16/07/2024
৷৷ মেটিয়াবুরুজের নবাব ৷৷
নবাব তিনি সাজতে চাননি। কিন্তু নবাব হয়ে চেষ্টা করেছিলেন অন্তত কিছু পরিবর্তন আনতে। ওয়াজিদ আলি শাহের সে চেষ্টা ব্যর্থ হয় ব্রিটিশের সুচতুর কৌশলে। লখনউয়ের তখ্তে তাঁর ন’বছরের নবাবিকে চরিত্রহননের কালিমায় ঢেকে দিতে কম চেষ্টা করেননি গভর্নর জেনারেল ডালহৌসি । ১৮৫৬ সালে কলকাতায় নতুন ঠিকানা খুঁজতে হল ওয়াজিদ আলিকে। এই অবধি বোধহয় সকলেরই জানা। কিন্তু তিনি যে কলকাতার উপকণ্ঠে মেটিয়াবুরুজে প্রায় ৩২ বছর কাটিয়ে মারা যান— সেই পর্বের কথা আমরা শ্রীপান্থের বইয়ের বাইরে কতটুকু জানি ? সুদীপ্ত মিত্র এ বার আলো ফেলেছেন সেই দিনগুলির উপরে, তাঁর পার্ল বাই দ্য রিভার/ নবাব ওয়াজিদ আলি শা’জ কিংডম ইন এক্জাইল (রূপা) বইয়ে। শুধু ইতিহাসের ধারাবিবরণী নয়, নবাব কী ভাবে সমকালীন শিল্প-সংস্কৃতিতে ছাপ ফেলেছেন, সুদীপ্ত দেখাতে চেয়েছেন সেটাই। নবাবের মৃত্যুর পর ‘ছোট লখনউ’কে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে ব্রিটিশ চেষ্টা করেছিল নবাবের স্মৃতিকে মুছে দিতে। কিন্তু কিস্সা, গজল, মরসিয়া, মসনভি-র রচয়িতা, কত্থক নাচের প্রবক্তা ওয়াজিদ আলির হাত ধরেই যে ঠুম্রির বিস্তার কলকাতায়। তাঁর জন্যই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে সেতার সরোদ সানাই তবলা এসরাজের মতো যন্ত্রসংগীত, দম পোখ্ত রান্না বিশেষ করে বিরিয়ানি, ঘুড়ি ওড়ানো আর বুলবুলির লড়াই। এমনকী নিজস্ব চিড়িয়াখানাও ছিল তাঁর। এ দিকে নজর ফিরিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন সুদীপ্ত মিত্র।
(ওয়াজেদ আলি শাহ্ ১৮২২ সালের ১৩ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন ৷ তাঁর আলংকারিক নাম : আবুল মনসুর মির্জা) (সংগৃহীত)
14/02/2024
আজ থেকে ১২০ বছর আগে, ১ টাকার মূল্য কতো ছিলো ভাবতে পারেন? —আজকের দিনের আনুমানিক লক্ষের অধিক টাকা।
১২০ বছর আগে, খাজা সলিমুল্লাহ ১ লক্ষ ১২ হাজার টাকা দান করেছিলেন বুয়েটের (BUET) জন্য। তখন সেটার নাম বুয়েট ছিলো না। ছিলো ঢাকা সার্ভে স্কুল। সেটাকে তিনি রূপ দিলেন আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলে। (খাজা সলিমুল্লাহার বাবার নাম ছিলো আহসানউল্লাহ)
১৯০৮ সালে পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক সভায় বিনা বেতনে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার দাবি তুলেন তিনি। —চিন্তা করা যায়!
পূর্ব বাংলায় কোন ইউনিভার্সিটি নেই। সলিমুল্লাহ সেটা মানতে পারলেন না। কি করা যায়, সে নিয়ে ভাবতে থাকলেন। ১৯১২ সালের ২৯ জানুয়ারি, তখনকার ভাইস রয় লর্ড হার্ডিঞ্জ ঢাকায় আসেন। হার্ডিঞ্জের সামনে দাবি নিয়ে দাঁড়ানোর মতো সাহস পূর্ব বাংলায় যদি কারো থাকে, সেটা একমাত্র সলিমুল্লাহর। তার বয়স তখন চল্লিশ বছর। সে সময়ের ১৯ জন প্রখ্যাত মুসলিম লিডার নিয়ে তিনি হার্ডিঞ্জের সাথে দেখা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দাবি তুলেন। সেই ধারাবাহিকতায় শেষ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হলো।
সলিমুল্লাহ ছিলেন আদ্যোপান্ত শিক্ষানুরাগী। পূর্ব বাংলায় শিক্ষার বিস্তারের জন্য, পিছিয়ে পড়া মুসলিম জনগোষ্ঠিকে শিক্ষিত করার লক্ষ্যে তিনি বহু বৃত্তি, বহু প্রকল্প চালু করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা এবং ঢাকা সার্ভে স্কুলকে আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলে রূপ দেয়া ছিলো তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান।
শিক্ষাকে যদি জাতির মেরুদণ্ড বলা হয়, তাহলে পূর্ব বাংলার সেই মেরুদণ্ড তৈরিতে সলিমুল্লাহর চেয়ে বড়ো ভূমিকা সম্ভবত বিংশ শতকে খুব বেশি কেউ রাখেনি। অথচ সেই মানুষটাকে নিয়ে আমাদের সমাজে তেমন আলোচনা দেখি না। স্মরণসভা দেখি না। কষ্ট হয় কিছুটা!
মাত্র ৪৩-৪৪ বছর বয়সে তিনি মারা যান।তার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।
(সংগ্রহীত)
14/02/2024
স্বাধীনতা রক্ষার প্রথম শহীদ নবাব সিরাজউদদ্দৌলার অপসারণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড, পুতুল-নবাব মীরজাফরের সিংহাসনারোহণের প্রাক্কালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর বঙ্গ দখল ও পরবর্তীকালে ব্রিটিশ রাজের ভারত আগ্রাসন-এইসব ঘটনাবলি এবং এর অগ্র-পশ্চাতে ও গর্ভে সংঘটিত তামাম ঘটনাবলি এক বিরাট পাহাড়সম আবর্জনাস্তূপ। এই আবর্জনাস্তূপের বিশ্রী নোংরা পঙ্কিলতার তরলে কিলবিল করে শত-সহস্র নরককীট। এই নরাধম নরককীটেরা এই কুৎসিত পঙ্কিলতার পচায় নিজেদের লুকিয়ে একজনকে ঠেলে তুলে দিয়েছে আবর্জনাস্তূপের শিখরে। আর যাবতীয় দোষ ও কলঙ্ক চাপিয়েছে তার ঘাড়ে। দৃশ্যমান এই 'একজন' হলেন বহুল প্রচারিত সেই মীরজাফর। তার নতুন পরিচয়ের তো আর দরকার নেই। আবর্জনাস্তূপে লুক্কায়িত অবশিষ্ট নরকীটদের খুটে খুটে বের করার অসমাপ্ত প্রয়াস এই গ্রন্থের প্রতিটি লাইনে লাইনে।
নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন : চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র
সম্পাদনা: আবু রিদা
ছাড় মূল্য ৳ ৩০০