12/11/2023
একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে শক্তিশালী কোরিয়া গড়ে উঠার গল্পঃ
বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী অর্থনীতিতে নিজেদের জাত চিনিয়ে দিতে পেরেছে খুব কম সংখ্যক জাতি। ক্ষুধা আর দারিদ্রতার বেষ্টনী যেখানে ঘিরে ধরেছিল সমগ্র পৃথিবীকে সেখানে নিজেদের পরিশ্রম আর দৃঢ় মনোবলে সারা বিশ্বের কাছে হয়ে উঠেছে অনন্য উদাহরণ। প্রাকৃতিক সম্পদের অপ্রতুলতা, প্রতিবেশি দেশের প্রবল সংকট, নিগ্রসন পুরো জাতিকে যেখানে দিশেহারা করে রেখেছে। সেখানে নিজেদের ভাগ্য উন্নয়ন আর টিকে থাকাটা ছিল নিতান্তই দুষ্কর। দক্ষিণ কোরিয়ার কথাই বলছি, বিশ্বযুদ্ধ কালিন দিশেহারা আর ধ্বংশস্তুপে পরিনত হওয়া দেশটি আজ এশিয়ার অর্থনীতিতে চমক রেখে যাচ্ছে দিনের পর দিন। সমসাময়িক অনেক দেশের কাছে যেটা স্বপ্ন, কোরিয়ার কাছে সেটা বাস্তব।হান সাগরের কোলে লালিত হওয়া দেশটির আয়তন ১ লক্ষ বর্গকিলোমিটারের কিছুটা কম। শতকরা ৮০ ভাগ পর্বতে ঘেরা দেশটিতে কৃষিতো দুরে থাক মাথা ঘুজানোর বসতিও সম্ভব নয়। চরম প্রাকৃতিক বিকারগ্রস্ত এ দেশটিতে বেশিরভাগ সময় তাপমাত্রা থাকে শূণ্যের অনেক নিচে। বরপ ঢাকা এ দেশের জনজীবন কতটা কষ্টকর হয়ে উঠে তা কেবল ভুক্তভোগীরই জানার কথা। তবু জীবন থেমে থাকে নি, প্রানের সঞ্চার ঘটেছে প্রবল তুষারের ভুখন্ডে, দুর্গম পর্বত তার গম্ভীরতা ভুলে মায়ের শীতল আঁচল বিছিয়ে দিয়েছে। শত প্রতিকূলতার বিপরীতে মায়ার স্পন্দন মেলে দিয়েছে প্রকৃতি। সময়ের ব্যবধানে পুরো জাতি কোরিয়াকে সাজিয়ে তুলেছে সব বাধা ব্যবধান ভুলে। দুই দশক আগের কোরিয়ার কাছে বর্তমানের কোরিয়া যেন এক সৌন্দর্য্যের রমনী।
কোরিয়ার সাথে জাপানের গৃহযুদ্ধের কথা ইতিহাসে আজো আলোচিত এবং শিহরিত এক ঘটনা।নিজের প্রতিশোধের অনলে না পুড়ে দেশকে গড়ে তোলার জন্য কাজ করে সবাই।
কোন একদিন যাদের চোখের বিষ ছিল সে কোরিয়া আজ রিতিমত তাদের কাতারে। প্রবল নির্যাতন আর দুর্বিষহ জনজীবনের কথা মনে হলে কোরিয়ার মানুষ আজো ঘৃনাভরে স্মরণ করে জাপানীদের
নিজেদের প্রাকৃতিক সম্পদের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে এশিয় অঞ্চলের অর্থনীতির প্রানকেন্দ্র হয়ে উঠে কিছুদিন আগের কোরিয়া। যেখানে একই পোতাশ্রয়ে পরিচিত উত্তর কোরিয়া নিজেদের জাত চেনাতেও সক্ষম হয় নি এখনো অবধি। প্রবল খাদ্য সংকট আর নাগরিক নিপিড়নের ঘটনা যেখানে প্রাত্যহিক খবর।
বিশ্বের সম্পদশালী দেশগুলো যেখানে নিজেদের সম্পদের বন্টন করতে হিমসিম খাচ্ছে। সেখানে ৮৫ ভাগ পর্বতময় দেশে শিল্প বিপ্লব যেন এক রুপকথার গল্প। না, রূপকথা নয়, যে জাতি খাদ্যের অভাবে হাহাকার করেছিল এখন থেকে দুইদশক আগে, সে জাতি পুরো দক্ষিন এশিয়া নয়,সারা বিশ্বের অর্থনীতিতে এক নাভিঃশ্বাসের জড় তুলেছে। গত এক দশকে কোরিয়ার অর্থনীতি বলয় এতটায় উর্ধ্বমুখী যে, মাথাপিছু আয় ছাড়িয়ে গেছে সীমা থেকে অসীমে