12/07/2026
বাংলা স্কুলের শিক্ষকদের আহাজারি- ৩
(৬ জন শিক্ষক কর্মচারী বরখাস্ত)
বাংলা স্কুলে গ্রীষ্মের ছুটি শুরু হয়েছে, ছুটি শুরু হলেও ইকামা রিনিউ না করার ফলে শিক্ষক-কর্মচারীরা দেশে যেতে পারছেন না এবার। তার উপর ৬ জন শিক্ষক_কর্মচারীকে ছুটির দিনই চাকুরিচ্যুত করে "ভাত দেবার মুরোদ নেই কিল মারার ঘোসাই" এর ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে রোকুনুজ্জামানের অবৈধ পর্ষদ এবং অত্যন্ত চতুরতার সাথে প্রতারণামূলক ভাবে এই ৬জন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের নোটিশ দিয়ে তাদের প্রাপ্য ৬০ দিনের পেইড নোটিশ পিরিয়ড হতে বঞ্চিত করা হয়েছে। এখন কেউ যদি সংক্ষুব্ধ হয়ে আদালতে তাদের এই অবৈধ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে ভুয়া ইঞ্জিনিয়ারের চেয়ারম্যানগিরী একদম ছুটে যাবে।
তাছাড়া যে সকল বুড়ো ভাম গত ২ বছর ধরে সাবেক শিক্ষকদের ন্যায্য পাওনা দেয়নি বলে জনাব শোয়েব-আমিনুল হুদার পর্ষদের বিরুদ্ধে কুতসা রটিয়েছিল (যদিও সেটা সর্বৈব মিথ্যা এবং বানোয়াট), এখন ভুক্তভোগী শিক্ষক-কর্মচারীগণ এই অন্যায়ের বিরুদ্ধেও তাদের প্রতিবাদ দেখতে চায়, কারণ এই ৬ জনকে অত্যন্ত অন্যায়ভাবে তাদের প্রাপ্য নোটিশ পিরিয়ড দেয়া হয়নি।
বর্তমান এসএমসি শিক্ষকদের মধ্যে দলাদলি গ্রুপিং তৈরির পাশাপাশি একে একে ভালো ভালো শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বরখাস্ত করে তাদের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছে। প্রতিহিংসাটা কি? তা হলো সে শিক্ষকগুলো সাবেক বিওডির সময় নিয়োগকৃত এবং প্রিন্সিপালের আস্থাভাজন, সুতরাং তাদের রাখা যাবেনা। যে কোনো ছুতো ধরে তাদের বরখাস্ত করতে হবে।
৬ জন শিক্ষক কর্মচারীর মধ্যে ববরখাস্তকৃত শিক্ষকগণ হলেন:
১) মিসেস জান্নাতুল ফেরদৌস
-ইনি মাদার কেয়ার শিক্ষিকা। ছোট বাচ্চাদেরকে মায়ের মত করে যত্ন করে পড়ান, হাতে ধরে লিখতে শিখান, টিফিন খাইয়ে দেন। শ্রেণি কক্ষে সদা তৎপর থাকার দরুন তিনি সহ:কোর্ডিনেটরের দায়িত্ব পালন করেছেন বেশ কিছুদিন। তার বিশেষ গুণ হলো তিনি আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটস বিষয়ে পারদর্শী। গোলাম ফারুক সাহেবের বিদায় এবং সর্বশেষ শাহীন স্যারের অব্যাহতির পরও আর্টসের শিক্ষকের অভাব পূরণ করেছেন যিনি তিনি এই সভ্য শান্ত ধীরস্থির জান্নাতুল ফেরদৌস ম্যাম। এই ম্যাডামকে বাদ দেয়া হয়েছে স্কুলের আর্থিক টানাপোড়েনের অযুহাতে, অথচ তার বেতন মাত্র ১৮০০ রিয়াল। আসলে মূল কারণ হলো তিনি সাবেক বিওডির সময়ে নিয়োগকৃত এবং প্রিন্সিপাল সাহেব টিচার্স মিটিংয়ে ২/১ বার তার কর্ম তৎপরতার প্রশংসা করেছিলেন। ব্যাস, যিনি প্রিন্সিপালের আস্থাভাজন তার স্কুলে চাকরি করার অধিকার নাই। কিন্তু স্কুলে আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটের বিকল্প কোনো শিক্ষক নাই।
