25/12/2025
লেভেল ৩ পরীক্ষা শুরু থেকেই একটু অন্যরকম ছিল। এখানে মুখস্থ করলে চলবে না—নিজের মাথা খাটাতে হবে, বুঝে ভাবতে হবে। তাই শুরুতে অনেকের মনেই একটা চিন্তা ছিল, এত কঠিন হলে বাচ্চারা পারবে তো? কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উত্তরটা ওরাই দিয়ে দিয়েছে।
লেভেল ১ থেকে লেভেল ৩—প্রতিটা ধাপে পরীক্ষা কঠিন হয়েছে, আর যারা নিয়মিত লড়াইয়ে ছিল, তারা ধীরে ধীরে আরও শক্ত হয়েছে। দিয়া মণ্ডল লেভেল ১-এ পেয়েছিল ৭০ শতাংশ। লেভেল ২ দিতে পারেনি, তবু হাল ছাড়েনি। লেভেল ৩-এ ফিরে এসে, আরও কঠিন প্রশ্নের মধ্যেই তুলে এনেছে ৯৬ শতাংশ। অন্বেষা সাহা আবার একেবারে ধাপে ধাপে নিজেকে গুছিয়েছে—শেষ লেভেলে পেয়ে গেছে পুরো ১০০ শতাংশ। আর মোঃ রফিউল আলম শেখ—তিনটে লেভেলেই ১০০ শতাংশ। শান্ত, স্থির, কিন্তু দারুণ ফোকাসড।
লেভেল ৩ যে কতটা কঠিন ছিল, সেটা বোঝা যায় ফলেই। আগের লেভেলগুলোতে যেখানে প্রায় ৩০ জন টপার হয়েছিল, সেখানে এখানে টপার হয়েছে মাত্র দু’জন। মানে, এখানে ভালো হলেই চলবে না—ভালোভাবে ভাবতে জানতে হবে।
সবচেয়ে ভালো লাগার জায়গাটা হলো, এই বাচ্চাদের অনেকেই গ্রাম থেকে এসেছে। আগে সুযোগ কম ছিল, ভরসাও কম ছিল। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই তারা আজ শহরের বাচ্চাদের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের জায়গা তৈরি করছে। SLATO Exams তাদের সেই মঞ্চটা করে দিয়েছে।
ফল বেরোনোর দিন অনেক বাড়িতে চুপচাপ ছিল সবাই। কেউ বারবার নম্বর দেখছে, কেউ হালকা হেসে নিচ্ছে। অনেকের জীবনে এই প্রথম, একটা পরীক্ষা ওদের চোখে চোখ রেখে বলেছে—“তুই পারিস।”
এই কারণেই এই গল্প এখানেই শেষ নয়। নম্বর ভুলে যাবে সবাই, কিন্তু ওই বিশ্বাসটা—নিজের উপর বিশ্বাস—ওটাই থেকে যাবে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়ে।
24/12/2025
শীতের ভোরে, বহরমপুর থেকে ধীরে ধীরে যাত্রা শুরু হয়। চারপাশে কুয়াশা, নরম রোদ আর ফাঁকা রাস্তা। বাইক ছুটে চলে গ্রামের দিকে—মাঠের মাঝে লুকিয়ে থাকা একটি স্কুলের উদ্দেশ্যে।
কিছুটা পথ NH-12 ধরে এগিয়ে, তারা পৌঁছান সত্ত্যভারতী পাবলিক স্কুলে। একসময় এই স্কুল গড়ে উঠেছিল Bharati Foundation-এর CSR উদ্যোগে। কোভিডের আগে শত শত শিশু এখানে পড়াশোনা করত—বই, পোশাক, খাবার সবকিছু নিয়ে। সময় বদলেছে, কিন্তু শিক্ষার আগুন নিভে যায়নি।
প্রথম দিনের প্রশিক্ষণ শুরু হতেই বিদ্যুৎ চলে যায়। তবু থেমে যায়নি শেখা। মোবাইলের আলোতেই শুরু হয় ফোনিক্স, ব্লেন্ড, ডাইগ্রাফ—শব্দ থেকে আত্মবিশ্বাসে পৌঁছানোর এক শান্ত যাত্রা।
পরদিন সকালে, সামান্য অসুস্থতা পেছনে ফেলে আবারও ফিরে আসে প্রশিক্ষণের ছন্দ। হাসিমুখে শিক্ষকরা অংশ নেন খেলায়, আলোচনায়, অনুশীলনে। দিনের শেষে সেরা পারফরমারের সম্মান পায় দোলন ঘোষ।
দু’দিন শেষে বিদায়ের সময়, মাঠের হাওয়ায় ভেসে থাকে একটাই অনুভূতি—
গ্রামের মাঝেও বদল আসতে পারে, যদি শেখার ইচ্ছেটা বেঁচে থাকে।
22/12/2025
