19/01/2026
উচকরণ উচ্চ বিদ্যালয় (উঃ মাঃ)এর ছাত্র - ছাত্রী দের দৃষ্টিকোণ থেকে হুন্ড্রু জলপ্রপাত ভ্রমণের একটি ভ্রমণ কাহিনী নিন্মে দেওয়া হলো:
আমাদের স্কুল থেকে হুন্ড্রু জলপ্রপাত ভ্রমণ:(১৭-১৯ ই জানুয়ারি ২০২৬)।একটি স্মরণীয় দিন
বিদ্যালয়: উচকরণ উচ্চ বিদ্যালয়(উঃ মাঃ), উচকরণ , নানুর,বীরভূম।
১৭ই জানুয়ারি ,আমাদের উচকরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে অবস্থিত বিখ্যাত হুন্ড্রু জলপ্রপাত পরিদর্শনে যাওয়া হয়েছিল। এই শিক্ষামূলক ভ্রমণটি আমাদের সবার মনে এক অমলিন স্মৃতি হয়ে থাকবে।
যাত্রার শুরু
সন্ধ্যা ৭:৩০ নাগাদ কনকনে ঠান্ডার মধ্যে আমরা বালিগুনি বাসস্ট্যান্ডে জড়ো হয়েছিলাম। একটি
বড় বাসে করে আমাদের যাত্রা শুরু হয়। বাসের ভেতরে গান, নাচ আর বন্ধুদের সাথে আড্ডায় কখন যে বীরভূমের সীমানা পেরিয়ে ঝাড়খণ্ডে ঢুকে পড়লাম, তা টেরই পাইনি। পাহাড় আর জঙ্গলে ঘেরা রাস্তা দিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা ছিল এককথায় অসাধারণ।
জলপ্রপাতের সৌন্দর্য
হুন্ড্রু পৌঁছে যখন সুবর্ণরেখা নদীর সেই বিশাল জলরাশি প্রায় ৩২০ ফুট উপর থেকে আছড়ে পড়ার শব্দ শুনলাম, তখন আমরা সবাই শিহরিত। জলপ্রপাতের মূল জায়গায় পৌঁছাতে আমাদের প্রায় ৭৪৫টি সিঁড়ি নামতে হয়েছিল। নিচে নামার পর যে দৃশ্য দেখলাম, তা কোনো ছবির চেয়ে কম ছিল না। চারদিকে পাথরের পাহাড় আর মাঝখানে রুপোলি জলের ধারা। আমাদের স্যার আমাদের বুঝিয়ে বললেন কীভাবে নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে এই সুন্দর ভূমিরূপ তৈরি হয়েছে।
আনন্দ ও বনভোজন:
আমরা সবাই মিলে জলপ্রপাতের নিরাপদ দূরত্বে গিয়ে অনেক ছবি তুললাম। পাথরের ওপর বসে বন্ধুদের সাথে পা ডুবিয়ে বসে থাকা ছিল পরম শান্তির। দুপুরের খাবারের জন্য স্কুল থেকে বিশেষ ব্যবস্থা ছিল। পাহাড়ের কোলে খোলা আকাশের নিচে বসে গরম গরম ভাত আর মাংসের ঝোল খাওয়ার স্বাদই ছিল আলাদা।
একটি চ্যালেঞ্জিং ফেরা
খাওয়াদাওয়ার(টিফিন )পর শুরু হলো আসল পরীক্ষা—নিচে নেমে সেই ৭৪৫টি সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠা। ওঠার সময় আমাদের সবারই দম ফুরিয়ে আসছিল, কিন্তু একে অপরকে উৎসাহ দিতে দিতে আমরা সবাই উপরে পৌঁছে গেলাম। উপরে উঠে স্থানীয় দোকান থেকে আমরা কিছু হাতের কাজের জিনিসও কিনলাম।
শেষ কথা
বিকেলের দিকে আমরা যখন বাসে উঠলাম, তখন সবার চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ থাকলেও মনে ছিল একরাশ তৃপ্তি। প্রকৃতির এত কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আমরা আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছে কৃতজ্ঞ। এই ভ্রমণ আমাদের কেবল আনন্দই দেয়নি, বরং প্রকৃতিকে নতুন করে ভালোবাসতে শিখিয়েছে।