২) ইতি ম্যাডাম
ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং এ মাস্টার্স করা এই ম্যাডামকে মাদার কেয়ার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হলেও তিনি মাদার কেয়ারের পাশাপাশি এসএসসি/ এইচএসসি ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং পড়ান। তাকে সিনিয়র শিক্ষিকা হিসেবে নিয়োগ না দিয়ে মাদার কেয়ার হিসেবে নিয়োগ দেয়ার উদ্দেশ্য ছিলো অল্প বেতনে কাজ করানো। তিনি ভিজিট ভিসায় সৌদিতে আসলেও চাকরিতে পার্মানেন্ট করার শর্তে বিপুল অর্থ ব্যয় করে ইকামা বানিয়ে স্থায়ী হয়েছেন। তাকেও বরখাস্ত করা হয়েছে স্কুলের আর্থিক অসংগতির কথা বলে, অথচ তার বেতনও ১৮০০ রিয়াল। সবচেয়ে বড় কথা হলো এখন স্কুলে ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং পড়ানোর কোনো শিক্ষক নেই।
৩) গাউসুল আজম মাফি:
এই মাফি স্যারকে নিয়ে বিতর্কের অন্ত নেই। অত্যন্ত সুকৌশলে প্ল্যান করে একজন সহজ সরল প্রতিভাবান মানুষকে ভিলেন বানিয়ে দেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মোটা দাগে চক্রান্ত করেছে সদ্য সাবেক একজন ম্যডাম এবং সাবেক শিক্ষক আল মামুন। (অবশ্য আল মামুনকে শিক্ষক না বলে বখাটে কিংবা গ্যাংস্টার বলাই যুক্তিযুক্ত, তার অপকর্মগুলো প্রমাণসহ লিখতে গেলে আলাদা কয়েকটা পোস্ট লিখতে হবে)।
মাফি স্যারের মধ্যে ভুল থাকতে পারে, তিনি অতি আবেগী হতে পারেন কিন্তু শ্রেণি কক্ষে কিংবা শ্রেণী কক্ষের বাইরে কিংবা একটা প্রোগ্রামকে বাস্তবায়নের জন্য তিনি যে পরিশ্রম করেন তা অতুলনীয়। শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য তিনি যে অমানুষিক শ্রম দিয়েছেন বাংলা স্কুল সেই ঋণ কখনোই শোধ করতে পারবেনা। তাঁর ছোঁয়ায় স্কুলের প্রতিটি অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত এবং উপভোগ্য হয়ে উঠে। তাকে বাদ দেয়া হলো কেন? কারণ স্কুলের আর্থিক সংকট এবং উনার ইকামা নাই তিনি অবৈধ। আরে ব্যাটা রোকুনুজ্জামানের এসএমসি'ই তো অবৈধ, তার সিদ্ধান্তগুলোও অবৈধ। আর ক্লাসে পড়াতে কি ইকামা লাগে? ক্লাসে পড়াতে লাগে যোগ্যতা৷ রিয়াদ শহরে লাখো ইকামাধারী পাওয়া যাবে কিন্তু মাফি হবার যোগ্যতা আছে কয় জনের? স্কুলের ইতিহাসে কেউ কি কখনো দেখেছে জাওয়াযাত কিংবা মক্তব আমল এসে কারও ইকামা চেক করতে কিংবা ইকামা না থাকার দরুন জরিমানা করতে? কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এগুলো চেক করা হয়না, ইকামা ভিজিট ভিসা হলো অজুহাত। স্কুলে বাংলা শিক্ষকের ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও তাকে বরখাস্ত করা হলো কেন? তার দোষ হলো তিনিও সাবেক বিওডির আমলে নিয়োগকৃত এবং প্রিন্সিপালের আস্থাভাজন।
