17/05/2024
কিভাবে জাপান আসবেন পর্ব ১
আসসালামু আলাইকুম
অনেকে হয়তো জাপানে উচ্চশিক্ষা সম্পর্কে জানেন না বা কি জানতে চান। বর্তমানে জাপান সরকার জনসংখ্যা ঘাটতির কারণে বিদেশের স্টুডেন্টদের জন্য জাপানে পড়ালেখা করে সেটেল হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ করে দিয়েছেন।
আজকে শুধু স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে বিস্তারিত আলাপ করবো।
খুব শীঘ্রই টুরিস্ট/ঘুরতে আসার ভিসা প্রসেসিং এর ব্যাপারে বিস্তারিত পোস্ট করব ইনশাআল্লাহ।
সবাই ভাল থাকবেন
🎓জাপানে উচ্চ শিক্ষা ও স্হায়ী বসবাসের সুযোগ 🎓
বতর্মান বিশ্বে জাপান হল বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। আমেরিকা যেখানে ৩৩কোটি জনসংখ্যা নিয়ে প্রথম,চীন ১৪৩কোটি জনসংখ্যা নিয়ে দ্বিতীয় সেখানে মাত্র ১২কোটি জনসংখ্যা নিয়ে জাপান তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ।তবে হতাশার দিক হলো প্রতি বছর জাপানের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার মাইনাস যার ফলে বৃদ্ধের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে আর কর্মজীবী লোকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
জাপানের জনসংখ্যা ক্রমশ হ্রাস পাওয়ার ফলে কর্মজীবী লোকের সংখ্যা কমে যাওয়া, বিভিন্ন কম্পানি তাদের চাহিদা অনুযায়ী শ্রমিক না পাওয়া সহ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে জাপান সরকার তাদের আসন্ন দূর্যোগ মোকাবেলার জন্য বিদেশীদের জাপানে আসার ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন আইন সহজ এবং জাপানে স্থায়ী বসবাসের জন্য বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে।বিশেষ করে ছাত্র ছাত্রীদের কে student ভিসার মাধ্যমে একটি বড় সংখ্যক মাইগ্রেশনের পরিকল্পনা করেছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকার একটি মহামারীর আকার ধারণ করেছে। শিক্ষিত বেকারের মধ্যে যারা একটু সচেতন তারা বিশ্বের উন্নত দেশ গুলোতে মাইগ্রেশনের চেষ্টা করছে। উন্নত দেশগুলোতে বিশেষ করে আমেরিকা, কানাডায় সাধারণ স্টুডেন্ট ভিসায় যেতে এক বছরের টিউশন ফি সহ বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ২০-২৫ লক্ষ টাকা খরচ হয় এবং যাওয়ার পর পরবর্তী বছরের টিউশন ফি পরিশোধের জন্য অধিকাংশই বাংলাদেশ থেকে টিউশন ফি নিতে দেখা যায়।তাছাড়াও IELTS,GRE তে ভালো স্কোর না থাকলে আবেদন করা যায় না।এক্ষেত্রে জাপানের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।IELTS ,GRE এর কোন প্রয়োজন হয়না।
প্রয়োজন হয় যেকোন স্টুডেন্ট জাপানীজ ভাষায় ১৬০ ঘন্টার জাপানীজ ভাষা কোর্স করা এবং ন্যূনতম JLPT N5 পাশ করা। পাশ করে জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়,স্কুলে ভর্তির আবেদন করতে পারে।জাপানীজ ভাষা তুলনামূলক সহজ হওয়ায় একজন কম মেধাবী শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রেও ৩-৫ মাসের মধ্যে জাপানীজ ভাষা আয়ত্ত্ব করা সম্ভব।
