Voice of Junglemahal- জঙ্গলমহলের সাংস্কৃতিক দর্পন

Voice of Junglemahal- জঙ্গলমহলের সাংস্কৃতিক দর্পন

Share

বৃহত্তর জঙ্গলমহলের ইতিহাস, সংস্কৃতি, মানুষ এবং তার যাপন
Culture ,Lifestyle, People of Junglemahal

21/02/2026

প্রশাসন যদি কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, আরও এরকম বহু নিরপরাধ ব্যক্তির জীবন যাবে। যারা গুজবে আর পুলকে অতিউৎসাহী, হয়ে এই কান্ড ঘটিয়েছে তাদের ইমিডিয়েট গ্রেপ্তার করা উচিত। https://www.facebook.com/share/v/174tmx3pY6/

20/02/2026

রাজবংশী ও কুড়মালী ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তপশীলের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কেন্দ্র সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠালো পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার।

Photos from Voice of Junglemahal- জঙ্গলমহলের সাংস্কৃতিক দর্পন's post 28/01/2026

পুরুলিয়া -বাঁকুড়া নতুন রেলপথের সম্ভাবনা

28/01/2026

ছবির ব্যক্তির নাম কিং বিলি। তাসমানিয়া দ্বীপের শেষ আদিবাসী পুরুষ তিনি। পশ্চিমারা এই জাতি ও জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে।

কিং বিলি নামটি দেওয়া হয়েছিল বিদ্রূপ করে। তার প্রকৃত নাম ছিল উইলিয়াম ল্যানি। জন্ম আনুমানিক ১৮৩৫ সালে, তাসমানিয়া দ্বীপে। তখন দ্বীপের নাম ছিল ভ্যান ডিমেনস ল্যান্ড।

এই আদিবাসীরা ছিল শান্তিপ্রিয়। তারা যুদ্ধ বা অস্ত্র চিনত না। তাদের একমাত্র চাওয়া ছিল "আমাদের শান্তিতে থাকতে দাও"।

কিন্তু যখন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকরা এল, তারা ঘোষণা দিল, এই দ্বীপে কেউ নেই! শুরু হলো ১৯ শতকে এক ভয়ংকর গ.ণ.হ.ত্যা, যা পরিচিত "কালো যুদ্ধ" নামে।

আদিবাসীদের জমি থেকে উৎখাত করা হলো। পুরুষদের হ.ত্যা. করা হলো ।
নারী ও শিশুদের বন্দি করে পাঠানো হলো কথিত সভ্যতা শিবিরে।
সেখানে তারা মারা গেল নির্যাতন, রোগ ও অপুষ্টিতে।

উইলিয়াম ল্যানি ছিলেন সেই অল্প কয়েকজন শিশুর একজন, যিনি এই গ.ণ.হ.ত্যা থেকে বেঁচে যান। তাকে পাঠানো হয় ফ্লিন্ডার্স দ্বীপে, যেখানে তাকে "সভ্যতা ও উন্নয়ন" কর্মসূচির আওতায় রাখা হয়।

তিনি দেখলেন, তার জাতির সংখ্যা ১৫,০০০ থেকে কমে, মাত্র কয়েকজন হয়ে গেছে, শেষে শুধু তিনিই রইলেন।

পরে তিনি হোবার্ট শহরে চলে আসেন, সেখানে তিনি নাবিক হিসেবে কাজ করেন। ইউরোপীয়রা তাকে দেখতে লাগল এক "অন্যরকম" মানুষ হিসেবে- যাকে "নমুনা" হিসেবে সংরক্ষণ করার চিন্তা করল তারা।

তাকে দেওয়া হলো একটি ব্যঙ্গাত্মক উপাধি, কিং বিলি।

১৮৬৯ সালের ৩ মার্চ, মাত্র ৩৪ বছর বয়সে তিনি মারা যান। সম্ভবত যক্ষ্মা বা নিউমোনিয়ায়।

কিন্তু মৃত্যুর পরও তার প্রতি অবমাননা থামেনি। তার দেহ নিয়ে শুরু হয় লড়াই- হোবার্টের ব্রিটিশ রাজকীয় জাদুঘর এবং স্থানীয় মেডিকেল কলেজের মধ্যে।

কে পাবে তার দেহ?

পরে তার মাথা কে.টে. নেওয়া হয়। চুরি করা হয় তার খুলি ও যৌ.না.ঙ্গ। তথাকথিত "নৃবিজ্ঞান" গবেষণার নামে। যা ছিল বর্ণবাদী শ্রেষ্ঠত্ব তত্ত্বের অংশ।

তাসমানিয়ার সরকার এখনও তাকে সম্মানের সাথে পুনঃসমাধিস্থ করার প্রচেষ্টা করছে ।

আপনি যদি শেষ পর্যন্ত পড়ে থাকেন তাহলে বলুন, আমরা কি তাদের থেকে বেশি অসভ্য?

27/01/2026

আজকাল আর সেভাবে গ্রামের উঠোনে আর ঝুমুর, টুসু, ভাটিয়ালির সুর ভেসে আসে না।
বাউলের একতারা-র ধ্বনি মিলিয়ে যায় মোবাইলের রিংটোনে।জাওয়া, জিতা, টুস, সহরাই, কবিগান, যাত্রাপালা—একসময় যেগুলো গ্রামের মানুষের হৃদয়ের কথা বলত, সেগুলো এখন মিউজিয়ামের গ্লাসকেসে বন্দি হয়ে যাচ্ছে
কেন এমন হচ্ছে?
→ শহরের টানে গ্রাম খালি হচ্ছে
→ নতুন প্রজন্ম রিয়েলিটি শো আর র‍্যাপের সুরে মজে গেছে
→ টিভি-ইউটিউব-রিলসের যুগে মুখে মুখে গান, গল্প, আচার-অনুষ্ঠানের ধারা ছিন্নভিন্ন
→ উৎসবগুলো এখন স্পনসরড, কমার্শিয়াল—আন্তরিকতা হারিয়ে যাচ্ছে
লোকসংস্কৃতি তো শুধু গান-নাচ নয়, এটা আমাদের শিকড়।
এটা আমাদের দাদু-ঠাকুরমার হাতে তৈরি মাটির খেলনা, নবান্নের গন্ধ, বিশ্বকর্মা পুজোর হাতুড়ির শব্দ, গায়ে-হলুদের হাসি, মেঠো পথের ধুলো।
এগুলো হারালে আমরা নিজেদেরই হারিয়ে ফেলব।
আমরা কি চুপ করে দেখব?
নাকি ছোট ছোট করে হলেও চেষ্টা করব—
একটা গ্রামের মেলায় যাওয়া, একটা বাউল,ঝুমুর গান শেখা, বাচ্চাদের লোককথা শোনানো, যাত্রা দেখতে যাওয়া?
লোকসংস্কৃতি ক্ষয় হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু পুরোপুরি মরে যায়নি।
এখনও অনেকের হৃদয়ে জ্বলছে সেই আলো।
আমরা যদি চাই, তবে সেই আলো নিভতে দেব না।
আপনারা কী ভাবছেন?
কমেন্টে বলুন—আপনার এলাকার কোন লোকসংস্কৃতির অংশটা সবচেয়ে বেশি মিস করেন? 🌾🎶
#লোকসংস্কৃতি #বাংলারঐতিহ্য #আমাদেরশিকড়

