06/07/2025
প্রিয় বাঙালি ভাইয়েরা, বিশেষ করে যারা জাপানে ল্যাংগুয়েজ স্কুলে ছাত্র-ছাত্রী আনার কাজ করেন—এই বার্তাটি আপনাদের জন্য।
আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, যারা ভাষা শিখতে জাপানে আসে, তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা অধিকাংশ সময়ই খুব স্বচ্ছল নয়। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে জমি-বাড়ি বিক্রি করে, লোন নিয়ে, এমনকি চড়া সুদে টাকা ধার করে সন্তানকে জাপানে পাঠায়, শুধুমাত্র একটা ভালো ভবিষ্যতের আশায়।
ভাষা শেখানোর নামে শুরু থেকেই আপনি ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা নিচ্ছেন—ধরলাম এখানে আপনার সরাসরি লাভ নেই। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখি, একজন ছাত্রের ফাইল প্রসেস করতে গিয়ে আপনি ১ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ‘অফ দ্য রেকর্ড’ খরচ দেখান। অথচ ছাত্রের গার্ডিয়ানদের সামনে আপনি এমনভাবে আচরণ করেন যেন আপনি খুব আন্তরিক ও দয়ালু মানুষ।
এখানেই শেষ না। সেই ছাত্রকে যখন জাপানে আনা হয়, তখন যে বাসায় আপনি তাকে রাখেন, সেটার ভাড়ার পেছনেও আপনি একধরনের ফাঁদ পেতে বসে থাকেন। ভাড়ার যৌক্তিকতা নিয়ে অনেক ধরনের ব্যাখ্যা আপনি দিতেই পারেন, কিন্তু গত ৫ বছরে জাপানে থেকে যা দেখেছি, তা বলছে—আপনাদের অনেকেই এই ‘স্টুডেন্ট আনা’র কাজটিকে এক ধরনের ‘মানুষ মারার ব্যবসা’ বানিয়ে ফেলেছেন।
এরপর আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেন—নেপালি বা শ্রীলঙ্কান ছাত্র বাড়ছে, কিন্তু বাঙালি ছাত্র কমে যাচ্ছে কেন? অথচ আপনি জানেন না, বা জেনে না জানার ভান করেন, সেই বাঙালি ভাই যাকে আপনি ‘ধাপে ধাপে বুঝিয়ে’ টাকা খরচ করিয়ে এখানে এনেছেন—একসময় যখন সে সব কিছু বুঝতে পারে, তখন আপনাকে পিছন ফিরে “চুদির ভাই” বলেও গালি দেয়।
অথচ আপনি তখন অনেক টাকা কামিয়ে ফেলেছেন, আপনার ভেতর একধরনের আরাম ও প্রশান্তি চলে এসেছে।
এইভাবেই চলছে জাপানের এই 'স্টুডেন্ট মার্কেট'—যা ধীরে ধীরে একটি মানবিক সংকটের দিকে যাচ্ছে।