23/06/2026
সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রবন্ধ রচনা
বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু
ভূমিকা :
প্রাচীনকাল থেকেই বাংলা তথা ভারতের বিজ্ঞানসাধনার কথা বিশ্বের দরবারে সমাদৃত। বাঙালি বিজ্ঞানীদের মধ্যে যাঁরা বিশ্বখ্যাতি লাভ করে ভারতের বিজ্ঞানচর্চাকে আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করেছেন, জগদীশচন্দ্র বসু তাঁদের অন্যতম পথিকৃৎ।
জন্ম ও বংশপরিচয় :
১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দের ৩০ নভেম্বর জগদীশচন্দ্র বসু জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমান বাংলাদেশের ময়মনসিংহে তিনি জন্মগ্রহণ করেন । পরিবারের আদি নিবাস ছিল ঢাকা জেলার রাড়িখাল গ্রামে। তাঁর পিতা ভগবানচন্দ্র বসু এবং মাতা বামাসুন্দরী দেবী।
শিক্ষাজীবন:
পিতার কর্মক্ষেত্র ফরিদপুরের একটি গ্রামীণ পাঠশালায় জগদীশচন্দ্রের বাল্যশিক্ষার সূচনা হয়। শৈশবশিক্ষা সমাপ্ত হলে তিনি কলকাতায় চলে আসেন এবং হেয়ার স্কুল ও পরবর্তীতে সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলে ভরতি হন। এরপর তিনি চিকিৎসাশাস্ত্র (ডাক্তারি) পড়ার উদ্দেশ্যে বিলেতে যান। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে তা পরিবর্তন করে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞানে অনার্সসহ বি.এ. এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এসসি. ডিগ্রি লাভ করেন।
কর্মজীবন :
১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে দেশে ফিরে জগদীশচন্দ্র কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। দীর্ঘ সফল কর্মজীবন শেষে তিনি এই কলেজ থেকেই 'এমেরিটাস অধ্যাপক' রূপে অবসর নেন।
বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও অবিস্মরণীয় আবিষ্কার:
অধ্যাপনার পাশাপাশি নিরলস মৌলিক বিজ্ঞান গবেষণাই ছিল তাঁর জীবনের মূল ব্রত। তাঁর বিখ্যাত আবিষ্কার বেতার যন্ত্র। তিনি প্রমাণ করেন যে, প্রাণীদের মতো উদ্ভিদেরও প্রাণ ও অনুভূতি আছে; তারাও উত্তেজনায় সাড়া দেয়।
এছাড়া তাঁর উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার হলো— ক্রেসকোগ্রাফ, পোটোমিটার, প্রভৃতি।
বহুমুখী প্রতিভা ও অন্যান্য কীর্তি :
বিজ্ঞান সাধনার পাশাপাশি বিজ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজ ভাষায় পৌঁছে দিতে তিনি বাংলা সাহিত্যেও অবদান রাখেন। তাঁর রচিত 'অব্যক্ত' একটি কালজয়ী গ্রন্থ, যা তাঁর উচ্চমানের সাহিত্যিক প্রতিভার পরিচয় বহন করে। ভারতে বিজ্ঞান গবেষণার উদ্দেশ্যে তিনি ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় প্রতিষ্ঠা করেন 'বসু বিজ্ঞান মন্দির' ।
সম্মাননা ও উপাধি
জগদীশচন্দ্র বসুর অসামান্য বৈজ্ঞানিক অবদানকে সম্মান জানিয়ে ব্রিটিশ সরকার ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে 'বিজ্ঞানাচার্য' এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে সম্মানসূচক 'স্যার' উপাধিতে ভূষিত করে। এছাড়া তিনি লন্ডনের বিখ্যাত 'রয়্যাল সোসাইটি'-র ফেলো (FRS) নির্বাচিত হন।
উপসংহার
১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দের ২৩ নভেম্বর গিরিডিতে এই মহান বিজ্ঞান সাধকের জীবনাবসান হয়। জগদীশচন্দ্র বসু আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর প্রতিষ্ঠিত 'বসু বিজ্ঞান মন্দির' এবং তাঁর আবিষ্কারসমূহ যুগ যুগ ধরে বিশ্ব দরবারে তাঁর নাম ও ভারতবর্ষের বিজ্ঞান সাধনার গৌরবকে অমর করে রাখবে।