18/01/2026

#সন্নাসী_মাতা‌_বামুন_বুড়ির_কথিত_ইতিহাস:-
লক্ষ্য,হাতি সহ বন্যপ্রাণীরা যেন সুরক্ষিত থাকে, বনজ সম্পদ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, গৃহপালিত জীবজন্তুও যেন ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারে। এই মনস্কামনা নিয়ে আজ থেকে প্রায় ১০০ বছর আগে শুরু হয়েছিল শ্রী শ্রী সন্ন্যাসী মাতা ওরফে বামুন বুড়ির পুজো।কুড়মি জনজাতি মানুষের হাত দিয়ে এই পূজো শুরু হলেও বর্তমানে নিজেদের মনস্কামনা পূরণ করতে হিন্দু ,মুসলিম, খ্রিস্টান, জৈন, বৌদ্ধ সহ সকল ধর্মের মানুষ এই পুজোয় সামিল হন।

প্রাচীন রীতি অনুসারে টাকা পয়সা নয়, বামুনবুড়িকে সন্তুষ্ট করতে ভোগের মালসা সাজিয়ে দিতে হয়।তবে এই পুজোর বিশেষত্ব হল এখানে কোনো বলি হয় না। সম্পূর্ণ ভাবে সাত্তিক মতেই পুজো হয়। আর দেবীর প্রসাদ বলতে চিড়া ভোগ। তাই ভক্তরা মাটির মালসাতে প্রসাদ সাজিয়ে পুজো দেন।

বলির রক্তের বদলে মাটির মালসায় সন্তুষ্ট হন জঙ্গলমহলের জাগ্রত লৌকিক দেবী সন্ন্যাসীমাতা বামুনবুড়ি। আজও তাই পুজো দিতে আসা ভক্তরা চিড়ে ভোগের মাটির মালসা সাজিয়ে মায়ের কাছে নিজের মনস্কামনা পূরণের আশায় মানত করেন। কেউ হাজার, কেউ বা তারও বেশীও মালসা ভোগ মানত রাখেন৷ ফলে সন্ন্যাসী থানে কয়েক লক্ষ মালসা ভোগের লম্বা লাইন পড়ে যায় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনী ব্লকের পিড়াকাটা থেকে মাত্র পাঁচ মাইল দূরে কলসীভাঙ্গার জঙ্গলের ভিতর পাড়ুআয়মাতে। প্রতি বছর ৩রা মাঘ এই বামুন বুড়ি সন্ন্যাসীমাতার আরাধনা করা হয় পূর্ণ ভক্তি নিষ্ঠা সহকারে। পুজো উপলক্ষ্যে মন্দির সংলগ্ন মাঠে বিশাল মেলারও আয়োজন করা হয়। এই বছরও তার ব্যতিক্রম হলো না।প্রায় তিন লক্ষেরও বেশি ভোগের মালসা সাজিয়ে পুজো দেন ভক্তরা।

প্রচুর ভক্তের সমাগমে মন্দির চত্বর হয়ে ওঠলো মিলন ক্ষেত্র।পাড়ুআয়মা,পাথরি, বুড়িপালা, কলসীভাঙ্গা সহ আশেপাশের ৩০-৪০টি এলাকার জাগ্রত দেবী হলেন বামুনবুড়ি সন্ন্যাসী মাতা।

জানা গিয়েছে যে, এই দেবীর পুজোর প্রচলন শুরু করেছিলেন কলসীভাঙ্গা গ্রামের জনৈক লক্ষীকান্ত মাহাতো। তিনি মারা যাওয়ার পর তাঁর বংশধরেরা এখনও পুরনো রীতিনীতি মেনেই এই পুজোর আয়োজন করে আসছে। জঙ্গলাকীর্ণ এই এলাকায় অতীতের ন্যায় আজও জঙ্গল থেকে কাঠপাতা এনে এবং গোচারন করে সংসার প্রতিপালন করেন এলাকার মানুষজন।

লোক মুখে শোনা যায়,বহুকাল আগে এই জঙ্গলে স্থানীয় এক বাসিন্দার গরু হারিয়ে গিয়েছিল।ঐ ব্যক্তি গরু খুঁজতে বেরিয়ে সাদা শাড়ি পরা এক বৃদ্ধাকে দেখতে পেয়েছিলেন একটি বেল গাছের তলায়৷ লোকটিকে গরু খুঁজে পাওয়ার রাস্তা বলে দিয়েই নাকি বৃদ্ধা অদৃশ্য হয়ে যান৷ গরু খুঁজে পাওয়ার বেল গাছের তলায় আবার ওই বৃদ্ধাকে দেখতে পান লক্ষ্মীকান্ত বাবু।লক্ষীকান্ত বাবু তখন তাঁর কাছে করজোড়ে জানতে চান তাঁর আসল পরিচয়। তখন সেই বয়স্কা বৃদ্ধা জানান যে, তিনি সন্ন্যাসী মাতা বামুন বুড়ি। এই জঙ্গলেই তাঁর বাস। এখানে তিনি তাঁর পুজোর কথা বলেন। তিনি জানিয়ে যান যে, এই জঙ্গলে যদি কারো কোনো সমস্যা হয় তাঁকে যেন স্মরণ করা হয়, তিনি উদ্ধার করবেন। তারপর থেকেই ঐ স্থানে স্থায়ীভাবে বামুন বুড়ি সন্ন্যাসী মাতার আরাধনার প্রচলন শুরু হয়। শোনা যায়, এলাকার অনেকেরই গবাদিপশু জঙ্গলে হারিয়ে যাওয়ার পর এই দেবীর স্মরনাপন্ন হয়ে গবাদিপশু ফিরে পেয়েছেন সকলেই।

আর সেই থেকেই এই বেল গাছের গোড়ায় জন্ম হয় বামুনবুড়ীর।এর পর থেকেই গ্রামবাসীরা নিজেদের সমস্যা নিয়ে সমাধানের আশায় সেই বেলতলায় যাওয়া শুরু করেন৷ কালে কালে ওই বেলতলা হয়ে ওঠে সন্ন্যাসী-মাতার আসন।গাছের নীচে হাতি ঘোড়ার মাটির মুর্তি বসিয়ে পুজো শুরু হল।কথিত আছে এবং স্থানীয় মানুষ জনের বিশ্বাস যে এই দেবীর আশির্বাদে গ্রামে নেমে আসে শান্তি।
এলাকার মানুষের বিশ্বাসে দিন দিন এই পূজোর মাহাত্ব চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রত্যেক বছরই এখানে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে। জনজাতি মানুষের পূজিতা দেবী হলেও বর্তমানে ব্রাম্ভন্যবাদী আগ্রাসন ঘটেছে। গাছের তলায় থাকা দেবীর থান পরিনত হয়েছে মন্দিরে,যেমনটা দেখা গেছে ঝাড়গ্রামের গুপ্তমণীতে। হয়তো একদিন হাতি ঘোড়ার বদলে স্থান করে নিবে কোন চার হাত দশ হাতের মুর্তি। কুড়মি পূজারীর জায়গায় দখল নিবে কোন পয়তাধারি। নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে দেবীর প্রকৃত পরিচয়।