সোমবার, ৮ই ডিসেম্বর। শীতের সকালে মুর্শিদাবাদ জেলার রেজিনগর থানার অন্তর্গত জয়নগর গ্রামটি তখনো কুয়াশায় মোড়া। সেই নীরব সকালের মাঝেই শুরু হয়েছিল একটি নতুন যাত্রা—আদর্শ মিশনারি স্কুলে শিক্ষক প্রশিক্ষণের প্রথম দিন।
স্কুলের ঘণ্টা বাজার অনেক আগেই দিনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছিল। প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হলো—প্রজেক্টর, তার, স্ক্রিন—সবকিছু যত্ন করে গুছিয়ে নেওয়া হলো। এই সরঞ্জাম আগেও অনেক স্কুল ঘুরেছে, কিন্তু আজ তাদের গন্তব্য ছিল এক নতুন গ্রামীণ বিদ্যালয়, যেখানে অপেক্ষা করছিল নতুন সম্ভাবনা।
দুপুরের আগেই কলকাতা থেকে ট্রেনে এসে পৌঁছালেন প্রশিক্ষক Suman Mandal। দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি কাটাতে হাইওয়ের ধারে এক কাপ চা—আর সেখান থেকেই শুরু হলো শেষ পথচলা। মোটরবাইকে করে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই পৌঁছে যাওয়া হলো আদর্শ মিশনারি স্কুলে।
স্কুলে পৌঁছানোর পর প্রশিক্ষককে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হলো স্কুলের কর্ণধার Shanwar Sheikh–এর সঙ্গে। অল্প সময়ের মধ্যেই একটি শ্রেণিকক্ষ রূপ নিল প্রশিক্ষণ কক্ষে—ডেস্ক সরানো হলো, স্ক্রিন লাগানো হলো, প্রজেক্টর চালু হলো। নির্ধারিত সময়ের ঠিক আগেই সবকিছু প্রস্তুত।
প্রশিক্ষণে চারজন শিক্ষক সক্রিয়ভাবে অংশ নেন, আর তিনজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন পর্যবেক্ষক হিসেবে। শুরুতে তাঁদের চোখেমুখে ছিল কৌতূহল আর একটু দ্বিধা। কিন্তু সেই দ্বিধা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
প্রশিক্ষণ শুরু হলো গল্প আর আলাপচারিতার মাধ্যমে। এরপর ধাপে ধাপে শেখানো হলো ফনিক্স, ফনিক্সভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রম, Thumbs Up Game, Blends, River Blends, Digraph, এবং Sight Word Poetry। শ্রেণিকক্ষ ভরে উঠল আলোচনায়, অনুশীলনে আর মাঝে মাঝে হাসিতে—শেখা তখন আর কঠিন কিছু নয়, বরং উপভোগ্য হয়ে উঠল।
একটি ছোট চা-বিরতির পর শিক্ষকদের স্মার্টফোনে Techie Teacher অ্যাপ ইনস্টল করতে সহায়তা করা হলো। এই অ্যাপ যেন শিক্ষকদের হাতে তুলে দিল নতুন এক ডিজিটাল সহকারী।
এরপর এল দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। দুইজন শিক্ষক এগিয়ে এসে ফনিক্সের উপর ডেমো ক্লাস নিলেন। সকালে যা ছিল নতুন ও অপরিচিত, দুপুর গড়াতে গড়াতে সেটাই হয়ে উঠল আত্মবিশ্বাসের অংশ।
প্রশিক্ষণের শেষে প্রশিক্ষক শিক্ষকদের জিজ্ঞাসা করলেন—কোনো প্রশ্ন আছে কি না। কোনো প্রশ্ন এল না। তার বদলে এল সম্মতি আর নিশ্চয়তার হাসি।
বিকেল ৩:৪৫ মিনিটে প্রথম দিনের প্রশিক্ষণ শেষ হলো। স্কুল চত্বর ছাড়ার সময় শীতের সূর্য তখন পশ্চিমে হেলে পড়েছে, কিন্তু সেই শ্রেণিকক্ষগুলোর ভেতরে তখন জ্বলে উঠেছে নতুন এক আলো—আত্মবিশ্বাস, প্রযুক্তি আর উন্নত শিক্ষার আলো।
প্রথম দিনের যাত্রা এখানেই শেষ হলো, কিন্তু আদর্শ মিশনারি স্কুলে এই পরিবর্তনের পথচলা তখনই মাত্র শুরু হয়েছে।
