10/01/2020
”আমি এখন হাসতে জানি”
প্রবাসী মজুমদার
-----------------------------------
.......এর আগে জীবনে অনেক বার কেঁদেছি।
কারণে কেঁদেছি। অকারণে কেঁদেছি। বুঝে কেঁদেছি। না বুঝেও কেদেঁছি। দেখে কেঁদেছি। শুনেও কেঁদেছি। চ্যাকা খেয়ে কেঁদেছি। চ্যাকা দিয়েও কেঁদেছি। ....সেই কান্নার সবগুলো কারন এখন আর মনে নেই। কারন ওসব কান্নার সবগুলো ঘটনা জীবনে ক্ষত সৃষ্টি করতে পারেনি। পারলেও আগের ক্ষতের চেয়ে পরের ক্ষতটি বড় হওয়ায় তা মুছে দিয়েছে স্মৃতি থেকে। জীবন চলার পথে এভাবে হাজারো মুছে যাওয়া ক্ষতের মধ্যে কিছু বেদনা আছেম যার গভীরতা সব ক্ষতকে হার মানায়। স্মৃতিতে ভাস্মর, দাগ কাটার মত সেই ক্ষতগুলো নিয়েই বেঁচে থাকা প্রতিটি মানুষ এক একটি জীবন্ত মহাকাব্য।
১৫ই আগষ্ট। ১৯৭৫ সাল। শুক্রবার। জুমাবারের এ দিনটিতে আমরা এমন অঝোরে কেঁদেছি, যৌ্থভাবে কেঁদেছি, পুরো পরিবার মিলে কেঁদেছি, হাউমাউ করে বুক ফাটিয়ে কেঁদেছি, যা অতীতের সব কান্নাকে ভুলিয়ে দিয়েছে। এ কান্নায় যোগ দিয়েছিল পাড়া প্রতিবেশীসহ গ্রামের সবাই। ঘটনাবহুল ১৯৭১ সালেও কোন হৃদয় বিদারক ঘটনা নিয়ে আমরা সম্মিলিত কান্নার দৃশ্য দেখিনি।
সেদিনটির কান্না শুধু কান্না ছিলনা। একদল মানুষকে আমৃত্যু তাড়িয়ে বেড়ানোর এক স্মৃতিময় দিন ছিল। হৃদয়ে গেঁথে যাওয়া একটি স্মরনীয় দিন।
দুই বোন চার ভাই নিয়েই ওদের সংসার। ভাইদের দিক থেকে ওর সিরিয়াল নাম্বার চার। বোনদের হিসেব কেরলে সদস্য নাম্বার ছয়।একেবারে কনিষ্ঠ সন্তান। চাহনী, ভাব গাম্ভীর্যতা আর নাদুস নুদুস চেহারায় তৃপ্তির হাসি দেখে সবাই মিলে মাতাপিতার এ সর্বশেষ প্রোডাক্ট টির নাম রেখেছিল - মিলন।
১৯৭১-৭৫, বোধ বুদ্ধিতে বেড়ে উঠার জন্য এটি ছিল মিলনের জীবনের এক টার্নিং পয়েন্ট। যুদ্ধ বিগ্রহ, ক্ষুধা দারিদ্রতা, শাসক শোষনের নির্মমতা, দিশেহারা মানুষের চীৎকার, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বাজার, রাস্তাঘাট সহ প্রতিটি জনপদে ছিল অভিশপ্ত যুদ্ধের এক করুণ বাস্তবতা। নিরাপরাধ মানুষকে খুন করার মত নির্বাক দৃশ্য ওর জীবন বোধ আর কল্পনাকে ভিন্নভাবে ভাবতে শিখিয়েছে।
১৯৯১ সাল। ডিসেম্বরের শেষের দিক। প্রবাস জীবনের অবসর সময়ের কোন এক সন্ধ্যার আড্ডায় একান্ত আলাপচারিতার মধ্য দিয়েই মিলনের সাথে প্রথম পরিচয়। তার পর সখ্যতা।... হৃদ্যতার বেড়াজালে আটকে পড়ে হাজারো স্মৃতিচারণ। সে স্মৃতিচারণ থেকে হৃদয়ে দাগ কাটার মত জীবনের অজানা ঘটনাগুলো নিয়েই নির্বাক মানুষের এ জীবন্ত গল্প।
(চলবে)
বি,দ্র. আপনার কমেন্ট, অনুভুতি, মতের প্রকাশ যদি একটি লিখাকে আরও শানিত করতে অনুপ্রেরণা যোগায়, তাহলে আত্মঘাতী এ কার্পন্যতা থেকে নিজে মুক্ত করার জন্য প্রতিবাদী কলমকে বলুন হৃদয়ের কিছু কথা এখানে রেখে যেতে।