লক্ষীকান্ত মাহাতো মারা যাওয়ার পর রবীন্দ্রনাথ মাহাতো এই পুজো এবং মেলার ব্যাপক প্রচার ও প্রসার ঘটান। রবীন্দ্রনাথ বাবুও আর নেই।বর্তমানে রবীন্দ্রনাথ বাবুর দাদা ত্রিলোচন মাহাতো মেলার মূল কর্মকর্তা।বর্তমানে কংক্রিটের মন্দির তৈরি করা হয়েছে। গর্ভগৃহে হাতি ঘোড়ার ছলনে পূজিতা হন দেবী। বর্তমানে মায়ের সেবাইত আছেন কালিপদ মাহাতো। প্রতিবছর ৩রা মাঘ খুব ধুমধাম সহকারে পুজো করা হয়। এছাড়াও নিত্য পুজো হয় প্রতি মঙ্গলবার ও শনিবার। এবারের বার্ষিক পুজোতে প্রায় তিন লক্ষ মালসা মানত পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুজোর সময় সমস্ত মালসাগুলি চিড়ে-কলা আর বাতাসা দিয়ে মন্দিরের সামনে সাজিয়ে রাখা হয়। সারা মন্দিরের সিঁড়ি থেকে মন্দির চত্বর ভরে ওঠে মালসায়। স্থানাভাবে সব মালসা সাজানো সম্ভব হয়ে ওঠেনা। মেলাতে লাখের বেশি দর্শক হাজির হয়। মেলা উপলক্ষ্যে কবিগান, বাউল গান, পালাকীর্তন, যাত্রাপালা সহ সারা রাত্রিব্যাপী নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি রক্তদান শিবিরেরও আয়োজন করা হয়। সামান্য টাকার বিনিময়ে নিরামিষ অন্নভোগ নিতে পারেন এখানে আসা ভক্তরা।

বিচারকদের গানে সুপারস্টারের মঞ্চ মাতোয়ারা।
"আকাশে সুপারস্টারস্", রোজ দুপুর ২টোয়, পুনঃপ্রচার রাত সাড়ে ৯টায় এবং সকাল ১১টায়
#aakashaath #entertainment #aakashesuperstar #talentshow #realitytvshow #musicshow #highlights #makarsankranti2026 17/01/2026

চ্যানেল কর্তৃপক্ষ এবং শিল্পী বৃন্দ কোনদিন টুসু গীত শুনেছে কিনা সন্দেহ। টুসু শুধুমাত্র একটা গীত বা উৎসব নয়। জঙ্গলমহলের মানুষের কাছে যাপনের অংশ। তাই অনুরোধ, টুসু গান নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা, ফাজলামো করার আগে ভালো করে রিসার্চ করুন।

বিচারকদের গানে সুপারস্টারের মঞ্চ মাতোয়ারা। "আকাশে সুপারস্টারস্", রোজ দুপুর ২টোয়, পুনঃপ্রচার রাত সাড়ে ৯টায় এবং সকাল ১১টায় #aakashaath #entertainment #aakashesuperstar #talentshow #realitytvshow #musicshow #highlights #makarsankranti2026

15/01/2026

☆ কুড়মালি ক্যালেন্ডার নিয়ে কিছু আলোচনা ☆
1
আদিম ভাষা
KKDB
যে সকল জনগোষ্ঠী কোনো অঞ্চলের আদিবাসী হয়, সেই সকল জনগোষ্ঠীর ভাষাও আদিম ভাষা হয়। আর ভাষা যদি আদিম হয় তাহলে ঐ ভাষার নিজস্ব শব্দগুলো আদি হওয়াটাই স্বাভাবিক। এলাকা ভিত্তিক বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদের নামকরণ, উক্ত এলাকার মানুষের দ্বারা প্রস্তুত হওয়া কৃত্রিম আসবাবপত্র এর নামকরণ, প্রচলিত নীতিকথা, গিত-ঝুমুরের মধ্যে থাকা শব্দগুলোর সৃষ্টি, সময়, দিন, মাস, বছর ইত্যাদির নামকরণ আপন ভাষাতেই করেছেন সেই এলাকার জ্ঞানীগুণী মানুষজন।
আজকে কুড়মি জনগোষ্ঠীর পূর্বপুরুষদের দেওয়া বারোটা মাস এবং ছয়টা ঋতুর কিছু প্রমাণিত তথ্য তুলে ধরা হলো।
KKDB
যেমন- ১) মাঘ মাস:- "মাঘি লাহঅইড়", যে রাহেড়ের ফসল তোলা হয় মাঘ মাসে। একে মাঘেঁ জাড় নি সিরাইক। মাঘ মাস পুরা। "মাঘ মহিনাঁই মইসি মরঅই" রে..।
২) ফাগুন মাস:- ফাগুআ, ফাগুইনা বাসাত,
৩) চঅইত মাস:- চঅইত পরঅব, চঅইতালি গিত।
৪) বঅইসাখ মাস:- বঅইসাখি, "কনেহি সেউঅত চঅইত বঅইসাখঅ রে বাবু হো…।" প্রচলিত সঁহরঅই গিত ।
৫) জসটি / জেঠ মাস:- আউতেক জসটি, জেঠেঁ বুনলি ধান, লেগতেইক খটঠি। নিরঅইনা আবাদ। নিরঅন ধরঅন।
৬) আসাড় মাস:- আসাড়ি ফর, আসাড় মাসেক রঅউদেঁ ধঅউ ডগি মরঅরহেইক। রপাগিত । কনেহিঁ সেউঅইএ আসাড় মাস…।
৭) সরাবন মাস:- রপাগিত,
৮) ভাদঅর মাস:- ভাদরিআ ঝুমঅইর, ভাদরিআ বিরহি। জাহু জাহু করঅম রাজা এক ছঅউঅ মাস, আউঅত ভাদঅর মাস, করমু,। "কনে সেঁউএই ভালা ভাদঅর মাস ভাই" প্রচলিত গিত।
৯) আসিন মাস:- আসনিআ বিরহি / কলাই, আসিন সাঁকরাইত / জিহুড়। আসিন বাহিরাইতে কারতিক সামাইতে বাবু হো, গিরি গেলা অমাসেকা রাইত।
১০) কারতিক মাস:- কারতিকা, কারতিক সাঁকরাইত, আসিন বাহিরাইতে কারতিক সামাইতে বাবু হো….।
১১) অঘঅন মাস:- অঘঅইনা ধান, অঘঅন সাঁকরাইত। কাটঅইন মাস, অঘনু। "অঘনে চুটিআক সাতটি বহু" পুরখেনি আহনা।
১২) পুস মাস:- পুস পরঅব, পুসপিঠা, পুসা, পুস সাঁকরাইত।
KKDB
অর্থাৎ, প্রাকৃতিক সম্পদগুলো, কৃত্রিম আসবাবপত্রগুলো এবং বিভিন্ন নীতিকথা ও গিত ঝুমুরের মধ্যে থাকা শব্দগুলো অবশ্যই অতি প্রাচীন। তাই কুড়মালি ভাষাতে বারো মাসের নামকরণ এবং বারোটা ঋতুর নামকরণ অতি প্রাচীন, আধুনিক নয়।