19/12/2025
১০ ও ১১ই ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের আইরা অঞ্চলে অবস্থিত অভিনব বিদ্যা চর্চা একাডেমি-তে সফলভাবে সম্পন্ন হলো দুই দিনের শিক্ষক প্রশিক্ষণ সেশন।
শীতের কনকনে ঠান্ডা ও দীর্ঘ যাত্রা সত্ত্বেও শিক্ষকদের আগ্রহ ও সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রশিক্ষণকে করে তোলে প্রাণবন্ত ও ফলপ্রসূ।
ফনিক্স, অ্যালফাবেটিক প্রিন্সিপল, রিডিং ও ভিডিও কমপ্রিহেনশন, কমিউনিকেশন স্কিল এবং ল্যাডার গেম—এই সমস্ত বিষয়ের মাধ্যমে শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষ পরিচালনার দক্ষতা আরও মজবুত করা হয়েছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা ও শিক্ষকদের উৎসাহ এই প্রশিক্ষণকে স্মরণীয় করে তুলেছে।
এই শিক্ষণ-পদ্ধতির প্রতিফলন খুব শীঘ্রই শিক্ষার্থীদের অগ্রগতিতে দেখা যাবে—এই আশাই রইল। 📖✨
14/12/2025
পরিচয় হোক আমাদের ছোট্ট চ্যাম্পের সাথে—লাল ক্যাপ পরা মেয়েটি! 🎓
তার মা জানালেন, সে পড়াশোনাকে খুব ভালোবাসে এবং আমাদের সব ডিজিটাল বই ইতিমধ্যেই পড়ে ফেলেছে। সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক!
13/12/2025
আটজন ছোট্ট প্রতিযোগী, অগণিত হাসি, আর আনন্দে ভরা একটি ক্লাসরুম—দোপুকুরিয়া আমাদের আজীবনের স্মৃতি দিল। ❤️📚
11/12/2025
রাধারঘাট বিদ্যাসাগর শিশু নিকেতনে আমাদের লিটল জিনিয়াস লেভেল–২ পরীক্ষার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হলো। যদিও এই বিদ্যালয়ের দুই জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল কিন্তু তারা কোনো র্যাঙ্ক পায়নি, তবুও আমরা আমাদের নির্ধারিত সময় সকাল ৮:৩০ টায় বিদ্যালয়ে পৌঁছে অনুষ্ঠান উদযাপন করেছি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহযোগিতায় একটি কক্ষে আমরা সুন্দরভাবে ফ্লেক্স লাগিয়ে সাজিয়ে নিয়েছিলাম। দুই শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন।
🎉 অনুষ্ঠানের সময় অভিভাবকদের থেকে আমরা অত্যন্ত ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছি—পরীক্ষা পদ্ধতি, আমাদের ডিজিটাল বই, এবং অ্যাপ-ভিত্তিক পরীক্ষার অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা খুবই সন্তুষ্ট।
বিশেষ করে এক শিক্ষার্থীর মা জানান, তার মেয়ে পড়াশোনার প্রতি খুব আগ্রহী এবং ইতিমধ্যে আমাদের ডিজিটাল বইগুলো কয়েক মাসেই সম্পূর্ণ করে ফেলেছে। প্রথমবার অনলাইন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সে খুবই খুশি এবং আগামী পরীক্ষার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
📆 আমরা তাদের আমাদের পরবর্তী পরীক্ষা ১৭ই ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে—এই তথ্য জানাই এবং সেখানেই তাদের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করি।
শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সাথে আমরা অনেক ছবি এবং একটি সুন্দর টেস্টিমোনিয়াল ভিডিও নিয়েছি। সকলকে উৎসাহিত করেছি আগামী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে।
