09/09/2026
এখন পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে। বিদ্যালয় ছুটি হয় বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে। বাড়ি ফিরতে ফিরতে দিনের অনেকটা সময় চলে যায়। ফলে মাঠে গিয়ে খেলাধুলা করার স্বাভাবিক সুযোগ এবং আগ্রহ দুটোই কমে এসেছে। তার জায়গা দখল করেছে মোবাইল ফোন। বাস্তব জীবনের মাঠের উত্তেজনার বদলে ভার্চুয়াল জগতের উত্তেজনা এখন অনেক বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। একটি মোবাইল স্ক্রিনেই তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুটিং গেম খেলছে, ভার্চুয়াল সহিংসতায় উত্তেজনা খুঁজছে।
সমস্যা শুধু গেমে সীমাবদ্ধ নেই। অনেক ছাত্র বিদ্যালয়ের আড়ালে-আবডালে দলবেঁধে মোবাইলে এমন সব বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে, যা তাদের বয়স ও মানসিক বিকাশের জন্য মোটেই উপযোগী নয়। ধীরে ধীরে বাস্তব জগতের সম্পর্ক, মূল্যবোধ এবং সামাজিক নিয়মের তুলনায় ভার্চুয়াল জগত তাদের কাছে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
একজন মাদকাসক্ত মানুষের কাছে যেমন ধীরে ধীরে সামাজিক আদর্শ, পারিবারিক মূল্যবোধ কিংবা ভবিষ্যতের চিন্তার গুরুত্ব কমে যেতে পারে, তেমনই চরম মাত্রার ডিজিটাল আসক্তির ক্ষেত্রেও কিছু ছাত্রের মধ্যে একই ধরনের বিচ্ছিন্নতা তৈরি হতে দেখা যাচ্ছে। তারা নিয়মকে নিয়ন্ত্রণ হিসেবে দেখে, শাসনকে আক্রমণ হিসেবে দেখে এবং তাদের আচরণে বাধা সৃষ্টি করা মানুষটিকে সহজেই প্রতিপক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করে। কোনও একদিন মিড ডে মিলের সামান্য খাবার কম পড়লেও তারা সহনশীলতার সাথে পরিস্থিতি বিচার করে না, তারা মনে করে এটা তাদের সাথে হওয়া বঞ্চনা। ভিডিও গেমের মতো তারা এই পরিস্থিতিতে চরমতম আঘাত করতেও দুইবার ভাবে না।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ছাত্রের অধিকার রক্ষা করতে গিয়ে আমরা যদি তার দায়িত্ববোধ, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরির বিষয়টি ভুলে যাই, তাহলে শিক্ষা তার প্রকৃত উদ্দেশ্য হারাবে। বিদ্যালয় শুধু পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জায়গা নয়। বিদ্যালয় হলো এমন একটি সামাজিক পরিসর, যেখানে একজন শিশু ধীরে ধীরে মানুষ হয়ে ওঠে।
তাই সমস্যাটিকে শুধু ‘ছাত্র খারাপ হয়ে যাচ্ছে’ বলে দেখলে হবে না। আমাদের দেখতে হবে, লকডাউনের পর তাদের বেড়ে ওঠার পরিবেশ কতটা বদলে গেছে, প্রযুক্তি তাদের জীবনে কতটা জায়গা নিয়েছে এবং আমরা তাদের জন্য বাস্তব পৃথিবীর বিকল্প হিসেবে কী তৈরি করতে পেরেছি।
কারণ মোবাইলের স্ক্রিনে একটি প্রজন্মকে ব্যস্ত রাখা যায়, কিন্তু একটি প্রজন্মকে মানুষ করে তোলা যায় না।
#জলপাইগুড়ি