কুড়মালিতে এক বছরকে দুই ভাবে গননা করার রীতি আছে। ছয় মাসে একবছর ঋতু ভিত্তিক গননা অনুসারে।
যেমন - ১) মধু মাস (ফাল্গুন+চৈত্র),
২) নিরন মাস/ খরা মাস (বৈশাখ+জৈষ্ঠ্য),
৩) রপা মাস (আষাঢ়+শ্রাবণ),
৪) করম মাস (ভাদ্র+আশ্বিন),
৫) মাইসর/কাটঅইন ( কার্তিক+অগ্রহায়ণ),
৬) জাড় মাস ( পৌষ+মাঘ),

দ্বিতীয়তঃ চাঁদ ভিত্তিক গননা অনুসারে বারো মাসে একবছর ।
১) মাঘ মাস,
২) ফাগুন মাস,
৩) চঅইত মাস,
৪) বইসাখ মাস,
৫) জেঠ মাস,
৬) আসাড় মাস,
৭) সরাবন মাস,
৮) ভাদঅর মাস,
৯) আসিন মাস,
১০) কারতিক মাস,
১১) অঘঅন মাস,
১২) পুস মাস।
লেখক- রামেশ্বর মাহাত
Rameshwar Mahato Jalbanuar
KKDB
2
#কুড়মালি_ক্যালেন্ডার

#জেনে নিন # (লেখাটা সম্ভবতঃ 2019 সালের লেখা)
#কুড়মালি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাই
কুড়মালি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী কুড়মালি এ বছর কত? বিভিন্ন সাল ভাইরাল হচ্ছে। কেও বলছে 2769, কেও বা 8519।আসুন দেখে নিই যুক্তিতে কোনটা সঠিক।আমরা বছরের প্রথম দিন হিসেবে আইখ্যান যাতরা পালন করি কৃষি সভ্যতা সৃস্টির সময় থেকেই।আমরা সকলেই জানি, মানুষ কৃষির আবিস্কার করেছিল আনুমানিক 10 হাজার বছর পূর্বে।কুড়মি জাতির মানুষই সেই কৃষির আবিসকরতা।ইংরাজী 2000 সালে খড়গপুর IIT থেকে গবেষনালব্ধ ফল ছিলো,মানুষ কৃষি সভ্যতা পত্তন করেছিল 8500 বছর পূর্বে। দেখা যাচ্ছে 8500 বছর প্রায় দশ হাজার বছরের কাছাকাছি।তাই কুড়মালি ক্যালেন্ডারে বর্তমানে 8519 সাল গ্রহণ করাই যুক্তিযুক্ত। আর 2769 সাল পূর্বেও আমরা কৃষি বর্ষ হিসাবে আইখ্যান যাত্রা পালন করতাম।সুতরাং 2769 সালটা গ্রহন করাটা আদৌ যুক্তিযুক্ত নয়।
(লিখা:-বিপ্লব মাহাত,কৃতজ্ঞতা স্বীকার:-কিরিটি মাহাত,গবেষক)
Biplab Mahata

