15/08/2026
স্বদেশপ্রেমের দীপ্তিতে মুখরিত প্রাঙ্গণ: জামিয়া ইসলামিয়া তৈয়ীবিয়াহ্, রাঙ্গাউটি-হাইলাকান্দিতে জমকালো স্বাধীনতা দিবস উদযাপন!
ভারতের ৭-দশক পার করা স্বাধীনতা কেবল অতীতের এক ইতিহাস নয়, তা আমাদের সার্বভৌমত্ব, আত্মত্যাগ এবং জাতীয় ঐক্যের পরম প্রতীক। এই ঐতিহাসিক চেতনাকে বুক আগলে রেখে বরাক উপত্যকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া ইসলামিয়া তৈয়ীবিয়াহ (রাঙ্গাউটি, হাইলাকান্দি) প্রাঙ্গণে অত্যন্ত আবেগ, উদ্দীপনা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হলো ভারতের স্বাধীনতা দিবস।
সকাল হতেই সম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণ সাজিয়ে তোলা হয়েছিল তিরঙ্গা পতাকা, ফুল এবং দেশাত্মবোধক ব্যানার দিয়ে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের পদচারণায় পুরো চত্বর যেন এক জাগ্রত ভারতের ক্ষুদ্র প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে।
জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও শ্রদ্ধার্ঘ্য:- অনুষ্ঠানের শুভসূচনা হয় সূর্যোদয়ের পরপরই। সকালের সমবেত প্রার্থনার পর প্রতিষ্ঠানের প্রবীণ মুরুব্বি ও আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতিতে অত্যন্ত মর্যাদার সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সাথে সাথেই সমবেত কণ্ঠে ধ্বনিত হয় জাতীয় সংগীত—“জন গণ মন অধিনায়ক জয় হে”। পতাকাকে সম্মান জানিয়ে শিক্ষার্থীদের সুশৃঙ্খল প্যারেড ও সালামি প্রদর্শন অনুষ্ঠানটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
“দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ—নিজের মাতৃভূমিকে ভালোবাসা এবং তার উন্নতির জন্য কাজ করাই আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ দায়িত্ব।”
অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণসমূহ:- দিনটি স্মরণে জামিয়া প্রাঙ্গণে নানা বর্ণাঢ্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়, যার মধ্যে উল্লেখ্য:-
১. সংগ্রাম ও ইতিহাসের পুনরালোচনা:- আলোচনা সভায় বক্তারা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে সব ধর্মের মানুষের আত্মত্যাগ এবং বিশেষ করে দেশের উলামায়ে কেরাম ও সাধারণ জনগণের অনন্য অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
২. শিক্ষার্থীদের সুশৃঙ্খল প্যারেড:- জামিয়ার ছাত্রদের মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে এক ভিন্নমাত্রার সামরিক শৃঙ্খলার ছোঁয়া এনে দেয়।
৩. দেশাত্মবোধক পরিবেশনা:- শিক্ষার্থীরা উর্দু, বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় ভারতের ঐতিহ্য, সংবিধান ও দেশপ্রেমের ওপর আকর্ষণীয় বক্তৃতা প্রদান করে। এছাড়া দেশাত্মবোধক আবৃত্তি ও তারানা (জাতীয় সংগীত রূপী গজল) পরিবেশন করে তারা উপস্থিত দর্শক ও অতিথিদের মুগ্ধ করে।
৪. পুরস্কার বিতরণী: দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতা—যেমন রচনা প্রতিযোগিতা, কুইজ এবং সুন্দর হস্তাক্ষর প্রতিযোগিতার বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেওয়া হয়।
ঐক্যের বার্তা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা:- জামিয়া ইসলামিয়া তৈয়ীবিয়াহ্র দায়িত্বশীল কর্তাব্যক্তিরা তাঁদের বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন যে, শিক্ষাই হচ্ছে একটি দেশের মূল শক্তি। দেশগঠনে এবং সমাজে অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে যুবসমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের উন্নয়ন ও রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দেওয়া হয় এই মঞ্চ থেকে।
সমাপ্তি:- অনুষ্ঠানের শেষলগ্নে সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অতিথিদের মধ্যে শিরনি বিতরণ করা হয়। আনন্দ ও গর্বের এক অপূর্ব অনুভূতি নিয়ে এবং দেশের প্রতি নিজেদের উৎসর্গ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে একটিই ধ্বনিতে— “জয় হিন্দ! জয় ভারত!