25/11/2024
শরিয়তের চারটি বিবাহ সংক্রান্ত বিভ্রান্তি
ওয়া ইন খিফতুম আল্লা তুকছিতূফিল ইয়াতামা ফানকিহূমা তাবালাকুম মিনান নিছাই মাছনা ওয়া ছুলাছা ওয়া রুবাআ ফাইন খিফতুম আল্লা তাদিলূ ফা ওয়াহিদাতান আওমা মালাকাত আইমানুকুম যালিকা আদনাআল্লা তাঊলূ।
সূরা নিসা আয়াত ৩।
এতকাল বাংলায় প্রচলিত অবাস্তব অর্থ :
আর যদি তোমরা ভয় কর যে, এতীমদের হক যথাথভাবে পুরণ করতে পারবে না, তবে সেসব মেয়েদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন, কিংবা চারটি পর্যন্ত। আর যদি এরূপ আশঙ্কা কর যে, তাদের মধ্যে ন্যায় সঙ্গত আচরণ বজায় রাখতে পারবে না, তবে, একটিই বিয়ে অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদেরকে; এতেই তোমাদের পক্ষপাতিত্বে জড়িত না হওয়ার অধিকতর সম্ভাবনা।
উল্লেখযোগ্য যে, "ফানকিহুমা" "মালকাত আইমানাকুম" "নিছাই" "মাছনা সালসা রুবা" এই শব্দগুলির উপর প্রশ্ন বোধক চিন্হ রয়েই গেলো। আপনারা দয়া করে কুরআন থেকে এর সঠিক অর্থ খুঁজুন, সঠিকটা পেয়ে যাবেন ইনশাল্লাহ।
"ফানকিহু-মা" শব্দকে ভাঙলে এটা দাড়ায় যে,
ফা- অতএব,
ন্যাক- ইন্টারকোরস,
হোয়া- তাদেরকে
মা - না
(অতএব তাদেরকে ইন্টার কোর্সের জন্য নয়।)
এর প্রেক্ষিতে"অস্থায়ী চুক্তিভিত্তিক মহিলা কর্মচারী" বললেই ভালো বুঝায়, বিয়ে করা বুঝায় না।
আর "নিছাই" শব্দটিতে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী বুঝায়।
আবার "মালাকাত আইমানাকুম" এর অর্থ দাসী নয়, এটি মালকিন বা যিনি বিশ্বস্ততার অঙ্গীকারের মাধ্যমে আপনার সৌভাগ্যবতী ডানহস্ত বা স্ত্রী হয়েছেন।
এছাড়া "মাছনা সালসা রুবা" দুই তিন চার নয়, এর অর্থ দুই-দুই, তিন-তিন, চার-চার। প্রতি জন কর্মচারী দুইজন বা তিনজন বা চার জন করে এতিম শিশু দেখাশুনা করবে বুঝায়)।
সুতরাং আয়াতের ভাবার্থ দাড়ায়:
আর যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে, অনাথ অসহায় এতীমদেরকে যথাযথ ভাবে দেখাশুনা করতে পারবে না, তখন সমাজের সুবিধাবঞ্চিত নারী নিয়োগ দাও তাদেরকে ইন্টার কোর্সের জন্য নয় বরং এতিমদের লালন পালনের জন্য দুই-দুই, তিন-তিন, কিংবা চার-চার করে (অর্থাৎ প্রতি জন কর্মচারী দুইজন বা তিনজন বা চারজনের দেখাশুনা করবে)। আর যদি এরূপ আশঙ্কা কর যে, তাদেরকে ন্যায় সঙ্গত অধিকার দিতে বা সঠিক পারিশ্রমিক দিতে পারবে না, তাহলে একজনই কাজটি করবে যিনি বিশ্বস্ততার অঙ্গীকারের মাধ্যমে তোমার ডানহাত বা সৌভাগ্যবতী স্ত্রী হয়েছে, সে-ই তাদের দেখাশুনা করবে; ইহাই অবিচার এড়িয়ে যাওয়ার সহজ পথ। আশা করা যায় এতে তোমাদের কোনো সমস্যা হবে না। (৪:৩)।
আর তোমরা অস্থায়ী মহিলা কর্মচারীদেরকে তাদের মজুরি দিয়ে দাও খুশীমনে। তারা যদি খুশী হয়ে এই কাজ আল্লার রাস্তায় করে আর তা থেকে কিছু অংশ ছেড়ে দেয়, তবে তা তোমরা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ করবে। ৪:৪।
আর তাদের যে সম্পদকে আল্লাহ তোমাদের জীবন-যাত্রার অবলম্বন করেছেন, তা অবুঝ জ্ঞানহীন এতিম শিশুদের হাতে তুলে দিওনা। বরং তা থেকে তাদেরকে খাওয়াও, পরাও এবং তাদেরকে সান্তনার বানী শোনাও। (৪:৫)।
(6) আর এতীমদের প্রতি বিশেষভাবে নজর রাখবে, যে পর্যন্ত না তারা বিয়ের বয়সে পৌঁছে। যদি তাদের মধ্যে বুদ্ধি-বিবেচনার উন্মেষ আঁচ করতে পার, তবে তাদের সম্পদ তাদের হাতে অর্পন করবে। এতীমের মাল প্রয়োজনের তিরিক্ত খরচ করেবেনা বা তারা বড় হয়ে যাবে মনে করে তাড়াতাড়ি খেয়ে ফেলোনা। যারা স্বচ্ছল তারা অবশ্যই এতীমের মাল খরচ করা থেকে বিরত থাকবে। আর যে অভাবগ্রস্ত, সে সঙ্গত পরিমাণ খেতে পারে। যখন তাদের হাতে তাদের সম্পদ প্রত্যার্পণ করবে, তখন সাক্ষী রাখবে। অবশ্য আল্লাহই হিসাব নেয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট। (৪:৬)।