26/05/2026
হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী ভগবান গণেশের জন্মের কাহিনি অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও অলৌকিক। দেবী পার্বতী একদিন কৈলাস পর্বতে স্নান করার সময় নিজের শরীরের হলুদের প্রলেপ ও ময়লা দিয়ে একটি সুন্দর বালকের মূর্তি তৈরি করেন। তারপর নিজের ঐশ্বরিক শক্তি দিয়ে সেই মূর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন। সেই বালকই ছিলেন গণেশ। দেবী পার্বতী তাকে নিজের সন্তানরূপে গ্রহণ করেন এবং আদেশ দেন যে তিনি স্নান না করা পর্যন্ত যেন কাউকে ঘরে প্রবেশ করতে না দেওয়া হয়।
কিছুক্ষণ পরে ভগবান শিব কৈলাসে ফিরে আসেন এবং ঘরে প্রবেশ করতে চাইলে গণেশ তাকে বাধা দেন। গণেশ জানতেন না যে শিবই তার পিতা। শিবের অনুচর নন্দী, ভৃঙ্গী এবং আরও অনেক গণ গণেশকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু গণেশ অসীম শক্তিতে তাদের সবাইকে পরাজিত করেন। পরে স্বয়ং ভগবান শিব ক্রুদ্ধ হয়ে গণেশের সঙ্গে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। ভয়ংকর যুদ্ধের এক পর্যায়ে শিব তাঁর ত্রিশূল দিয়ে গণেশের মস্তক বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এই সংবাদ শুনে দেবী পার্বতী অত্যন্ত ক্রুদ্ধ ও শোকাহত হন। তাঁর রোষে সমগ্র বিশ্ব ধ্বংসের মুখে পড়ে। তখন সকল দেবতা শিবকে অনুরোধ করেন গণেশকে পুনর্জীবিত করার জন্য। শিব আদেশ দেন যে উত্তর দিকে যে প্রাণীর মাথা প্রথম দেখা যাবে, সেটি নিয়ে আসতে। দেবতারা একটি হাতির শাবকের মাথা নিয়ে আসেন। শিব সেই হাতির মাথা গণেশের দেহে স্থাপন করে তাকে পুনরায় জীবিত করেন।
এরপর ভগবান শিব গণেশকে আশীর্বাদ করে বলেন, সমস্ত দেবতার আগে গণেশের পূজা করা হবে এবং তিনি হবেন “বিঘ্নহর্তা” ও “সিদ্ধিদাতা”। সেই থেকেই ভগবান গণেশ হিন্দুধর্মে শুভ সূচনা, জ্ঞান ও সাফল্যের দেবতা হিসেবে পূজিত হন।
One of the famous temple in Kolkata is Kalighat temple.