✌️ আনন্দ ও ইতিবাচকতার সাথে দিনটি শেষ করলাম।
07/12/2025
১৫ই নভেম্বর, শনিবার—নূতন মহুলা, সারগাছি, মুর্শিদাবাদ-এর নূতন মহুলা সরদা শিশু বিদ্যামন্দিরে অনুষ্ঠিত হলো লিটল জিনিয়াস চ্যালেঞ্জ লেভেল ২ এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। মোট ১৫ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণের মধ্যে ১১ জন প্রথম থেকে তৃতীয় স্থানে সফলতা অর্জন করেছে।
সকালে ঠিক সময়মতো আমি (সুভজিত) এবং খাইরুল স্কুলে পৌঁছে যাই। খাইরুল দূর থেকে ট্রেনে এসে সারগাছি স্টেশন থেকে আমার সাথে যোগ দেয়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক অরূপ কুন্ডু স্যার ও অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা আমাদের অভ্যর্থনা জানান।
স্কুলের মাঠে সুন্দরভাবে সাজানো মঞ্চে ছাত্রছাত্রীদের হাতে ট্রফি ও সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়। গ্রামের স্কুল হওয়ায় অধিকাংশ অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন না, তবুও ছাত্রছাত্রীদের আনন্দ ছিল চোখে পড়ার মতো।
হেমন্ত কুণ্ডু স্যার স্মার্ট ক্লাস এবং পরীক্ষা পরিচালনার জন্য বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। অনেক প্রবীণ শিক্ষকও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শিশুদের পুরস্কৃত করেন, যা সত্যিই এক আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি করে।
একটি ছোট ঘটনা ঘটে—এক শিক্ষার্থীর নাম তালিকায় না থাকায় সে সার্টিফিকেট পায়নি। পরে জানা যায় প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে তার উত্তরপত্র জমা পড়েনি। আমরা তাকে আশ্বস্ত করেছি যে ১৭ ডিসেম্বরের পরীক্ষায় অংশ নিলে সে অবশ্যই সার্টিফিকেট ও পুরস্কার পাওয়ার সুযোগ পাবে।
অনুষ্ঠানের শেষে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সকল শিক্ষার্থীদের সাথে গ্রুপ ফটো ও টেস্টিমোনিয়াল নেওয়া হয়।
মোটের ওপর, দিনটি ছিল উষ্ণতা, আনন্দ আর সাফল্যে ভরা একটি স্মরণীয় মুহূর্ত।
05/12/2025
বিবেকানন্দ বিদ্যানিকেতনে প্রথম পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষ হতেই আমরা যাত্রা শুরু করলাম দোপুকুরিয়া বিদ্যাসাগর বিদ্যাপীঠের উদ্দেশ্যে। এখানকার ১১ জন শিক্ষার্থী লিটল জিনিয়াস লেভেল II পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার উত্তেজনায় আমাদের মন ভরে গিয়েছিল।
ডোপুকুরিয়া যেতে হলে ভাগীরথী নদী পার হওয়া ছাড়া উপায় নেই। সেদিন নদীটা যেন অস্থির ছিল—প্রচণ্ড স্রোত, দ্রুতগতির ঢেউ, আর বাতাসে এক অজানা শঙ্কার গন্ধ। লঞ্চ এগোতে শুরু করতেই আমরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে নীরবে সাহস জোগাচ্ছিলাম। কেউই মুখে কিছু বলছিল না, কিন্তু সবার মনেই একটু ভয় ছিল।