জাপানে আসার জন্য সীমিত পরিসরে যে সব পন্থা আছে তার মধ্যে সহজ,দ্রুত ও বিশ্বাসযোগ্য পন্থা হল স্টুডেন্ট ভিসা। অন্য যে সব পন্থা আছে তা অনেক ব্যয়বহুল এবং প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি।বাংলাদেশ থেকে যারা স্টুডেন্ট ভিসায় জাপানে আসে তাদের মূলত লক্ষ্য থাকে জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাস করা তথা উপার্জন করা।
তাই সামাজিক ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা থেকে উন্নত জীবন মানের সন্ধানে ও বেকারের অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে জাপানই হতে পারে আপনার রিযিকের তথা স্থায়ী বসবাসের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র।
👨🎓কেন স্টুডেন্ট ভিসায় আসবেন 👨🎓
------------------------------
📍প্রথমে (STUDENT VISA)একজন ছাত্র ছাত্রী জাপানে ২ বছর বা ১ বছর ৬ মাস জাপানীজ ভাষা কোর্স শেষ করে ২ বছর বা ৩ বছরের আইটি ইন্জিনিয়ার, অটো মোবাইল ইন্জিনিয়ার , ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ইত্যাদি বিষয়ে ডিপ্লোমা অথবা কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছরের গ্রাজুয়েশন কোর্সে ভর্তি হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে সরাসরি মেইন কোর্স যাওয়ার আগে ওই বিদ্যালয়ের অধীনে জাপানীজ ভাষা কোর্স শেষ করতে হবে।
যে সকল ছাত্র ছাত্রীর বাংলাদেশে কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করা আছে তাদের ১ বছর ৬ মাস বা ২ বছরের জাপানীজ ভাষা কোর্স শেষ করে ফুল টাইম জবে প্রবেশ করতে পারে।
অধ্যায়ন শেষ করে ফুল টাইম জবে প্রবেশ করে পরিবার পরিজন সহ স্হায়ী ভাবে বসবাস করা।
📍উল্লেখ্য যে বিশেষ জব ভিসা (SSW,IM JAPAN) নিয়ে জাপান সরকার সাম্প্রতিক সময়ে সীমিত পরিসরে ভিসা অনুমতি দিচ্ছে।তবে এটা একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করতে হয় এবং লটারীর (যাচাই-বাছাই) মাধ্যমে খুব সীমিত সংখ্যক নির্বাচিত হয়।যার ফলে ইচ্ছা থাকা সত্বেও অনেকে জাপানে আসতে পারেনা।আর যারা জাপানে আসে তাদেরকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর বাংলাদেশে ফিরে যেতে হয়।
👨🎓আবেদনের যোগ্যতা👨🎓
পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে হতে প্রায় ৬ মাস এর বেশি সময় লেগে যায়। কোনো কারণে সার্টিফিকেট অফ এলিজিবিলিটি (COE) / ভিসা রিজেক্ট হলে পুরো সময়টাই নষ্ট হয়। সেজন্য শুধুমাত্র এর উপরে ভরসা করে বসে না থেকে পাশাপাশি অন্য কাজ গুলোও আপনার করে যেতে হবে। যেমন, আপনি যদি রানিং স্টুডেন্ট হন তাহলে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া লাগবে অথবা যদি সার্ভিস হোল্ডার হন তাহলে জব কন্টিনিউ করে যেতে হবে। পৃথিবীর কোনো দেশের ভিসাই ১০০% গ্যারান্টি দিয়ে কেউ বলতে পারবে না যে আপনি পাবেন। সুতরাং এটাকে একটা অপশনাল কাজ হিসেবে ধরাই ভালো।
জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুলে অ্যাপ্লাই করার জন্য কি কি কাগজপত্র লাগে। অবশ্যই কাগজপত্র কমবেশি হতে পারে এটা জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুলের উপর নির্ভর করে।
১. জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুল অ্যাপ্লিকেশন ফর্ম।
