17/09/2026
পাবলিক সিস্টেমে সব পরীক্ষাকে সুরক্ষিত ও স্বচ্ছ করতে ব্যাপক সংস্কারের আহ্বান ABRSM-এর
ফ্রন্টিয়ার করেসপন্ডেন্ট
আগরতলা, ১৬ সেপ্টেম্বর
অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ (ABRSM) ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের গঠিত High-Powered Task Committee-র কাছে পাবলিক পরীক্ষা( Public exam) ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য ১৫ দফা সুপারিশ পেশ করেছে। এর মধ্যে National Testing Agency (NTA) পরিচালিত পরীক্ষাগুলিও অন্তর্ভুক্ত।
ABRSM-এর জাতীয় সভাপতি প্রফেসর নারায়ণ লাল গুপ্ত বলেন, জনপরীক্ষা লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত ও পেশাগত ভবিষ্যৎকে সরাসরি প্রভাবিত করে। তাই এই পরীক্ষাগুলির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে কোনও সংশয় থাকা উচিত নয়।
তিনি একটি মাত্র উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ পরীক্ষার উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে “One Student, Multiple Validated Assessments, One National Merit Framework”-এর দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
সংগঠনটি মাধ্যমিক স্তর থেকেই দক্ষতাভিত্তিক মূল্যায়ন, স্কুল, বোর্ড ও প্রবেশিকা পরীক্ষার মধ্যে অধিকতর সমন্বয় এবং একাধিক মূল্যায়নের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা হলে বহু-পর্যায়ের অথবা একাধিকবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ রাখার কথাও বলা হয়েছে।
প্রফেসর গুপ্ত বলেন, সংস্কারের ক্ষেত্রে কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক—উভয় ধরনের সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন। ABRSM-এর সুপারিশের মধ্যে রয়েছে পেশাদারভাবে পরিচালিত এবং কার্যগতভাবে স্বাধীন পরীক্ষা-পরিকাঠামো, NTA-র প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্বাধীন পরীক্ষা-নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যবস্থা, একটি জাতীয় বৈজ্ঞানিক প্রশ্নব্যাংক, বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র যাচাই এবং স্বার্থের সংঘাত প্রতিরোধে সুরক্ষা ব্যবস্থা।
এছাড়াও সম্পূর্ণ অডিট ট্রেইল-সহ প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ABRSM বিশেষ করে চিকিৎসা-শিক্ষা ক্ষেত্রে গুণমান-নিয়ন্ত্রিতভাবে পেশাগত শিক্ষার আসন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনের মতে, এই ক্ষেত্রে কাঠামোগত আসন-ঘাটতি চরম প্রতিযোগিতার অন্যতম কারণ।
জাতীয় সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর গীতা ভট্ট বলেন, পরীক্ষার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াতেই স্বচ্ছতা থাকা উচিত—প্রশ্নপত্র প্রস্তুতি ও মূল্যায়ন থেকে শুরু করে ফল প্রকাশ এবং অভিযোগ নিষ্পত্তি পর্যন্ত।
সংগঠনটি স্বাধীনভাবে অডিটযোগ্য মূল্যায়ন ও নর্মালাইজেশন ব্যবস্থা, নিরাপদ ডিজিটাল মূল্যায়ন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সাইকোমেট্রিক পদ্ধতি ব্যবহারের প্রস্তাব করেছে। একই সঙ্গে নর্মালাইজেশনের পদ্ধতি আগে থেকেই প্রকাশ করা এবং পরীক্ষার্থীদের নিজেদের উত্তর, Answer Key, প্রাপ্ত নম্বর ও সংশ্লিষ্ট মূল্যায়ন সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
এছাড়াও একটি স্বাধীন ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজ করবে এমন Examination Ombudsman অথবা Grievance Authority গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
ABRSM-এর মতে, পরীক্ষা ব্যবস্থা আরও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়া উচিত। সংগঠনটি একটি পূর্বনির্ধারিত জাতীয় পরীক্ষা ক্যালেন্ডার, সরকারি মালিকানাধীন পরীক্ষা-পরিকাঠামো এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ও গ্রামীণ, দুর্গম, আদিবাসী, পার্বত্য ও সীমান্তবর্তী এলাকার পরীক্ষার্থীদের জন্য সহজলভ্য পরীক্ষাকেন্দ্রের দাবি জানিয়েছে।
সুপারিশগুলিতে ভারতের বিভিন্ন ভাষার মধ্যে সমমানের সুযোগ, কোচিংয়ের উপর নির্ভরতা কমাতে সকলের জন্য উন্মুক্ত প্রস্তুতিমূলক শিক্ষা-উপকরণ, স্বার্থের সংঘাত নিয়ন্ত্রণ, মূল্যায়ন সংস্কারে শিক্ষকদের অধিকতর অংশগ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য কাউন্সেলিং ও ক্যারিয়ার গাইডেন্স-এর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ABRSM আরও একটি বিস্তৃত দুর্যোগ ও পরীক্ষা-সংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়মের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি, স্বাধীন তদন্ত ও জবাবদিহি, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যায়সঙ্গত প্রতিকার, গোপনীয়তা সুরক্ষা, হুইসেল-ব্লোয়ার ব্যবস্থা এবং একটি Annual Examination Integrity and Performance Report প্রকাশের প্রস্তাবও রয়েছে।
সংগঠনটি High-Powered Task Committee-কে এই সংস্কারগুলিকে পর্যায়ক্রমিক পাইলট প্রকল্প, স্বাধীন যাচাই এবং ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে একটি বিশ্বাসযোগ্য, ন্যায়সঙ্গত ও সংকট-সহনশীল জনপরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়।