ঠিক তখনই চোখে পড়ল বিপরীত দিক থেকে একটি নৌকা আসছে। হঠাৎই তার ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেল এবং নৌকাটি স্রোতের টানে দিশাহারা হয়ে পড়ল। দৃশ্যটা সবাইকে আরও চিন্তিত করে তুলেছিল। তবুও আমরা নৌকোওয়ালার উপর বিশ্বাস রেখে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলাম এবং শেষমেশ নিরাপদে নদীর ওপারে পৌঁছালাম। মনে হল যেন শুধু নদীই পেরোলাম না, একরকম ভয়ও জয় করলাম।
আমরা ১১টা ৩০ মিনিটের আগেই স্কুলে পৌঁছে গেলাম। স্কুলে ঢুকতেই কয়েকজন অভিভাবক সামনে এসে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনারা কি স্লাটো অ্যাপ থেকে এসেছেন?” আমরা হাসি মুখে বললাম যে আমরা আজ বাচ্চাদের পুরস্কার দিতে এসেছি। তাদের মুখের বিস্ময় দেখে বোঝা গেল যে তারা অনুষ্ঠানের ব্যাপারে কিছুই জানতেন না। আমরা তাদের থাকতে অনুরোধ করলাম, কিন্তু অনেকেই কাজের কারণে থাকতে পারলেন না।
যাই হোক, ১১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮ জন সেদিন উপস্থিত ছিল। তাদের চোখের উচ্ছ্বাস যতটা ছিল, ততটাই ছিল তাদের নির্ভেজাল আনন্দ। আমরা শিক্ষকদের অনুষ্ঠানটিতে অংশগ্রহণ করতে অনুরোধ করলাম, এবং তারা আন্তরিকভাবে পাশে দাঁড়ালেন। ক্লাসরুমের মধ্যে সাজল ছোট্ট একটি অনুষ্ঠান—হাসি, করতালি, আর গলায় ঝুলে থাকা পদকের ঝলক যেন মুহূর্তটাকে আরও সুন্দর করে তুলছিল।
প্রধান শিক্ষক আমাদের পরীক্ষার প্রচুর প্রশংসা করলেন। তিনি জানালেন, এই পরীক্ষা বাচ্চাদের শেখার ক্ষেত্রে অনেক উন্নতি করছে এবং তারা আরও পরীক্ষার জন্য আগ্রহী। যদিও এ বছর পুজোর ছুটির আগে পরীক্ষা হওয়ায় অনেক ছাত্র অনুপস্থিত ছিল, তিনি আশ্বাস দিলেন যে আগামী পরীক্ষায় তিনি সর্বাধিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন।
আমরা শিক্ষকদের জানালাম যে পরবর্তী পরীক্ষা ১৭ই ডিসেম্বর এবং রেজিস্ট্রেশন ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। তারা অভিভাবকদের সাহায্য করার আশ্বাস দিলেন।
ফেরার পথে নদীর স্রোত, বাচ্চাদের উজ্জ্বল হাসি, আর প্রধান শিক্ষকের প্রতিশ্রুতি একসঙ্গে মিশে গিয়েছিল। মনে হচ্ছিল, গন্তব্য নয়—এই যাত্রাই আমাদের জন্য বড় উপহার। আর দোপুকুরিয়ার সেই দিনটি আমাদের মনে চিরদিনের মতো থেকে গেল এক সুন্দর স্মৃতি হয়ে।
01/12/2025
১৪ই নভেম্বর, শুক্রবার—শিশু দিবস।
সকালের হালকা ঠান্ডায় চারপাশটা ছিল উৎসবমুখর। শীত তখন সবে শুরু হয়েছে, তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১৪ ডিগ্রিতে। ঠান্ডা বাতাসের স্পর্শে সকালটা যেন আরও সতেজ মনে হচ্ছিল।
ঠান্ডা সত্ত্বেও আমাদের মধ্যে ছিল অপার উত্তেজনা, সকাল ঠিক ৭টা বাজতেই আমরা বেড়িয়ে পরেছিলাম। আগের দিনই খাইরুল সব প্রস্তুতি সেরে রেখেছিল—স্টিকার প্রিন্ট, লোগো সাজানো, আর লিটল জিনিয়াস চ্যালেঞ্জ লেভেল-২ এর সব পুরস্কার সুন্দরভাবে প্যাক করে প্রস্তুত। কয়েক মিনিটের দ্রুত প্রস্তুতির পর আমরা বেরিয়ে পড়লাম বিবেকানন্দ বিদ্যানিকেতন, আন্দুলবেড়িয়া, মুর্শিদাবাদ-এর পথে। সময় মতোই স্কুলে পৌঁছে গেলাম।