3
জ্যোতির্বিজ্ঞান ও আধুনিক ক্যালেন্ডার
--------------------------------------------------
KKDB
আর্যভট্ট ছিলেন প্রাচীন ভারতের একজন বিখ্যাত গণিতজ্ঞ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী। আধুনিক যন্ত্র তাঁর হাতে ছিলনা, তবুও তিনি বিজ্ঞানের কয়েকটি অতি আশ্চর্য আবিষ্কার করে পৃথিবীর সকল মানুষকে অবাক করে দিয়েছেন।
আর্যভট্টের জন্ম হয়েছিল ৪৭৬ খ্রীষ্টাব্দে, আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগে ইতিহাস প্রসিদ্ধ পাটলিপুত্রের কাছে কুসুমপুরে। তিনি ৪৯৯ খ্রীষ্টাব্দে মাত্র ২৩(তেইশ) বছর বয়সে তাঁর গবেষণার বিষয়বস্তুগুলিকে একত্রিত করে একটি বই লিখে গেছেন, যা "আর্যভট্টীয়" নামে খ্যাত।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি হল সূর্যকেন্দ্রীয় মতবাদ। এই সূর্যকেন্দ্রিক মতবাদকে ভিত্তি করে আর্যভট্টই সর্বপ্রথম সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণের সঠিক ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন- সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে গোলাকার পৃথিবী। তিনি পৃথিবীর আহ্নিক গতির ব্যাখ্যা করেছেন। গ্রহণের কারণ নির্ধারণ করে গেছেন এবং পৃথিবীর গোলত্বের প্রমাণ তিনিই প্রথম করেছেন। শুধু তাই নয়, গ্রহের গতিপথ নির্দেশ করতে গিয়ে আর্যভট্টই প্রথম পরাবৃত্ত তত্ত্ব উল্লেখ করেছেন।
গণিতশাস্ত্রে তিনি যে অবিস্মরণীয় কীর্তি স্হাপন করেছেন, সেটি হল বৃত্তের পরিধির সাথে ব্যাসের সম্পর্ক নির্ণয় করা। বৃত্ত যত বড় বা ছোট হোক না কেন, পরিধির পরিমাণকে ব্যাসের পরিমাপ দিয়ে মাপলে একটি স্হির সংখ্যা আমাদের হাতে আসে। সেটি হল ২২/৭, যা আমাদের সবার কাছে "সাংখ্য পায়" হিসাবে পরিচিত। এটি সর্বপ্রথম আর্যভট্টই প্রমাণ করেছেন।
সূর্যকেন্দ্রিক মতবাদকে নিয়ে গবেষণা করতে গিয়েই মূলত তিনি "শূণ্য" কে আবিষ্কার করতে সক্ষম হন। যা গণিতশাস্ত্র ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের চলার পথের মাইল ফলক। আর্যভট্টের হাত ধরেই বীজগণিতের সূত্রপাত হয়েছে। সমসাময়িক গ্রীক বীজগণিতবেত্তাদের চেয়ে তিনি অনেক এগিয়ে ছিলেন। আধুনিক গণিতের অনেক মূল উপপাদ্য তাঁর দ্বারাই সৃষ্ট। যেমন- বর্গমূল ও ঘনমূল নির্ণয় করা, দ্বিঘাত সমীকরণের সমাধান এবং সমান্তর শ্রেণীর যোগফল নির্নয় করা।
দীর্ঘদিন ধরে পাশ্চাত্য বিজ্ঞানীরা হিসাব করে গ্রহণের সময় বলতে পারতেন। কিন্তু গ্রহণ কেন হয়, তারা ব্যাখ্যা তখনও পর্য্যন্ত তারা দিতে পারেননি। আর্যভট্টই প্রথম গ্রহণের কারণ হিসাবে পৃথিবী ও চাঁদের ছায়াপথের কথা বললেন। পৃথিবী ও চাঁদের কক্ষতলের মধ্যে ৫ডিগ্রি কৌণিক ব্যবধান আছে। উভয় কক্ষতল দুটি জায়গায় পরস্পরকে ছেদ করেছে। এই দুটি ছেদ বিন্দুর যে কোন একটিতে পূর্ণিমার সময় চন্দ্র থাকলে চন্দ্রগ্রহণ হয়, আর অমাবস্যার সময় চন্দ্র থাকলে হবে সূর্যগ্রহণ। আর্যভট্টই প্রথম বিজ্ঞানসম্মতভাবে গ্রহণের ব্যাখ্যা করে গেছেন। ছেদবিন্দু দুটির নাম আর কিছুই নয় আমাদের পরিচিত রাহু ও কেতু।
যার কথিত সূত্রকে ধরে আর্যভট্ট সূর্যকেন্দ্রিক মতবাদকে নিয়ে গবেষণা করতে উদ্যত হন, তিনি হলেন "কালপক্য ওরফে কথক "। যিনি ষোড়শ নামেই বেশি পরিচিত। খ্রিস্ট জন্মের ৭৫০ বছর পূর্বে ষোড়শই সর্বপ্রথম সূর্যকেন্দ্রিক ধারণার উদ্গাতা। তিনিই প্রথম বলেছিলেন সূর্যকে ঘিরেই গ্রহ, নক্ষত্র এবং আকাশ-বাতাস সব বিরাজমান। সূর্যকে ঘিরেই গ্রহ ও নক্ষত্রের পরিবার। ষোড়শের সেই কথিত সূত্রকে পরবর্তীকালে আর্যভট্ট গ্রহণের বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা করে প্রমাণ করে গেছেন। আর্যভট্টের লেখা "দশগীতিকা" ও "গোলপাদ্য" অধ্যায়ে ষোড়শের কথিত সূত্রের উল্লেখ রয়েছে। আর্যভট্ট সর্বত্রই "কলব্দ" শব্দটি ব্যবহার করেছেন। পরবর্তীতে বাগভট্টের লেখায় কলব্দের স্পষ্ট উল্লেখ আছে। যা অনুসরণ করে শতাব্দ, শকাব্দ, খ্রীষ্টাব্দ, বঙ্গাব্দের প্রচলন ঘটেছে। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানী জোহানস কেপলারের লেখা "The History of the Universe." বইয়ে আর্যভট্ট ব্যবহৃত কলব্দ শব্দটি বিশেষভাবে উল্লিখিত।
KKDB
সূর্যকেন্দ্রিক তত্ত্বকে জ্যোতির্বিজ্ঞানী নিকোলাস কোপারনিকাস পরীক্ষার দ্বারা প্রমাণ করে নিজের জীবন দিয়ে বিশ্বের দরবারে সবার সামনে প্রতিষ্ঠা করেছেন । সূর্যকেন্দ্রিক তত্ত্বের মূল কথা হল- সৌরমন্ডলের সকলেই, এমণকি পৃথিবীও স্হির নয়। তারা সবাই নিজস্ব কক্ষপথে চলমান। সূর্যকে ঘিরেই চলে তাদের পরিক্রমণ। পরবর্তীকালে গ্যালিলিও, কেপলার, টাইকো ব্রাহে সূর্যকেন্দ্রিক তত্ত্বকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার দ্বারা নির্ভূল প্রমাণ করে আরও সুদৃঢ় করেছেন। বিজ্ঞান হল- যক্তিনির্ভর অনুসন্ধান ও নিরীক্ষার দ্বারা প্রমাণিত পরীক্ষালব্ধজ্ঞান।

তখনকার দিনে জ্যোতির্বিজ্ঞানের মূলভিত্তি ছিল- গ্রীসের দার্শনিক বিজ্ঞানী টলেমীর একটি ধারণা। মানব সভ্যতার ঊষালগ্নে তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে, "পৃথিবী হল এই সৌরজগতের কেন্দ্রভূমি। পৃথিবীর চারপাশে সূর্য, চন্দ্র, গ্রহ ও অসংখ্য নক্ষত্রের পরিমণ্ডল আছে। তারা নিজ নিজ কক্ষপথে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে।"
এই মতবাদকে সকলেই অভ্রান্ত হিসাবে মেনে নিয়ে ছিলেন অর্থাৎ তখনকার সব চিন্তাই হত এই মতবাদকে আশ্রয় করে। তার মানে জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রাথমিক পর্বেই আমরা একটা ভুল ধারণার বশবর্তী হয়েছিলাম। টলেমী তখন একজন প্রচন্ড জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী দার্শনিক বিজ্ঞানী। কেউ কিন্তু এগিয়ে এসে টলেমীর এই ত্রুটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেবার সাহস করেন নি। নিকোলাস কোপারনিকাসই প্রথম টলেমীর পৃথিবীকেন্দ্রিক মতবাদের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেন এবং সূর্যকেন্দ্রিক তত্ত্ব ও মতবাদকে প্রচার করতে থাকেন।
KKDB
আমরা আজ সূর্যকেন্দ্রিক তত্ত্ব ও মতবাদকে নির্ভুল সত্য হিসাবে মেনে নিয়েছি। কিন্তু তখনকার সমাজ অবস্থা ছিল আলাদা।
অচিরেই নিকোলাসকে ধর্ম ও দেশদ্রোহী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। তারপর নানাভাবে ভর্ৎসনা ও শারীরিক নিগ্রহ করে শেষে আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়। শেষঅব্দি অবশ্য নিকোলাসের সূর্যকেন্দ্রিক তত্ত্ব বিশ্বের পন্ডিত সমাজ মেনে নিয়েছেন । কিন্তু জীবদ্দশায় তিনি তাঁর তত্ত্ব ও মতবাদের স্বীকৃতি দেখে যেতে পারেন নি। দেখেননি কিভাবে পোপ গ্রেগরি ক্যালেন্ডার সংশোধন করেছেন। জ্যোতির্বিজ্ঞানী নিকোলাসের মৃত্যুর ৩৯ বছর বাদে, ১৫৮২ খ্রীষ্টাব্দে পোপ গ্রেগরি সূর্যকেন্দ্রিক তত্ত্বের ভিত্তিতেই ক্যালেন্ডার সংশোধন করে লিপ্ ইয়ার যুক্ত আধুনিক ক্যালেন্ডার তৈরী করেছেন, যা এখন আমরা ব্যবহার করছি।
ষোড়শের কথিত তথ্যানুযায়ী কলব্দ শব্দটি আর্যভট্ট সর্বত্রই ব্যবহার করেছেন। কুড়ম প্রদেশের অধিবাসীর দেওয়া ধারণা থেকেই ৭৫২ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে কালপক্য ওরফে কথক সূর্যকেন্দ্রিক মতকে কলব্দে অভিহিত করেন । তাই সেদিনের কলব্দ আজকের কুড়মাব্দ ।
কুড়মাব্দ - ২৭৭৫ নতুন বছরের প্রীতি ও শুভেচ্ছাসহ কৃষি উন্মেষের আখাইন যাত্রার অভিনন্দন ।