২. সর্বশেষ কোর্স পরিক্ষার সনদপত্র।
৩. সর্বশেষ কোর্স পরিক্ষার নম্বরপত্র।
৪. স্কুল / কলেজ / ডিপ্লোমা পরিক্ষার সনদপত্র (অপশনাল)।
৫. স্কুল / কলেজ / ডিপ্লোমা পরিক্ষার নম্বরপত্র (অপশনাল)।
৬. প্রত্যয়ন পত্র (যদি বর্তমানে অধ্যয়নরত থাকেন)।
৭. প্রত্যয়ন পত্র (যদি বর্তমানে কর্মরত থাকেন)।
৮. যেকোনো স্বীকৃত ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুল ত্থেকে ১৬০ ঘণ্টার জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ সার্টিফিকেট। ন্যাট ৫ অথবা জেলপিটি ৫ পাশ।
৯. ন্যাট ৫ অথবা জেলপিটি ৫ সার্টিফিকেট এবং নম্বরপত্র (কারন অনেক জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুল এশিয়ান স্টুডেন্টসদের বেলায় এগুলা না থাকলে অ্যাপ্লিকেশান নিতে চায় না)।
১০. জন্ম সনদপত্র
১১. স্পন্সরের বাৎসরিক আয়ের সার্টিফিকেট
১২. স্পন্সরের ব্যাংক ব্যালান্স সার্টিফিকেট
১৩. স্পন্সরের ব্যাংক স্টেটমেন্টস (কমপক্ষে ৩ বছর)।
১৪. স্পন্সরের এফ.ডী.আর এবং অ্যাসেট ভ্যালুয়েশন সার্টিফিকেট (অপশনাল যদি ব্যাংক ব্যালান্স এবং স্টেটমেন্টস ঠিক থাকে।
১৫. এক্সপ্লানেশন লেটার (যেমন, নামের বানান , পাসপোর্ট এর ভুল ইনফরমেশন, সার্টিফিকেটের বানান বা ইনফরমেশন ভুল, স্টাডি গ্যাপ, স্টাডি ওভারল্যাপ, ব্যাঙ্ক ডকুমেন্টসে সমস্যা ইত্যাদি)।
১৬. জাপানিজ অনুবাদ (যে অনুবাদ করবেন তার অনুবাদ যেন নির্ভুল হয়। অনেক সময় যে স্কুলে অ্যাপ্লাই করবেন তারা অনুবাদ করে দেয় ফী দিয়ে দিলে। ফী যদি বেশীও লাগে তাও স্কুল থেকে করানো ভালো কারন জাপানিজ একজন স্টাফ অনুবাদ গুলো করে দিবে)।
আপনার সবকিছু ১০০% ঠিক থাকার পরেও সার্টিফিকেট অফ এলিজিবিলিটি (COE) রিজেক্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেটা অনেক কারণে হতে পারে এবং ইমিগ্রেশন আপনাকে সেই কারন জানায় দিবে। সেরকম কিছু হলে আপনি এর বিপক্ষে চ্যালেঞ্জ করার অধিকার রাখেন। ইমিগ্রেশন`আপনাকে একটা নির্দির্ষ্ট সময় দিয়ে দিবে চ্যালেঞ্জ করার জন্য। COE / ভিসা রিজেক্ট যে কোনো দেশেই হয় কম বেশি।
💁♂️যারা জাপানে আসতে চান তাদের জন্য 💁♂️
জাপান যাওয়ার জন্য প্রথমে যে বিষয় টা মাথায় রাখতে হবে যে, যাওয়ার ইচ্ছা অনেকেই পোষণ করলেও সবাই কিন্তু জাপান যেতে পারে না। জাপানে যেতে চাইলে যে জিনিস আপনার বাধ্যতামূলক থাকতে হবে।
💁♂️ চেষ্টা,পরিশ্রম ও লেগে থাকার মানসিকতা : সম্পূর্ণ নতুন একটি ভাষা আয়ত্ব করার ক্ষেত্রে প্রথম প্রথম একটু সমস্যা হতে পারে।জাপানিজ ভাষা ও ব্যাকরন বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণের সাথে অনেকটাই মিল হওয়ায় বাংলা ভাষা ভাষীদের জন্য আয়ত্ব করা সহজ।নিয়মিত ক্লাস রূটিন মাফিক আধ্যয়ন করলে 3-4 মাসের মধ্যে আয়ত্ব করা সম্ভব।
💁♂️ কপাল ,ভাগ্য তথা জাপানে রিজিক থাকা : সবকিছু ঠিক থাকলেও ভাগ্যে জাপানে রিজিক না থাকলে অনেক সময় হয় না।তবে, পরিশ্রম এবং যথোপযুক্ত চেষ্টা করলে সফলতা আপনার জন্য অবধারিত।
ইনশাআল্লাহ আল্লাহ সবাইকে সাহায্য করবেন।
#জাপানিজ #জাপানী_ভাষা #বাংলাদেশজাপান
#টোকিও #জাপানলাইফ #জাপানট্রাভেল #নিহংগো #জাপানি
#日本 #日本語