৪) আনোয়ার হোসেন
জনাব আনোয়ার হোসেন নবাগত শিক্ষকদের একজন। তিনি আইসিটি এবং ম্যানেজমেন্টে উচ্চতর ডিগ্রিধারী। তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল আইসিটির পাশাপাশি উপরের ক্লাসগুলোতে ম্যানেজমেন্ট পড়ানোর জন্য। উল্লেখ্য জনাব শোয়েব - আমিনুল হুদার পর্ষদ কারো চেহারা কিংবা সুপারিশ দেখে কাউকে চাকরি দেয়নি, স্বজনপ্রীতির তো প্রশ্নই আসেনা। একথা একদম চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলা যায়। আলাদা আলাদা সাব্জেক্ট স্পেশালিষ্টের সমন্বয়ে ইন্টারভিউ বোর্ড গঠন করে প্রায় ২৫০ জন প্রার্থীর মধ্য হতে লিখিত- ভাইভা এবং ক্লাস ডেমোন্সট্রেশন নিয়ে নতুন শিক্ষকগুলো নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। আগের মতো একঝাঁক বরিশাল কিংবা একঝাঁক রাজশাহী গ্রুপকে ঢালাওভাবে চাকরি দেয়া হয়নি এবার। যারাই চাকরি পেয়েছেন সবাই ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে নিজ নিজ মেধার গুনে পেয়েছেন।
এদের কাজ করার সুযোগ দিলে স্কুলের পড়াশোনার মান বাড়তো, তথাকথিত অভিজ্ঞ শিক্ষক নামক টিউশনবাজদের হাত থেকে ছাত্র এবং অভিভাবকরা পরিত্রাণ পেতো। যতদূর জানা গেছে সাবেক বিওডির উদ্দেশ্যই ছিল টিউশনবাজদের জায়গায় নতুন শিক্ষকদের নিয়োগ দিয়ে ক্লাসের অভ্যন্তরে পড়াশোনার মান বৃদ্ধি করা, কারণ কথিত অভিজ্ঞ শিক্ষকরা টিউশন পড়াতে পড়াতে স্কুলে আসে এবং ক্লাসে না পড়িয়ে স্কুল থেকে বের হয়ে টিউশন পড়াতে পড়াতে বাসায় যায়।
আনোয়ার স্যারকে অব্যাহতি দেবার আরেকটা কারণ যেটা জানা যায় তাহলো আমির স্যার নামক টিকটকার এবং লিপি নামক দুতিয়াল নোংরা মহিলাকে রক্ষা করা। এই দুই জনই আইসিটির শিক্ষক এবং দুই জনেরই শ্রেণি কার্যক্রম একদম তলানিতে থাকার কারণে সাবেক বিওডি নতুন আইসিটির টিচার নিয়োগ দেয়। সুতরাং আনোয়ার স্যারকে বাদ না দিলে এই দুই জনের চাকরি ঝুঁকিতে থাকে! এই দুই অথর্বকে বাদ দেয়া অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত হলেও রোকুনুজ্জামানের বিওডি বাদ দেবেনা কারণ এই দুইজন শিক্ষক গত দুই বছর ধরে বিভিন্ন মিথ্যা বানোয়াট তথ্য দিয়ে রোকুনুজ্জামানের বখাটে টিমকে অনেক সহায়তা করেছে এবং এখনো করছে। যদিও তারা জানে শিক্ষক হিসেবে এই দুই জন বর্তমানে স্কুলের সেরা অথর্ব এবং এদের বেতনও বেশি। কিন্তু তাদেরকে সেভ করার জন্য নবাগত শিক্ষক আনোয়ার হোসেনকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে। স্কুলের আর্থিক অসংগতি অজুহাত মাত্র। বরং আর্থিক কৃচ্ছতা সাধনের জন্য লিপি, আমির এবং ফ্যাসিবাদের আইকন খাদেম আলীকেই বরখাস্ত করাই বেশি যুক্তিযুক্ত ছিলো এবং তাতে দীগুন টাকা সাশ্রয় হতো।
লিপি এবং আমির হোসেন কোন মানের টিচার?