✍️ রূপচাঁদ মাহাত । Rupchand Mahato
KKDB
4
কুড়মালি ক্যালেন্ডার
===============
মৃন্ময় বঁসরিয়ার

বিরামহীনভাবে পৃথিবীতে এভাবেই হচ্ছে দিন-রাত্রির পুনরাবৃত্তি। যদিও দক্ষিণমেরু ও উত্তরমেরুতে রাত-দিনের ব্যপ্তির যথেষ্ট ব্যতিক্রমী আচরণ ঘটে, কিন্তু ভূপৃষ্টের অন্যান্য প্রায় সকল স্থানে এভাবেই ঘটছে দিন-রাতের পুনরাবৃত্তি।
মানুষ কৌতূহলপ্রবণ। তারা জানতে চায় জগতটাকে। প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া মধুময় কিংবা বিষাদময় কালকে মানুষ রাখতে চায় স্থায়ী করে। মানুষ চায় জীবনের সবকিছু হোক ক্রমানুসারে সাজানো। এসব ভাবনার ক্রমাগত উন্নতির ফলে একসময় তৈরি হয়ে যায় পঞ্জিকা (Calendar)। কিন্তু পৃথিবীতে সর্বপ্রথম ঠিক কারা ক্যালেন্ডার তৈরি করেছিলো তা নিশ্চিত করে বলা মুশকিল। কারণ প্রাচীন বহু সভ্যতার অনেক নিদর্শন এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। তাই নিশ্চিত করে বলা যাবে না তাদের নিজস্ব কোন ক্যালেন্ডার ছিলো কি না।
এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত নিদর্শনের ওপর ভিত্তি করে যেসব সভ্যতার নাম আমরা জানি, সেগুলোর অধিকাংশেরই নিজস্ব পঞ্জিকা ছিলো। যদিও প্রথমদিকের পঞ্জিকাগুলো ছিলো বেশ অপূর্ণাঙ্গ। কিন্তু তাদের দেখানো পথে হেঁটে-হেঁটে একসময় পূর্ণাঙ্গ পঞ্জিকার সূচনা ঘটে।
মানুষের কাছে যে প্রাকৃতিক ঘটনাটি প্রথমেই স্পষ্ট হয় সেটা হচ্ছে ‘দিন’, তারপর ‘মাস’। দীর্ঘ গবেষণার পর নির্দিষ্ট হয় বছর। দিবারাত্রির পুনরাবৃত্তি থেকে দিন এবং পৃথিবীর চারদিকে চাঁদের আবর্তনে নির্ধারিত হয় মাস। কিন্তু বছর নিয়ে বেশ গবেষণা চললো। উৎসুক মানুষের কাছে একসময় নির্দিষ্ট হয় বছরের হিসাবও।

==> বঙ্গাব্দ ক্যালেন্ডার

এটি একটি সৌর ভিত্তিক পঞ্জিকা। ভারতের আসাম, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গে পঞ্জিকাটি দীর্ঘদিন থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বঙ্গাব্দের সূচনা সম্পর্কে দুটি মত চালু আছে। প্রথম মতানুযায়ী প্রাচীন বঙ্গদেশের (গৌড়) রাজা শশাঙ্ক ৫৯৪ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গাব্দ চালু করেছিলেন। এবং দ্বিতীয় মতানুযায়ী সম্রাট আকবরের শাসনামলে এটি প্রণীত হয়েছিলো।

আমরা যে বাংলা সন ব্যবহার করে থাকি তা মূলত সম্রাট আকবরের সময়ে প্রণীত হয়। তখন এটি তারিখ-ই-এলাহি নামে পরিচিত ছিলো। চাষাবাদের কাজ ঋতুর সাথে মিল রাখাই ছিলো প্রণয়নের প্রধান উদ্দেশ্য। সেই লক্ষ্যে মুঘল সম্রাট আকবর ইরানী জ্যোতির্বিদ আমীর ফতুল্লাহ সিরাজীকে নির্দেশ দেন নতুন একটা পঞ্জিকা প্রণয়নের জন্য। সে বছর ছিলো ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দ। অর্থাৎ গ্রেগরিয়ান পঞ্জিকা প্রণয়নের মাত্র দু’বছর পরের ঘটনা। সম্রাট আকবরের সিংহাসনে অভিষেকের বছর অর্থাৎ ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ কে ভিত্তি ধরে বঙ্গাব্দ পঞ্জিকাটি প্রণয়ন করা হয়। - বৈশাখকে বাংলা পঞ্জিকার প্রথম মাস নির্ধারণ করা হয়। সৌরভিত্তিক পঞ্জিকাগুলোকে প্রকৃত সৌর বছরের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করে রাখতে প্রতি চার বছর পরপর এক দিন বাড়াতে হয়।
KKDB
=> কুড়মালী ক্যালেন্ডার

বর্তমানে একটি আলোচ্য বিষয় হল কুড়মালী ক্যালেন্ডার । অনকের মনে এ বিষয়ে প্রশ্ন। যাই হোক কিছু প্রশ্নের সমাধানের চেষ্টা করছি। সুষ্ট মতামত গ্রহনযোগ্য। বর্তমানে কুড়মালী ক্যালেন্ডার দু জায়গা থেকে প্রকাশত হয়। একট ধানবাদ থেকেমানমীয় হীরালাল সাঁখোয়ারের তত্বাবধানে যা কুড়ি- পঁচিশ বছর ধরে চলে আসছে। আর দ্বিতীয়টি মাননীয় মহাদেব ডুমরিয়ার নেতৃত্বে বোকারো থেকে বিগত চার-পাঁচ বছর ধরে প্রকাশিত হয়ে আসছে।

