25/01/2025
রবীন্দ্রনাথ তার শিক্ষার সূচনাকালে শিক্ষাব্যবস্থার ভয়ংকর রূপ নিজের জীবনাভিজ্ঞতা থেকে উপলব্ধি করেছিলেন। রবীন্দ্র শিক্ষা-চিন্তার প্রথম প্রকাশ আমরা দেখতে পাই ১৮৭৭ সালে যখন তার বয়স ১৬ বছর। মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্যের’ একটি সমালোচনা লিখতে গিয়ে তিনি লেখেন,
“বঙ্গদেশে এখন এমনি সৃষ্টিছাড়া শিক্ষাপ্রণালী প্রচলিত হইয়াছে যে তাহাতে শিক্ষিতেরা বিজ্ঞান দর্শনের কতকগুলি বুলি এবং ইতিহাসের সাল ঘটনা ও রাজাদিগের নামাবলী মুখস্ত করিতে পারিয়াছেন বটে, কিন্তু তাহাতে তাঁহাদের রুচিরও উন্নতি পারেন তাই বা স্বাধীনভাবে চিন্তা করিতেও শিখেন নাই।”
এই ‘সৃষ্টিছাড়া শিক্ষাপ্রণালী’র সরাসরি রূপ তিনি শৈশবে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন খুব মর্মান্তিকভাবে। তাই ১২ বছর বয়সে নর্মাল স্কুল থেকে ইংরেজি স্কুলে ভর্তি হওয়া মাত্র তিনি স্কুল থেকে পালিয়েছিলেন অবলীলায়। এই শিক্ষাব্যবস্থা কী নির্মম, পাশবিক ও হৃদয়হীন হতে পারে তা তিনি শৈশবেই উপলব্ধি করেছিলেন। তার ‘জীবনস্মৃতি’ পাঠমাত্রই জানতে পারবেন- তার শৈশবের শিক্ষা কি নিদারুণ, প্রাণহীন, আনন্দহীন ও যান্ত্রিক। সে শিক্ষার বিড়ম্বনা তার আজীবন মনোযন্ত্রণার কারণ হয়েছিল।