এই বছর পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১০ জন শিক্ষার্থী, এবং আনন্দের বিষয়—সবাই প্রথম হয়েছিল। তাদের মধ্যে তিনজন ক্লাস ৩-এর, তিনজন ক্লাস ৪-এর, আর চারজন ক্লাস ১-এর। বিভিন্ন শ্রেণির বাচ্চাদের এমন ভালো ফলাফল আমাদের মন ভরে দিয়েছিল।
আমরা প্রথমে পুরস্কার বিতরণ এলাকার সাজসজ্জা শুরু করলাম—ফ্ল্যাগ, সার্টিফিকেট, ট্রফি সবকিছুই সুন্দরভাবে সাজিয়ে নেওয়া হলো। স্কুলের শিক্ষকরা আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে পুরোপুরি সহযোগিতা করেছিলেন। বিশেষ করে স্মার্ট ক্লাস ইনচার্জ শ্রী শুভজিৎ মণ্ডল—শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন থেকে শুরু করে পরীক্ষা পরিচালনা ও আমাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ—সবকিছুতেই তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার প্রচেষ্টাতেই পুরো আয়োজনটা এত সুন্দরভাবে সম্পন্ন হলো।
অনুষ্ঠান শুরু হতেই স্কুল কমিটির সদস্যরা, প্রধান শিক্ষক শ্রী বিকাশ মণ্ডল, সহকারী শিক্ষকরা এবং সব শিক্ষার্থী একত্রিত হলেন। তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটা আরও বেশি উষ্ণ হয়ে উঠেছিল। একজন অভিভাবক এগিয়ে এসে পরীক্ষাটি নিয়ে খুব সুন্দর একটি অভিমত শেয়ার করলেন। এমন মুহূর্তগুলোই আমাদের কাজকে আরও অর্থবহ করে তোলে—যেখানে একসঙ্গে জুড়ে যায় শিক্ষক, অভিভাবক আর শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানের মাঝেই প্রধান শিক্ষক আমাদের স্মার্ট ক্লাস উদ্যোগ এবং SLATO পরীক্ষার প্রশংসা করে মূল্যবান প্রতিক্রিয়া শেয়ার করলেন। তিনি বললেন, আমাদের স্মার্ট ক্লাস তাদের স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকদের ওপর খুব ভালো প্রভাব ফেলেছে। ২০১৯ সাল থেকে আমাদের স্মার্ট ক্লাস তাদের স্কুলে চলছে, আর এই দীর্ঘসময়ের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে আমাদের নিরবিচ্ছিন্ন সহযোগিতা ও মানসম্মত পরিষেবার মাধ্যমে। তার কথাগুলো আমাদের দায়িত্ব ও প্রতিশ্রুতি আরও জোরদার করল।
এরপর স্মার্ট ক্লাস ইনচার্জ শ্রী শুভজিৎ মণ্ডলও জানালেন, আমাদের ক্লাস ও পরীক্ষাগুলো তাদের শিক্ষার্থীদের কতটা সাহায্য করছে। তার বিস্তারিত অভিজ্ঞতাগুলো আমাদের প্রোগ্রামের প্রকৃত মূল্য আবারও স্পষ্ট করে দিল।
স্কুল ছাড়ার আগে আমি শিক্ষকদের ও অভিভাবকদের জানালাম, আগামী ১৭ই ডিসেম্বর আমাদের পরবর্তী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া—৫০ কয়েনের প্রয়োজনীয়তা, অনলাইনে UPI-র মাধ্যমে ক্রয় কিংবা ইনভাইট করে কয়েন অর্জনের সুযোগ—সব বিস্তারিতভাবে বুঝিয়ে দিলাম। রেজিস্ট্রেশন সহজ করতে তাদের সঙ্গে একটি ধাপে ধাপে ভিডিও নির্দেশিকাও শেয়ার করলাম।
শেষমেশ মনে হলো, এই অনুষ্ঠান শুধুমাত্র পুরস্কার বিতরণ নয়—এটা ছিল আমাদের টিম আর স্কুলের মধ্যে সহযোগিতা, বিশ্বাস ও একসঙ্গে এগিয়ে চলার উদযাপন।
সেই দিনটি ছিল সত্যিই স্মরণীয়—হাসি, কৃতজ্ঞতা এবং আরও শেখার নতুন অঙ্গীকারে ভরপুর একটি শিশু দিবস।