শান্তিনিকেতন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজশাস্ত্রের অধ্যাপক প্রফেসার বিমলেন্দু মিত্র মহাশয়ের গবেষনাপ্রসুত শৌধগ্রন্থে বিভিন্ন ক্যালেন্ডারের উল্লেখ এবং বিবরন পাওয়া যায়। তাঁর মতে খ্রীষ্টপূর্বাব্দ ৭৫০ এর আগের মানব সমাজে মান্যতা অনুসারে বছরের প্রথম দিন পয়লা মাঘ অর্থাৎ “আখাইন” দিনে যা সম্পুর্ন বিজ্ঞানসম্মত ছিল এবং আজো বিদ্যমান এবং সময়ের সাথে সাথে বিভিন্ন ক্যালেন্ডার আবিষ্কার ও ফলপ্রসু করা হয় এবং প্রাচীন কুড়মালী ক্যালেন্ডারকে ত্যাগ করা শুরু হয়। যদিও আদিবাসীদের সমাজে এর প্রচলন বিদ্যমান খেয়াল করে দেখবেন রহইন,করম,মকর, চড়কের দিন(ক্ষেন) একই থাকে। অন্যদিকে মাননীয় Niclas Marie, founder and CEO of TimeCenter Helsingborg, Sweden এর মতে,
For the Hindu calendar, the Makara Sankranti marks the beginning of a new year, as the sun passes into the zodiacal territory of Capricorn. n terms of the Western Calendar, the epoch of the current era is marked as January 23, 3102 BC.”

মাননীয় হীরালাল এবং মহাদেব বাবু দুজনের সাথেই কথা বলে বুঝলাম যে তাঁরা প্রফেসার বিমলেন্দু মিশ্রের গ্রন্থকে অনুসরন করে ক্যালেন্ডার প্রকাশনা করছেন। এই প্রাচীনতম বিজ্ঞানভিত্তিক কাল গননা ব্যবস্থাকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করাই আমাদের লক্ষ্য।

জহার

Mrinmoy Mahata
KKDB
5
%%% আখাইন যাত্রা ও কুড়মালি নতুন বছর %%% *************** ********************* আখাইন শব্দটির ব্যুৎপত্তি হল- আখাইনঅর্কন>অককন >অকখন>আখান>আখাইন। অর্থাৎ সূর্যের গমন বা যাত্রা। জাতরাজা- অইত-রা>জাতরা।প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে,এই দিনটিতে সূর্যদেব উত্তরায়নে যাত্রা করেন।এই উত্তরায়ন কালটি(৬মাস)কৃষি কার্যের প্রস্তুতিমূলক এবং দক্ষিণায়ন কাল(৬মাস)কৃষিকা র্যের সমৃদ্ধির সময়। আখান দিনে সূর্যদেবের উত্তরায়ন গমন সম্পর্কিত লোকোক্তি -'চাঁউড়ি' 'বাঁউড়ি' 'মকর' 'আখান'।প্রথম তিনদিন পৌষের শেষদিন এবং আখান হল ১লা মাঘ। সূর্যদেব দক্ষিনায়নের পথে গমন করাকালীন চাঁউড়ির দিনে উত্তরায়নের প্রস্তুতি নেন। চাঁউড়ি শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হল ঘোরা।চাঁউড়িচাঁউরি>চাঁউড়ি।এই চাঁউড়ির পরের দিন বাঁউড়িতে সূর্য বামপার্শ্বে ঘোরেন। বাঁউড়িবাঁউরি>বাঁউড়ি। আর এইভাবে সূর্যদেব বামপার্শ্বে ঘুরে দক্ষিনায়ন ছেড়ে পরের দিন 'মকর সংক্রান্তি' ধরে উত্তরায়নে গমন করেন বলা হয় 'মকর সংক্রান্তি'। পরের দিন ১লা মাঘে হয় সূর্যদেবের উত্তরায়ন গমনের শুভারম্ভ। বলাবাহুল্য কুড়মিরা সিন্ধুসভ্যতার আদিম নিবাসী, কারন প্রাচীনকালে জ্যোতির্বিদ্যায় এই সুপটুত্ব একমাত্র সিন্ধুবাসীদেরই ছিল, এটা ঐতিহাসিক সত্য। কৃষিজীবি কুড়মিদের হাসি- কান্না-উৎসব সবই চাষবাসের উপর নির্ভরশীল,এককথায় জীবনযাত্রা কৃষিকেন্দ্রিক। তাই ১লা জানুয়ারি বা১লা বৈশাখ নয় কুড়মালি মতে ১লা মাঘ নববর্ষ। ১লা মাঘ "হার পুইনহা" করে কৃষিপ্রধান কুড়মিদের কৃষিকার্যের শুভারম্ভ হয়। হার- পুইনহাহাল)+পুইনহা(পূন্য বা শুভারম্ভ)>হার পুইনহা। নতুন বছরে সবাইকে জানাই হার্দিক শুভেচ্ছা।সবাই অনেক অনেক ভালো থাকুন। জোহার জয় গরাম
রচনা-আশিষ কুমার মাহাত,কেটিয়ার ঋণস্বীকার-অনাদি নাথ মাহাত

6
KKDB
#কুড়মালী_আখ্যাইন_যাতরা_নববর্ষ
সালটা কেউ বলছে 8520 তো কেউ বলছে 2770
সঠিক কোনটা।
>>> 8520- খড়গপুর আইআইটি থেকে প্রকাশিত এক তথ্যানুযায়ী আজ থেকে এই 8520 বছর আগে নাকি স্থায়ীভাবে কৃষির সূচনা হয়, তাই 8520 ধরা হচ্ছে।
প্রশ্ন- 8520 বছর আগে কৃষির সূচনা স্থায়ীভাবে হয়, এটা ধরেই নিলাম। কিন্তু প্রশ্ন হল, স্থায়ী কৃষি তো আদিবাসীত্বের তৃতীয় স্তর।
প্রথম স্তর- Hunting and food gathering
দ্বিতীয় স্তর- Migrated Cultivation
তৃতীয় স্তর- Parmanent Cultivation এবং
চতুর্থ স্তর- Civilization.
তাহলে 8520 বছর আগে স্থায়ীভাবে কৃষি শুরু হওয়ার আগে কি নববর্ষ বা আখ্যাইন যাতরা পালন হতো না????
>>>2770- ঝাড়খন্ডে প্রকাশিত এক ক্যালেন্ডার। কোন এক বই থেকে সংগৃহীত তথ্য যে, 2770 সাল আগেই নাকি ক্যালেন্ডার চালু হয়।
প্রশ্ন- ক্যালেন্ডার চালু হওয়া মানেই কি সেই বছর থেকে নববর্ষ বা আখ্যাইন যাতরা শুরু হয়???
বিস্তারিত জানতে চাই, কেউ জানলে বলবেন। অযথা বিতর্ক অনভিপ্রেত।
Sujit Kumar Mahato