সূত্র মতে লিপি ম্যাডাম আইসিটির ছাত্র নন, তিনি আইসিটি পড়েনইনি এবং এবিষয়ে তার কোনো ডিগ্রিই নেই। কিন্তু অবাক কান্ড হলো তিনি আইসিটির প্রভাষক সেজে বসে আছেন এবং এ বিষয়ে কারো কোনো বিকার নাই। তিনি নিজ বাসায় দিব্যি কোচিং সেন্টার খুলে সব বিষয়ে জ্ঞান দান করছেন এবং শিক্ষার্থীদের স্কুলে ভর্তি না হবার কুমন্ত্রনা দিয়ে তাদের এবং স্কুলের সর্বনাশ করে চলেছেন।
আর আমির হোসেন স্যার একজন টিচার কাম টিকটকার। তিনি কোনো এক অখ্যাত প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির ডিগ্রিধারী, শ্রেণি কক্ষে পড়ালেখার চেয়ে মোবাইলে সময় দেন বেশি। আইসিটির গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল অংশগুলো ক্লাসে না পড়িয়ে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট টিউশনে বাধ্য করেন। জানা যায় সর্বশেষ গৃহীত শ্রেণি কার্যক্রম মূল্যায়ন অনুযায়ী তার অবস্থান ছিলো একদম সর্বনিন্নে। ২০২৪ সালে এসএসসি এইচএসসি'র শিক্ষার্থীরা তাকে স্বেচ্চায় অবমূল্যায়ন করে তার পরিবর্তে নতুন টিচার দাবি করেছিল, সেই রেকর্ড স্কুলে এখনো সংরক্ষিত আছে। তবুও তাদের চাকরি যাবেনা কারণ বর্তমান বিওডির উদ্দেশ্য স্কুলের পড়াশোনার মান বৃদ্ধি না, নিজেদের বিদ্ধেষ প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা।
স্কুলের সচেতন অভিভাবকদের মতে জনাব শোয়েব এবং আমিনুল হুদার পর্ষদ তাদের সময়ে পুর্বেকার পর্ষদ মোস্তাক-রফিকদের নামে কখনোই কোনো সভা-সমাবেশে দুর্নাম বা সমালোচনা করেনি, বরং তাদের প্রশংসা করেছে। যদিও ১৭ লক্ষ রিয়াল ঋণের বোঝা, ঘুষের বিনিময়ে স্কুলের দুই নাম্বার লাইসেন্স বানানো এবং স্কুলের সোয়া লক্ষ রিয়াল মক্তবে আমলে জমা না দিয়ে ১২ জন শিক্ষক-কর্মচারীর ইকামা মালগী লাগানোর দায়সহ তাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য প্রমাণিত অভিযোগ আছে, যা দিয়ে তাদের হেনস্থা করা যেতো। কিন্তু বর্তমান পর্ষদ বিগত ৩/৪ মাসে স্কুলের ভেতরে বাইরে বিভিন্ন সভা-সেমিনারে যেভাবে সাবেকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট অজুহাতে জিঘাংসা আর বিষদগার করেছে, তা স্কুলের ৪০ বছরের ইতিহাসে বিরল।
রোকুনুজ্জামানের অবৈধ বিওডি আসলে কি চায়?
তারা স্কুলের মানোন্নয়ন চায়না, তাদের উদ্দেশ্য প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা। তারা সাবেক বিওডির নিয়োগকৃত কিংবা প্রিন্সিপালের অনুগত কাউকেই স্কুলে রাখতে চায় না। প্রিন্সিপালের অনুগতদের বাদ দিয়ে এবং কিছু টিউশনবাজকে প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়ে ক্ষেপিয়ে দিয়ে, বিশেষ বিশেষ শিক্ষক-শিক্ষিকা দিয়ে প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে অপবাদ দিয়ে তাকে চাকরিচ্যুত করে তারা স্কুলটাকে একটা ভেড়ার খামার বানাতে চায়। সেখানে শুধু ভেড়ারাই রাজত্ব করবে আর তারা হবে ভেড়াদের রাজা।