30/04/2026
প্লেটো গণতন্ত্র পছন্দ করতেন না। কারণ তিনি ‘জনতা’র মনস্তত্ত্ব বুঝতে পেরেছিলেন।
তিনি একটি চমৎকার রূপক ব্যবহার করেছিলেন—‘দ্য শিপ অফ স্টেট’।
মাঝসমুদ্রে একটি জাহাজ বিপদে পড়েছে। সামনে ঝড়, চারদিকে ডুবোপাহাড়। এদিকে জাহাজের নাবিকরা তর্কে মত্ত। প্রত্যেকেই হাল ধরতে চায়, কিন্তু জাহাজ চালানো সম্পর্কে কারও বিশেষ ধারণা নেই। তারা তখন ভোটের আয়োজন করল। সেই ভোটে কে জিতল? যে গলাবাজি করতে পারে আর বাকিদের মিষ্টি কথায় তুষ্ট করতে পারে। যে নক্ষত্র দেখে পথ চিনতে পারে সে বেচারা তখন অবহেলিত, বিদ্রূপের শিকার। তাকে 'এলিটিস্ট' তকমা দিয়ে একপাশে সরিয়ে রাখা হল। ফলাফল যা হওয়ার তাই হল—জাহাজ ডুবল।
প্লেটোর মতে, এটাই গণতন্ত্রের আসল চেহারা। এখানে প্রজ্ঞার চেয়ে জনপ্রিয়তা বেশি গুরুত্ব পায়। মনে রাখা দরকার, এথেন্সের মানুষ গণতান্ত্রিক ভোটের মাধ্যমেই সক্রেটিসকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। সত্য হেরে গিয়েছিল কেবল গাণিতিক সংখ্যার কাছে।
প্লেটো স্বৈরতন্ত্রের চেয়েও বেশি ভয় পেতেন ক্ষমতার হাতে থাকা অজ্ঞতাকে। কারণ যখন ভোটের মাধ্যমে সত্য নির্ধারিত হয়, হাততালির মাধ্যমে নেতৃত্ব বাছাই করা হয়, তখন রাষ্ট্র যোগ্যতা খোঁজা বাদ দিয়ে শুধু জনপ্রিয়তা খুঁজতে থাকে।
প্লেটো সতর্ক করেছিলেন, শুরুতে আসে নীতিহীন স্বাধীনতা। এরপর দক্ষতার জায়গা দখল করে নেয় মানুষের সাধারণ মতামত। এরপর আসে চাটুকার রাজনীতিবিদদের দাপট, যারা অবাস্তব সব স্বপ্ন দেখায়। স্বভাবতই সমাজে যখন চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, তখন মানুষ একটু শান্তির জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। আর ঠিক তখনই জনমতের মুখোশ পরে হাজির হয় চরম স্বৈরতন্ত্র।
প্লেটো গণবিরোধী ছিলেন না, তিনি ছিলেন বিভ্রম-বিরোধী। তাঁর মতে, রাষ্ট্র চালানো উচিত তাদেরই যাদের দেশ পরিচালনার সঠিক প্রশিক্ষণ আছে।
প্লেটোর প্রায় আড়াই হাজার বছর পরেও সমুদ্র আগের মতোই উত্তাল আছে; কেবল আমাদের রাষ্ট্র নামক জাহাজটি আরও বিপন্ন হয়ে পড়ছে সময়ের সাথে।
Copied from Rohon Kuddus