Part 7
আচ্ছা ফ‍্যাসাদে পড়া যাছে ত........
"বাঁশ বনে ডম কানা"-র দশা!!!
__________________________
_________ কুড়মীদের পন্ডিতের অভাব নাই;
আর এক পন্ডিত অপরকে মানেন নাই।
সম্প্রতি সমাজে তিন তিনটা ক‍্যালেন্ডার প্রকাশ হয়েছে।
একটা ছ'মাসের, একটা বার মাসের, আর একটা তের মাসের।
ব‍্যাক্তিগত ভাবে অবশ্য তিনটি প্রকাশক সংস্থার সঙ্গে কথা বলে দেখেছি, যে যার মতো যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেছেন।
ছ' মাসের মত অনুসারে; কুড়মীদের করম পরবে
"যাও যাও করম ঠাকুর, যাও ছ'য় মাস।
আইসছে বছর ঘুরাঞ আইনব‌অ পহিলা ভাদর মাস।।"
-এই গীতে ছ'মাসের উল্লেখ করা রয়েছে এবং আমরা যেহেতু সূর্যের উপাসক তাই সূর্যের সৃষ্ট ঋতু অনুসারে ৬০(প্রায়) দিনে এক মাস হিসেবে বার মাসে বছর গননা প্রয়োজন। এই মত হড়প্পা সভ‍্যতার সমসাময়িক প্রাচীন কালে প্রচলিত ছিল।
ধরে নিলাম তাই ঠিক। তাহলে,
মধুমাস- বসন্ত কাল।
নিরন মাস- গ্রীষ্ম কাল।
ধরন মাস- বরসা কাল।
ভাদর মাস- শরৎ কাল।
কাটন মাস- হেমন্ত কাল।
জাড় মাস- শীত কাল।
মিলিয়ে বছর শেষ, কিন্তু মারাত্মক ব‍্যপার হচ্ছে শেষের মাস "জাড়" দু' বছর ধরে ব‍্যাপ্তী রয়ে যায়।
পৌষের শেষ হলেই পয়লা মাঘ নববর্ষের সূচনা হয়, কিন্তু জাড় (শীত) রয়েই গেল।
বার মাসের মত অনুসারে, অবশ্য বিশেষ কনো পার্থক্য নেই বাংলা ক‍্যালেন্ডারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রয়েছে, এদের মতে "বার মাসে তের পার্বন"
কেবল মাসের নামগুলো কুড়মালী এবং বছর শুরু হয় সূর্য মকরক্রান্তী রেখার উপরে শেষ কিরন দেওয়ার পর অর্থাৎ বাংলার তিন মাস আগে পয়লা মাঘেই।
সদ‍্য ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ থেকে তের মাসের একটি ক‍্যালেন্ডার প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁদের মতে ২৮ দিনে মাস গননা প্রয়োজন। এর সঙ্গে নারীর ঋতুচক্র ও চাঁদের আবর্তনের মিল রয়েছে।
সেই অনুযায়ী তের মাসে ৩৬৪দিন।
কুড়মীদের পরব তের টি।
কুড়মীদের দেব-দেবী তের টি।
যুক্তি খন্ডন করা একেবারেই অসম্ভব।
এখন কথা হচ্ছে, কুড়মালী ক‍্যালেন্ডার অনুসারে-
-কোন তারিখে সবচেয়ে বড় দিন হয়?
-কোন তারিখে সবচেয়ে বড় রাত্রি হয়?
-কোন তারিখে দিন-রাত্রি সমান হয়?
এর ব‍্যাখ‍্যা কার‌ও কাছে নেই।
তিনটি ক‍্যালেন্ডারে সাল ভিন্ন ভিন্ন রয়েছে। কেউ বলছেন সিন্ধু সভ্যতার ধ্বংস খৃষ্টের জন্মের প্রায় সাড়ে সাত হাজার বছর আগে অর্থাৎ তার সঙ্গে ২০২০ যোগ করে ৮৫২০ বছর।
দ্বিতীয় মত অনুসারে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের ব‍্যাখ‍্যায় ধরা হয়েছে সেখানে বলা হয় খৃষ্টের জন্মের প্রায় সাড়ে সাতশ বছর আগে মানুষ বর্ষ গননা করতে শুরু করে। তাই ২০২০ এর সঙ্গে ৭৫০ যোগ করে ২৭৭০ সাল দেখানো হয়েছে।
তবে তের মাসের ক‍্যালেন্ডারে সাল উল্লেখ নেই।
এইবার কথা হচ্ছে, আমাদের কুড়মী জাতির যাঁরা এখনও বিদ‍্যালয়ের চৌকাঠ মাড়ায়নি তাদের মধ্যে হিন্দু, খৃষ্টান, মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় গ্রন্থের কাহিনীর ন‍্যায় বহু "কহনী" প্রচলিত রয়েছে।
যেমনঃ- চাঁদ একদিন সালুক সেদ্ধ খেতে ছিল, সূর্য এসে বলে "কি খাচ্ছ?" জবাবে চাঁদ বলে নিজের ছেলে মেয়েদের মাথা সেদ্ধ করে খাচ্ছে। এই বলে সূর্যকেও সালুক সেদ্ধ খাওয়ায়। সূর্য স্বাদে মোহিত হয়ে নিজের ছেলে মেয়েদের মাথা কেটে সেদ্ধ করে খেয়ে ফেলে। কিন্তু রাতে দেখে চাঁদ নিজের ছেলে মেয়েদের মানে তারাদের নিয়ে খেলা শুরু করেছে। সূর্য তখন রেগে গিয়ে দা দিয়ে চাঁদকে কেটে ফেলল। সেই থেকে চাঁদ অধফালী থাকে বেশীরভাগ দিন, এবং সূর্যের সাথে দেখা সাক্ষাৎ হয় না, সূর্য বেচারা ছেলে মেয়েদের হারিয়ে নিজেই রাগে জ্বলতে থাকে।
-তাহলে ভাবুন, এই আমাদের সমাজের বৈজ্ঞানিক চিন্তা। সত্যি কথা অকপটে স্বীকার করতে আপত্তি নেই যে, বেশীরভাগ মানুষই জানেন না যে, পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে। শুধু জানেন সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে পশ্চিম দিকে অস্ত যায়।
এর পরেও ভাবতে হবে আমাদের নিজস্ব পূজা পার্বণ কিভাবে সকলের গোচরে আনা সম্ভব.........
...............
ধন্যবাদ
জহাইর 🙏🙏🙏🙏
✍ Bhupen Mahata
KKDB
সকলকে কুড়মালী নববর্ষের প্রীতি, শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন 🙏

Kudmali Calendar 2026
কুড়মালি ক্যালেন্ডার 2026
कुड़मालि दिनपाँजि 2026
Post by KKDB
Photo: Collected from FB Biplob Mahata

15/01/2026
14/01/2026

টুসু বিসর্জনের শোভাযাত্রা
# #

13/08/2025

সাবধান

Want your school to be the top-listed School/college in Medinipur?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Website

Address

Medinipur
721516