রইছে মর্গে, তুহিন হাসপাতালে আর আমি থানায় আছি। নজরুলের লাশ কহন বুইঝা পামু জানি না। লাশ পাওয়ার পর বাড়ি নিয়া যামু।’